Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

ঈদের চাঁদের আগেই ভেঙে পড়া রাত

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
168 বার প্রদর্শিত
করেছেন (19,097 পয়েন্ট)   23 ঘন্টা পূর্বে "সাহিত্য(বিশ্লেষণ ধর্মী)" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

ঈদের চাঁদের আগেই ভেঙে পড়া রাতimage

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

বিশ্লেষণধর্মী । ২৬ মে, ২০২৬


আপনারা যারা নিয়মিত আমার লেখা পড়েন, তারা অভিকের অবস্থাটা জানেন। তবু নতুন করে বলি—অভিক খুব সাধারণ একজন মানুষ।


অনেকদিন ধরেই সে হার্টের জটিল রোগে ভুগছে। তারপরও একটা বেসরকারি চাকরি করে কোনোভাবে সংসার টিকিয়ে রেখেছিল। গুরুত্বপূর্ণ পদেও ছিল। বাইরে থেকে সব ঠিকঠাকই লাগত।


ভেতরে শুধু অভিক জানত—সে আসলে ঠিক নেই।


কিছুদিন হলো চাকরিটাও নেই। এখন সে একেবারেই বেকার।


ঈদ আসছে। চারদিকে উৎসবের প্রস্তুতি, গরুর হাটের আলোচনা, নতুন জামার ভিড়, মানুষের ব্যস্ত হাসি।

আর অভিকের ভেতরে শুধু একটা চাপা হিসাব—এই ঈদের দিনটা কীভাবে যাবে।


দুটি সন্তান নিয়ে দিন কাটানো এখন হিসাবের মতো। হাসি কমে গেছে, প্রয়োজন বেড়েছে।


কিছু পরিচিত মানুষ সাহায্য করেছে, না হলে এই দিনগুলো টানা সম্ভব হতো না।


তবু সবচেয়ে কঠিন লাগে বিকেলগুলো।


অভিকের ছোট মেয়েটা বারবার কিছু চায়। ঈদের জামা, নতুন কিছু, আর সবচেয়ে বেশি—গরু দেখার কথা।


গত কয়েকদিন ধরে সে বারবার বলে,

“আব্বু, আমরা কি এবার গরুর হাটে যাব?”


অভিক চুপ করে থাকে।


কারণ সে জানে, হাটে গেলে শুধু গরু দেখা হবে না—ওদের চোখে আরও অনেক প্রশ্ন জন্ম নেবে।


একদিন হাটের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় অভিক আর মেয়েরা থেমে গিয়েছিল।

দুটি মেয়েই অপলক তাকিয়ে ছিল বিশাল একটা গরুর দিকে। গরুর গলায় ঘণ্টার শব্দ, চারপাশে মানুষের ভিড়, দরদাম, হাসি—সব মিলিয়ে ওদের চোখে এক ধরনের বিস্ময়।


ছোট মেয়েটা খুব আস্তে বলেছিল,

“আব্বু, এটা কি আমাদের হবে?”


অভিক কিছু বলতে পারেনি। শুধু হাতটা শক্ত করে ধরেছিল।


বাসায় ফিরে বড় মেয়ে চুপচাপ বসে ছিল। কিছু বলল না, কিন্তু অভিক বুঝতে পারছিল, ওর চোখে একটা অদৃশ্য বোঝাপড়া জন্ম নিচ্ছে—এই ঈদটা আগের মতো হবে না।


একসময় ঈদের দিন তাদের ঘরে গরুর মাংস রান্না হতো। ঘ্রাণে পুরো ঘর ভরে যেত।

আজকাল সেই ঘ্রাণও অনেক দূরের গল্প।


কখনো কখনো পাশের বাসা থেকে মাংস রান্নার গন্ধ আসে।

ছোট মেয়েটা নাক টানে। বলে,

“আব্বু, আমাদের বাসায় এমন গন্ধ কেন আসে না?”


অভিক বলে,

“আসবে মা, আসবে।”


এই “আসবে” শব্দটা অভিক নিজেই বিশ্বাস করে কি না, জানে না।


কিছুদিন আগে একজন ভালো মানুষ কিছু টাকা দিয়েছিলেন—অভিক ভেবেছিল, ঈদের জন্য কিছু রাখা যাবে, মেয়েদের জন্য কিছু কেনা যাবে।


কিন্তু জীবন অনেক সময় পরিকল্পনা শোনে না।

সেই টাকা সংসারের নিত্য প্রয়োজনেই শেষ হয়ে গেল।


বাইরে তখন প্রচণ্ড গরম। শরীর ঘামে ভিজে যাচ্ছে। পার্কের পাশে এসে একটু বসে অভিক। গাছের নিচে বাতাসটা যেন একটু কম নিষ্ঠুর।


চোখ ভারী হয়ে আসছিল।


মনে পড়ছিল—শেষ কবে নিজের জন্য ঈদের কাপড় কিনেছিল, ঠিক মনে নেই।


হঠাৎ বাতাস জোরে উঠল। গাছপালা কাঁপতে লাগল। তারপর বৃষ্টি।


অভিক ভিজতে ভিজতে বাসায় ফিরল।


মেয়েটা দরজা খুলেই দৌড়ে এল।


“আব্বু, তুমি কিছু আনো নাই?”


