Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

অন্যরকম শিশু

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
1 বার দর্শন
করেছেন (19,240 পয়েন্ট)   1 ঘন্টা পূর্বে "গল্প" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

অন্যরকম শিশুimage

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

ছোট গল্প  । ২৯ মে, ২০২৬


ক্লাসের শেষ বেঞ্চে বসে থাকা ছেলেটার নাম রায়ান। স্কুল ড্রেসের উপরের বোতামটা প্রায়ই খোলা থাকে। টিফিন বক্সটা সে সব সময় ব্যাগের ডান পাশে রাখে। কেউ ভুল করে সরিয়ে দিলে সে চুপচাপ আবার আগের জায়গায় রেখে দেয়।


শিক্ষক প্রশ্ন করলে বেশিরভাগ সময় সে মাথা নিচু করে থাকে। অনেকেই ভাবে, ছেলেটা অহংকারী। পেছনের বেঞ্চ থেকে মাঝেমধ্যে ফিসফিস শব্দ ভেসে আসে, “ও একটু অদ্ভুত।”


রায়ান এসবের কোনো উত্তর দেয় না। দেয়ালের দিকে তাকিয়ে থাকে, কখনো জানালার বাইরে। হঠাৎ ঘণ্টা বাজলে সে কেঁপে ওঠে। প্রার্থনার সময় মাইকের শব্দ বেড়ে গেলে দুই কান চেপে ধরে। 


খেলাধুলার ভিড় এড়িয়ে করিডোরের একপাশে দাঁড়িয়ে থাকে। অন্যরা যখন হৈচৈ করে মাঠে দৌড়ায়, সে তখন নিজের ছোট নীল খেলনা গাড়িটার চাকা ঘুরায় আঙুল দিয়ে। একই দিকে। বারবার।


টিফিনের সময় ক্লাসরুম প্রায় ফাঁকা হয়ে যায়। বেঞ্চের ওপর রোদ এসে পড়ে। ধুলোর ভেতর ছোট ছোট আলোর দাগ ভাসতে থাকে। রায়ান তখন টেবিলের ওপর গাড়িটা চালায় ধীরে ধীরে। কোনো শব্দ করে না। শুধু চাকার ঘূর্ণনের দিকে তাকিয়ে থাকে।


একদিন শুভ আর রাফি মজা করার জন্য গাড়িটা লুকিয়ে ফেলল। গাড়িটা তারা জানালার পাশে পর্দার আড়ালে রেখে দিয়েছিল। তাদের কাছে এটা ছিল খুব সাধারণ দুষ্টুমি। কয়েক মিনিটের হাসাহাসি।


কিন্তু রায়ান প্রথমে স্থির হয়ে গেল। তারপর দ্রুত চারদিকে তাকাতে লাগল। বেঞ্চের নিচে দেখল। ব্যাগ খুলল। টেবিলের ওপর হাত বুলাল বারবার। যেন জিনিসটা হঠাৎ বাতাসে মিলিয়ে গেছে।


তার নিঃশ্বাস ভারী হয়ে উঠল। কিছুক্ষণ পরে সে দুই কান চেপে মেঝেতে বসে পড়ল। মুখ দিয়ে অস্পষ্ট শব্দ বের হচ্ছিল। ক্লাসের কয়েকজন হেসে ফেলল।


রাফি বলল,

“এতটুকু জিনিস নিয়ে কেউ এমন করে নাকি!”


ঠিক তখন আয়েশা ম্যাডাম ভেতরে ঢুকলেন। তিনি কিছুক্ষণ কিছু বললেন না। শুধু রায়ানের দিকে তাকিয়ে রইলেন। তারপর ধীরে ধীরে নিচু হয়ে বসলেন তার পাশে।


“গাড়িটা হারায়নি,” তিনি আস্তে বললেন।

“দেখি কোথায় রেখেছে।”


তার গলার স্বর খুব নিচু ছিল। প্রায় ফিসফিসের মতো। ক্লাসরুম তখন অদ্ভুত চুপচাপ। বাইরে মাঠে বাচ্চারা চিৎকার করছে, তবু ভেতরের বাতাস ভারী লাগছিল।


