Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

ফেরা কি সম্ভব

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
1 বার দর্শন
করেছেন (16,824 পয়েন্ট)   10 ঘন্টা পূর্বে "গল্প" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

ফেরা কি সম্ভবimage

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

ছোটগল্প।এপ্রিল ১৭, ২০২৬


হাসপাতালের কেবিনে প্রথমে যে জিনিসটা টের পাই, সেটা নীরবতা না—গন্ধ। তীব্র ফিনাইলের গন্ধ, তার সঙ্গে মিশে থাকা ওষুধের একটা ধাতব স্বাদ, যেন বাতাসও জীবাণুমুক্ত করে ফেলা হয়েছে।


বিছানার পাশে স্যালাইনের বোতল ঝুলছে। ফোঁটা ফোঁটা তরল নামছে—একটা নির্দিষ্ট ছন্দে। সেই ছন্দটাই এখন আমার সময়।


পাশের কেবিন থেকে মাঝে মাঝে কাশি শোনা যায়—খকখক, তারপর দীর্ঘশ্বাস।

কেউ বেঁচে থাকার চেষ্টা করছে।


আমি শুয়ে আছি। আমার শরীরটা ঠান্ডা হয়ে আছে, বিশেষ করে হাতগুলো। স্যালাইনের সুচ ঢোকানো জায়গাটা একটু টনটন করছে।


ডাক্তার আজ আর কিছু বলেনি। শুধু ফাইলটা বন্ধ করার শব্দটা অস্বাভাবিক জোরে কানে লেগেছে।

যেন কথার জায়গায় শব্দটা বসে গেছে।


আমি বুঝে গেছি—সময় খুব বেশি নেই।


তবু আশ্চর্যভাবে ভয় লাগছে না। বরং একটা প্রস্তুতি কাজ করছে। মনে হচ্ছে, এই মুহূর্তটা আমি আগে থেকেই লিখে রেখেছিলাম কোথাও।


আমি ঠিক করেছি—আমার চলে যাওয়াটা হবে গোধূলিতে।


কারণ গোধূলি কখনও পুরো সত্য বলে না।


জানালার কাচে আলো পড়েছে। সূর্যটা নেমে যাচ্ছে। আকাশের রঙ বদলাচ্ছে—হলুদ, কমলা, তারপর ধীরে ধীরে লালচে।


এই সময়েই তুমি সবচেয়ে স্পষ্ট হয়ে ওঠো।


আমাদের প্রথম দেখা—অস্বাভাবিক কিছু না।

তবু এখন মনে হয়, ওই মুহূর্তটাই হয়তো আমার জীবনের কেন্দ্র ছিল।


একটা ভিড়ভাট্টা বাসস্ট্যান্ড। গরমে বিরক্ত হয়ে আমি দাঁড়িয়ে আছি।


তুমি একটু দূরে দাঁড়িয়ে বই পড়ছিলে।

পাতা ওল্টাতে গিয়ে আঙুলে হালকা করে জিভ ছুঁইয়ে নিচ্ছিলে—অদ্ভুত অভ্যাস। প্রথম দিনই সেটা দেখে আমার বিরক্ত লেগেছিল।


আমি তাকিয়ে ছিলাম।

তুমি হঠাৎ মাথা তুলে তাকালে।


আমাদের চোখাচোখি হলো।

আর আমরা দুজনেই হেসে ফেললাম।


কারণটা আজও জানি না।


তুমি অন্যরকম ছিলে—এটা বললে অর্ধেক সত্য বলা হয়।


তুমি একদিকে গভীর, অন্যদিকে অদ্ভুতরকম অগোছালো।

তোমার ব্যাগে সবসময় বই থাকত, কিন্তু মোবাইল চার্জ দিতে ভুলে যেতে।

তুমি গাছ ভালোবাসতে, কিন্তু নিজের জন্মদিন মনে রাখতে না।


একদিন বলেছিলে, “গাছেরা মানুষের চেয়ে বেশি স্থির, তাই তারা বেশি মনে রাখে।”


আমি হেসেছিলাম।

“তুমি সবকিছুকে এত সিরিয়াস করে দেখো কেন?”


