Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চশমার খাপ

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
6 বার প্রদর্শিত
করেছেন (17,737 পয়েন্ট)   17 ঘন্টা পূর্বে "গল্প" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

 

চশমার খাপ

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

ছোট গল্প। মে ০৩, ২০২৬


ভালোবাসা হয়তো অভ্যাসের মতো—ধীরে ধীরে তৈরি হয়।

এই অভ্যাসের প্রথম মানুষটা বাবা।


বাবাকে আমরা একজন মানুষ হিসেবেই দেখি। কিন্তু অভিজ্ঞতা অন্য কিছু ইঙ্গিত করে। অনেক সময় তিনি এমন এক উপস্থিতি, যাকে আলাদা করে টের পাওয়া যায় না—তবুও বিপদের মুহূর্তে বোঝা যায়, কোথায় তাঁর ভূমিকা ছিল। হয়তো তিনি আগেভাগেই সমস্যাগুলো ঠেকিয়ে দেন, কিংবা ভয় পাওয়ার আগেই একটা ভরসার জায়গা তৈরি করে রাখেন। তাঁর ক্লান্তি ছিল—এখন বুঝি। তখন বুঝতাম না।


বড় হতে হতে আমরা যুক্তি শিখি, হিসেব কষি। তবুও একটা জায়গায় এসে সবকিছু থেমে যায়—যখন বুঝতে হয়, যাকে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ভেবেছিলাম, তাকেও হারাতে হয়।


সময় কিছু জোড়া লাগায় না; বরং ভাঙা অবস্থাটাকেই সহনীয় করে তোলে।


একদিন সেই ছায়া সরে যায়। ঘর থাকে, মানুষ থাকে, দিনের আলোও কমে না। শুধু একটা ফাঁক তৈরি হয়—যেটা চোখে পড়ে না, কিন্তু এড়িয়ে যাওয়া যায় না। তখন স্মৃতি ভরসা দেয়, আবার একই সঙ্গে চাপে রাখে।


প্রিয় বাবা,

তুমি চলে যাওয়ার দিনটা নিয়ে লিখতে বসলে এখনো হাত থেমে যায়। সবকিছু স্বাভাবিক ছিল। অথচ আমার ভেতরে তখন কিছু একটা ভেঙে যাচ্ছিল। মনে হয়েছিল, ভরসার জায়গাটা হঠাৎ সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। দাঁড়িয়ে আছি—কিন্তু স্থির না।


পাঁচ বছর হয়ে গেছে। এই সময়ের ভেতরে অনেক কিছু বদলেছে। অফিসে প্রমোশন পেয়েছি। ছোট ভাইটা এখন নিজে সিদ্ধান্ত নেয়, আগের মতো আমার দিকে তাকিয়ে থাকে না। ঘরের পুরোনো আলমারিটাও বদলে গেছে। শুধু একটা জিনিস একই আছে—তোমার জায়গাটা ফাঁকা।


সেদিন একটা অদ্ভুত ঘটনা ঘটল। অফিস থেকে ফিরে ট্রফিটা টেবিলে রাখছিলাম। হঠাৎ চোখ গেল তোমার পুরোনো চশমার খাপটার দিকে—যেটা কেউ ফেলে দেয়নি, আবার কেউ ব্যবহারও করে না। হাতটা থেমে গিয়েছিল। খুব ছোট একটা মুহূর্ত। কিন্তু তখনই প্রথমবার মনে হলো—এই খবরটা দেওয়ার কেউ নেই।


তুমি যখন গ্রামের বাড়ি যেতে, আমি অস্থির হয়ে উঠতাম। অকারণে ফোন দিতাম—“সব ঠিক তো?” তুমি হেসে বলতে—“আমি আছি।” এখনো ফোন বেজে উঠলে মাঝে মাঝে ভুল হয়। এক সেকেন্ড। তারপর বুঝি—না, তুমি না।


বাবা, আমি চেষ্টা করছি। তোমার মতো শক্ত হতে পারিনি—এটা মেনে নিয়েছি। তবে ভেঙে পড়াটাকে আড়াল করতে শিখেছি। ছোট ভাইদের দেখাশোনা করছি। সব ঠিক করছি কি না—নিশ্চিত নই। মাঝে মাঝে রাগও হয়। তোমার ওপর। এভাবে হঠাৎ চলে যাওয়ার জন্য। তারপর আবার সেই রাগটাই অস্বস্তিকর লাগে।


