Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

পুরুষ মানুষ কাঁদে না

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
2 বার প্রদর্শিত
করেছেন (25,411 পয়েন্ট)   10 ঘন্টা পূর্বে "গল্প" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

পুরুষ মানুষ কাঁদে নাimage

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

ছোটগল্প | ১৯ আগস্ট ২০২৬


ছোটবেলায় অভিক একবার উঠোনে পড়ে গিয়ে হাঁটু কেটেছিল।


হাঁটু থেকে রক্ত বেরোতে দেখে সে কাঁদছিল। বাবা দূর থেকে দেখে বলেছিলেন,


এই, কাঁদছিস কেন? পুরুষ মানুষ কাঁদে না।


অভিক চোখ মুছে উঠে দাঁড়িয়েছিল।


মা কাছে এসে হাঁটুর মাটি পরিষ্কার করে দিয়েছিলেন। কিছু বলেননি। শুধু ছেলের মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়েছিলেন।


সেদিনের কথাটা অভিকের মনে থেকে গিয়েছিল।


তারপর থেকে ব্যথা পেলেও সে কাঁদত না। সাইকেল থেকে পড়ে হাত কেটে গেলে চুপ করে থাকত। পরীক্ষায় খারাপ করলেও মুখ গোমড়া করে বসে থাকত, কিন্তু চোখের পানি ফেলত না।


কেউ জানতে চাইলে বলত,

চিন্তা করে কী হবে?


কথাটা বলতে বলতে একসময় সেটাই তার মুখের অভ্যাস হয়ে গেল।


বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় থেকেই সংসারের টানাটানি বুঝতে শিখেছিল অভিক। পড়াশোনার পাশাপাশি টিউশনি করত। নিজের খরচ চালাত, বাড়িতেও টাকা দিত।


বিয়ের পর দায়িত্ব আরও বাড়ল।

নিশি, তারপর মেঘলা, মিশি।


মেয়েদের পড়াশোনা, বাড়িভাড়া, বাজার, সংসারের নানা খরচ—সবকিছুর হিসাব মাথায় রাখতে রাখতে নিজের কথাগুলো কোথায় যেন পিছনে পড়ে গেল।


অফিসের সহকর্মীরা মাঝেমধ্যে বলত,

তোমাকে দেখে মনে হয় কোনো চিন্তাই নেই।

অভিক হেসে বলত,

চিন্তা করে কী হবে?

তারপর নিজের কাজ করত।


রাতে সবাই ঘুমিয়ে গেলে অবশ্য হিসাবের খাতা খুলে বসত। মেয়েদের আগামী মাসের ফি, বাড়িভাড়া, বাজারের খরচ—একটার পর একটা সংখ্যা।


কখনো হিসাব মিলত না।


তখন খাতাটা বন্ধ করে কিছুক্ষণ চুপ করে বসে থাকত।


পরদিন সকালে আবার সব স্বাভাবিক।


একদিন সেই চাকরিটাই চলে গেল।

অফিসে ডেকে বলা হলো, কয়েকজনকে ছাঁটাই করা হচ্ছে। অভিকের নামও সেই তালিকায়।

বের হওয়ার সময় হাতে একটা খাম ধরিয়ে দেওয়া হলো।

দরজার সামনে এসে সে একবার পেছনে তাকাল।


কত বছর ধরে এই দরজা দিয়ে ঢুকেছে।

আজ বেরিয়ে আসার সময় জায়গাটাকে অচেনা মনে হলো।


রাস্তার পাশে একটা চায়ের দোকানে গিয়ে বসে পড়ল।

চা এল।

চা ঠান্ডা হয়ে গেল।

খামটা সে খুলল না।


ফোন বের করে নিশির নামের ওপর আঙুল রাখল।

কল করল না।

মেঘলার কথা মনে পড়ল। মিশির কথা মনে পড়ল।

তারপর ফোনটা পকেটে রেখে উঠে দাঁড়াল।


বাড়ি ফিরতে রাত হয়ে গিয়েছিল।

দরজা খুলে নিশি বলল,

এত দেরি?

