Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

আমি কারও দরকারি নই

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
3 বার প্রদর্শিত
করেছেন (25,411 পয়েন্ট)   10 ঘন্টা পূর্বে "গল্প" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

আমি কারও দরকারি নইimage

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

ছোটগল্প | ১৯ আগস্ট ২০২৬


অফিসে নতুন ছেলেটা এসে বলেছিল,


স্যার, এই রিপোর্টটা আমি করে দিচ্ছি। আপনি আর কষ্ট করবেন না।


কথাটা খুব স্বাভাবিক ছিল।


অভিকও হেসে বলেছিল,


ঠিক আছে, করো।


নিজের ডেস্কে ফিরে এসে কিছুক্ষণ কম্পিউটারের দিকে তাকিয়ে ছিল সে।


এই কাজটা তো সে এত বছর ধরে করে এসেছে।


এখন আর তাকে লাগছে না?


কথাটা মাথা থেকে সরাতে পারছিল না।


মেঘলা বিশ্ববিদ্যালয়ে উঠেছে। নিজের ক্লাস, পরীক্ষা, বন্ধু, ভবিষ্যৎ—সব নিয়ে ব্যস্ত। মিশিরও একই অবস্থা।


আগে সন্ধ্যা হলেই দুজনের একজন এসে বলত,


বাবা, এটা কীভাবে করব?


অথবা,


বাবা, কাল আমাকে নিয়ে যাবে?


এখন দরকার হলে ফোন আসে।


বাবা, বিকাশে একটু টাকা পাঠাবে?


বাবা, এই ফর্মটা একবার দেখবে?


তারপর ফোন কেটে যায়।


অভিক কখনো মেয়েদের ওপর রাগ করেনি। বরং ফোন কেটে যাওয়ার পরও কিছুক্ষণ ফোনটা হাতে নিয়ে বসে থাকত।


নিশি একদিন রান্নাঘর থেকে বলেছিল,


কার ফোন ছিল?


মেঘলার।


কী বলল?


কিছু না। টাকা লাগবে।


নিশি হেসে বলেছিল,


মেয়েরা বড় হয়ে গেছে।


অভিকও হেসেছিল।


কিন্তু কথাটা তার ভেতরে কোথাও গিয়ে আটকে ছিল।


বাড়ির অনেক সিদ্ধান্তও এখন আর অভিককে ঘিরে হয় না।


মেঘলা কোথায় পড়বে, মিশি কোন কোর্স করবে, ঘরের পর্দা বদলাবে কি না—মেয়েরা আর নিশি নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে নেয়।


অভিক মাঝে মাঝে জিজ্ঞেস করে,


তোমরা কী ঠিক করলে?


মেঘলা বলে,


হয়ে গেছে বাবা।


এই “হয়ে গেছে” কথাটা শুনতে শুনতে অভিক একসময় সিদ্ধান্ত নেওয়া বন্ধ করে দিল।


কেউ জিজ্ঞেস না করলে মতামত দিত না।


নিশি একদিন বলল,


মেঘলার জন্য একটা নতুন ল্যাপটপ লাগবে। পুরোনোটার অবস্থা ভালো না।


অভিক হিসাব করতে বসেছিল।


কত?


মেঘলা দেখেছে। ভালো একটা নিতে হবে।


অভিক বলল,


আমি কাল দোকানে


মেঘলা তখন পাশের ঘর থেকে বলল,


না বাবা, তুমি যেও না। আমি আর মা দেখে নেব।


অভিক থেমে গেল।


আচ্ছা।


তারপর আর কিছু বলল না।


কয়েক দিন পর অফিসে নতুন সফটওয়্যার নিয়ে একটা প্রশিক্ষণ হলো।


অভিক মন দিয়ে শিখতে চেয়েছিল।


পাশে বসা নতুন ছেলেটা হেসে বলল,


স্যার, আপনি থাক, আমি করে দিচ্ছি।


অভিক বলল,


আমি পারব।


ছেলেটা একটু অপ্রস্তুত হয়ে সরে গেল।


অভিক স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে রইল।


কাজটা সে পারল।


কিন্তু শেষ করার পরও তার ভালো লাগল না।


আগে একটা কাজ ঠিকমতো শেষ হলে তার ভেতর একটা তৃপ্তি আসত।


সেদিন শুধু মনে হলো—আর কতদিন?


সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে দেখল, মেঘলা আর মিশি বসার ঘরে বসে কথা বলছে। নিশিও আছে।


মেঘলা বলল,


মা, তাহলে ঠিক হলো। আগামী মাসে আমরা বাসাটা বদলাব।


অভিক দরজার কাছে দাঁড়িয়ে শুনছিল।


বাসা বদলাবে?


মেঘলা তাকিয়ে বলল,


হ্যাঁ বাবা। ইউনিভার্সিটি থেকে অনেক দূর হয়ে যাচ্ছে। মিশিরও যাতায়াতে সমস্যা।


অভিক বলল,


কোথায় নেবে?


মেঘলা জায়গার নাম বলল।


অভিক হিসাব করতে শুরু করল।


ভাড়া বেশি। যাতায়াতের খরচও বাড়বে।


সে বলতে যাচ্ছিল, “এটা কি দরকার?”


