Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

শুধুই অপেক্ষা

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
385 বার প্রদর্শিত
করেছেন (23,410 পয়েন্ট)   22 এপ্রিল "গল্প" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

শুধুই অপেক্ষাimage

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

ছোট গল্প। এপ্রিল ২২, ২০২৬


ঢাকার গরমটা তখন অসহ্যকর। সকাল থেকেই সূর্যটা এমনভাবে নেমে আসে, মনে হয় শহরের ওপর ঢাকনা দিয়ে চাপা দেওয়া হয়েছে। বাতাস আছে, কিন্তু সেটা কাজে লাগে না—শুধু গরমকে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় টেনে নিয়ে যায়।


হাসপাতালের করিডোরে সেই তাপ আরও ঘন। দেয়ালের গায়ে হাত রাখলে যেন ভেতর থেকে উষ্ণতা ফিরিয়ে দেয়। বাতাসে পিচ গলা অ্যাম্বুলেন্সের গন্ধ। ফিনাইলের তীক্ষ্ণ ঝাঁঝ সেই গরমে আরও তীব্র হয়ে ওঠে।


এক প্রান্তে বিছানায় শুয়ে আছেন এক পিতা। বয়স খুব বেশি নয়, কিন্তু শরীরটা অনেক আগেই হাল ছেড়ে দিয়েছে। চোখ আধখোলা, মাঝে মাঝে শুধু শ্বাসের শব্দ শোনা যায়। পাশে রাখা ফাইল, রিপোর্ট, আর টাকার হিসাব লেখা কাগজ—সব মিলিয়ে যেন একটা অসমাপ্ত হিসাবের খাতা। এই হিসাবটা শেষ করার দায়িত্ব এসে পড়েছে তার মেয়ের ওপর।


মেয়েটার বয়স খুব বেশি না। ভার্সিটি থেকে সোজা এসেছে, এখনো গায়ের কামিজের বাম হাতায় নীল কালি শুকিয়ে আছে। হাতে ধরা কাগজে লেখা—“অপারেশনের জন্য জরুরি অর্থ প্রয়োজন।” সে এটা বারবার পড়ে না, কিন্তু একবার চোখে পড়লেই মনে হয় লেখাটা কাগজে নেই, তার বুকের ভেতরে ঢুকে গেছে।


ডাক্তার স্পষ্ট করে বলে দিয়েছে—সময় খুব কম। তবু অপারেশন ছাড়া আর কোনো পথও নেই।


সে দিনের বেশিরভাগ সময় হাসপাতালের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকে। গরমে তার চুল ঘেমে কপালে লেগে যায়, শ্বাস নিতে কষ্ট হয়, কিন্তু সে জায়গা ছাড়ে না।


হাতে প্ল্যাকার্ড, চোখে অপেক্ষা।


মানুষ আসে, যায়। কেউ থেমে দেখে, কেউ দেখে না। কেউ আবার দেখেও চোখ ফিরিয়ে নেয় একটু তাড়াতাড়ি।


একদিন দুপুরে এক বিদেশি মানুষ রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিল। তার হাঁটার গতি থেমে যায় প্ল্যাকার্ডের সামনে। সে পড়ে, তারপর মেয়েটার দিকে তাকায়। খুব বেশি কথা বলে না। শুধু একটা ছোট বাক্য, ভাঙা উচ্চারণে—

“My daughter too…”


তারপর পকেট থেকে কিছু টাকা বের করে দেয়।


মেয়েটা কিছু বলে না। শুধু মাথা নোয়ায়।


লোকটা চলে যায়।


দিন গড়ায়। হিসাব বাড়ে। টাকার অঙ্ক বড় হয়, আর মেয়েটার দাঁড়িয়ে থাকা সময় আরও ভারী হয়ে ওঠে। অপেক্ষা তখন শুধু সময়ের বিষয় থাকে না—পায়ের নিচে জমে থাকা ঘামের মতো, চটচটে, সরতে চায় না।


