Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

দুটো কাগজের মাঝখানে

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
1 বার দর্শন
করেছেন (20,783 পয়েন্ট)   9 ঘন্টা পূর্বে "গল্প" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

দুটো কাগজের মাঝখানেimage

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

ছোট গল্প।  ২৩ জুন,২০২৬



রাত এগারোটা পঁয়তাল্লিশ। অভিক টেবিলের সামনে বসে আছে। সামনে দুটো কাগজ।


একটা বাবার প্রেসক্রিপশন। আরেকটা আরিয়ানের স্কুলের বকেয়া বেতনের নোটিশ।


প্রেসক্রিপশনে কয়েকটা পরীক্ষা, নিয়মিত ওষুধের নাম। স্কুলের কাগজে লেখা, বেতন পরিশোধ না করলে আগামী সাময়িক পরীক্ষায় বসা যাবে না।


অভিক আবার হিসাব করল। মাসিক বেতন পঁয়ত্রিশ হাজার টাকা। বাসা ভাড়া, বাজার, বিদ্যুৎ বিল, যাতায়াত, ছেলের পড়াশোনা, সব বাদ দিলে হাতে যা থাকে, তা দিয়ে বাবার পরীক্ষা আর স্কুলের বেতন একসঙ্গে দেওয়া সম্ভব না, অন্তত এই মাসে।


সে খাতাটা টেনে নিল। একবার বাবার পরীক্ষার টাকাটা লিখল। তারপর স্কুলের বেতন। তারপর আবার কেটে দিল। কোনো হিসাব মিলছে না।


টেবিলের কোণে বাবার ওষুধের পাতাটা খালি পড়ে আছে।


অভিক সেটার দিকে তাকিয়ে রইল।


"এখনও ঘুমাওনি?"

নিশির গলা শুনে সে মাথা তুলল।


নিশি দরজার পাশে দাঁড়িয়ে আছে। হাতে এক গ্লাস পানি।

"ঘুম আসছে না।"


নিশি টেবিলের ওপর রাখা কাগজ দুটো দেখল। কিছু বলল না।

একটু পর ধীরে বলল, "কাল বাবার ওষুধ আনতে হবে।"

অভিক মাথা নাড়ল। "জানি।"

"আর আরিয়ানের স্কুলের টাকা?"

অভিক চুপ করে রইল।


নিশি কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে বলল, "আমার আলমারিতে যে ছোট চেইনটা আছে..."

"না।"

নিশি থেমে গেল।

"একবার শুনবে?"

"না নিশি।"


অভিকের গলা নিচু ছিল। রাগ ছিল না। ছিল একরকম অসহায়ত্ব।

নিশি আর কিছু বলল না। পানির গ্লাসটা টেবিলে রেখে চলে গেল।


অভিকের বাবা হাবিব সাহেব খুব বেশি কথা বলতেন না। সারা জীবন নিজের মতো করে সংসার সামলেছেন।


অভিকের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সময় টাকার টান পড়েছিল। তখন হাবিব সাহেব তার পুরোনো ফিলিপস রেডিওটা বিক্রি করে দিয়েছিলেন। রেডিওটা ছিল তার খুব প্রিয়। ভোরে নামাজের পর বসে খবর শুনতেন।


অভিক একদিন জিজ্ঞেস করেছিল, "বাবা, রেডিওটা কেন বিক্রি করলে?"


হাবিব সাহেব শুধু বলেছিলেন, "তোর পড়াটা আগে হোক।"


আজ অভিক বুঝতে পারে, ওই ছোট কথাটার পেছনে কত বড় ত্যাগ ছিল।


হাবিব সাহেবের শরীর কয়েক মাস ধরে ভালো যাচ্ছে না। কিডনির সমস্যা ধরা পড়েছে। ডাক্তার কিছু পরীক্ষা করতে বলেছেন। তিনি বারবার বিষয়টা এড়িয়ে যাচ্ছেন।


সেদিন সকালে অভিক বাবার ঘরে ঢুকল। হাবিব সাহেব জানালার পাশে বসে ছিলেন।

"বাবা, ওষুধ খেয়েছ?"

"হ্যাঁ।"


অভিক টেবিলের দিকে তাকাল। ওষুধের পাতা আগের জায়গাতেই আছে।

বাবা বুঝে গেলেন। "সব ওষুধ কি খুব দরকার?"


অভিক কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলল, "ডাক্তার তো বলেছেন।"

হাবিব সাহেব জানালার বাইরে তাকালেন। "পরীক্ষাগুলো একটু পরে করলে হয় না?"


অভিক বাবার দিকে তাকাল। কথাটার মানে বুঝতে সময় লাগল না।

"টাকা কম পড়ছে?"


হাবিব সাহেব আর কিছু বললেন না। নীরবতাই উত্তর হয়ে গেল।


একটু পর তিনি শুধু বললেন, "আরিয়ানের স্কুলের ব্যাপারটা আগে দেখিস।"

অভিক নিচু গলায় বলল, "আপনার চিকিৎসা বাদ দিয়ে?"


