Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

নিজের ছায়ার সামনে

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
1 বার দর্শন
করেছেন (24,116 পয়েন্ট)   1 ঘন্টা পূর্বে "গল্প" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

নিজের ছায়ার সামনেimage

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

ছোট গল্প। ০৩ আগষ্ট, ২০২৬


জেলা জজ আদালতে আবদুল কাদেরের নামটা সবাই একটু সমীহ করেই উচ্চারণ করত। তিনি কম কথা বলতেন। যা বলতেন, তা মাপা, স্পষ্ট এবং নড়চড় হতো না। তাঁর এজলাসে গলা চড়ত না, তবু শৃঙ্খলা আপনা থেকেই বজায় থাকত। লোকে বলত, কাদের সাহেব আবেগে ভাসেন না। আইনই তাঁর একমাত্র আশ্রয়।


একদিন সরকারি টাকা আত্মসাতের এক মামলায় তিনি রায় দিলেন। আসামি রাশেদ, বয়স তেইশ। কাগজপত্র, সাক্ষ্য—সব মিলিয়ে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড।


রায় শোনার পর রাশেদের মা কাঁদতে কাঁদতে বলে উঠলেন, "স্যার, আমার ছেলেটা ভুল করেছে, কিন্তু ও পুরোপুরি খারাপ না।"


কাদের মুখ তুললেন না। তাঁর বিশ্বাস ছিল, বিচারের চেয়ারে বসে ব্যক্তিগত অনুভূতির কোনো জায়গা নেই।


সেই রাতেই সেই বিশ্বাসে প্রথম চিড় ধরল।


বাড়ি ফিরে টেবিলের ওপর একটা মুখবন্ধ খাম পেলেন। প্রেরকের নাম নেই। ভেতরে কয়েকটা ছবি আর একটা হাতে লেখা চিঠি। ছবিতে তাঁর একমাত্র ছেলে রিয়াদ— কয়েকজন বিতর্কিত লোকের সঙ্গে। চিঠিতে লেখা, বিশ্ববিদ্যালয়ের তহবিল থেকে টাকা সরানোর ঘটনায় রিয়াদের নাম জড়িয়েছে।


তিনি প্রথমে বিশ্বাসই করলেন না। রিয়াদ— যে ছেলে সারাদিন লাইব্রেরিতে পড়ে থাকে।


পরদিন খোঁজ নিয়ে জানলেন, কথাটা সত্যি। ভেতরে ভেতরে একটা তদন্ত চলছে। সন্দেহভাজনের তালিকায় রিয়াদের নাম আছে।


রাতে ছেলেকে ডাকলেন। বাইরে থেকে শান্ত গলাতেই জিজ্ঞেস করলেন,

"তোমার নামে যে অভিযোগটা উঠেছে, সেটা কি সত্যি?"


রিয়াদ অনেকক্ষণ চুপ করে রইল। তারপর মাথা নিচু করে বলল,

"হ্যাঁ আব্বু। ভুল করে ফেলেছি। ভেবেছিলাম পরে ঠিক করে দেব।"


"তুমি জানো এটা অপরাধ?"


"জানি।"


এইটুকু স্বীকারোক্তির পর ঘরে আর কোনো শব্দ রইল না। এতদিন তিনি অন্যের সন্তানের বিচার করেছেন অবলীলায়। আজ নিজের সন্তান তাঁর সামনে আসামি হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।


কয়েকদিনের মধ্যে মামলা আদালতে উঠল। গুঞ্জন উঠল, ফাইলটা তাঁর বেঞ্চেই আসতে পারে। সহকর্মীরা আকারে-ইঙ্গিতে বললেন, চাইলে তিনি ফাইলটা অন্য বেঞ্চে পাঠিয়ে দিতে পারেন, কেউ কিছু মনে করবে না।


প্রথমে তাঁর মনে হলো, তিনি পারবেন। আইন মেনেই বিচার করবেন। কিন্তু একা ঘরে বসে যখন ভাবলেন, বুঝতে পারলেন, পারবেন না। নিজের ছেলের বিচারে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ থাকা মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়। আর বিচার শুধু নিরপেক্ষ হলেই হয় না, নিরপেক্ষ বলে দেখানোও জরুরি।


পরদিন এজলাসে তিনি সংক্ষেপে বললেন,

"ব্যক্তিগত সম্পর্কের কারণে এই মামলাটি আমি শুনব না। মামলাটি অন্য বেঞ্চে যাবে।"


ঘরে একটা চাপা গুঞ্জন উঠে থেমে গেল।


পরে অন্য বিচারক রায় দিলেন। রিয়াদ দোষ স্বীকার করেছিল এবং তদন্তে সাহায্য করেছিল বলে তার এক বছরের কারাদণ্ড হলো।


রায়ের পর কাদের কারাগারে গেলেন ছেলের সঙ্গে দেখা করতে।


রিয়াদ বলল, "আপনি চাইলে হয়তো আমাকে বাঁচাতে পারতেন।"


কাদের ছেলের দিকে তাকালেন। বললেন, "তাহলে আমি ন্যায়টাকে বাঁচাতে পারতাম না। আর ন্যায়কে বিসর্জন দিয়ে তোমাকে বাঁচানো, সেটা আসলে বাঁচানো নয়।"


বাড়ি ফিরে সেদিন তিনি অনেকক্ষণ অন্ধকারে বসে রইলেন। হঠাৎ তাঁর মনে হলো, রিয়াদের এই ভুলের পেছনে তাঁরও একটা দায় আছে। পেশার কঠোরতা বজায় রাখতে গিয়ে তিনি ছেলের সঙ্গে কথা বলার সময়টাই তো কখনো রাখেননি।


শাস্তি চলাকালীন তিনি নিয়ম করে ছেলের কাছে যেতেন। কোনো উপদেশ দিতেন না, শুধু পাশে বসে থাকতেন।


এক বছর পর রিয়াদ ফিরে এল। আবার পড়াশোনা শুরু করল।


কাদের এখনো আগের মতোই দৃঢ় হাতে রায় লেখেন। শুধু রায় লেখার আগে এক মুহূর্ত থামেন। মনে রাখেন, আইনের ধারার আড়ালে একজন মানুষ দাঁড়িয়ে আছে— তার একটা পরিবার আছে, একটা ভুল আছে, আর ভুল শোধরানোর একটা সুযোগও আছে।

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 10 মাস 1 সপ্তাহ ধরে, এবং এ পর্যন্ত 1194 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 24116। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 4556
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
বৃদ্ধাশ্রমে জমে থাকা অসমাপ্ত গল্প মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোট গল্প। ০২ আগষ্ট,  ২০২৬ [...] বিস্তারিত পড়ুন...
5 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
হারানো পরিচয় মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোট গল্প। ০১ আগষ্ট,  ২০২৬ অভিককে সবাই চিনত।  &#[...] বিস্তারিত পড়ুন...
9 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোট গল্প। ২৯ জুলাই, ২০২৬ একটি শিশুকে বড় করে তোলে শুধু একটি পর[...] বিস্তারিত পড়ুন...
8 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
স্ক্রিনের ওপারে মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোট গল্প। ২৯ জুলাই, ২০২৬ স্ক্রিন শুধু বিনোদ&[...] বিস্তারিত পড়ুন...
6 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
মনের অসুখ মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোটগল্প | ২৯ জুলাই, ২০২৬ শরীর খারাপ হলে আমরা ডাক্তাø[...] বিস্তারিত পড়ুন...
5 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    282 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    14 টি আইডিয়া ব্লগ

...