Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

সময় হলে বলা যায়

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
1 বার দর্শন
করেছেন (21,005 পয়েন্ট)   5 ঘন্টা পূর্বে "গল্প" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

সময় হলে বলা যায়  image

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন  

ছোটগল্প। ২৫ জুন, ২০২৬


অভিকের বাবা একটা কথা প্রায়ই বলতেন। “রাগ হলে আগে চুপ থাক। পরে যা বলার বলিস।”


ছোটবেলায় কথাটা শুনলে মেজাজ খারাপ হতো। অন্যায় দেখলে তখনই জবাব দেওয়া দরকার, তাই না? অপেক্ষা মানেই তো হার মেনে নেওয়া। বড় হয়ে অবশ্য বুঝেছিল, সব জায়গায় গলা চড়ালে কাজ হয় না। বরং কখনও কখনও শব্দ যত বাড়ে, কান ততই বন্ধ হয়ে যায়।


বাবার পুরোনো ছাপাখানাটা এখন আর আগের মতো চলে না। শহরে পোস্টারের কদর কমেছে। লিফলেটের অর্ডার আসে মাসে দু-একটা, তাও নির্বাচন এলে। তবু রফিক চাচা প্রতিদিন সকাল সাতটায় শাটার তোলেন। হাইডেলবার্গ মেশিনটার গায়ে হাত বুলিয়ে ধুলো ঝাড়েন। দেখলে মনে হয়, অসুস্থ বন্ধুর খোঁজ নিচ্ছেন।


বাবা চলে যাওয়ার পর প্রেসটা অভিকই দেখে। ব্যবসা বলতে যা বোঝায়, সেটা নেই। মাস শেষে কর্মচারীর বেতন আর বিদ্যুৎ বিল মিটিয়ে হাতে থাকে কয়েক হাজার। তবু ছাড়তে পারেনি। দেওয়ালে ঝোলানো বাবার কালি-লাগা অ্যাপ্রনটা এখনও আছে। ওটার গন্ধে বাড়ির কথা মনে পড়ে।


এক বিকেলে ক্যাশবই ঘাঁটতে গিয়ে কেমন খটকা লাগল। গত দুই মাসে কাগজ কেনার খরচ লাফিয়ে বেড়েছে। ৭০ গ্রাম ডিমাই সাইজের রিম গত মার্চে ছিল ৪২০ টাকা, মে মাসে দেখাচ্ছে ৫৮০। প্রথমে ভেবেছিল লিখতে ভুল হয়েছে। কিন্তু ভুলটা পাতায় পাতায়। রফিক চাচা হিসাব দেখে কপাল কুঁচকালেন। “আমারও কয়দিন ধরে সন্দেহ হচ্ছিল রে।” অভিক কিছু বলেনি। খাতা তিনটা ব্যাগে ভরে বাসায় নিয়ে এল।


রাতে ভাত খাওয়ার পর ডাইনিং টেবিলে ক্যালকুলেটর নিয়ে বসল। নিশি জলের গ্লাস হাতে এসে দাঁড়াল। “আবার অফিসের কাজ?”  

“অফিস না। প্রেসের।”  

“কিছু গন্ডগোল?”  

চোখ না তুলেই বলল, “হতে পারে।”  

নিশি চেয়ার টেনে বসল। “তোমার এই ‘হতে পারে’ শুনলে গা জ্বলে।”  

অভিক হেসে ফেলল। “না জেনে বলি কী করে?”  

“তুমি কোনোদিনই বলো না।”  

গলায় বিরক্তি ছিল। অভিক টের পেল। তবু চুপ করে রইল।


পরের কয়েক সপ্তাহ সে প্রায় কথা বন্ধ করে দিল। পুরোনো চালান বের করল। ব্যাংক স্টেটমেন্টের সাথে মিলিয়ে দেখল ২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে গরমিল। পাইকারি কাগজের দোকান নিউ মার্কেটের ‘মিতালী পেপার’-এ গিয়ে খোঁজ নিল। আস্তে আস্তে ছবিটা পরিষ্কার হতে লাগল, তবে পুরোটা না-ও হতে পারে।


প্রেসের একজন পুরোনো লোক, নাম জলিল। বাবার আমলের কম্পোজিটর। সে-ই হয়তো বিলের মধ্যে হাত ঘুরিয়েছে। খুব অল্প করে। মাসে দুই-তিন হাজার। একবারে ধরার মতো না। কিন্তু দুই বছরের হিসাব জোড়া দিলে অঙ্কটা দাঁড়ায় প্রায় সত্তর হাজারের কাছাকাছি।


রাগ হয়েছিল। জলিলকে বাবা চাচা ডাকতেন। ঈদে বাসায় পাঠাতেন সেমাই-চিনি।


এক সন্ধ্যায় নিশি দেখল বারান্দায় দাঁড়িয়ে অভিক সিগারেট ধরায়নি, শুধু হাতে নিয়ে গুঁজে রেখেছে। কাছে গিয়ে বলল, “মাথা গরম?”  

“হয়েছে একটু।”  

“তাহলে কাল গিয়ে বলো।”  

“এখন না।”  

নিশি এবার সত্যিই রেগে গেল। “তোমার সমস্যা কী জানো? তোমাকে দেখলে মনে হয় কিছুই যায় আসে না।”  

অভিক তাকাল। “আসে। খুব বেশি আসে।”  

“তাহলে চেঁচাও না কেন?”  