রাতের দিকে বিষয়টা বেশি স্পষ্ট হয়। চারপাশ নিঃশব্দ হয়ে গেলে মনে হয়—একবার যদি তোমার পাশে বসতে পারতাম। কোনো কথা না বলেও অনেক কিছু বলা যেত। কখনো কল্পনায় তোমার কণ্ঠস্বর ভেসে ওঠে—“ভয় পাস না, আমি আছি।” এই ‘আছি’ শব্দটা এখন আর বাস্তবে নেই—এটাই মেনে নেওয়া কঠিন।


শহরের ভিড়ে থেকেও একটা বিচ্ছিন্নতা কাজ করে। মানুষ আছে, কাজ আছে। জীবন থেমে নেই। তবুও একটা জায়গা খালি।


আগে ছোট কিছু পেলেও তোমাকে বলতাম। এখন বড় কিছু হলেও বলার জায়গাটা ফাঁকা থাকে। মাঝে মাঝে মনে মনে তোমার সঙ্গে কথা বলি। কোনো সিদ্ধান্তের আগে থেমে যাই—ভাবি, তুমি কী বলতে? সবসময় উত্তর পাই না।


তুমি যে শিক্ষা দিয়ে গেছ, সেগুলো এখনো টিকে আছে। পুরোপুরি পালন করতে পারছি কি না—সন্দেহ আছে। তবুও এগুলো ছাড়া এগোনো কঠিন। তুমি বলেছিলে, ভয় পেলেও থামা যাবে না। হারলে সেটা মেনে নিতে হবে। ভালোবাসা মানে দায়িত্বও।


তবুও একটা প্রশ্ন থেকে যায়—মানুষ কি আসলে কাউকে ভুলে যায়?


তোমাকে আলাদা করে মনে করার দরকার হয় না। তুমি এমনিতেই থেকে যাও—চিন্তার মধ্যে, অভ্যাসের মধ্যে। আজও বেঁচে আছি। কিন্তু পুরোটা না।


কখনো কান্না আসে। কখনো আসে না।


ট্রফিটা টেবিলেই পড়ে রইল।

চশমার খাপটা তুলে রাখলাম।


—তোমার সন্তান

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 7 মাস 1 সপ্তাহ ধরে, এবং এ পর্যন্ত 879 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 17737। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 3829
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


অভিকের নীরব পতন মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোট গল্প। মে ০২, ২০২৬ অভিককে আমি প্রথম যেভাবে [...] বিস্তারিত পড়ুন...
7 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

  আষাঢ়ের শেষ ঠিকানা মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোট গল্প। মে ০২, ২০২৬ আষাঢ় এলে আকাশটা এমন&#[...] বিস্তারিত পড়ুন...
6 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

যে কান্না শোনার কথা ছিল মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোট গল্প। মে ০১, ২০২৬ ডাইরির পাতা খুললেই কেমন একটা চুপচাপ ভাব নেমে আসে। একেবারে নিঃশব্দ না—বরং মনে হয়, কথাগুলো বাইরে বের না হয়ে ভেতরেই ঘুরপাক খা�[...] বিস্তারিত পড়ুন...
5 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

শেষ মজুরির দিন মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন  ছোট গল্প। মে ০১,২০২৬ মে মাসের প্রথম সকাল। শহরজুড়ে লাল পতাকা, মাইকে স্লোগান—“শ্রমিকের অধিকার চাই”—সবই যেন ঠিকঠাক আছে। তবুও কোথাও একটা অস্বস্তি রয়ে যায়; [...] বিস্তারিত পড়ুন...
9 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

  শেষ হাসিটামোহাম্মদ জাহিদ হোসেনছোট গল্প । মে ০১, ২০২৫(লেখাটি সম্পূর্ণ বাস্তব কাহি÷[...] বিস্তারিত পড়ুন...
8 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    122 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    6 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. মাহাতাব হোসেন অপল

    82 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    4 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. আল-মামুন রেজা

    21 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    1 আইডিয়া ব্লগ

  4. Mehedi Hasan akanda

    12 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    0 টি আইডিয়া ব্লগ

...