Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

আবারও বৈশাখ

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
4 বার প্রদর্শিত
করেছেন (16,702 পয়েন্ট)   4 দিন পূর্বে "ছোটগল্প" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

আবারও বৈশাখimage

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন    

ছোটগল্প । এপ্রিল ১২,২০২৬



চৈত্রের দাহ পেরিয়েই আসে বৈশাখ—এ যেন প্রকৃতির অনড় নিয়তি। অথচ আমার মতো সাধারণের উঠানে বৈশাখ আসে প্রলয়ের ঝড় হয়ে, তার রুদ্র তাণ্ডব বুকে নিয়ে।


‘নুন আনতে পান্তা ফুরোয়’ যে জীবনে, সেখানে বৈশাখের খরতাপ কেবল দেহ পোড়ায় না, স্বপ্নের শিকড়টুকুও ঝলসে দেয়।


আমার জীবনটা নিতান্তই সাধারণ, যেন বিধাতার করুণার খাতা থেকে আমার নামটাই মুছে গেছে।  

সহসা মনে পড়ে যায় কাজী নজরুল ইসলামের সেই বজ্রনির্ঘোষ, 

“হে দারিদ্র্য, তুমি মোরে করিয়াছ মহান”। 

কিন্তু এই উচ্চারণের সঙ্গে আমার রক্তমাংসের অভিজ্ঞতা মেলে না। বুঝে উঠতে পারি না, কবি কি দারিদ্র্যকে বিদ্রূপ করেছেন, নাকি বেদনাকে বরণ করে নিয়েছেন মহিমা দিয়ে?  

আজও সেই ধাঁধার কিনারা পাইনি।


হয়তো ধনীরা দরিদ্রকে প্রবোধ দিতে, কিংবা দরিদ্র নিজেই নিজের ক্ষতে প্রলেপ দিতে, এই বাণী আওড়ায়।


আমি দারিদ্র্যকে চিরকাল ভয় পেয়েছি, উপভোগ করতে করিনি কখনো এ জীবনটাকে । 


এই কালে দারিদ্র্য আশীর্বাদ নয়, অভিশাপ। দারিদ্র্য আমাকে মহান করেনি।


দারিদ্র্য আমাকে দিয়েছে আগুনের মতো ক্ষুধা, মানুষের চোখের ঘৃণা, আর অপমানের নুন। 

দারিদ্র্য আমাকে করেছে অন্যের উচ্ছিষ্টে বেঁচে থাকা পরজীবী। দারিদ্র্যই আমার জিভে তুলে দিয়েছে মিথ্যার স্বাদ, হাতে ধরিয়েছে অসততার কলম।


কোন একজন বলেছিলেন, নামটি আজ স্মৃতির আড়ালে,

“দারিদ্র্য এমন এক থালা যেখানে অন্ন আছে, তৃপ্তি নেই”।


এইসব বাস্তবতার কাঁটা বিঁধে থাকে বুকের ভেতর। নিজের অজান্তেই মনের অলিগলিতে প্রশ্নেরা ভিড় করে।


“সব সাধ তো সবার মেটে না। ভাগ্য লাগে।


আচ্ছা, গরিবের ভাগ্য কি জন্ম থেকেই পোড়া? গরিবের কি স্বপ্ন দেখার অধিকার নেই?  

নাকি স্বপ্ন দেখাটাই তাদের জন্য পাপ?”  


জানি, এই প্রশ্নের উত্তর নেই কারও কাছে। নেই আমার কাছে। নেই সেই নিষ্ঠুর দারিদ্রতার কাছেও।


টের পাই, কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম জমছে। কাল পহেলা বৈশাখ।


নিয়মের বৈশাখে সকাল নামবে শোভাযাত্রার ঢোল আর রঙে। পান্তা-ইলিশ হবে উৎসবের অলিখিত শপথ। 


অথচ আমি? সারাদিন হাড়ভাঙা খাটুনির পরও সংসারের ন্যূনতম চাওয়াটুকু মেটাতে পারি না।


আমার দুখানা পা আজও অগণিত অচেনা পথের ক্লান্তির সাক্ষী। জীবনের এতগুলো বৈশাখ পেরিয়ে এলাম, একটিবারও উৎসবের রঙ লাগেনি গায়ে। কালের স্রোতে ভাসতে ভাসতে ঘরে এলো দুটি কন্যা।


আজ তারা কলেজে পড়ে। চোখের সামনে ডালপালা মেলেছে। সমাজের বিলাসী রীতিনীতি, উৎসবের আড়ম্বর ওরাও রোজ শিখছে।


চৈত্রের আগুনঝরা রাতে বাড়ি ফিরতেই ছোট মেয়েটা এক গ্লাস জল হাতে এগিয়ে এলো।  

নরম গলায় বলল,  

“বাবা, আমার জন্য বৈশাখী শাড়ি, কাচের চুড়ি আর আলতা আনবে না?  

