চিঠি
#enolej_idea
মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন
ছোট গল্প । ২৭ মে, ২০২৬
একটা সময় ছিল, মানুষ মনের কথা মুখে বলতে পারত না।
তাই চিঠি লিখত।
কাগজের ভাঁজে ভাঁজে জমে থাকত অভিমান, অপেক্ষা, আর বলা না হওয়া ভালোবাসা।
আজ বিকেলে ডাকপিয়ন একটা পুরোনো খাম দিয়ে গেল।
ভেবেছিলাম ভুল ঠিকানা। পরে নিজের নামটা দেখে থমকে গেলাম।
হাতের লেখা চিনতে সময় লাগল না।
অনেক বছর পরও কিছু লেখা মানুষ ভুলে না।
বৃষ্টি পড়ছিল বাইরে।
জানালার কাঁচ বেয়ে পানি নামছিল ধীরে ধীরে।
আর অদ্ভুতভাবে মনে হচ্ছিল—ভেতরটাও ভিজে যাচ্ছে।
খামটা অনেকক্ষণ টেবিলে পড়ে ছিল।
খুলব কি খুলব না—বুঝতে পারছিলাম না।
সময়ের একটা অদ্ভুত ক্ষমতা আছে।
সে মানুষকে ধীরে ধীরে বদলে দেয়, কিন্তু কাউকে জানায় না।
চুলে পাক। চশমার প্রয়োজন।
আর অনুভূতিগুলো… কেমন ঝাপসা হয়ে যায়।
তবু কিছু নাম, কিছু গন্ধ, কিছু হাতের লেখা—মানুষকে হঠাৎ বহু বছর পেছনে নিয়ে যায়।
তুমি চলে যাওয়ার পর বুঝেছিলাম—অভাব কোনো জিনিস না। এটা একটা উপস্থিতির না-থাকা।
দেয়ালের ছবিটার দিকে এখনও মাঝে মাঝে তাকাই।
মনে হয়, ছবিটা তোলা উচিত ছিল না।
কারণ ছবি ভবিষ্যৎ জানে না।
জানে না, এক ফ্রেমে থাকা দুজন মানুষ একদিন আলাদা হয়ে যাবে।
জীবন থেমে থাকেনি। নিজের মতোই বয়ে গেছে।
কখনও প্লাবন, কখনও খরা। কখনও কিছুই ঠিক করা হয়নি।
কারণ জীবনের সব রঙ একসময় তোমাকেই দিয়ে দিয়েছিলাম।
বাগানের দিকে তাকালাম।
শিউলি গাছটা এখনও আছে।
বড় হয়েছে। ছায়া দেয়।
শুধু তুমি নেই।
শেষ পর্যন্ত খামটা খুললাম।ভেতরে একটা চিঠি।
মাত্র তিন লাইন।
“অনেক দেরি হয়ে গেছে, জানি।
তবু যদি কোনোদিন ক্ষমা করতে পারো, করো।
আর শিউলি গাছটা কি এখনও আছে?”
চুপ করে অনেকক্ষণ বসে রইলাম।
তারপর উঠে বারান্দায় গেলাম।
শিউলি গাছটা সত্যিই আছে।
বৃষ্টিতে ভিজছে।
সাদা ফুল পড়ে আছে মাটিতে।
হঠাৎ মনে হলো—আমি এত বছর ধরে তোমাকে না, একটা অসমাপ্ত কথাকে ধরে রেখেছিলাম।
ঘরে ফিরে এসে জানালাটা বন্ধ করলাম।
প্রথমবারের মতো।
তারপর চুপ করে বসে রইলাম।
শব্দ যদি আসে, আসবে।
না আসলেও আর কিছু যায় আসে না।
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।