হাবিব সাহেব মৃদু হাসলেন। "আমি তো আছি।"

এই কথাটাই অভিকের সবচেয়ে বেশি কষ্ট দিল। মানুষ অনেক সময় নিজের কষ্টকে ছোট করে দেখে, হয়তো ছেলেকে বাঁচাতে।


সেদিন অফিসে অভিকের কাজে মন বসল না। কম্পিউটারের সামনে বসে থেকেও বারবার ভুল করছিল।


বস একবার জিজ্ঞেস করলেন, "শরীর খারাপ?"

অভিক মাথা নেড়ে বলল, "না স্যার।"

বিকেলে বেতন পেল। টাকা হাতে নিয়ে অনেকক্ষণ বসে রইল।


তারপর ঠিক করল। বাবার ওষুধ কিনবে। স্কুলে গিয়ে সময় চাইবে। হয়তো কিছুদিন পিছিয়ে যাবে পরীক্ষা। হয়তো কিছু কথা শুনতে হবে। তবু আরিয়ানকে স্কুলে সমস্যায় পড়তে দেওয়া যাবে না।


রাতে খাওয়ার সময় আরিয়ান বলল, "বাবা, স্যার কাল টাকা দিতে বলেছেন।"

অভিক ছেলের দিকে তাকাল। "আমি স্কুলে কথা বলব।"

আরিয়ান একটু চুপ করে থেকে বলল, "আমার জন্য তোমার সমস্যা হচ্ছে?"

অভিক থমকে গেল। "কে বলেছে?"

"কেউ না।"


ছেলেটা খাওয়া শেষ করে উঠে গেল। অভিক অনেকক্ষণ চুপ করে বসে রইল।


পরদিন সকালে অভিক স্কুলে গেল। প্রধান শিক্ষকের সামনে বসে কথাগুলো বলতে অস্বস্তি হচ্ছিল।

"স্যার, একটু সময় দিলে..."

কথাটা শেষ করতে গলা শুকিয়ে গেল। তবু সে বলল।

স্কুল থেকে দুই সপ্তাহ সময় পাওয়া গেল।


ফিরে এসে সে বাবার ওষুধ কিনল। কিছু পরীক্ষা পরে করার সিদ্ধান্ত হলো। সমস্যা শেষ হলো না।


কিন্তু সেদিন রাতে অন্তত দুটো কাগজের একটাকে ছিঁড়ে ফেলতে হয়নি।


কয়েকদিন পর গভীর রাতে অভিক বাবার ঘরে গেল। হাবিব সাহেব ঘুমাচ্ছিলেন। টেবিলের ড্রয়ার খুলতে গিয়ে একটা ভাঁজ করা কাগজ পেল।


আরিয়ানের হাতের লেখা। ছোট ছোট অক্ষরে লেখা, "দাদু, তাড়াতাড়ি ভালো হয়ে যাও।"


কাগজটার পাশে রাখা ছিল বাবার ওষুধের খালি পাতা।


অভিক কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে রইল। তারপর কাগজটা হাতে নিয়ে চুপচাপ বসে পড়ল।


বাইরে তখন বৃষ্টি থেমে গেছে। জানালার গ্রিল বেয়ে পানি এখনও টুপটাপ করে পড়ছে।

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 8 মাস 4 সপ্তাহ ধরে, এবং এ পর্যন্ত 1029 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 20783। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 4115
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
মিষ্টি কাগজের অপ্রেরিত চিঠি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোট গল্প  । ২৪ মে, ২০২৬ অভিক সেদি[...] বিস্তারিত পড়ুন...
342 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
আলো-অন্ধকারের মাঝখানে মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বিশ্লেষণধর্মী । ২৫ মে, ২০২৬ আমরা আলোক&[...] বিস্তারিত পড়ুন...
409 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
পথের ওপারের মানুষ মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোট গল্প।  ২৩ জুন,২০২৬ কলেজ থেকে ফেরার পথে [...] বিস্তারিত পড়ুন...
2 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
অদেখা যুদ্ধ মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোট গল্প।  ২৩ জুন,২০২৬ পুরো ক্লাস তাকে নিয়ে হাস&[...] বিস্তারিত পড়ুন...
2 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
টেবিলের দূরত্ব মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোট গল্প।  ২৩ জুন,২০২৬ পঁচিশ বছরের সংসারে এó[...] বিস্তারিত পড়ুন...
3 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    1481 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    73 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. জামিনুল রেজা

    428 পয়েন্ট

    1 প্রতিক্রিয়া

    1 মন্তব্য

    21 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. রফিক আতা

    224 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    11 টি আইডিয়া ব্লগ

  4. ক্বলমী সুর

    155 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    7 টি আইডিয়া ব্লগ

...