Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

আলো নিভে যাওয়ার আগে

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
1 বার দর্শন
করেছেন (17,169 পয়েন্ট)   1 ঘন্টা পূর্বে "সাহিত্য(বিশ্লেষণ ধর্মী)" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

আলো নিভে যাওয়ার আগেimage

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

ছোট গল্প। এপ্রিল ২৩, ২০২৬


সেদিন মনটা অস্বস্তিতে ছিল—কারণটা স্পষ্ট করে ধরতে পারিনি। এমনও হতে পারে, কোনো নির্দিষ্ট কারণ ছিল না; তবু একটা চাপা অস্বস্তি সারাদিন ধরে পেছনে লেগে ছিল। শহর নিজের গতিতেই চলছিল, বরং একটু দ্রুত। গাড়ি ছুটছে, হর্নের ভাঙা শব্দ একটার সঙ্গে আরেকটা মিশে যাচ্ছে, মানুষ ফোন কানে নিয়ে রাস্তা পার হচ্ছে। বাইরে থেকে দেখলে সবকিছু ঠিকঠাক। অদ্ভুতভাবে ঠিকঠাক।


এই স্বাভাবিকতাই কখনো প্রশ্ন তোলে—কিছু কি চোখ এড়িয়ে যাচ্ছে?


আমি ফুটপাথ ধরে হাঁটছিলাম। সামনে কাচঘেরা একটা রেস্টুরেন্ট। দরজা খুললেই ঠান্ডা বাতাস বেরিয়ে আসে, সঙ্গে খাবারের গন্ধ। গাড়ি এসে থামছে, মানুষ নামছে—কেউ তাড়াহুড়ায়, কেউ যেন কোনো তাড়াহুড়া নেই। একজন লোক ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দ্রুত ভেতরে ঢুকে গেল। তাকে দেখে মনে হলো, সে দেরি করেছে—অথবা দেরি হয়ে যাওয়ার ভয়েই তাড়াহুড়া।


ভেতরের গন্ধ বাইরে পর্যন্ত ছড়িয়ে আছে। মাংস রান্নার ভারী গন্ধ, মাখনের তেলতেলে উষ্ণতা—এক ধরনের ঘন পরিবেশ তৈরি করে। এমন জায়গায় মানুষ শুধু খেতে আসে না, একটু থামতেও আসে—এটা ধরে নেওয়া খুব ভুলও হবে না।


রাস্তার ওপাশে একটা বাড়ি। উঁচু দেয়াল, তবু ভেতরের ডাইনিং স্পেস খানিকটা দেখা যায়। টেবিল সাজানো। প্লেটগুলো এক লাইনে। কেউ খাবার দিচ্ছে, কেউ বসে অপেক্ষা করছে। আলোটা নরম, হিসেব করে রাখা।


এই দুই দৃশ্য পাশাপাশি দাঁড়িয়ে—চোখ ঘোরালেই দেখা যায়।


মাঝখানে আরেকটা জায়গা আছে, যেটা প্রথমে চোখে পড়ে না।


ছোট্ট একটা বস্তি। রাস্তার ধারে, প্রায় লুকানো। টিনের চাল, ছেঁড়া কাপড় টাঙানো, মাটির ওপর পলিথিন। সন্ধ্যা নামলে জায়গাটা আরও গা-ঢাকা দেয়—আলো কমে গেলে দৃশ্যও কমে যায়।


সেখান থেকেই শব্দটা আসছিল।


প্রথমে বোঝা যায় না—চিৎকার, না কান্না। শব্দটা ধারালো, কিন্তু স্থির না। একটু শুনে বুঝলাম—শিশুর কান্না।


আমি থামলাম।


ভেতরে তাকিয়ে একটা বাচ্চাকে দেখলাম। খুব ছোট। বয়স দুই মাসের বেশি হবে না। শরীরটা শুকনো, পেট ভেতরে ঢুকে গেছে। সে কাঁদছে—কিন্তু সেই কান্নায় ওঠানামা নেই। একই সুরে, টানা, যেন কণ্ঠস্বর ঠিকমতো বেরোচ্ছে না।


পাশে কাউকে দেখা গেল না।


থাকতে পারে—চোখে পড়ছে না। হয়তো কেউ কাজের জন্য বাইরে গেছে, হয়তো পাশের ঘরে। এই “হয়তো”গুলোই মানুষকে নিশ্চিন্ত করে। ভাবতে সুবিধা হয়—কেউ না কেউ আছে।


কিন্তু ওই মুহূর্তে, সেখানে কেউ ছিল না।


শিশুটার হাত-পা খুব কম নড়ছিল। কান্না থামছিল না, আবার জোরও পাচ্ছিল না। একসময় এমন হয়—কান্না আর চিৎকার থাকে না, একটা ভাঙা শব্দে নেমে আসে। এটা বইয়ে পড়া কথা না; সামনে দাঁড়িয়ে থাকলে বোঝা যায়।