কিছুক্ষণ রাস্তার দিকে তাকিয়ে থাকল। রিকশার বেল, বাচ্চাদের চিৎকার। তারপর বলল, “চেঁচালে মনে হয় কথাটা হালকা হয়ে যায়।”  

নিশি দীর্ঘশ্বাস ফেলল। “তোমাকে বোঝা যায় না।”  

“আমি নিজেই কি সবসময় বুঝি?”  

কথাটা শুনে নিশির ঠোঁটের কোণে হাসি এল। রাগটা পুরো কাটেনি, তবে ধার কমে গেল।


আরও বারো দিন পর সব কাগজ গুছিয়ে জলিলকে ডাকল। ছোট অফিসঘর। টেবিলের কোনায় বাবার সাদা-কালো ছবি, ফ্রেমে কালির ছিটা লেগে আছে। জলিল প্রথমে অস্বীকার করল। “আমি ক্যান করমু স্যার?” অভিক কথা বাড়াল না। একটা একটা করে চালান, ব্যাংকের ডেবিট স্লিপ, আর নিজের হাতে করা হিসাবের নোট সামনে রাখল। ঘরটা ভারী হয়ে এল। ফ্যানের শব্দ ছাড়া আর কিছু নেই।


অভিক গলা চড়ায়নি। গালিও দেয়নি। শুধু বলেছিল, “প্রথম দিন এসে বললে হয়তো ব্যাপারটা এতদূর গড়াত না।”  

জলিল মাথা নিচু করে বসে রইল। ওঠার সময় দেখল, লোকটার লুঙ্গির কোণ ভেজা। চোখে জল, নাকি ঘাম—বোঝা গেল না।


রফিক চাচা পরে বললেন, “মামলা করতে পারতি।”  

অভিক জানালার গ্রিল ধরে দাঁড়িয়ে ছিল। “পারতাম।”  

“করলি না ক্যান?”  

একটু চুপ করে থেকে বলল, “শাস্তির আগে মানুষটা কেমন, সেটা দেখতে চেয়েছিলাম।”  

চাচা আর কিছু বলেননি। শুধু মেশিনের দিকে তাকিয়ে বিড়বিড় করলেন, “তোর বাপের মতোই হইছস।”


সেদিন বাসায় ফিরতে রাত সাড়ে দশটা। নিশি দরজা খুলে দিল। “মিটেছে?”  

জুতা খুলতে খুলতে বলল, “হ্যাঁ।”  

“কী করলে?”  

“বাকিটা সময়ের ওপর ছেড়ে দিয়েছি।”  

নিশি আর ঘাঁটাল না। চুপচাপ চায়ের কাপ এগিয়ে দিল। আদা দেওয়া, কড়া লিকার।


বারান্দায় দাঁড়িয়ে চায়ে চুমুক দিল অভিক। রাস্তায় সোডিয়াম লাইট। একটা ভাঙা সিএনজি ঠেলতে ঠেলতে নিয়ে যাচ্ছে দুজন। হঠাৎ মনে পড়ল স্কুলের ঘটনা। ক্লাস সেভেনে পড়ে। কে যেন টিফিন কেড়ে নিয়েছিল। বাড়ি এসে বাবাকে বলেছিল, “কাল ওরে দেখে নেব।” বাবা তখন মেশিনে কালি লাগাচ্ছিলেন। হাতের তালু কালো। হেসে বলেছিলেন, “দেখে নিস। সমস্যা নাই। কিন্তু আগে ঢোল পিটিয়ে সবাইকে জানাস না।”


সেদিন বোঝেনি। আজ রাতে, কাগজের হিসাব মেলাতে মেলাতে কথাটার ভার টের পেল। সব জবাব সঙ্গে সঙ্গে দিতে নেই। কিছু উত্তর সময়ের হাতে ছেড়ে দিলে হয়তো ওজন বাড়ে।


চায়ের ধোঁয়া কুণ্ডলী পাকিয়ে উঠছিল। দেয়ালের ছবিটার দিকে তাকালে মনে হলো, বাবা তাকিয়ে আছেন। আর তার চোখে কালি-লাগা হাসিটা এখনও স্পষ্ট।

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 9 মাস ধরে, এবং এ পর্যন্ত 1040 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 21005। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 4129
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
সময় হলে বলা যায়   মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন   ছোটগল্প। ২৫ জুন, ২০২৬ অভিকের বাবা একটা [...] বিস্তারিত পড়ুন...
1 বার দর্শন 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
 বাবাকে বলা হয়নি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোট গল্প।  ২৩ জুন,২০২৬ আদনান প্রতিদিন বাব[...] বিস্তারিত পড়ুন...
6 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
শেষ পর্যন্ত বলা হয়নি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোটগল্প। ২১ জুন, ২০২৬ বাবার মৃত্যুর পনে[...] বিস্তারিত পড়ুন...
4 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
শেষবারটা জানা যায় না মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন  ছোটগল্প। মার্চ ২৭,২০২৬ বিকেলটা খুব স&#[...] বিস্তারিত পড়ুন...
35 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

সবাইকে বলা যায়—ভালো আছি। কিন্তু নিজের কাছে? নিজের কাছে দাঁড়ালে দেখা যায়— ঘুম আø[...] বিস্তারিত পড়ুন...
179 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    1703 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    84 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. জামিনুল রেজা

    428 পয়েন্ট

    1 প্রতিক্রিয়া

    1 মন্তব্য

    21 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. রফিক আতা

    265 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    13 টি আইডিয়া ব্লগ

  4. ক্বলমী সুর

    155 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    7 টি আইডিয়া ব্লগ

...