Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

এক প্লেট ভাত

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
433 বার প্রদর্শিত
করেছেন (25,432 পয়েন্ট)   14 মার্চ "গল্প" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

এক প্লেট ভাতimage

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

ছোটগল্প  | ১৪ মার্চ ২০২৬



রাতটা খুব নীরব ছিল।


টিনের চালের নিচে ছোট মাটির ঘর। ঘরের ভেতর কেরোসিনের বাতি জ্বলছে—ম্লান হলুদ আলো। বাইরে দূরে কোথাও কুকুর ডাকছে, মাঝে মাঝে হাওয়ায় টিনের চালটা কেঁপে উঠছে।


মাটির মেঝেতে বসে আছে চারজন মানুষ।

বাবা। মা। আর দুই সন্তান।


তাদের সামনে একটা অ্যালুমিনিয়ামের থালা। থালায় ভাত, সামান্য ডাল, আর একটি শুকনো মরিচ।


বাবা থালাটার দিকে তাকিয়ে বললেন,

“আজ ভাতটা একটু বেশি হয়েছে মনে হয়।”


কথাটা বলেই তিনি হাসলেন।

মা জানেন—এটা সত্যি না।


তবু তিনি চুপ রইলেন। ভাতটা হাত দিয়ে একটু নাড়লেন। তারপর ছেলের থালায় তুলে দিলেন।


“তুই খা।”


ছেলেটা একটু তাকিয়ে বলল,

“তুমি?”


মা হেসে বললেন,

“আমি পরে খাবো।”


ছেলেটা আর কিছু বলল না। খেতে শুরু করল।


বাবা নিজের থালায় সামান্য ভাত নিলেন। তারপর বাকিটা মেয়ের দিকে বাড়িয়ে দিলেন।


“তুই বড় হচ্ছিস।”

মেয়েটা মাথা নাড়ল।

“আমার লাগবে না।”


কিছু না বলে সে নিজের ভাতের অর্ধেক বাবার থালায় দিয়ে দিল।


বাবা একটু তাকিয়ে রইলেন। তারপর আর কিছু বললেন না।


ঘরের ভেতর আবার নীরব হয়ে গেল।


চামচের শব্দ। থালায় ভাত নাড়ার শব্দ।


বাতিটা মাঝে মাঝে কেঁপে উঠছে।


হঠাৎ বাবা বললেন,

“আজ বাজারে কাজটা পাইনি।”


কথাটা খুব স্বাভাবিকভাবে বলা হলো।


মা ভাত মাখতে মাখতেই বললেন,

“কাল পাবা।”


বাবা কিছু বললেন না।


ছেলেটা খেতে খেতে বলল,

“বাবা।”


“হুম?”


“আমি বড় হয়ে অনেক টাকা কামাবো।”


বাবা একটু হাসলেন।

“কেন?”


ছেলেটা খুব সহজ গলায় বলল,

“তাহলে আমরা সবাই অনেক ভাত খেতে পারবো।”


কথাটা বলেই সে আবার খেতে লাগল।


ঘরের ভেতর কয়েক মুহূর্তের জন্য সব শব্দ থেমে গেল।


মা মুখ ঘুরিয়ে বাতির দিকে তাকালেন।


মেয়েটা নিচের দিকে তাকিয়ে রইল। তার আঙুল থালার ধারে ধীরে ধীরে ঘুরছে।


বাবা ছেলের মাথায় হাত রাখলেন।


কিছু বললেন না।


খাওয়া শেষ হতে হতে থালাটা প্রায় খালি হয়ে গেল।


শুকনো মরিচটা থালায় পড়ে রইল।


বাবা সেটা ভেঙে চার ভাগ করলেন।


“নাও।”


সবাই একটু করে নিল।


তারপর বাবা উঠে দাঁড়ালেন। বাতিটা একটু উঁচু করে রাখলেন। ঘরের আলোটা সামান্য বেড়ে গেল।


