Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

অচেনা মানুষটা

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
21 বার প্রদর্শিত
করেছেন (24,421 পয়েন্ট)   22 জুন "গল্প" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

অচেনা মানুষটাimage

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

ছোট গল্প।  ২৩ জুন,২০২৬



সাবেরা বেগম কখনো ভাবেননি, যে মেয়েটাকে তিনি এতদিন নিজের মানুষ ভাবতে পারেননি, একদিন সেই মেয়েটার হাত ধরেই তাকে রাত পার করতে হবে।


নীহা এই বাড়িতে আসার পর থেকেই সাবেরা বেগমের মনে একটা অদৃশ্য দূরত্ব ছিল।


মেয়েটা খারাপ ছিল না। এই কথাটা তিনি নিজেও জানতেন।


সমস্যা ছিল অন্য জায়গায়। নীহা তার মনের মতো ছিল না।


তিনি ভেবেছিলেন, ছেলের বউ হবে এমন একজন, যে সকালে তার সঙ্গে রান্নাঘরে থাকবে, সংসারের সব নিয়ম শিখবে, তার অভ্যাসগুলো বুঝে নেবে।


কিন্তু নীহা ছিল আলাদা। সে একটা এনজিওতে চাকরি করত। সকালে বের হওয়ার সময় হাতে সবসময় তাড়া থাকত। ফিরতেও অনেক রাত হয়ে যেত।


সাবেরা বেগমের মনে হতো, মেয়েটা সংসারকে সময় দেয় না। আর নীহার মনে হতো, সে যতটুকু পারছে, চেষ্টা করছে।


কিন্তু এই দুই ভাবনার মাঝখানে যে একটা দূরত্ব তৈরি হচ্ছে, সেটা কেউ মুখে বলেনি।


শুরুটা খুব ছোট ছোট বিষয় থেকে।


নীহা নতুন একটা রান্না করলে সাবেরা বেগম বলতেন, "আমাদের সময়ে এসবের এত ঝামেলা ছিল না।"


নীহা ঘর অন্যভাবে গুছালে বলতেন, "জিনিসপত্র নিজের জায়গায় থাকলে খুঁজতে সুবিধা হয়।"


কথাগুলো শুনতে খুব বড় কিছু ছিল না। কিন্তু প্রতিদিনের ছোট ছোট কথাই একসময় জমে যায়।


নীহা প্রথম দিকে হাসত। পরে শুধু "আচ্ছা" বলে চুপ করে যেত।


কারণ কিছু সম্পর্কের দূরত্ব ঝগড়া করে বাড়ে না। চুপ থাকতে থাকতেও বাড়ে।


রাকিব মাঝে মাঝে মাকে বলত, "মা, নীহা অনেক চেষ্টা করে।"


সাবেরা বেগম তখন বলতেন, "আমি কি বলছি ও খারাপ? শুধু বলছি, ও আমার মতো না।"


এই "আমার মতো না" কথাটাই যেন তাদের মাঝখানে আটকে ছিল।


সেদিন রাতটা অন্যরকম ছিল।

রাকিব অফিসের কাজে ঢাকার বাইরে, গাজীপুরে। বাড়িতে শুধু সাবেরা বেগম আর নীহা।


হঠাৎ রাতের দিকে সাবেরা বেগমের শরীর খারাপ হয়ে গেল। প্রেশারটা মনে হয় বেড়ে গেছে। ঘুম ভেঙে তিনি বুঝলেন, শরীরটা খুব দুর্বল লাগছে।


কাঁপা গলায় শুধু ডাকলেন, "নীহা..."


নীহা পাশের ঘর থেকে দৌড়ে এল। "মা, কী হয়েছে?"


