Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

এক ফোঁটা চোখের জল

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
131 বার প্রদর্শিত
করেছেন (27,848 পয়েন্ট)   15 অক্টোবর 2025 "ছোটগল্প" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

এক ফোঁটা চোখের জল

লেখকঃ মোহাম্মদ জাহিদ হোসেনimage

ধরণঃ ছোটগল্প (বাস্তব কাহিনির ভিত্তিতে)

তারিখঃ ১৫ অক্টোবর ২০২৫


আজ বহুদিন হলো অভিকের সঙ্গে আমার দেখা হয়নি।


জীবনের নানান ব্যস্ততায় সময় যেন হাতছাড়া হয়ে যায় প্রতিদিনই।


আজ শনিবার—ভাবলাম, একটু সময় বের করে ওর সঙ্গে দেখা করি।


বিকেলের দিকে অভিককে ফোন করলাম। ঠিক হলো, দেখা করব এক মার্কেটের সামনে।

অল্প অপেক্ষার পরেই দেখি, আগের মতোই হাসিমুখে অভিক আমার সামনে এসে দাঁড়াল।

কথাবার্তা চলল—হালকা, সাধারণ, অথচ অজানায় ভরা।

তারপর দু’জনে মিলে পাশের হোটেলে চা খেতে গেলাম।


আমাদের সামনে গরম ধোঁয়া ওঠা দু’কাপ চা।

অভিক হাত বাড়িয়ে কাপটা নিতে যেতেই চোখ আটকে গেল তার হাতে,

ফোলা ফোলা, ভারী, যেন কোনো অদৃশ্য যন্ত্রণা জমে আছে সেখানে।

ভালো করে তাকিয়ে দেখি, মুখটাও ফুলে আছে, চোখদুটো লালচে ও ক্লান্ত।


আমি ওর হাতটা ধরে বললাম—“অভিক, কী হয়েছে তোর?”

সে হেসে কিছু না বলে নিচের দিকে তাকিয়ে রইল।

কিছুক্ষণ পর নিঃশ্বাস ফেলে বলল—“গতকাল যা ঘটেছে, তুই শুনলে অবাক হবি…”


কদিন ধরে অভিকের শরীর ভালো যাচ্ছিল না।

মাথায় তীব্র ব্যথা, চোখ ঝাপসা, শরীর ভারী।

বিকেলে একটু বিশ্রাম নিতে গিয়েছিল।

মাগরিবের আজানে ঘুম ভেঙে নামাজ পড়ে ফিরে এল বাসায়। এরপর থেকেই শরীরটা আরও খারাপ লাগতে শুরু করল।


এমন সময় এক বন্ধু ফোন করে বলল,

“চল, একটু ফুড কর্নারে বসি।”

প্রথমে যেতে চায়নি, কিন্তু বন্ধুটি বারবার ফোন করায় শেষে রাজি হলো।


রেস্টুরেন্টে গিয়ে দেখে, আরেক বন্ধু আগেই বসে আছে। কথা হচ্ছিল, হাসাহাসি চলছিল।

ঠিক পাশের টেবিলে বসে একদল লোক বিরিয়ানির অর্ডার দিয়েছে।

অল্প পরেই এল গরম ধোঁয়া ওঠা বিরিয়ানির বড় ডিশ।


অভিকের দৃষ্টি আটকে গেল সেই ধোঁয়ার কুণ্ডলীতে।

হঠাৎ মনে হলো—সেই ধোঁয়ার ভেতর হাসছে তার ছোট মেয়ে, পরী।


একদম নিষ্পাপ মুখ, বিরিয়ানির গন্ধের মতোই উষ্ণ।


পরী বিরিয়ানি ভালোবাসে—এটা অভিক জানে।

কিন্তু শেষ কবে পরীকে বিরিয়ানি কিনে দিয়েছে, তা মনে করতে পারল না।


বুকটা হঠাৎ কেমন ভার হয়ে গেল।

চোখ জ্বালাপোড়া করছে, গলা শুকিয়ে আসছে।


কিছু বলতে পারছিল না, আবার সহ্যও করতে পারছিল না।


তবুও সমাজের নিয়ম আছে—সব অনুভূতি প্রকাশ করা যায় না। নিজেকে সামলানোর চেষ্টা করছিল, কিন্তু হঠাৎই নিজের অজান্তে এক ফোঁটা জল ঝরে পড়ল অভিকের হাতের তালুতে।


চুপিচুপি মুছে নিল—কেউ টের পেল না কিছু।

এরপর আরও বন্ধুরা এল, হাসাহাসি চলল, আড্ডা জমল।


কিন্তু অভিকের মন পড়ে রইল ধোঁয়ার মধ্যে দেখা সেই মুখে। রাত তখন প্রায় সাড়ে দশটা। মাথার মধ্যে ঘুরছে একটাই চিন্তা— বাসায় খাবার নেই।


