Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

শেষবারটা জানা যায় না

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
73 বার প্রদর্শিত
করেছেন (27,848 পয়েন্ট)   27 মার্চ "সাহিত্য(বিশ্লেষণ ধর্মী)" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

শেষবারটা জানা যায় নাimage

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন 

ছোটগল্প। মার্চ ২৭,২০২৬


বিকেলটা খুব সাধারণ ছিল। এমন বিকেল, যেগুলো আলাদা করে মনে রাখার কোনো কারণ থাকে না।


আমি বেরোচ্ছিলাম। ফোনে একের পর এক মেসেজ, মাথার ভেতর কাজের হিসেব। দরজার কাছে দাঁড়িয়ে জুতো পরছি—ঠিক তখনই মা বললেন, "এই, একটু বসবি? চা বানিয়েছি।"


আমি তাকাইনি। শুধু বলেছিলাম, "এখন না… পরে বসবো।"


কথাটা খুব স্বাভাবিক শোনাল। আমার কাছেও, সম্ভবত মায়ের কাছেও।


মা আর কিছু বলেননি। চায়ের কাপটা হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন। যখন দরজা খুললাম, শুনলাম—চামচটা কাপে ফেলার হালকা শব্দ। আর মায়ের গলা, "আব্বা, তোমার ওষুধটা খেয়ে নিও।"


আমি বলিনি যে শুনিনি। শুনেছিলাম। কিন্তু তখন মনে হয়েছিল—ওষুধ তো প্রতিদিনই খায়, আজ না খেলে কী হবে?


সন্ধ্যার পর বাসায় ফিরতে একটু দেরি হলো। ঘরে ঢুকতেই মা জিজ্ঞেস করলেন, "খেয়ে নিয়েছিস?"


আমি বললাম, "হ্যাঁ।" খাইনি। কিন্তু সেটা বলা দরকার মনে হলো না।


মা আর কিছু জিজ্ঞেস করেননি। তবে একটা কথা বলেছিলেন, যা তখন অর্থহীন লেগেছিল—"আজকাল তোর বাবার মতোই কথা কম বলিস।" তারপর নিজের কথা শুনিয়ে নিজেই হাসলেন, "আমি তো একই কথা দুইবার বলি, তুই একবারও বলিস না।"


তারপর কীভাবে সবকিছু বদলে গেল, সেটা আলাদা করে মনে নেই। শুধু কিছু টুকরো ছবি—হাসপাতালের সাদা দেয়াল, চাদরের ভাঁজ, ডাক্তারের নিচু গলা, আর একধরনের নীরবতা যা শব্দ না হয়েও অনেক কিছু বলে দেয়।


আর একটা ছবি। মায়ের টেবিলের ড্রয়ার থেকে পাওয়া একটা কাগজ। তারই হাতে লেখা—"জাহিদের বিয়ের পর কবে আসবে, তার দিন লিখে রাখি।" তার নিচে কিছু তারিখ, কিছু কাটা চিহ্ন। শেষ তারিখটা আমার সেই বের হওয়ার দিনের পরের দিন। তারপর আর কিছু লেখা নেই। শুধু কাগজটা ভাঁজ করা, ড্রয়ারে রাখা।


আমি বারবার একটা জায়গায় ফিরে যাচ্ছি। দরজার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা সেই বিকেল। একটা কাপ, যার ধারে পাতলা চাঁয়ের দাগ শুকিয়ে গাঢ় হয়ে আছে। মা বলছেন, "চা বানিয়েছি।" আমি বলছি, "পরে বসবো।"


একটা "এখন না।" একটা তাড়াহুড়ো করে বলা "পরে।" একটা না বসা বিকেল।


এখনো মাঝে মাঝে বিকেলে চাঁয়ের গন্ধ পেলে থেমে যাই। হালকা একটা টুং শব্ধ—চামচটা কাপে ছোঁয়া লাগলে যেমন হয়—কানে এলেই অকারণে চুপ হয়ে যাই।


কেউ ডাকছে। নিশ্চয়ই ডাকছে। কিন্তু কে?


একদিন অফিসে বসে কাজ করছিলাম। খুব ব্যস্ত না, আবার একেবারে ফাঁকাও না—এর মাঝামাঝি। পাশের রুম থেকে একজন বললেন, "ভাই, একটু আসবেন?"