কিন্তু থেমে গেল।


তোমরা যেটা ভালো মনে করো, করো।


মেঘলা অবাক হয়ে তাকাল।


তুমি কিছু বলবে না?


অভিক হেসে বলল,


তোমরা তো ঠিক করেই ফেলেছ।


সে নিজের ঘরে চলে গেল।


দরজা বন্ধ করে বিছানায় বসে রইল।


কিছুক্ষণ পর নিশি এসে দরজায় দাঁড়াল।


মন খারাপ?


না।


তুমি সারাদিন “না” বলছ কেন?


অভিক হেসে বলল,


কী বলব?


নিশি ঘরে ঢুকে তার পাশে বসল।


যা মনে হচ্ছে, সেটা।


অভিক অনেকক্ষণ চুপ করে থেকে বলল,


আমার মনে হয়, এখন আর আমাকে কারও দরকার নেই।


নিশি তার দিকে তাকিয়ে রইল।


এই কথাটা কেন মনে হলো?


জানি না। আগে কোনো কিছু হলে আমাকে ডাকত। এখন তোরা সব ঠিক করে ফেলিস। অফিসেও নতুন ছেলেরা সব করে ফেলে।


নিশি একটু চুপ করে বলল,


তুমি কি চাও, আমরা সব কাজে তোমাকে ডাকব?


অভিক মাথা নাড়ল।


না।


তাহলে?


অভিক জানালার বাইরে তাকাল।


শুধু... মাঝে মাঝে যেন মনে হয়, আমি আছি।


দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে কথাগুলো শুনছিল মেঘলা।


সে ভেতরে ঢুকল না।


সেদিন রাতে নিজের ঘরে গিয়ে পুরোনো ছবিগুলো খুলে বসেছিল।


একটা ছবিতে সে খুব ছোট। বাবার কাঁধে বসে আছে।


আরেকটায় মিশির হাত ধরে অভিক দাঁড়িয়ে।


মেঘলা ছবিগুলো দেখতে দেখতে বুঝল—বাবা শুধু সংসারের খরচ চালাননি। তাদের প্রতিদিনের ছোট ছোট প্রয়োজনের ভেতর নিজের জায়গাটাও বানিয়ে নিয়েছিলেন।


এখন মেয়েরা বড় হয়েছে।


কিন্তু বাবাটা হয়তো এখনও সেই পুরোনো জায়গাটাতেই দাঁড়িয়ে আছে।


পরদিন সকালে মেঘলা বাবার ঘরে গিয়ে বলল,


বাবা?


অভিক ঘড়ি পরছিল।


হুম?


আজ আমাদের সঙ্গে বাজারে যাবে?


অভিক তাকাল।


কেন?


মিশির জন্য কিছু কিনতে হবে। আর আমার ল্যাপটপটাও তোমার সঙ্গে দেখে নিতে চাই।


অভিক কিছুক্ষণ চুপ করে থাকল।


তোমরা তো নিজেরাই দেখে নিতে পারো।


মেঘলা হেসে বলল,


পারি। কিন্তু তোমাকে নিয়েই যেতে চাই।


অভিকের মুখে ছোট্ট একটা হাসি ফুটল।


কখন বেরোব?


তুমি যখন বলবে।


মেঘলা ঘর থেকে বেরিয়ে গেল।


অভিক কিছুক্ষণ দরজার দিকে তাকিয়ে রইল।


তারপর ধীরে ধীরে জুতোর ফিতা বাঁধতে বসে গেল।


বাইরে মেঘলা মিশিকে বলছিল,


বাবাকে ডাকিস না। উনি তৈরি হচ্ছেন।


মিশি বলল,


বাবা কি আবার দেরি করবে?


অভিক ঘরের ভেতর থেকেই বলল,


এই তো, আসছি।


তার গলায় বহুদিন পর সেই পুরোনো স্বরটা ফিরে এসেছিল।

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 10 মাস 3 সপ্তাহ ধরে, এবং এ পর্যন্ত 1258 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 25411। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 4732
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
শেষ পর্যন্ত কেউ জেতেনি   পর্ব–৯ : যে প্রশ্নের উত্তর কারও কাছে ছিল না   মোহাম্মদ জাহ[...] বিস্তারিত পড়ুন...
18 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার গল্প-৬ অচেনা আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোটগল্প ৯, জুলাই, ২০ý[...] বিস্তারিত পড়ুন...
19 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
নিশি উপাখ্যান সিরিজ   গল্প-৫   হারিয়ে যাওয়া আমি   মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন   ২৯, জু[...] বিস্তারিত পড়ুন...
27 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

যে ফুলগুলো তোমাকে দেওয়ার জন্য কুড়িয়ে রেখেছিলাম, ‎বিশ্বাস করো, ‎ফুলগুলো তোমাকেই দ[...] বিস্তারিত পড়ুন...
14 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

কি ব্যাপার? হঠাৎ কি মনে করে আমার শহরে? কি ভাবছেন? আমি হুমায়ূন আহমেদের লেখা কোনো চরি&#[...] বিস্তারিত পড়ুন...
201 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    1577 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    78 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. Monsoon Harmony

    904 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    45 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. Mayabi Ilmaz Megh

    743 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    37 টি আইডিয়া ব্লগ

  4. রফিক আতা

    367 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    18 টি আইডিয়া ব্লগ

...