Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

লালচে নীরবতার দিন

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
350 বার প্রদর্শিত
করেছেন (21,612 পয়েন্ট)   18 মে "গল্প" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

লালচে নীরবতার দিন

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

ছোট গল্পimage । ১৮ মে, ২০২৬


সকালের টেবিলে বসে মুন খুব ধীরে পানি খাচ্ছিল। এমনভাবে, যেন গ্লাসটা নামালেই তাকে কিছু একটা বলতে হবে। রান্নাঘর থেকে ভাজা পেঁয়াজের গন্ধ আসছিল। বাবা প্রতিদিনের মতো খবরের কাগজ খুলে বসেছেন।

তিনি একবার তাকিয়ে বললেন,

— কী রে, কলেজে যাবি না?

মুন মাথা তুলল না। চোখের নিচে কালি জমেছে। ঠোঁট শুকনো। শরীরটা কুঁকড়ে আছে।

রাফি ডিম ভাজি খেতে খেতে হেসে বলল,

— আবার মুড সুইং?

গ্লাসটা ধরতে গিয়ে মুনের হাত কেঁপে উঠল। একটা শব্দ, মাত্র দুটো শব্দ। অথচ মনে হলো শরীরের ভেতর কিছু জোরে মোচড় দিল।

মুন খুব আস্তে বলল,

— আজকে প্লিজ ঝামেলা করিস না।

রাফি ভুরু কুঁচকাল।

— আরে, কিছু বললেই তো রাগ করিস।

মুন আর বসে থাকল না। চেয়ারটা শব্দ করে পিছিয়ে গেল। তারপর নিজের ঘরে ঢুকে দরজা লাগিয়ে দিল।

তার মা দীর্ঘশ্বাস ফেললেন।

— মেয়েদের এই সময় একটু এমন হয়। সহ্য করতে হয়।

ঘরের ভেতর শব্দটা ঝুলে রইল— “সহ্য”।


মুন বিছানায় বসে পড়ল। নিচের পেটটা মোচড় দিচ্ছে। ব্যথাটা ঢেউয়ের মতো উঠছে নামছে। মাথাও ভার লাগছে।

ড্রয়ার খুলে সে থমকে গেল। একটা মাত্র প্যাড আছে।

তার বুকের ভেতর আতঙ্ক জমল। এই ভয়টা নতুন না। মুনের ক্লাস সেভেনের কথা মনে পড়ল।

সাদা ইউনিফর্মে ছোট্ট লালচে দাগ দেখে সে ভয়ে কেঁদে ফেলেছিল। বাসায় ফিরে কাঁপা গলায় মাকে বলতেই মা দ্রুত তাকে বাথরুমে নিয়ে গিয়েছিলেন। তারপর নিচু স্বরে বলেছিলেন,

— কাউকে বলবি না এসব।

কেন বলবে না— সেই প্রশ্নটা কখনও উত্তর পায়নি।


দুপুরে ব্যথা বাড়ল। কলেজে যাওয়া হলো না। বাইরে বৃষ্টি পড়ছে। টিনের চালে পানি পড়ার শব্দ ঘরটাকে ভারী করে তুলছে।

এমন সময় দরজায় টোকা পড়ল।

— ঢুকব?

রাফি।

সে ঢুকে পড়ল। হাতে ফার্মেসির প্যাকেট।

— এই নে।

মুন তাকাল।

— কী এটা?

রাফি একটু অস্বস্তি নিয়ে মাথা চুলকাল।

— ফার্মেসিতে গিয়ে প্রথমে কিছু বলতে পারছিলাম না। পরে আঙ্কেলকে চুপি চুপি বললাম। ওষুধও নিয়ে আসছি।

মুন চুপ করে নিল।

রাফি বলল,

— ইউটিউবে দেখছিলাম… এই সময় নাকি অনেক ব্যথা হয়।


মুনের চোখ ভিজে উঠল।

রাফি বিছানার পাশে বসে রইল।

— আগে বুঝতাম না। মনে হতো তুই ইচ্ছা করে রাগ করিস।

— অনেকেই ভাবে,

মুন ধীরে বলল।

— কারণ কেউ বলে না।


কয়েক সেকেন্ড নীরবতা।

তারপর রাফি বলল,

— তুই যদি এত ব্যথা নিয়েও ঠিক থাকার চেষ্টা করিস, তোকে নিয়ে মজা করা ভুল।

মুন জানালার দিকে তাকাল। বৃষ্টির পানি কাঁচ বেয়ে নামছে। মনে হলো, শরীরের ব্যথার পাশাপাশি একটা চুপ থাকাও সে বহন করে এসেছে।


সন্ধ্যায় মা এসে পাশে বসলেন।

— আমরা ছোটবেলায় এসব নিয়ে কথা বলতে পারতাম না। তাই হয়তো তোমাদের সাথেও সহজ হতে পারিনি।

মুন শুনল।

মা বললেন,

— কিন্তু চুপ থাকলে কিছু বদলায় না।


রাতে বাবা বললেন,

— শরীর খারাপ থাকলে কাল যাস না।

থেমে যোগ করলেন,

— আর লাগলে বলবি। লজ্জার কিছু নাই।


রাতে মুন ফোন হাতে নিল। লিখল—

“মাসিক অসুখ না। এটা শরীরের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। এই সময় শরীর বদলায়, মনও বদলায়। তাকে ‘ড্রামাটিক’ বলা সহজ। পাশে দাঁড়ানো কঠিন। কিন্তু আমরা বদলাই সেখান থেকেই— যখন বিচার কম করি, বোঝার চেষ্টা বেশি করি।”


ফোনটা বন্ধ করে দিল।


বাইরে তখনও বৃষ্টি।

কিন্তু আজ বৃষ্টিটা চাপা না— পরিষ্কার। মনে হলো বহুদিনের জমে থাকা কিছু ধুয়ে যাচ্ছে।

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 9 মাস 1 সপ্তাহ ধরে, এবং এ পর্যন্ত 1070 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 21612। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 3894
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


শেষ মজুরির দিন মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন  ছোট গল্প। মে ০১,২০২৬ মে মাসের প্রথম সকাল। শহরজুড়ে লাল পতাকা, মাইকে স্লোগান—“শ্রমিকের অধিকার চাই”—সবই যেন ঠিকঠাক আছে। তবুও কোথাও একটা অস্বস্তি রয়ে যায়; [...] বিস্তারিত পড়ুন...
507 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
রজনীগন্ধার দিন মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন  ছোট গল্প। এপ্রিল ১৯,২০২৬ জানালার ধারে দাঁড়[...] বিস্তারিত পড়ুন...
411 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
নীরবতার ভেতর   মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন   ছোটগল্প। ২৫ জুন, ২০২৬ অভিকের একটা অভ্যাস ছù[...] বিস্তারিত পড়ুন...
7 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
 নীরবতার দায় মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন   গল্পধর্মী প্রবন্ধ। ৯ জুন, ২০২৬ বিকেলের শেষ ফ[...] বিস্তারিত পড়ুন...
407 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
পরাজয়    মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোট গল্প। ৪ জুলাই, ২০২৬ "জীবনের পরাজয়, সেটা নির্ধার&[...] বিস্তারিত পড়ুন...
1 বার দর্শন 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    143 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    7 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. শামীমা আকতার

    21 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    0 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. মুহাম্মদ সালমান

    1 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    0 টি আইডিয়া ব্লগ

...