Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

সবচেয়ে দামি জয়

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
1 বার দর্শন
করেছেন (20,258 পয়েন্ট)   3 ঘন্টা পূর্বে "গল্প" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!
সবচেয়ে দামি জয়

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

ছোটগল্প। ১৮ জুন,২০২৬

ডিভোর্সের কাগজে সই করার সময় অভিকের মুখ দেখে কিছু বোঝার উপায় ছিল না।

টেবিলের ওপাশে নিশি বসে ছিল। চোখের নিচে ক্লান্তির ছাপ। গত কয়েক মাসের টানাপোড়েনে দুজনেই বদলে গেছে।

অভিক সই করে কলমটা নামিয়ে রাখল।

নিশির আঙুলগুলো ফাইলের কোণা চেপে ধরে ছিল। নখের পাশে কালি লেগে আছে।

“অভিক...”

সে থামল।

“আমি আসলে...”

কথাটা শেষ করল না।

অভিক চোয়াল শক্ত করল।

“থাক।”

নিশি কিছুক্ষণ তার দিকে তাকিয়ে রইল। তারপর ধীরে মাথা নেড়ে উঠে দাঁড়াল।

“ভালো থেকো।”

অভিক কোনো উত্তর দিল না।

আদালত থেকে বের হয়ে প্রথমবার বুক ভরে শ্বাস নিল সে।

মনে হলো, অনেকদিন পর চারপাশটা একটু হালকা লাগছে।

অভিক আর নিশির পরিচয় হয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয়ে। প্রথমে বন্ধুত্ব, তারপর প্রেম। বিয়েটাও হয়েছিল অনেক স্বপ্ন নিয়ে। প্রথম কয়েক বছর বেশ ভালোই কেটেছিল। শুক্রবারে হুটহাট কোথাও বেরিয়ে যাওয়া, রাতে সিনেমা দেখা, মাসের শেষে টাকা বাঁচিয়ে বিরিয়ানি খাওয়া—এসব ছোট ছোট ব্যাপারেই আনন্দ ছিল।

তারপর জীবন বদলাতে শুরু করল।

চাকরির চাপ বাড়ল।

দায়িত্ব বাড়ল।

ক্লান্তি বাড়ল।

এক রাতে অফিস থেকে ফিরতে অভিকের অনেক দেরি হয়েছিল। দরজা খুলেই নিশি বলল,

“ফোনটা ধরছিলে না কেন?”

“অফিসে ছিলাম।”

“জানি। কিন্তু একটা মেসেজ দিতে পারতে।”

“প্রতিদিন কি রিপোর্ট দিতে হবে?”

কথাটা বলেই অভিক বুঝেছিল স্বরটা বেশি কড়া হয়ে গেছে। কিন্তু তখন আর কিছু বলেনি।

তবে সব দোষ অভিকেরও ছিল না।

নিশির একটা স্বভাব ছিল। রাগ হলে সে চুপ হয়ে যেত। কখনো কখনো দুই-তিন দিন পর্যন্ত।

একবার ঝগড়ার পর অভিক কয়েকবার ফোন করেছিল। নিশি ধরেনি। রাতে একটা মেসেজ পাঠিয়েছিল—

“যখন তোমার সময় হবে, তখন কথা বলো।”

অভিক মেসেজটা পড়েছিল। উত্তর দেয়নি।

কারণ তখন তারও মনে হয়েছিল, সবসময় তাকেই কেন আগে এগোতে হবে?

আরেকবার অভিকের মা কয়েকদিনের জন্য তাদের বাসায় এসেছিলেন। কোনো একটা ছোট বিষয় নিয়ে নিশি বিরক্ত হয়ে গিয়েছিল।

“সবসময় আমাকেই কেন মানিয়ে নিতে হবে?”

কথাটা বলার পরই সে বুঝেছিল, অভিক কষ্ট পেয়েছে।

পরে নিশি ক্ষমা চেয়েছিল। কিন্তু কিছু কথা ক্ষমার পরও মনে থেকে যায়।

এভাবেই ছোট ছোট অভিমান জমতে জমতে একসময় দেয়াল হয়ে দাঁড়ায়।

এক রাতে নিশি বলেছিল,

“তুমি এখন আর কিছু শেয়ার করো না আমার সঙ্গে।”

অভিক ল্যাপটপ থেকে চোখ না সরিয়েই বলেছিল,

“সবকিছু শেয়ার করার বয়স কি আমাদের আছে?”

নিশি কিছুক্ষণ চুপ করে ছিল।

“আমি তোমার অফিসের হিসাব জানতে চাই না।”

সে একটু থেমে বলেছিল,

“শুধু জানতে চাই তুমি কেমন আছ।”

অভিক উত্তর দেয়নি।

আজ মনে হয়, সেদিন হয়তো নিশি ঝগড়া করতে আসেনি। কথা বলতে এসেছিল।

শেষের দিকে এসে দুজনের মধ্যে অদ্ভুত এক দূরত্ব তৈরি হয়েছিল। একই ঘরে থেকেও তারা যেন আলাদা জীবনে চলে গিয়েছিল।

