Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

অক্সিজেন

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
126 বার প্রদর্শিত
করেছেন (30,112 পয়েন্ট)   15 জুন "গল্প" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

অক্সিজেনimage #enolej_idea  

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন  

ছোটগল্প। ১৬ জুন ২০২৬


হাসপাতালের করিডোর রাতে কেমন যেন লম্বা লাগে। আলোও কম। মানুষজনও নাই। তবু ভেতরে ভেতরে কেমন একটা ছটফটানি।


বাবা বেডে শুয়ে আছে। নাকে অক্সিজেন মাস্ক। বুকটা আস্তে আস্তে উঠছে নামছে। চোখটা পুরা বন্ধ না, আবার খোলাও না। মাঝামাঝি।


ছেলেটা পাশে দাঁড়িয়ে। হাতে ফোন।


ফোনের স্ক্রিন বারবার জ্বলে উঠছে। মেসেজ, মিসড কল। আর একটা পোস্ট—একটু আগে দিছে। “সবাই দোয়া করবেন, আব্বা হাসপাতালে, অবস্থা ভালো না।” লাইক পড়ছে। কমেন্ট পড়ছে। “দোয়া রইল ভাই।” “আল্লাহ সুস্থ করুক।” ও দেখে। আবার পকেটে রাখে। দুই মিনিট পর আবার বের করে।


নার্স এসে বলল, “অক্সিজেন লাগবে। এখনো স্টেবল না, মনিটরে রাখতে হবে।”  

“স্টেবল না”—কথাটা মাথার ভেতর ঘুরতে লাগল। পুরা বুঝি না। খালি খারাপ কিছু মনে হয়। ছেলেটা খালি মাথা নাড়ল।


আশেপাশে সবাই দাঁড়িয়ে। কেউ বসে, কেউ হাঁটে। বারবার জিগায়, “ডাক্তার কী কইল?” উত্তর একটাই—“দেখতেছি।” “মনিটরে আছে।” “রিপোর্ট আসুক।” কেউ আসল কথা পায় না। তবু সবাই শোনে।


ছেলেটা এক কোণায় দাঁড়িয়ে আবার পোস্টটা খুলল। কমেন্ট বাড়ছে। দোয়া বাড়ছে। স্ক্রিন থেকে চোখ তুলে বাবার দিকে তাকায়। মাস্কের ভেতর বাবার নিঃশ্বাস আস্তে আস্তে চলছে।


এক মামা এসে বলল, “যা, একটু পানি খেয়ে আয়।”  

ছেলেটা মাথা নাড়ল। গেল না। ফোন বের করল। লক। আবার পকেটে ঢুকাইল।


রাত বাড়তেছে। করিডোর ফাঁকা। পায়ের শব্দ নাই। খালি মাঝে মাঝে মেশিনের বিপ। বাবার নিঃশ্বাস এখন মাস্কের ভেতরেই আটকা। বাইরে শোনা যায় না। ছেলেটা পাশে বসল। আবার ফোন হাতে নিল।


ডাক্তার আসল। “অক্সিজেনের ওপরই আছে। খারাপের দিকে যাইতে পারে।”  

“খারাপের দিকে”—কথাটা রুমের ভেতরেই বসে গেল। ছেলেটা চুপ।


রাত তিনটা। হাসপাতাল একদম চুপ। দূরে দরজা বন্ধের শব্দ। মাঝে মাঝে কাশি। বাবা এখন চোখ বন্ধ। নার্স এসে মাস্কটা ঠিক করে দিয়ে গেল। ছেলেটা পাশে দাঁড়ায়ে আছে। মনে হইতেছে ও কিছু একটা করতেছে। কিন্তু কী করতেছে, নিজেই জানে না।


হঠাৎ ফোন ভাইব্রেট করল। আবার কমেন্ট। “ঠিক হয়ে যাবে ভাই।” “আমরা আছি।”  

ও অনেকক্ষণ স্ক্রিনের দিকে তাকায়ে থাকল। তারপর ফোনটা আস্তে করে বেডের পাশে রাখল। প্রথমবার মনে হইল, ফোনটা এখানে দরকার নাই।


ভোরের দিকে বাবার নিঃশ্বাসটা কেমন যেন বদলে গেল। ডাক্তার দৌড়ে আসল। নার্স আসল। হইচই একটু। ছেলেটা পাশে দাঁড়ায়ে থাকল। শরীর শক্ত, ভেতরটা কাঁপতেছে। ফোন আর বের করল না।


একটু পরে ডাক্তার বলল, “এখন স্টেবল। তবে অবজারভেশনে রাখতে হবে।”  

“স্টেবল”—এইবার কথাটা অন্যরকম লাগল। পুরা ভরসা না, আবার ভয়ও না।


বাইরে আলো ফুটতেছে। ছেলেটা জানালার কাছে গিয়া দাঁড়াইল। হাতে ফোন নাই। মাথার ভেতর খালি একটা কথা—কাউরে জানানো আর পাশে থাকা কি এক জিনিস? নাকি আমরা খালি জানাই, থাকি না?


বাবা এখনো শুয়ে আছে। অক্সিজেন চলতেছে। মেশিন চলতেছে। জীবন চলতেছে—যতটুকু চলে আর কী।


ছেলেটা আবার ফোনটা তুলল। পোস্টটা ওই আছে। “সবাই দোয়া করবেন…” ও কিছুক্ষণ তাকায়ে থাকল। তারপর নিচে স্ক্রল করল। আর কিছু লিখল না।


হাসপাতালের জানালা দিয়া সকাল ঢুকল। আলো পড়ল বেডে, মেঝেতে, দেয়ালে। সেই আলোয় খালি একটা ছোট প্রশ্ন ভার হয়ে থাকল—আমরা কি সত্যি পাশে থাকি, নাকি খালি জানাই?

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 1 বছর 1 মাস ধরে, এবং এ পর্যন্ত 1490 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 30112। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 4072
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
ভেজা দেশলাই মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোটগল্প। ২৯ অক্টোবর ২০২৬ দেশলাইয়ের বাক্সটা ছ[...] বিস্তারিত পড়ুন...
6 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
বাবা, তোমাকে আজও খুঁজি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন স্মৃতিচারণ | ২৭ অক্টোবর ২০২৬ বাবা, তোমù[...] বিস্তারিত পড়ুন...
6 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
বাবাকে ব্লক করেছি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোটগল্প। ২৭ অক্টোবর ২০২৬ আমি আমার বাবাকে &[...] বিস্তারিত পড়ুন...
16 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
ঝোলে মাছের গন্ধ মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোটগল্প। ২৬ অক্টোবর ২০২৬ আমার মা মারা যাওয়&[...] বিস্তারিত পড়ুন...
15 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
ভালো মানুষ মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোটগল্প। ২৬ অক্টোবর ২০২৬ আমার স্বামী ভালো মানুষ, [...] বিস্তারিত পড়ুন...
12 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    2508 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    12 মন্তব্য

    124 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. Mayabi Ilmaz Megh

    393 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    19 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. মিস্টার পেন্সিল

    252 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    12 টি আইডিয়া ব্লগ

  4. প্রিন্স ফ্রেরাসে

    127 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    6 টি আইডিয়া ব্লগ

...