Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

সিঁথির পাশে

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
3 বার প্রদর্শিত
করেছেন (27,950 পয়েন্ট)   3 ঘন্টা পূর্বে "গল্প" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

সিঁথির পাশেimage

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

ছোট গল্প | ৮ অক্টোবর ২০২৬


অনন্যা সিঁদুরের কৌটাটা খুঁজে পাচ্ছিল না।


আলমারির ওপর, ড্রেসিং টেবিলের ড্রয়ার, পুরোনো প্রসাধনীর বাক্স—সব খুলে দেখল। কোথাও নেই।


অভিক বিছানায় বসে পাঞ্জাবির বোতাম লাগাচ্ছিল।


“আমার সিঁদুরটা দেখেছ?”


অভিক মাথা তুলল না।


“আমি কি তোমার সিঁদুর নিয়ে বসে থাকি?”


“তাহলে কোথায় গেল?”


“তুমি যেখানে রাখো, সেখানেই আছে।”


“সেটাই তো খুঁজছি।”


অভিক এবার উঠে দাঁড়াল।


দুজন মিলে আবার খুঁজতে লাগল।


বত্রিশ বছরের সংসারে এমন খোঁজাখুঁজি কম হয়নি। কখনো চাবি, কখনো চশমা, কখনো ব্যাংকের কাগজ। বেশির ভাগ সময় জিনিসটা শেষ পর্যন্ত অনন্যার হাতেই পাওয়া গেছে।


অভিক আলমারির নিচের তাকে হাত ঢুকিয়ে একটা পুরোনো কাপড়ের ব্যাগ বের করল।


“এটা কী?”


অনন্যা তাকিয়ে বলল,


“ওটা রেখেই দাও।”


“কেন?”


“পুরোনো জিনিস।”


অভিক ব্যাগটা খুলে ফেলল।


ভেতরে কয়েকটা চিঠি, একটা ভাঙা চশমার ফ্রেম, দুটো পুরোনো ছবি আর একটা ছোট্ট লাল কৌটা।


অভিক কৌটাটা হাতে নিয়ে বলল,


“এইটা?”


অনন্যা থেমে গেল।


“দাও।”


অভিক কৌটাটা এগিয়ে দিল।


অনন্যা ঢাকনা খুলল।


ভেতরে শুকিয়ে শক্ত হয়ে যাওয়া সামান্য সিঁদুর।


“এটা এখনো রেখেছ?”


“ফেলে দিতে ইচ্ছে করেনি।”


“কত বছর হলো?”


“জানি না।”


অভিক আর কিছু বলল না।


কৌটাটা হাতে নিয়েই অনন্যার হঠাৎ সেই পূজাটার কথা মনে পড়ল।


বিয়ের পর দ্বিতীয় দুর্গাপূজা।


সেদিন নতুন শাড়ি কেনা হয়নি। অনন্যা পাশের বাসার শিউলির কাছ থেকে একটা লালপাড় সাদা শাড়ি ধার করেছিল।


বিকেলে অভিক বাড়ি ফিরেছিল একটু দেরি করে।


হাতে ছিল ছোট একটা কাগজের প্যাকেট।


“তোমার জন্য।”


অনন্যা খুলে দেখেছিল কাঁচের চুড়ি। খুব সাধারণ। একটা চুড়ির গায়ে ছোট্ট একটা আঁচড়ও ছিল।


সে কিছু বলেনি।


শুধু চুড়িগুলো হাতে নিয়ে একবার উল্টেপাল্টে দেখেছিল।


অভিক বুঝেছিল।


“পছন্দ হয়নি?”


অনন্যা মাথা নাড়ল।


“হয়েছে।”


“মিথ্যা বলছ।”


“তুমি এত কিছু বুঝো কখন থেকে?”


অভিক হেসে প্যাকেটটা নিয়ে বলেছিল,


“না হলে রেখে দিই।”


অনন্যা তখন চুড়িগুলো আবার তার হাত থেকে নিয়ে বলেছিল,


“রেখে দিও না। দাও।”


সেদিন রাতে সে চুড়িগুলো পরেই ঘুমিয়েছিল।


সকালে একটা ভেঙে গিয়েছিল।


অভিক অফিসে যাওয়ার সময় দরজার পাশে পড়ে থাকা কাঁচের টুকরোগুলো কুড়িয়ে নিয়েছিল।


অনন্যা জানত।


কিছু বলেনি।


“চলো।”


অভিকের কথায় অনন্যা বর্তমানের ঘরে ফিরে এল।


“কোথায়?”