এই প্রথম নয়, কিন্তু সেদিন এই "মা" শব্দটা সাবেরা বেগমের কানে অন্যরকম লাগল।


তিনি কিছু বলতে পারলেন না।


নীহা আর সময় নষ্ট করল না। ডাক্তারের সঙ্গে ফোনে কথা বলল। ওষুধ বের করল। পানি এনে দিল। তারপর রাতভর পাশে বসে রইল।


ভোরের একটু আগে সাবেরা বেগমের ঘুম ভাঙল। জানালার বাইরে তখন আলো ফুটছে।


চোখ খুলে দেখলেন, নীহা পাশের চেয়ারে বসে আছে। ঘুমিয়ে পড়েছে। মাথাটা একদিকে হেলে আছে। এক হাত এখনো তার হাতের ওপর রাখা।


সাবেরা বেগম অনেকক্ষণ তাকিয়ে রইলেন।


এই মেয়েটার ওপরই তো কত অভিমান ছিল তার। কতবার মনে হয়েছে, মেয়েটা তাকে বোঝে না।


অথচ আজ রাতে নিজের ছেলে পাশে নেই, এই মেয়েটাই ছিল।


সকালে রাকিব ফিরে এল। মাকে দেখে চিন্তিত হয়ে বলল, "মা, এখন কেমন লাগছে?"


সাবেরা বেগম কিছুক্ষণ চুপ করে রইলেন। তারপর নীহার দিকে তাকিয়ে বললেন, "ও রাতে একবারও ঘুমায়নি।"


রাকিব মায়ের মুখের দিকে তাকিয়ে হালকা হাসল। "আমি জানি মা।"


সাবেরা বেগম ধীরে বললেন, "না। আমি জানতাম না।"


এই কথার পর আর কিছু বলার প্রয়োজন হয়নি।


কয়েকদিন পর বিকেলে নীহা রান্নাঘরে সবজি কাটছিল।


সাবেরা বেগম এসে পাশে দাঁড়ালেন। আগের মতো কোনো মন্তব্য করলেন না। শুধু জিজ্ঞেস করলেন, "এটা কীভাবে করো?"


নীহা অবাক হয়ে তাকাল। "কোনটা?"


সাবেরা বেগম একটু থেমে বললেন, "এই রান্নাটা। আমাকে শেখাবে?"


নীহার মুখে ছোট একটা হাসি ফুটে উঠল। "অবশ্যই।"


সেদিন রান্নাঘরে কোনো জিত-হার ছিল না। ছিল শুধু দুজন মানুষের নতুন করে পরিচিত হওয়া।


কয়েক মাস পর রাকিব একটা দৃশ্য দেখে থেমে গিয়েছিল।


তার মা আর নীহা একই টেবিলে বসে চা খাচ্ছে।


কোনো বড় পরিবর্তন হয়নি। এখনো মাঝে মাঝে মতের অমিল হয়। কখনো নীহার কোনো সিদ্ধান্ত মায়ের পছন্দ হয় না। কখনো সাবেরা বেগমের কোনো কথা নীহার ভালো লাগে না।


কিন্তু এখন তারা কথা বলে। চুপ করে দূরে সরে যায় না।

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 10 মাস 1 সপ্তাহ ধরে, এবং এ পর্যন্ত 1209 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 24421। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 4111
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার গল্প-৬ অচেনা আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোটগল্প ৯, জুলাই, ২০ý[...] বিস্তারিত পড়ুন...
15 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার   গল্প-১   অচেনা হাসি   মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন   ২৮, জুন, ২০২[...] বিস্তারিত পড়ুন...
24 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
 অচেনা নামের আড়ালে মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোট গল্প।  ২৩ জুন,২০২৬ স্বামীর ফোনে অন্[...] বিস্তারিত পড়ুন...
25 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
নীরব মানুষটার শেষ সীমা   পর্ব–১ : কথা বলতে বলতে মানুষটা একদিন চুপ হয়ে গেল   একটি ধা[...] বিস্তারিত পড়ুন...
19 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
সাইকোলজিক্যাল থ্রিলা গল্প-৪ যে মানুষটা আমাকে চিনত মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোটগল্প [...] বিস্তারিত পড়ুন...
15 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    587 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    29 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. শামীমা আকতার

    42 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    2 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. রফিক আতা

    23 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    1 আইডিয়া ব্লগ

...