এক বিকেলে সূর্যটা নিচু হয়ে আসে। তবু গরম কমে না। মেয়েটা আকাশের দিকে তাকায়। আকাশ পরিষ্কার, তবু অস্বস্তিকরভাবে নীরব।


তার চোখে পানি আসে—কান্না না।

সে চোখ মুছে না।


তার ভেতরে একটা অসমাপ্ত বাক্য ঘুরে ফিরে আসে—যেটা সে নিজেও ঠিকভাবে বলতে পারে না।


পরের দিন খবর আসে—অপারেশন করতে হবে দ্রুত।


কিন্তু টাকা এখনো জোগাড় হয়নি। কথাটা শোনার পর মেয়েটা প্রথমে নড়ে না। তারপর ধীরে ধীরে বোঝে—এটাই হয়তো শেষ সুযোগ।


সে বাবার পাশে গিয়ে দাঁড়ায়। কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকে।


তারপর দরজার পাশে গিয়ে দাঁড়ায়। তার আঙুলে ঘাম জমে থাকে। প্ল্যাকার্ডটা এখনো হাতে।


সময় কেটে যায় ধীরে।


একসময় ডাক্তার এসে অপারেশনের তারিখ জানিয়ে যায়।


বাবার মুখে ক্লান্তি। চোখ স্থির।


“এখনও নিবিড় পর্যবেক্ষণে আছেন।”


এই কথাটা শোনার পরও মেয়েটা কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকে। তারপর ভেতরে ঢোকে।


ভিতরে পিতা শুয়ে আছেন। চোখ খোলে—খুব ধীরে। তার আঙুল একটু নড়ে। মেয়েটার ওড়নার কোণা ছুঁয়ে যায়।


মেয়েটা তাকিয়ে থাকে, তারপর মেঝেতে বসে পড়ে।


সে কাঁদে না,শুধু একটা দীর্ঘ শ্বাস বের হয়।

কিছুক্ষণ পর উঠে দাঁড়ায়।

আরও একবার তাকায়।

তারপর প্ল্যাকার্ডটা হাতে নেয়।

এক মুহূর্ত।

ভাঁজ করে ব্যাগে রেখে দেয়।

গল্পটা এখানে শেষ হয় না—

শুধু থেমে থাকে।

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 9 মাস 4 সপ্তাহ ধরে, এবং এ পর্যন্ত 1159 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 23410। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 3779
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
বিকেলের অপেক্ষা মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোট গল্প।  ২৩ জুন,২০২৬ বৃদ্ধ মানুষটা প্রতি[...] বিস্তারিত পড়ুন...
20 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
অপেক্ষা    মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন   ছোটগল্প। ১৬ জুন ২০২৬ আসরের আজান শেষ হতেই আবদুল õ[...] বিস্তারিত পড়ুন...
20 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

 সমুদ্র, গমক্ষেত ও একটি অপেক্ষা মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন সাহিত্যিক ছোটগল্প। ১৭ মে, ২০২&#[...] বিস্তারিত পড়ুন...
342 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
অন্ধকারের দংশন মোহাম্মাদ জাহিদ হোসেন ছোট গল্প। ২৪ জুলাই, ২০২৬ রাত তখন শেষ প্রহর ছ[...] বিস্তারিত পড়ুন...
4 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
ক্লান্ত নূপুরের ধ্বনি পঞ্চম পর্ব: নতুন ভোর মোহম্মদ জাহিদ হোসেন  ২৩ জুলাই, ২০২৬ ব[...] বিস্তারিত পড়ুন...
6 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    1941 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    96 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. ফাহিম আহমাদ

    241 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    12 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. প্রিন্স ফ্রেরাসে

    145 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    7 টি আইডিয়া ব্লগ

  4. শামীমা আকতার

    43 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    1 আইডিয়া ব্লগ

...