তিনি ধীরে বললেন,

“ঘুমা।”


ছেলেটা ইতিমধ্যে আধা ঘুমে।


মেয়েটা থালা তুলে মায়ের হাতে দিল।


মা উঠলেন।


ঘরের পেছনে একটা ছোট কল আছে। সেখানেই থালা ধোয়া হয়।


বাইরে রাত আরও গভীর হয়েছে।


দূরে ট্রেনের শব্দ শোনা গেল।


মা কলের পাশে বসে থালা ধুচ্ছেন।


থালায় একটু ভাত লেগে আছে।


তিনি আঙুল দিয়ে সেটা তুলে মুখে দিলেন।


তারপর থালাটা আবার ধুয়ে নিলেন।


কিছুক্ষণ চুপ করে বসে রইলেন।


ঘরের ভেতর থেকে বাবার কাশির শব্দ এল।


ছেলেটা ঘুমের মধ্যে অস্পষ্ট গলায় বলল,

“ভাত… আর একটু…”


মা থেমে গেলেন।


তারপর আবার ধীরে থালা ধোয়া শুরু করলেন।


মেয়েটা ভেতর থেকে ডাকল,

“মা?”


“হুম।”


“বাতিটা নিভাবো?”


মা একটু চুপ করে রইলেন।


তারপর বললেন,

“নিভা।”


মেয়েটা বাতিটা নিভিয়ে দিল।


ঘরটা অন্ধকার হয়ে গেল।


কিছুক্ষণ পরে বাবা অন্ধকারে বললেন,

“শোনো।”


মা বললেন,

“কি?”


“কাল আমি অন্য হাটে যাবো।”


মা বললেন,

“হ।”


তারপর আর কোনো কথা হলো না।


বাইরে আবার কুকুর ডাকল।


হাওয়া এসে টিনের চাল ছুঁয়ে গেল।


অন্ধকার ঘরের ভেতর চারজন মানুষ শুয়ে আছে।


একই ছাদের নিচে।

একই রাতের ভেতর।

একই জীবনের মধ্যে।


সকালে উঠলে আবার কাজ খোঁজা হবে।

আবার বাজারে যাওয়া হবে।

আবার সন্ধ্যায় একটা থালায় ভাত উঠবে।


কমও হতে পারে।

আবার একটু বেশিও।


রাত হলে তারা আবার একসাথে বসবে।


একটা থালা সামনে রেখে।


নিঃশব্দে।

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 10 মাস 3 সপ্তাহ ধরে, এবং এ পর্যন্ত 1259 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 25432। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 3595
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
সিরিজ -আমাদের না-বলা কথা। গল্প-০১ এক মুঠো ভাত মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন  ছোট গল্প। ৫ আগষ্[...] বিস্তারিত পড়ুন...
21 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
শ্রাবণদিনের হাহাকার প্রথম পর্ব: এক আষাঢ়ের সকালে মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন  ২২ জুলাই[...] বিস্তারিত পড়ুন...
17 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
সিরিজ-শব্দহীন পৃথিবীর গল্প গল্প-৩ এক ফোঁটা সহানুভূতি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন  ২২ জুল[...] বিস্তারিত পড়ুন...
23 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
এক জীবনের প্রশ্ন   মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন   ছোটগল্প। ৫ জুন, ২০২৬ সন্ধ্যার পর থেকেই [...] বিস্তারিত পড়ুন...
207 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
নুনের স্বাদে লেখা এক বিকেল মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোট গল্প  । ২৮ মে, ২০২৬ যে সময় জীবনú[...] বিস্তারিত পড়ুন...
202 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    1598 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    79 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. Monsoon Harmony

    904 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    45 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. Mayabi Ilmaz Megh

    743 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    37 টি আইডিয়া ব্লগ

  4. রফিক আতা

    367 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    18 টি আইডিয়া ব্লগ

...