পকেটে আছে সামান্য কিছু টাকা—ঔষধ কেনার জন্য রাখা। ডাক্তার বলেছেন, একদিনও ঔষধ বন্ধ করা চলবে না, না হলে ফুসফুসে পানি বেড়ে যাবে।

কিন্তু বাবা তো শেষ পর্যন্ত বাবা-ই।


অভিক আর স্থির থাকতে পারল না। ঔষধের টাকা দিয়েই কিনল দুই প্যাকেট বিরিয়ানি—পরীর জন্য।

দোকানের উজ্জ্বল আলোয় ঘাম টপটপ করে পড়ছিল তার মুখ থেকে, দেহে তখন দুর্বলতা, তবু মনে অদ্ভুত এক তৃপ্তি।


বাড়ি ফিরে দেখে, পরী এখনো ঘুমায়নি।

অভিক মেয়ের হাতে বিরিয়ানির প্যাকেট তুলে দিতেই পরীর চোখে আনন্দের ঝিলিক—যেন ছোট এক উৎসব।


“বাবা, বিরিয়ানি তুমি কোথায় পেলে?”

অভিকের চোখে জল চিকচিক করছে, তবু হেসে বলল—“বাবা আছে তো।”


পরী খেতে লাগল পরম আনন্দে। অভিক চুপচাপ গোসল সেরে বিছানায় এল। শরীর তখন নিস্তেজ, নিঃশ্বাস ভারী হয়ে উঠছে। অক্সিজেনের মাত্রা ৭০ থেকে ৭৮—বন্ধুরা হাসপাতালে নিয়ে গেল।


প্রথম হাসপাতাল বলল—“হার্ট হাসপাতালে নিন।”

কিন্তু সেখানে খরচ অনেক। অভিক চুপ করে গেল।

“সব আল্লাহর হাতে,” বলেই ফিরে এল বাসায়।


ভোরবেলায় শরীর আরও খারাপ হলো।

টাকা জোগাড়ের চেষ্টা করছিল, কিন্তু দেহ সাড়া দিল না আর। ধীরে ধীরে নিঃশব্দ হয়ে গেল অভিক।


দূরে কোথাও তখন ভেসে আসছে বিরিয়ানির গন্ধ—

যে গন্ধে ছিল পরীর হাসি, আর অভিকের শেষ নিঃশ্বাসের স্মৃতি।


আমি স্থবির হয়ে গেলাম ওর কথা শুনে।

হঠাৎ টের পেলাম—আমার চোখ দিয়েও

এক ফোঁটা জল গড়িয়ে পড়েছে অভিকের ফোলা হাতের তালুর উপর।




#একফোঁটা_চোখের_জল #মানবিকগল্প #বাস্তবকাহিনি #পিতারভালোবাসা #ত্যাগ #দারিদ্র্যওমমতা #জীবনেরবাস্তবতা #বাবাএবংমেয়ে #বাংলাসাহিত্য #MohammadZahidHossain #EmotionalStory #TrueLifeTale #FatherDaughterBond #TearsOfLove #HumanityInWords #enolej_idea

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 1 বছর 1 সপ্তাহ ধরে, এবং এ পর্যন্ত 1378 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 27848। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
"নিজস্ব আইডিয়া"
Enolej ID(eID): 1261
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
অভিক বাসায় আজ একা। সারাটা দিন ঘুমের মধ্যে কেটেছে। সন্ধ্যায় যখন কিছু ভালো লাগছিল ন[...] বিস্তারিত পড়ুন...
431 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
সিরিজ-শব্দহীন পৃথিবীর গল্প গল্প-৩ এক ফোঁটা সহানুভূতি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন  ২২ জুল[...] বিস্তারিত পড়ুন...
54 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

গল্পের নাম: শোনো অবেলার পথিক কলমে: হিমানী হিমাদ্রি (পঞ্চম পর্ব) অহিদত্তের সেই তীব্র চাহনি আর গোধূলির স্মৃতিগুলোকে মনের এক কোণে সযত্নে তুলে রেখে ইরাকে ফিরতে হলো তার চেনা ছকে। কিন্তু পরিস্থিত[...] বিস্তারিত পড়ুন...
149 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
ইশকের জগতে তো কেবল ইশকই মানান, ‎প্রাপ্তির হিসাব সেখানে নিছকই বেমানান। ‎ ‎ইশক মা÷[...] বিস্তারিত পড়ুন...
497 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

. যখন  চারপাশে  সহস্র  শব্দের  ভিড়, ‎মেহবুবার নামে কাঁপে ইশকের নীড়। ‎আমি যেন এক&[...] বিস্তারিত পড়ুন...
277 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    244 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    3 মন্তব্য

    12 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. প্রিন্স ফ্রেরাসে

    122 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    6 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. ফাহিম আহমাদ

    61 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    3 টি আইডিয়া ব্লগ

  4. শামীমা আকতার

    41 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    2 টি আইডিয়া ব্লগ

...