Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

হিসাবের খাতা

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
82 বার প্রদর্শিত
করেছেন (27,603 পয়েন্ট)   22 জুন "গল্প" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

হিসাবের খাতাimage

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

ছোট গল্প।  ২৩ জুন,২০২৬



বিয়ের দশ বছর পর সায়মা প্রথমবার রাশেদের ব্যাংকের হিসাব দেখল।


ইচ্ছে করে নয়।


আলমারি গোছাতে গিয়ে পুরোনো একটা ফাইল পড়ে গিয়েছিল মেঝেতে। ভেতর থেকে বেরিয়ে এসেছিল একটা নীল রঙের পাসবই, আর কয়েকটা ভাঁজ করা কাগজ।


সায়মা তুলে রাখতে গিয়েও থেমে গেল।


গত তিন মাস ধরে সংসারে টাকা নিয়ে প্রায় প্রতিদিন কথা কাটাকাটি হচ্ছে। ছোট ছোট জিনিস নিয়ে।


গতকালও হয়েছিল। মেয়ে আরিশার স্কুলের জুতোটা ছিঁড়ে গেছে, সামনের সোলটা হাঁ হয়ে আছে। সায়মা বলেছিল, "এবার একটা ভালো দেখে কিনে দাও।"


রাশেদ বলেছিল, "সামনের মাসে দেখি।"


সায়মা রেগে বলেছিল, "তোমার কাছে আমার কোনো কথারই দাম নেই।"


রাশেদ আর কিছু বলেনি। শুধু চুপ করে বাইরে চলে গিয়েছিল।


সেই চুপ করে থাকাটাই সায়মার সবচেয়ে বেশি খারাপ লাগত।


পাসবইটা খুলে সায়মা প্রথমে বুঝতে পারছিল না।


প্রতি মাসের পাঁচ তারিখে বেতন ঢোকে, আটত্রিশ হাজার টাকা।


তারপর সাত তারিখের মধ্যে টাকা বেরিয়ে যেতে থাকে।


বাড়িভাড়া বারো হাজার।


একটা নাম লেখা, "মা – ৪,০০০"। প্রতি মাসে।


আরেকটা, "সোহেল মেস – ২,৫০০"। এটা রাশেদের ছোট ভাই, যে ময়মনসিংহে পড়ে।


একটা অটো-ডেবিট, "লোন ইএমআই – ৩,৬৮০"। সায়মা এই লোনের কথা জানত না।


পাশে ছোট করে পেন্সিলে লেখা, "আব্বার চিকিৎসা – ২০২১"।


শেষ পাতায় কয়েকটা ওষুধের নাম লেখা, তারিখ সহ। "প্রেশারের ওষুধ – মা"।


সায়মা পাতা উল্টাতে লাগল।


প্রতি মাসে আরিশার স্কুল বেতন ছয় হাজার টাকা ঠিক সময়ে গেছে। বাজার খরচের জন্য তার হাতে পনেরো হাজার টাকা তুলে দেওয়ার পর রাশেদের নিজের অ্যাকাউন্টে পড়ে থাকত দুই থেকে তিন হাজার টাকা।


সেই টাকা থেকেই যেত মায়ের ওষুধ, ভাইয়ের মেস ভাড়া, আর সেই পুরোনো লোনের কিস্তি।


ফাইলের ভেতরের ভাঁজ করা কাগজগুলো ছিল ওষুধের প্রেসক্রিপশন। তারিখগুলো গত দুই বছরের।


সায়মা অনেকক্ষণ মেঝেতে বসে রইল। পাসবইটা হাতে ধরা।


তার মনে পড়ল, গত ঈদে সে একটা জামদানি শাড়ির কথা বলেছিল। রাশেদ বলেছিল, "এবার থাক।" সায়মা ভেবেছিল, মানুষটা কৃপণ হয়ে যাচ্ছে।


আজ বুঝল, মানুষটা কৃপণ হয়নি। শুধু ভাগটা সবার আগে অন্যদের দিয়ে, নিজের ভাগটা একদম শেষে রেখেছিল। আর সেই শেষের ভাগটা নিয়েও কখনো কিছু বলেনি।


রাতে রাশেদ ফিরল দেরি করে।

টেবিলে ভাত ঢাকা।


সায়মা চুপচাপ খাবার বেড়ে দিল।

রাশেদ খেতে শুরু করল। কিছুক্ষণ পর বলল, "আরিশার জুতোর টাকাটা আমি কাল দিয়ে দেব। একজনের কাছে চেয়েছিলাম।"


সায়মা কিছু বলল না।

খাওয়া শেষ হলে সে চায়ের কাপটা এনে রাশেদের সামনে রাখল। তারপর পাসবইটা টেবিলের ওপর রাখল।


রাশেদ চমকে তাকাল।

"এটা কোথায় পেলে?"

"আলমারি গোছাতে গিয়ে।"

রাশেদ চুপ করে গেল।


"তুমি আমাকে কখনো বলোনি কেন?" সায়মা ধীরে বলল।


রাশেদ চায়ের কাপটা হাতে নিল।

"বললে কী হতো। তুমি তো তোমার খরচ কমিয়ে দিতে। আরিশারটা কমাতে। আমি চাইনি।"


"তাহলে নিজেরটা কমালে কেন?"

রাশেদ হাসার চেষ্টা করল। "আমার তো তেমন কিছু লাগে না।"


সায়মা আর কিছু বলল না।

দশ বছরে এই প্রথম তার মনে হলো, যে মানুষটার সঙ্গে সে প্রতিদিন ঝগড়া করে, সেই মানুষটার একটা পুরো হিসাবের খাতা তার অজানা রয়ে গেছে।


সেদিন রাতে সায়মা হিসাবের খাতাটা খুলল।

নতুন একটা পাতায় লিখল, "আরিশার জুতো"।

তার নিচে লিখল, "মায়ের ওষুধ"।


তারপর কলমটা থামিয়ে অনেকক্ষণ বসে রইল।

বাইরে বৃষ্টি হচ্ছিল না। ঘরটা চুপচাপ ছিল। শুধু টেবিলের ওপাশে রাশেদের নিঃশ্বাসের শব্দ শোনা যাচ্ছিল।

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 1 বছর ধরে, এবং এ পর্যন্ত 1366 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 27603। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 4112
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
যে চিঠি কখনো পোস্ট হয়নি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছয় পর্বের ছোটগল্প ২৪ আগষ্ট, ২০২৬ প[...] বিস্তারিত পড়ুন...
42 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
দান: পুণ্যের হিসাবের বাইরে মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বিশ্লেষণধর্মী।১২ সেপ্টেম্বর, ২০[...] বিস্তারিত পড়ুন...
28 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
কালো খাতা মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন |  গদ্য কবিতা | ০২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত এগারোটার পর ব[...] বিস্তারিত পড়ুন...
45 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
জানালাটা খোলা থাক মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোট গল্প | ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ রাত প্রায় বার[...] বিস্তারিত পড়ুন...
26 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
কোর্টপাড়ায় একদিন মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ভ্রমণকাহিনি | ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সেদিন কো&#[...] বিস্তারিত পড়ুন...
30 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    1504 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    74 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. রফিক আতা

    350 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    17 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. প্রিন্স ফ্রেরাসে

    125 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    6 টি আইডিয়া ব্লগ

  4. অমিত দত্ত দিলু

    124 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    6 টি আইডিয়া ব্লগ

...