শেষ পর্যন্ত বিচ্ছেদ হলো।

প্রথম কয়েক মাস অভিক নিজেকে বোঝাল, ঠিক সিদ্ধান্তই নিয়েছে। বন্ধুদেরও সেটাই বলত। কাজে ডুবে থাকত। নতুন রুটিন বানাত।

কিন্তু রাতের নীরবতা মানুষকে এমন কিছু প্রশ্ন শোনায়, যেগুলো দিনের ব্যস্ততা ঢেকে রাখতে পারে না।

এক রাতে ফোন ঘাঁটতে ঘাঁটতে নিশির নম্বর সামনে চলে এল।

অনেকক্ষণ তাকিয়ে রইল।

তারপর কল দিল।

একবার রিং হলো।

দুইবার।

তিনবার।

অভিক নিজেই কল কেটে দিল।

আরেকদিন আলমারি গোছাতে গিয়ে একটা ছোট কাগজ পেল।

নিশির হাতের লেখা।

“রাত ১১টায় ওষুধ খেতে ভুলবে না।”

কাগজটা ফেলে দিতে গিয়েও পারল না।

ড্রয়ারে রেখে দিল।

সময়ের সঙ্গে সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে—একসময় সে সত্যিই বিশ্বাস করত।

কিন্তু সবকিছু ঠিক হয়নি।

এক সহকর্মীর সঙ্গে কয়েক মাস নিয়মিত কথা হয়েছিল তার। বন্ধুরা ভেবেছিল, হয়তো নতুন করে শুরু করবে।

একদিন মেয়েটি হেসে বলেছিল,

“তুমি এত চুপচাপ কেন?”

প্রশ্নটা শুনে হঠাৎ নিশির কথা মনে পড়ে গিয়েছিল।

“তুমি এখন আর কিছু শেয়ার করো না আমার সঙ্গে।”

এরপর সম্পর্কটা আর এগোয়নি।

দুই বছর পর এক বন্ধুর বিয়েতে নিশির সঙ্গে দেখা হলো।

অনেক মানুষের মধ্যে দাঁড়িয়ে ছিল সে।

আগের চেয়ে একটু শুকিয়ে গেছে।

তবে শান্ত লাগছিল।

চোখাচোখি হতেই নিশি এগিয়ে এল।

“কেমন আছ?”

“ভালো।”

“আন্টি কেমন আছেন?”

অভিক এক মুহূর্ত থামল।

“ভালো।”

“ভালো।”

কথা শেষ।

একসময় এই মানুষটার সঙ্গে রাত ভোর হয়ে যেত কথা বলতে বলতে। আজ দুজনের মধ্যে কয়েকটা বাক্যের বেশি কিছু নেই।

নিশি চলে যাওয়ার পর অভিক অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে রইল।

তার মনে হলো, কিছু সম্পর্ক ভাঙে না একদিনে। ভাঙতে ভাঙতে একসময় এমন জায়গায় পৌঁছে যায়, যেখানে ফিরে যাওয়ার রাস্তা আর খুঁজে পাওয়া যায় না।

অনুষ্ঠান শেষে বারান্দায় গিয়ে দাঁড়াল সে। নিচে শহরের আলো জ্বলছিল। দূরে গাড়ির শব্দ ভেসে আসছিল।

হঠাৎ আদালতের সেই দিনের কথা মনে পড়ল।

“আমি আসলে...”

নিশি বাকিটা শেষ করতে পারেনি।

সেও শুনতে চায়নি।

সেদিন আদালত থেকে বের হওয়ার সময় অভিক ভেবেছিল সে জিতে গেছে।

আজ এত বছর পরও সে জানে না, নিশি বাকিটা কী বলতে চেয়েছিল।
আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 8 মাস 3 সপ্তাহ ধরে, এবং এ পর্যন্ত 1003 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 20258। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 4085
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
হারার ভেতরের জয় মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বিশ্লেষণধর্মী | ১১ মার্চ ২০২৬ কখনও কখনও মনে &#[...] বিস্তারিত পড়ুন...
480 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
অসম্পূর্ণ স্বপ্নের সবচেয়ে বড় বাসিন্দা মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, প্রাবন্ধিক নিবন্ধ। [...] বিস্তারিত পড়ুন...
429 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
অধুরা প্রেমই সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন নিবন্ধ। এপ্রিল ০৬, ২০২৬ বা&#[...] বিস্তারিত পড়ুন...
467 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
অপেক্ষা    মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন   ছোটগল্প। ১৬ জুন ২০২৬ আসরের আজান শেষ হতেই আবদুল õ[...] বিস্তারিত পড়ুন...
2 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

বাবার পেশা মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোটগল্প। ১৬ জুন ১০২৬ ইন্টারভিউ বোর্ডে প্রশ্নটা খুব স্বাভাবিকভাবেই আসে। এমনভাবে, যেন এটা শুধু একটা তথ্য যাচাই। “আপনার বাবার পেশা কী?” ঘরের ভেতর তিনজন মানু�[...] বিস্তারিত পড়ুন...
4 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    956 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    47 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. জামিনুল রেজা

    428 পয়েন্ট

    1 প্রতিক্রিয়া

    1 মন্তব্য

    21 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. রফিক আতা

    224 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    11 টি আইডিয়া ব্লগ

  4. ক্বলমী সুর

    134 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    6 টি আইডিয়া ব্লগ

...