অভিক জুতো খুলতে খুলতে বলল,

অফিসে একটু কাজ ছিল।


নিশি তার মুখের দিকে তাকাল।

কিছু একটা বলতে গিয়েও বলল না।

শুধু জিজ্ঞেস করল,

খাবে?

হুম।


খেতে বসে মেঘলা বলল,

বাবা, কাল আমার প্রেজেন্টেশনটা একবার দেখে দিও।

দেব।

মিশি বলল,

আমার অ্যাসাইনমেন্টটাও।

অভিক হেসে বলল,

দুটোই দেখব।


নিশি চুপ করে তার দিকে তাকিয়ে ছিল।


রাতে সবাই ঘুমিয়ে যাওয়ার পর অভিক বারান্দায় গিয়ে বসেছিল।


নিশি কিছুক্ষণ পর এসে পাশে দাঁড়াল।

ঘুমাওনি?

ঘুম আসছে না।

নিশি বসে পড়ল।

আজ তোমাকে কেমন যেন লাগছে।


অভিক নিচের রাস্তার দিকে তাকিয়ে রইল।

কিছু বলল না।

নিশিও জোর করল না।


অনেকক্ষণ পর অভিক আস্তে বলল,

নিশি।

হুম?

আমার চাকরিটা নেই।

নিশি চুপ করে রইল।


অভিক বলল,

আজ সারাদিন কাউকে বলতে পারিনি।

আমাকেও না?


অভিক মৃদু হেসে মাথা নিচু করল।

জানি না কেন।

নিশি তার হাতটা ধরে বলল,

চাকরি গেছে। তুমি তো আছ।

অভিক এবার মুখ তুলল।


কিছু একটা বলতে চেয়েও পারল না।

চোখের পানি গড়িয়ে পড়ল।

সে মুখ ঘুরিয়ে নিল।

নিশি হাতটা ছাড়ল না।


পরদিন সকালে মেঘলা বারান্দায় এসে দেখল, বাবা একা বসে আছে।


সামনের ছোট টেবিলের ওপর সেই খামটা পড়ে আছে।

এখনও খোলা হয়নি।

মেঘলা কিছু জিজ্ঞেস করল না।

শুধু বাবার পাশে গিয়ে বসল।


কিছুক্ষণ পর মিশিও এসে চুপচাপ তাদের পাশে বসল।

ভেতর থেকে নিশি বলল,

চা দেব?

অভিক এবার মুখ তুলে বলল,

দাও।


নিশি চারটা কাপ নিয়ে বারান্দায় এসে রাখল।

সকালের আলো ধীরে ধীরে উঠছিল।

খামটা তখনও টেবিলের ওপর।

খোলা হয়নি।

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 10 মাস 3 সপ্তাহ ধরে, এবং এ পর্যন্ত 1258 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 25411। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 4733
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
স্বপ্ন না থাকলে মানুষ বেঁচে থাকে না মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বিশ্লেষণধর্মী লেখা | জানু[...] বিস্তারিত পড়ুন...
534 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
সম্পর্কের শেষ কথাগুলো পর্ব ১ — কাছের মানুষ দূরে মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বিশ্লেষণধর্[...] বিস্তারিত পড়ুন...
10 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
নিশি উপাখ্যান সিরিজ   গল্প-৬   বন্ধ দরজার মানুষ   মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন   ২৯ জুন,২[...] বিস্তারিত পড়ুন...
30 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
ছবির বাইরের মানুষ মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোটগল্প | ২৬ জুন, ২০২৬ বিয়ের তিন বছর পর। ঘ[...] বিস্তারিত পড়ুন...
26 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
পথের ওপারের মানুষ মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোট গল্প।  ২৩ জুন,২০২৬ কলেজ থেকে ফেরার পথে [...] বিস্তারিত পড়ুন...
27 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    1577 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    78 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. Monsoon Harmony

    904 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    45 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. Mayabi Ilmaz Megh

    743 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    37 টি আইডিয়া ব্লগ

  4. রফিক আতা

    367 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    18 টি আইডিয়া ব্লগ

...