আমি অভ্যাস মতো বলতে যাচ্ছিলাম—"পরে আসছি।"


শব্ধটা প্রায় বের হয়ে গিয়েছিল।


ঠিক তখনই থেমে গেলাম।


কেন থামলাম, সেটা ব্যাখ্যা করা কঠিন। শুধু মনে হলো—এই ডাকটা ফেলে রাখা ঠিক হবে না।


আমি উঠে দাঁড়ালাম। বললাম, "আচ্ছা, আসছি।"


ওই রুমে গিয়ে খুব সাধারণ একটা কথাই হলো। কোনো জরুরি কিছু না। দিনের মতোই একটা দিন।


তবু ফেরার সময় মনে হলো—কোথাও খুব ছোট একটা পরিবর্তন হয়েছে। কী, বলতে পারব না। হাতের তালুতে একটা ঘামের দাগ ছিল। কিংবা ছিল না।


এখন আমি সবসময় থামি না। অনেক সময়ই বলে ফেলি—"পরে আসছি।" তারপর কিছুক্ষণ পরে মনে পড়ে—এই কথাটাই আগে বলেছিলাম।


কখনো তখন উঠে যাই। পা ভারী লাগে। যাই তবু।


কখনো চেয়ারে বসেই থাকি। ফোনের স্ক্রিন আলো জ্বলে, নিভে।


দুটোই থেকে যায়।


কোনটা শেষবার—এটা আগে থেকে জানা যায় না। হয়তো জানার দরকারও নেই।


গতকাল রাতে ফোন এলো। বাবা অসুস্থ। একটু দেখতে আসি।


আমি বললাম, "কাল সকালে যাবো।"


ফোন রাখার পর মনে হলো—এই কথাটা আগেও বলেছিলাম কোথাও। কিন্তু কোথায়?


তারপর মনে পড়লো। সেই বিকেল। দরজার কাছে দাঁড়িয়ে। মা বলেছিলেন, "চা বানিয়েছি।"


আমি বলেছিলাম, "পরে বসবো।"


আর বাবা বলেছিলেন, "আব্বা, তোমার ওষুধটা খেয়ে নিও।"


আমি বলিনি—"এখন না, কাল খাবো।"


কিন্তু মনে হয়েছিল। ঠিক মনে হয়েছিল।


আজ সকালে গাড়িতে বসে ভাবছি—আমি কি এখনো একই জায়গায় দাঁড়িয়ে আছি? শুধু দরজাটা বদলেছে? মা থেকে বাবা? চা থেকে ওষুধ?


আমি জানি, পৌঁছাতে দেরি হবে। গাড়ির স্পিডোমিটার দেখছি—সাড়ে চল্লিশ। সড়ক ফাঁকা।


আরও তাড়াতে পারি, তাড়াই না।

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 1 বছর 1 সপ্তাহ ধরে, এবং এ পর্যন্ত 1378 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 27848। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 3663
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
যে ঋণ অঙ্কে মাপা যায় না মোহাম্মাদ জাহিদ হোসেন   বিশ্লেষণধর্মী | ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫ &[...] বিস্তারিত পড়ুন...
835 বার প্রদর্শিত 1 প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
সব চাপ নিতে হয় না মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বিশ্লেষণমূলক লেখা। ৩ অক্টোবর ২০২৬ কখন মান[...] বিস্তারিত পড়ুন...
14 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
ফুটপাতের শৈশব পর্ব ৯ — পথশিশু জন্মায় না, তৈরি হয়জ মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বিশ্লেষণধরú[...] বিস্তারিত পড়ুন...
49 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
ফুটপাতের শৈশব পর্ব ৫ — আমরা তাদের দেখি, কিন্তু দেখি না মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বিশ্লে[...] বিস্তারিত পড়ুন...
53 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
ফুটপাতের শৈশব পর্ব ৪ — যে শিশুটি জানে না তার বাবা-মা কোথায় মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বিশ&#[...] বিস্তারিত পড়ুন...
49 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    244 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    3 মন্তব্য

    12 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. প্রিন্স ফ্রেরাসে

    122 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    6 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. ফাহিম আহমাদ

    61 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    3 টি আইডিয়া ব্লগ

  4. শামীমা আকতার

    41 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    2 টি আইডিয়া ব্লগ

...