যে শিশুটি সব দেখছে
মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন
ছোট গল্প। ১০ জুন, ২০২৬
রাতে খেতে বসেছে রিয়াদ আর তার আট বছরের ছেলে রাফি।
এমন সময় ফোন বেজে উঠল। স্ক্রিনে অফিসের এক সহকর্মীর নাম।
রিয়াদ ফোনটা দেখে একটু বিরক্ত মুখ করল। তারপর স্ত্রীর দিকে তাকিয়ে বলল,
"বলো তো, আমি বাসায় নেই।"
স্ত্রী অভ্যস্ত ভঙ্গিতে ফোনটা ধরল।
"উনি এখন বাইরে আছেন। পরে কথা বলবেন।"
খাওয়া শেষ হলো। টেবিল গুছিয়ে সবাই যার যার কাজে চলে গেল।
রাফি দেখেছিল।
খুব মন দিয়ে।
কয়েক সপ্তাহ পর স্কুলে অভিভাবক-শিক্ষক সভা।
ক্লাস টিচার রিয়াদকে ডেকে বললেন,
"রাফি ভালো ছেলে। তবে একটা ব্যাপার নিয়ে একটু কথা বলতে চাই।"
রিয়াদের বুকটা ধক করে উঠল।
"কী হয়েছে?"
শিক্ষক বললেন,
"হোমওয়ার্ক না করে এসে বলেছে খাতা বাসায় ফেলে এসেছে। পরে দেখা গেল খাতাটা তার ব্যাগেই ছিল।"
রিয়াদ ছেলের দিকে তাকাল।
রাফি মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে।
বাড়ি ফেরার পথে সে জিজ্ঞেস করল,
"তুমি মিথ্যা বললে কেন?"
রাফি জানালার বাইরে তাকিয়ে ছিল।
কিছুক্ষণ পরে বলল,
"সব সময় সত্যি বলতেই হয়?"
রিয়াদ চুপ করে গেল।
"এ কথা কে শিখিয়েছে?"
রাফি এবার বাবার দিকে তাকাল।
"কেউ না। আমি দেখেছি।"
কথাটা খুব আস্তে বলা হয়েছিল।
কিন্তু রিয়াদের কানে যেন বেশি জোরে লাগল।
সেদিন রাতে ঘুম এলো না।
একটার পর একটা ছোট ঘটনা মাথায় আসতে লাগল।
ফোন এলে বাসায় থেকেও বলেছে, বাইরে আছে।
কাউকে এড়াতে চেয়ে বলেছে, ব্যস্ত আছি।
ট্রাফিক পুলিশ থামালে পরিচিত একজনের নাম বলেছে।
দোকানদার টাকা বেশি ফেরত দিলে চুপচাপ রেখে দিয়েছে।
সবই ছোট। সবাই করে। সেও করেছে।
কিন্তু রাফি হয়তো সেটা অন্যভাবে দেখেছে।
সে শুনেনি। সে দেখেছে।
পরদিন সকালে রাফি স্কুলের জন্য তৈরি হচ্ছিল।
জুতোর ফিতা বাঁধতে কষ্ট হচ্ছিল।
রিয়াদ পাশে বসে বলল,"শোনো।"
রাফি তাকাল।
"কাল তোমাকে বকা দিয়েছিলাম।"
ছেলেটা মাথা নাড়ল।
রিয়াদ একটু থেমে বলল,
"ভুলটা শুধু তোমার না।"
রাফি চুপ করে রইল।
"আমি তোমাকে সত্য বলতে বলি। কিন্তু আমি নিজেও সব সময় পারি না।"
রাফি কিছু বলল না।
তার বোঝার দরকারও হয়তো ছিল না।
রিয়াদ বুঝেছিল।
বাচ্চারা শুধু কথা শোনে না।
তারা দেখে।
আমরা কী করি, সেটা অনেক দিন মনে থাকে।
কারণ বাড়ির ভেতরে একটা শিশু বড় হচ্ছে।
সে দেখছে।
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।