কয়েক মিনিট পরে শুভ চুপচাপ গাড়িটা এনে টেবিলের ওপর রাখল। রায়ান সঙ্গে সঙ্গে সেটা দুই হাতে শক্ত করে ধরে ফেলল। যেন ছোট্ট প্লাস্টিকের খেলনা না, নিরাপদ একটা জায়গা।


সেদিন ছুটির পরে রায়ানের মা স্কুলে এসেছিলেন। হালকা নীল ওড়নাটা বারবার কাঁধ থেকে পড়ে যাচ্ছিল। তিনি সেটা ঠিক করতে করতে আয়েশা ম্যাডামের সামনে বসেছিলেন। মুখে ক্লান্তি ছিল, কিন্তু সেই ক্লান্তির চেয়েও বেশি ছিল সাবধানে কথা বলার অভ্যাস।


“ও সব বোঝে,” তিনি বললেন।

“শুধু সবাই যেভাবে বোঝে, সেভাবে দেখাতে পারে না।”


আয়েশা ম্যাডাম চুপচাপ শুনছিলেন। করিডোর দিয়ে তখন বাচ্চারা ছুটছিল। সিঁড়িতে জুতোর ধুপধাপ আওয়াজ।


“মানুষ ওকে দেখে মায়া দেখায়,” রায়ানের মা বললেন।

“আমি মায়া চাই না। আমি চাই, ওকে মানুষ হিসেবে দেখুক।”


কথাটা বলে তিনি কিছুক্ষণ চুপ করে রইলেন।


রায়ান তখন দরজার পাশে দাঁড়িয়ে ছিল। তার আঙুল ধীরে ধীরে গাড়িটার চাকা ঘুরাচ্ছিল। বাইরের বিকেলের আলো এসে তার মুখে পড়ছিল। সে কারও দিকে তাকাচ্ছিল না। তবু আশপাশের সব শব্দ যেন শুনতে পাচ্ছিল।


পরের সপ্তাহে একটা ছোট ঘটনা ঘটল। টিফিনের সময় তমাল এসে রায়ানের পাশে বসেছিল। সে কিছু বলেনি। শুধু ব্যাগ থেকে একটা লাল ক্রেয়ন বের করে টেবিলের ওপর রাখল।


রায়ান প্রথমে ক্রেয়নটার দিকে তাকিয়ে রইল। তারপর ধীরে ধীরে নীল গাড়িটা ঘুরাতে লাগল। তমালও চুপচাপ বসে ছিল।


সেদিন টিফিনের পুরো সময় নীল গাড়িটার পাশে লাল ক্রেয়নটা পড়ে ছিল। দুজনে কেউ কোনো কথা বলেনি।


বাইরে ছুটির ঘণ্টা বাজছিল।

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 8 মাস ধরে, এবং এ পর্যন্ত 953 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 19240। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 3958
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
নুনের স্বাদে লেখা এক বিকেল মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোট গল্প  । ২৮ মে, ২০২৬ যে সময় জীবনú[...] বিস্তারিত পড়ুন...
2 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
জানালার ওপাশে একটু আলো মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোট গল্প  । ২৮ মে, ২০২৬ বিকেল নামার আগে[...] বিস্তারিত পড়ুন...
4 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
নীলচে আভা  মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোট গল্প  । ২৭ মে, ২০২৬ রাত প্রায় একটা। ঘরের বাতি অ[...] বিস্তারিত পড়ুন...
3 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
মিষ্টি কাগজের অপ্রেরিত চিঠি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোট গল্প  । ২৪ মে, ২০২৬ অভিক সেদি[...] বিস্তারিত পড়ুন...
164 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
নীরব রাত মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোট গল্প । ২২ মে, ২০২৬ আমরা কি কখনও গভীর রাতের সেই অদ[...] বিস্তারিত পড়ুন...
173 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    1625 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    80 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. Monsoon Harmony

    333 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    16 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. রফিক আতা

    189 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    9 টি আইডিয়া ব্লগ

  4. মাহাতাব হোসেন অপল

    170 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    8 টি আইডিয়া ব্লগ

...