Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

বাবা যিনি কখনো ছুটি নেননি

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
431 বার প্রদর্শিত
করেছেন (21,955 পয়েন্ট)   09 জানুয়ারি "গল্প" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

বাবা যিনি কখনো ছুটি নেননি

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

ছোটগল্প। জানুয়ারি ০৮, ২০২৬


ভোরের অন্ধকার ফাটতে শুরু করলে বাবার দিনও শুরু হয়। তিনি ঘুম থেকে উঠেন অচেনা চুপচাপের মধ্যে, যেন রাতের ঘুমের মতো ক্লান্তিটাও এখনও তার পিছু ছাড়ে না। ঘুম থেকে উঠে তিনি চায়ের কাপে হাত রাখার মুহূর্তটুকুতেই পুরো জীবনটা যেন চলে আসে তার চোখের সামনে—পরিবারের যত্ন, দায়িত্ব, অপরের সুখ-দুঃখ। প্রতিটি নিঃশ্বাস, প্রতিটি পদক্ষেপ, প্রতিটি শব্দ—সবই অন্যের জন্য।


বাবা বাঁচেন কিছু বছর নিজের জন্য। সেই কয়েকটি বছর হয় স্বপ্ন, আনন্দ, ছোট ছোট স্বাধীনতা। কিন্তু এরপর, জীবনের বেশিরভাগ সময় কেটে যায় পরিবারের সেবায়। ঘরের প্রতিটি কোণায়, রান্নাঘরে, দরজার তালা, কক্ষের আলো—সবকিছুর সঙ্গে তার অদৃশ্য ছোঁয়া মিশে থাকে। তিনি নিজেকে দেননি নিজের জন্য, তিনি দিয়েছেন অন্যের জন্য।


কেউ ভাবতেই পারে না, এই মানুষটারও ক্লান্তি আছে। চোখে অদৃশ্য ব্যথা আছে। দিনশেষে তিনি কাঁদতে পারেন, কিন্তু শব্দ করেন না। কেউ দেখতে পায় না তার অবসাদ, কেউ বোঝে না তার নিঃশ্বাসের ভার। বাবা ভুলে যান, তিনি একজন মানুষ।


কারণ বাবার জীবন মানেই দায়িত্বের শৃঙ্খল। তিনি হাসেন, কিন্তু হাসিটা বিক্রি করা হাসি। তিনি রাগ অনুভব করেন, কিন্তু চুপচাপ তা গিলে খেয়ে নেন। হতাশা আসলেও মুখে আনেন না। অপমান বা অন্যের চাপ—সবই তার মনে ঢুকলেও বাইরে প্রকাশ হয় না। প্রতিটি ‘হ্যাঁ’ তার সীমার বাইরে, প্রতিটি ‘না’ বলতে না পারা তার শক্তি ও দুর্বলতার মধ্যে ঝুলে থাকে।


বাবার জীবনের নীরব সংগ্রামই ঘরকে ঘরে রাখে। তার ত্যাগ অদৃশ্য, কিন্তু প্রতিটি বাচ্চার হাসি, পরিবারের শান্তি তার আত্মার ফলাফল। প্রতিটি কাজের মধ্যে তিনি রেখে দেন নিজের আনন্দ, নিজের স্বপ্ন, নিজের সময়। তাই একদিন যখন তিনি নেই, তখন ঘর শূন্য মনে হয়।


তার কাজের দিন শুরু হয় ভোরের অন্ধকারে। অফিস, বাজার, বাড়ি—সব জায়গায় তিনি ছুটে চলেন। নিজের জন্য সময় তার হাতে খুব কম। কিন্তু কোনোদিন তিনি ছুটি নেননি। ছুটি মানেই পরিবারের দায়িত্ব থেকে মুক্তি, আর সেই মুক্তি তিনি কখনো চায়নি। তিনি জানেন, যদি না তিনি থাকেন, কেউ থাকবে না। তাই ক্লান্ত হাতেও কাজ থামে না।


বাবার কাজ শুধু শারীরিক নয়। এটি মানসিক, আত্মিক, এমনকি নীরব নেতৃত্বও। তার উপস্থিতি পরিবারের জন্য এক নিরাপত্তার আশ্বাস। পরিবারের ছোট ছোট সুখে তিনি আনন্দ খুঁজে নেন। কিন্তু কখনো তিনি নিজের জন্য কিছু চাইতে পারেন না। এই অভ্যাসই তাকে মানুষ হিসেবে অদৃশ্য করে তোলে।


