Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

যে বেঞ্চটায় তিনি বসতেন

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
37 বার প্রদর্শিত
করেছেন (27,603 পয়েন্ট)   27 জুন "গল্প" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

যে বেঞ্চটায় তিনি বসতেনimage

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

ছোটগল্প | ২৬ জুন, ২০২৬


সকাল ঠিক নয়টা।


হাসপাতালের সামনে একটা পুরোনো বেঞ্চ আছে।


প্রায় এক বছর ধরে অভিক দেখছে, একজন বৃদ্ধ মানুষ প্রতিদিন এসে ওই বেঞ্চটাতেই বসেন।


সাদা পাঞ্জাবি।

হাতে একটা লাঠি।

বগলের নিচে ভাঁজ করা খবরের কাগজ।

এসে বসেন।


কিছুক্ষণ হাসপাতালের ভেতরের দিকে তাকিয়ে থাকেন।

তারপর উঠে চলে যান।


প্রথম দিকে অভিক ভেবেছিল, হয়তো ভেতরে কেউ ভর্তি আছে।


কিন্তু পরে বুঝল, লোকটা কখনও কোনো ওয়ার্ডে যায় না।

কাউকে খোঁজেও না।

শুধু বসে থাকে।


একদিন আর কৌতূহল সামলাতে পারল না।

এগিয়ে গিয়ে বলল,

চাচা, কাউকে দেখতে আসেন?

বৃদ্ধ মানুষটা হেসে মাথা নাড়লেন।

 না বাবা।

তাহলে রোজ আসেন?

লোকটা একটু চুপ করে থেকে বললেন,

অভ্যাস।

এর বেশি কিছু বললেন না।


তারপরও রোজ আসতেন।

কখনও অ্যাম্বুলেন্সের দিকে তাকিয়ে থাকতেন।

কখনও হাসপাতালের দরজা দিয়ে মানুষ বের হতে দেখতেন।


একদিন একটা ছোট্ট ছেলে দৌড়াতে গিয়ে হোঁচট খেয়ে পড়ে গেল।

বৃদ্ধ মানুষটাই সবার আগে উঠে তাকে কোলে তুললেন।

ছেলেটার মা তাড়াহুড়ো করে এসে তাকে নিয়ে ভেতরে চলে গেলেন।

হয়তো ধন্যবাদ বলার কথাও মনে ছিল না।


লোকটা আবার আগের জায়গায় গিয়ে বসে পড়লেন।

কয়েক দিন পর ক্যান্টিনে দুজনের দেখা।


অভিক চা খেতে খেতে বলল,

চাচা, একটা কথা জিজ্ঞেস করি?

করো।

এই হাসপাতালে রোজ আসেন কেন?


বৃদ্ধ মানুষটা চায়ের কাপে আঙুল বুলিয়ে কিছুক্ষণ চুপ করে রইলেন।


তারপর বললেন,

আমার স্ত্রী এখানে নার্স ছিলেন।

অভিক চুপ করে শুনছিল।

ত্রিশ বছর চাকরি করেছে।


আমি রোজ সকালে ওকে এখানে নামিয়ে দিয়ে অফিসে যেতাম।

বিকেলে আবার এখান থেকেই নিয়ে বাড়ি ফিরতাম।

লোকটা একটু হাসলেন।

অবসর নেওয়ার পরও অভ্যাসটা বদলায়নি।

তারপর খুব আস্তে বললেন,

পাঁচ বছর হলো ও নেই।


কিন্তু সকাল হলেই মনে হয়, আর একটু পরেই ডিউটি শেষ হবে।

আমি এসে বসে থাকি।


অভিকের কিছু বলার ছিল না।

লোকটাই আবার বললেন,

মানুষ চলে যায় বাবা।

অভ্যাসগুলো থেকে যায়।

পরের দিনও তিনি এলেন।

তার পরের দিনও।

তারপর একদিন এলেন না।

অভিক ভাবল, হয়তো শরীর খারাপ।

পরদিনও না।

তারও পরদিন না।

বেঞ্চটা খালি পড়ে রইল।


অদ্ভুতভাবে লোকটাকে খুঁজতে শুরু করল অভিক।

এক সপ্তাহ পরে একজন ভদ্রলোক এলেন।

বয়স পঞ্চাশের কাছাকাছি।

হাতে ছোট একটা কাপড়ের ব্যাগ।

তিনি অভিককে জিজ্ঞেস করলেন,

এখানে কি একজন বৃদ্ধ লোক রোজ এসে বসতেন?

হ্যাঁ।

আপনি?


লোকটা কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বললেন,

উনি আমার বাবা।

তারপর ধীরে ধীরে যোগ করলেন,

গত সপ্তাহে মারা গেছেন।


ব্যাগ থেকে বাবার লাঠিটা আর ভাঁজ করা খবরের কাগজ বের করলেন।


বেঞ্চটার ওপর রেখে অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে রইলেন।

কিছু বলছিলেন না।

হয়তো বলার মতো কিছু ছিল না।



যাওয়ার আগে শুধু বললেন,

বাবা বলতেন, "একদিন আমি না এলে বেঞ্চটা হয়তো খেয়াল করবে।"


লোকটা চলে গেলেন।

অভিক লাঠিটার দিকে তাকিয়ে রইল।


সকালের ভিড় শুরু হয়ে গেছে।

অ্যাম্বুলেন্স ঢুকছে। স্ট্রেচার দৌড়ে যাচ্ছে।

কেউ নতুন জীবন পাওয়ার আশায় এসেছে।

কেউ শেষ বিদায় জানিয়ে ফিরছে।

সবকিছু আগের মতোই চলছে।


শুধু ঠিক নয়টার সময় বেঞ্চটার দিকে তাকালে এখনও মনে হয়, সাদা পাঞ্জাবি পরা একজন মানুষ লাঠিতে ভর দিয়ে ধীরে ধীরে এগিয়ে আসবেন।

এসে বসবেন।

হাসপাতালের দরজার দিকে তাকিয়ে থাকবেন।

আর একটু পরেই যেন কেউ ডিউটি শেষ করে বেরিয়ে আসবে।


কিন্তু কেউ আর আসে না।

বেঞ্চটা শুধু অপেক্ষা করে।

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 1 বছর ধরে, এবং এ পর্যন্ত 1366 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 27603। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 4155
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
যে চিঠি কখনো পোস্ট হয়নি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছয় পর্বের ছোটগল্প ২৪ আগষ্ট, ২০২৬ প[...] বিস্তারিত পড়ুন...
49 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
যে চিঠি কখনো পোস্ট হয়নি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছয় পর্বের ছোটগল্প ২৪ আগষ্ট, ২০২৬ প[...] বিস্তারিত পড়ুন...
48 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
 যে স্বপ্নের দাম বেশি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন  ছোট গল্প। ১৭ আগষ্ট, ২০২৬ মেঘলা একদিন হ&[...] বিস্তারিত পড়ুন...
46 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
শোনা হয়নি যে কথা মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোটগল্প | ২৯ জুলাই, ২০২৬ অনেক শিশু কথা বলতে চ[...] বিস্তারিত পড়ুন...
50 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
শেষ পর্যন্ত কেউ জেতেনি   পর্ব–৯ : যে প্রশ্নের উত্তর কারও কাছে ছিল না   মোহাম্মদ জাহ[...] বিস্তারিত পড়ুন...
47 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    1504 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    74 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. রফিক আতা

    350 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    17 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. প্রিন্স ফ্রেরাসে

    125 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    6 টি আইডিয়া ব্লগ

  4. অমিত দত্ত দিলু

    124 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    6 টি আইডিয়া ব্লগ

...