“পূজায়।”


“তুমি আগে যাও।”


“না, একসঙ্গে যাব।”


“এই বয়সেও?”


অভিক জুতো পরতে পরতে বলল,


“বয়সটা তুমি মনে করিয়ে দাও, আমি ভুলেই থাকি।”


অনন্যা আর কিছু বলল না।


মণ্ডপে তখন ভিড় বেড়েছে।


ঢাক বাজছে। ধূপের গন্ধের সঙ্গে মিশে আছে ফুল, ঘাম। ছোট্ট জায়গাটার মধ্যে সবাই যেন একসঙ্গে ঢুকে গেছে।


অনন্যা কয়েকজনের সঙ্গে সিঁদুর খেলায় যোগ দিল।


কেউ তার কপালে দিল, কেউ গালে।


অভিক একটু দূরে দাঁড়িয়ে দেখছিল।


একসময় অনন্যা তাকে হাতের ইশারায় ডাকল।


অভিক এগিয়ে এল।


“কী?”


অনন্যা নিজের সিঁথির দিকে আঙুল দেখাল।


অভিক এক মুহূর্ত তাকিয়ে থেকে পাশের থালা থেকে একটু সিঁদুর নিল।


“এখানে?”


অনন্যা মাথা নাড়ল।


অভিক আঙুলে সিঁদুর তুলে খুব সাবধানে তার সিঁথিতে দিল।


তারপর হাত সরিয়ে নিল।


কোনো ছবি তোলা হলো না।


ফেরার সময় অনন্যা হঠাৎ বলল,


“সেই চুড়িটার কথা মনে আছে?”


অভিক বলল,


“কোনটা?”


“থাক।”


অভিক একটু হেসে বলল,


“তুমি যে জিনিস মনে রাখতে বলো, সেটা আমার মনে থাকে না। আর যেগুলো ভুলে যেতে বলো, সেগুলো থেকে যায়।”


অনন্যা তাকাল না।


শুধু হাঁটতে হাঁটতে বলল,


“আজকাল বেশি কথা বলো।”


“তোমার জন্যই শিখেছি।”


বাড়িতে ফিরে অনন্যা শাড়ি বদলাল।


তারপর পুরোনো কাপড়ের ব্যাগটা আবার বের করল।


শুকিয়ে যাওয়া সিঁদুরের লাল কৌটাটা ভেতরে রেখে দিল।


একটু পর নতুন কৌটাটা এনে তার পাশেই রাখল।


দুটো কৌটা পাশাপাশি পড়ে রইল।


একটায় শুকিয়ে যাওয়া বহু বছরের লাল।


অন্যটায় আজকের।

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 1 বছর 1 সপ্তাহ ধরে, এবং এ পর্যন্ত 1383 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 27950। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 4943
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


তুই থাকিস পাশে চুপচাপ রাতে চাঁদের আলোয়, তোর কথাই মনে পড়ে, হাজার মানুষের ভিড়ের মাঝেও, মনটা শুধু তোকে খোঁজে। তুই থাকিস পাশে, হাতটা রাখিস হাতে, হারিয়ে যাব না আমি কোনো অচেনা রাতে। তুই যদি হা[...] বিস্তারিত পড়ুন...
38 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
চিনি কতটা দিতে হয় মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোট গল্প  | ৫ অক্টোবর ২০২৬ স্বামী-স্ত্রী যতই[...] বিস্তারিত পড়ুন...
13 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

অল্প একটু জীবন মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোট গল্প | ৫ অক্টোবর ২০২৬ অভিক কথাটা কাউকে বলত না। এমনকি নিশিকেও না। সকালে ঘুম থেকে উঠেই তার প্রথম কাজ ছিল মোবাইলে সময় দেখা। তারপর বিদ্যুৎ বিল, বাজারের তা[...] বিস্তারিত পড়ুন...
12 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
গ্রহের দোষ মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোট গল্প।  ২ অক্টোবর ২০২৬ সুমন জানত, তার শনি খারা[...] বিস্তারিত পড়ুন...
25 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
জানালাটা খোলা থাক মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোট গল্প | ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ রাত প্রায় বার[...] বিস্তারিত পড়ুন...
34 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    346 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    4 মন্তব্য

    17 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. প্রিন্স ফ্রেরাসে

    124 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    6 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. ফাহিম আহমাদ

    61 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    3 টি আইডিয়া ব্লগ

  4. শামীমা আকতার

    41 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    2 টি আইডিয়া ব্লগ

...