সন্তানরা যখন বড় হয়, অনেক সময় তারা বাবার অদৃশ্য ত্যাগ বোঝে না। তারা শুধু দেখেন বাবার উপার্জন, তার সামর্থ্য। বাবার আনন্দ বুঝতে পারেন না, কারণ তা ধীরে ধীরে নীরবে জন্মায়। বাবার চোখের মায়া, শান্তি, অবসাদ—সবই তাদের অদৃশ্য চোখে লুকিয়ে থাকে।


কিন্তু যারা বোঝে, তারা জানে—বাবার জীবন মানে নিঃশব্দ সংগ্রাম। বাবা যে এক জীবনে নিজের স্বপ্ন বিসর্জন দিয়েছেন, তার প্রতিটি হাসি, প্রতিটি দুঃখ—সবই পরিবারের জন্য। এই মানুষটি নিঃশব্দে জাগায় অন্যদের সুখ।


তাই আজ যারা বাবা আছেন, তারা একটু নিজের জন্যও বাঁচুন। নিজের স্বপ্নের দিকে তাকান। কারণ জীবনের প্রতিটি মুহূর্তই মূল্যবান। আর যারা সন্তান, তারা বাবাকে শুধু উপার্জনক্ষম মেশিন হিসেবে দেখবেন না। তাকে একজন মানুষ হিসেবে বোঝা, ভালোবাসা এবং সম্মান করা প্রয়োজন।


বাবার জীবন আমাদের শিক্ষা দেয়—নিজের আনন্দকে পরোক্ষভাবে হলেও অন্যের জন্য উৎসর্গ করলেও, নিঃশব্দ ত্যাগ এবং ধৈর্যই সবচেয়ে বড় শক্তি। কিন্তু বাবা শুধুই দায়িত্বের ভার বহন করে থাকলে, সে নিজেই হারিয়ে যায়। তাই আজই সময়। বাবাকে বলুন, তার চোখের অদৃশ্য ব্যথা আপনি দেখেন, তার ক্লান্তি বোঝেন, এবং তার জন্য কৃতজ্ঞ।


কারণ এই নিঃশব্দ জীবন, এই অদৃশ্য সংগ্রাম, এই ধৈর্য—ই সমাজকে, পরিবারকে, ঘরকে বাঁচিয়ে রাখে।


#বাবারঅদৃশ্যজীবন #নিঃশব্দত্যাগ #পরিবারেরহিরো #মানবিকবিশ্লেষণ #গভীরভাবimage #জীবনেরবাস্তবতা

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 9 মাস 1 সপ্তাহ ধরে, এবং এ পর্যন্ত 1087 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 21955। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 2867
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


একজন বয়োবৃদ্ধ বাবা— ‎যার ঠোঁটের সেলাইয়ে ঝুলে থাকে অসমাপ্ত বাক্য, ‎আর সেই সূঁচ ধর[...] বিস্তারিত পড়ুন...
313 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
যে ঋতুতে বাবা থাকেন না   মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন   ছোটগল্প। ২৫ জুন, ২০২৬ অভিকের মনে হ[...] বিস্তারিত পড়ুন...
6 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
নিঃশব্দ মাটির নিচে আমার বাবা মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোটগল্প।এপ্রিল ১৮, ২০২৬ কবরে শ&[...] বিস্তারিত পড়ুন...
410 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
‎ছুটির দিনগুলো ফুরিয়ে গেছে । ‎কাল থেকে ফের মাদ্রাসা খোলা— ‎নাড়ির টান পেছনে রেখে [...] বিস্তারিত পড়ুন...
147 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

শিশুর গালে চড়— এ শুধু একটি আঘাত নয়; এ হলো সমাজের মুখে লেপ্টে যাওয়া গভীর কালি। কার সাহস হলো এমন কাজ করার? কে এত ক্ষমতাবান যে, এক নরম শৈশবের সরলতাকে সে চপেটাঘাতে স্তব্ধ করে দেয়? ধিক্কার জানাই তো�[...] বিস্তারিত পড়ুন...
103 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    486 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    24 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. শামীমা আকতার

    22 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    0 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. Adiba jannat

    21 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    1 আইডিয়া ব্লগ

  4. মুহাম্মদ সালমান

    1 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    0 টি আইডিয়া ব্লগ

...