আমি চারপাশে তাকালাম।


মানুষ হাঁটছে। কেউ ফোনে ডুবে, কেউ তাড়ায়। রেস্টুরেন্টের দরজা খুলছে-বন্ধ হচ্ছে। ভেতর থেকে হাসির শব্দ বেরিয়ে আসছে। একজন খাবারের ছবি তুলছে—মোবাইলটা একটু কাত করে ধরে, আলো ঠিক করছে।


কেউ তাকাচ্ছে না।


অথবা তাকালেও থামছে না।


আমি আবার বাচ্চাটার দিকে তাকালাম। চোখ খোলা, কিন্তু দৃষ্টি স্থির না। শরীর কাঁপছে না—এটা অস্বস্তিকর। কারণ ক্ষুধা দীর্ঘ হলে শরীরের প্রতিক্রিয়াও কমে আসে—এটা আমরা জানি, কিন্তু সামনে দেখলে অন্যরকম লাগে।


হঠাৎ মনে হলো, এই শব্দটা শুধু কান্না না।


এটা একটা ইঙ্গিত—খুব ছোট, খুব নির্দিষ্ট।


কেউ ধরছে না। তবু আছে।


আমি এক পা এগোলাম। তারপর থেমে গেলাম। মাথায় প্রশ্ন ঢুকে পড়ল—আমি কি এগোব? কাকে ডাকব? এটা কি আমার কাজ?


এই প্রশ্নগুলো অল্প সময়েই আসে। আর বেশিরভাগ সময় এগুলোই মানুষকে থামায়।


বুকের ভেতর চাপা একটা অস্বস্তি জমছিল। দাঁড়িয়ে থাকা মানেই যেন কিছু না করা। আর কিছু না করাও একধরনের কাজ—এই কথাটা মাথায় আসতেই অস্বস্তিটা আরও স্পষ্ট হলো।


শিশুটার কান্না বদলে যাচ্ছিল। শব্দ পাতলা হচ্ছে। মাঝে মাঝে থেমে যাচ্ছে, আবার শুরু হচ্ছে।


এই থেমে যাওয়াগুলো—এগুলোই ভয় ধরায়।


রেস্টুরেন্টে তখন হয়তো খাবার টেবিলে উঠেছে। কেউ বলছে, “আরেকটু নিন।” পাশের বাড়িতে হয়তো সবাই বসেছে—খাওয়ার আগে হালকা কথা, ছোট হাসি।


এইদিকে শব্দটা কমে আসছে।


কান্না, না অন্য কিছু—ধরা কঠিন।


হঠাৎ বাতাস এলো। টিনের চাল কেঁপে উঠল। এক মুহূর্তের জন্য শব্দ থেমে গেল।


তারপর আবার এল। খুব হালকা।


আমি আর দাঁড়িয়ে থাকলাম না। হাঁটা শুরু করলাম। কোথায় যাচ্ছি, জানি না। পেছনে তাকানোর ইচ্ছে হচ্ছিল, কিন্তু তাকাইনি।


হয়তো ভয় ছিল—তাকালে আর শব্দটা শুনব না।


রাস্তার আলো জ্বলে উঠেছে। ভিড় বেড়েছে। শব্দ ঘন হয়েছে।


তবু কানে লেগে আছে একটাই জিনিস—

একটা কান্না, যেটা ধীরে ধীরে নিজের শব্দ হারাচ্ছিল।


ঠিক কখন থামল, সেটা আমি শুনিনি।

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 6 মাস 4 সপ্তাহ ধরে, এবং এ পর্যন্ত 851 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 17169। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 3789
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
নক্ষত্র নিভে গেলে মোহাম্মাদ জাহিদ হোসেন  বিশ্লেষণধর্মী। ডিসেম্বর ৩০, ২০২৫ নক্ষত[...] বিস্তারিত পড়ুন...
23 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
একজন ভালো বাবা হওয়ার আগে ভালো স্বামী হওয়া জরুরি  মোহাম্মদ জাহিদ হোসন বিশ্লেষণধর্[...] বিস্তারিত পড়ুন...
38 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
আলো-আঁধারি    মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন   গদ্যকবিতা। ডিসেম্বট ২৭,২০২৫  বছর সাতেক পর ত[...] বিস্তারিত পড়ুন...
24 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
যদি দশ বছর আগে দেখা হতো মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোট গল্প। এপ্রিল ২২, ২০২৬ কিছু প্রশ্ন [...] বিস্তারিত পড়ুন...
2 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

এইবার যাওয়ার আগে জুতোর ফিতা বাঁধো না। থাকলে থাকার মতো করে থাকো— অর্ধেক দাঁড়িয়ে[...] বিস্তারিত পড়ুন...
31 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    1399 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    69 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. রফিক আতা

    203 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    8 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. প্রিন্স ফ্রেরাসে

    127 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    6 টি আইডিয়া ব্লগ

  4. আল-মামুন রেজা

    105 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    5 টি আইডিয়া ব্লগ

...