সে থেমে গেল।


“কটা দিন পরে আনব।”


“আবার কটা দিন?”


অভিক উত্তর দিতে পারল না।


বড় মেয়েটা চুপচাপ দাঁড়িয়ে ছিল। কিছু বলল না। শুধু চোখ নামিয়ে নিল। সে এখন টিউশনি করছে। অভিক বুঝতে পারে, সে আর শিশু নেই, কিন্তু পরিস্থিতি তাকে বড় করে ফেলেছে।


ছোট মেয়েটা আবার জিজ্ঞেস করল,

“ঈদে কি আমরা গরু দেখব?”


অভিক বলল,

“দেখব মা, ইনশাআল্লাহ।”


এই কথাটা বলার সময় নিজের কণ্ঠটা অচেনা লাগছিল।


রাত বাড়তে লাগল।


বুকের ভেতর ব্যথাটা আবার ফিরে এলো। আগের চেয়ে তীব্র।


অভিক চুপচাপ বিছানায় বসে রইল। শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল।


মেয়েরা পাশে এসে দাঁড়াল।


ওদের চোখে পানি।


ছোট মেয়েটা হঠাৎ বলল,

“আব্বু, তুমি কাঁদছো কেন?”


অভিক কিছু বলল না।


ও আবার বলল,

“ঠিক আছে। ঈদ তো শুধু একদিন না, না? সামনে আবার গরু আসবে, আবার ঈদ আসবে।”


এই একটা বাক্য—


এই সরল বিশ্বাস—


অভিকের বুকের সব ভেঙে দিল।


সে আর থামাতে পারল না।


চুপচাপ কেঁদে ফেলল।


কারণ অভিক বুঝতে পারল,

ওরা এখনো ঈদকে স্বপ্ন হিসেবে দেখে—গরু, জামা, হাসি।

আর অভিক ধীরে ধীরে শুধু বাস্তবতা হয়ে যাচ্ছে।


বাইরে কোথাও ঈদের চাঁদ উঠছিল।


অভিক জানালার দিকে তাকাল।


দূরে একটা পাতলা চাঁদ।


আর তার নিচে ছড়িয়ে থাকা শহর—যেখানে কেউ গরুর হাটে দাঁড়িয়ে দরদাম করছে, কেউ মাংস রান্নার প্রস্তুতি নিচ্ছে, আর কেউ নিঃশব্দে নিজের ভেতরটা ধরে রাখার চেষ্টা করছে।


আর অভিকের মনে হলো—কিছু মানুষ ঈদের আগেই শুধু আনন্দ থেকে না, মাংসের ঘ্রাণ থেকেও একটু একটু করে দূরে সরে যায়।

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 8 মাস ধরে, এবং এ পর্যন্ত 946 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 19097। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 3931
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
বিচারের আগেই হেরে যাওয়া রাষ্ট্র 01:27:52 মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বিশ্লেষণধর্মী । ২৩ মে, ২০২৬[...] বিস্তারিত পড়ুন...
206 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
অভিকের ঈদের এক ফালি চাঁদ মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোটগল্প | ১০ মার্চ, ২০২৬ আমার নিয়মিত[...] বিস্তারিত পড়ুন...
227 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

চাঁদের গন্ধে ভেজা দুই জীবন মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন সাহিত্যিক ছোটগল্প। ১৭ মে, ২০২৬ গ্রামের শেষ প্রান্তে যেখানে কাঁচা মাটির পথ হঠাৎ ধানক্ষেতের ভেতর মিলিয়ে যায়, সেখানেই রাতটা একটু বেশি নীরব। চা[...] বিস্তারিত পড়ুন...
159 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
নীরব রাত মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোট গল্প । ২২ মে, ২০২৬ আমরা কি কখনও গভীর রাতের সেই অদ[...] বিস্তারিত পড়ুন...
171 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
যৌথ পরিবার ভাঙছে বাংলা সাহিত্য কি আগেই দেখেছিল মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বিশ্লেষণধর্&[...] বিস্তারিত পড়ুন...
419 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    1482 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    73 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. রফিক আতা

    188 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    9 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. মাহাতাব হোসেন অপল

    170 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    8 টি আইডিয়া ব্লগ

  4. প্রিন্স ফ্রেরাসে

    145 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    7 টি আইডিয়া ব্লগ

...