আর শোনো, ঘরে কিন্তু ইলিশ আনতে হবে।”


আমি শুধু চেয়ে থাকি। গলার কাছে শব্দেরা দলা পাকায়। বলতে পারি না কিছুই। কেবল টের পাই, চোখের কোল বেয়ে নেমে আসছে দুফোঁটা নীরব নদী।


বিকেল গড়াতেই বেরোলাম। দোকানে দোকানে ঝুলছে বৈশাখ। রঙ, আলো, ইলিশের ঘ্রাণ। সবই আছে, আমার নাগালের বাইরে। 


সামান্য রোজগার আজ আমার আর আমার সন্তানের স্বপ্নের মাঝখানে পাহাড় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভাবি, যোগ্যতা থাকলেও কেবল একটা সুপারিশের অভাবে আমার জীবনটা এমন ধুলোয় মিশে গেল।


ইলিশের পসরা সাজানো। মানুষ দরদাম না করেই তুলে নিচ্ছে রুপালি স্বপ্ন। আমি কেবল দেখলাম। দেখাটুকুই আমার জন্য বরাদ্দ।


আবার হাঁটছি। তারকা হোটেলগুলো আলোর মালায় সেজেছে। ওসব দরজার ওপাশে আমার কোনোদিন যাওয়া হয়নি। যাওয়া হয় না। পাশ ঘেঁষে হেঁটে যাওয়ার সময় হঠাৎ একটা কাচের দরজা খুলে গেল। ভেতর থেকে এক ঝলক হিম-শীতল হাওয়া এসে ছুঁয়ে দিল আমার ঘর্মাক্ত শরীর। এক লহমায় মনে হলো, বৈশাখ বুঝি ওই শীতল ঘরেই বন্দি। আমাদের জন্য নয়।


বুকের ভেতর পুরোনো ব্যথাটা আবার মোচড় দিয়ে ওঠে। তবু হাঁটি। পা দুটো আর বইতে চায় না এই শরীরের ভার। ল্যাম্পপোস্টের হলদে আলোয় দেখি রাত এগারোটা পেরিয়েছে। ফিরতে হবে। নিজের ঠিকানায়।


বিধ্বস্ত আমি যখন দরজা ঠেলি, ছোট মেয়েটা ছুটে আসে। আমার মুখের দিকে তাকায়। কিছু বলে না। ওর টলটলে চোখে আমি স্পষ্ট পড়ি আমারই ব্যর্থতার প্রতিবিম্ব। বৈশাখের ভেঙে যাওয়া স্বপ্নটা তীরের মতো এসে বেঁধে আমার বুকে।


আর পারি না। শরীর অবশ হয়ে আসে। চোখের সামনে সব ঝাপসা। বিছানায় এলিয়ে পড়ি।


মেয়েটা কাছে এসে মাথায় হাত রাখে। ফিসফিস করে বলে,  

“বাবা, আমার তো লাল-সাদা জামাটা আছেই। ওটাই কাল পরব। আর বাবা, আমার আবার অ্যালার্জি হয়েছে। আমি ইলিশ খাব না।”


ওর প্রতিটি শব্দ আমার পৃথিবীটাকে চুরমার করে দিয়ে কানের ভেতর অনুরণন তোলে।


চোখের পাতা ভারী হয়ে আসে। তবু শেষ শক্তিটুকু দিয়ে প্রার্থনা করি—আবারও আসুক বৈশাখ। আমার মেয়েটা পুরোনো শাড়ির পাড়েই নতুন করে সাজুক। তার হাসিটুকুই হোক আমার সব না-পাওয়ার উৎসব।

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 6 মাস 3 সপ্তাহ ধরে, এবং এ পর্যন্ত 828 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 16702। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 3748
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
পহেলা বৈশাখ সর্বজনীনতা নাকি নির্মিত এক ধারণা মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, প্রাবন্ধিক প্&#[...] বিস্তারিত পড়ুন...
4 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
আগুনের বৈশাখ মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, প্রাবন্ধিক প্রবন্ধ। এপ্রিল ১৩, ২০২৬ বাংলা সাহ&[...] বিস্তারিত পড়ুন...
7 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
পান্তা ইলিশ ঐতিহ্য না পরিচয়ের নির্মাণ মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, প্রাবন্ধিক প্রবন্ধ। &#[...] বিস্তারিত পড়ুন...
3 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
কালবৈশাখী প্রকৃতি না প্রতীক মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, প্রাবন্ধিক প্রবন্ধ। এপ্রিল ১৩, &[...] বিস্তারিত পড়ুন...
4 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
বাংলা সাহিত্যে প্রেমের চিঠি কেন এত শক্তিশালী মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, প্রাবন্ধিক প্&#[...] বিস্তারিত পড়ুন...
7 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    932 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    46 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. প্রিন্স ফ্রেরাসে

    127 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    6 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. আল-মামুন রেজা

    84 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    4 টি আইডিয়া ব্লগ

  4. Fatematuj Johora

    43 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    2 টি আইডিয়া ব্লগ

...