তুমি একটু রেগে গিয়েছিলে।

“সবকিছু সিরিয়াস না। তুমি সিরিয়াসলি নাও না বলেই তোমার কাছে হালকা লাগে।”


সেদিন প্রথম বুঝেছিলাম, তুমি নিখুঁত না।

আর সেই অসম্পূর্ণতাই তোমাকে বাস্তব করেছিল।


আমাদের একটা জায়গা ছিল—একটা পুরোনো গাছের নিচে।


গাছটার ডালপালা এত ছড়ানো ছিল, যেন সে নিজেই একটা আলাদা আকাশ বানিয়ে রেখেছে।


তুমি বলেছিলে, “আমি যদি হারিয়ে যাই, এই গাছটা আমাকে মনে রাখবে।”


আমি বলেছিলাম, “আমি কি রাখব না?”


তুমি উত্তর দাওনি। শুধু মাটিতে একটা শুকনো পাতা ভেঙে ভেঙে ফেলছিলে।


সেই মচমচ শব্দটা আমি আজও শুনতে পাই।


সব শেষ হয়ে গিয়েছিল খুব সাধারণভাবে।


কোনো নাটকীয়তা ছিল না।


একদিন তুমি বললে, “আমাদের আর দেখা করা উচিত না।”


আমি হেসেছিলাম, কারণ সিরিয়াস কথা তুমি মাঝেমধ্যে বলতেই।


কিন্তু তুমি সেদিন হাসোনি।

তোমার চোখের নিচে সেদিন কালি ছিল। তিন রাত ঘুমাওনি—সেটা আমি পরে বুঝেছি।


“কেন?”


তুমি বলেছিলে, “সবকিছু সবসময় সম্ভব হয় না।”


এই একটাই বাক্য।

তার বেশি কিছু না।


সেদিন গোধূলি খুব তাড়াতাড়ি নেমে এসেছিল।

নাকি আমার ভেতরেই অন্ধকার আগে নেমেছিল—আমি জানি না।


তারপর থেকে আমি বেঁচে থেকেছি—যেভাবে মানুষ বেঁচে থাকে।


কাজ করেছি, কথা বলেছি, হাসিও করেছি।

কিন্তু ভেতরে একটা জায়গা ফাঁকা রয়ে গেছে।


আমি মাঝে মাঝে সেই গাছটার কাছে গেছি।

কিন্তু দাঁড়াইনি।


কারণ দাঁড়ালে হয়তো সত্যি কিছু ফিরে আসত—

আর আমি জানতাম, সেটা আসবে না।


“পানি লাগবে?”


নার্সের কণ্ঠে আমি বর্তমানে ফিরে আসি।


আমি মাথা নাড়ি।

গলা শুকিয়ে আছে, কিন্তু তৃষ্ণা নেই।


সে স্যালাইনের বোতলটা দেখে, একটু ঠিক করে দেয়।

তারপর পর্দা টেনে দেয়।


“সন্ধ্যা হয়ে গেছে,” সে বলে।

সে কেবিনের লাইটটা জ্বালায় না। যেন আমার গোধূলিটুকু নষ্ট না হয়।


আমি কিছু বলি না।

মনে মনে শুধু বলি—গোধূলি এখনও শেষ হয়নি।


জানালার ফাঁক দিয়ে আলো ঢুকছে।


এক চোখে আমি আকাশ দেখি—রঙগুলো ধীরে ধীরে মুছে যাচ্ছে।

অন্য চোখে তোমাকে দেখি।


তুমি সেই গাছটার নিচে দাঁড়িয়ে আছো।


ডালপালাগুলো নড়ছে।

হাওয়া আসছে।


তুমি এগিয়ে আসছো।


“ফিরবে?”


একটা শব্দ।


কিন্তু এর ভেতরে এতগুলো অর্থ—

ফিরে যাওয়া?

নাকি থেকে যাওয়া?


আমার ভেতরে দুই দিক থেকে টান পড়ে।


এই শহর—তার শব্দ, তার অসমাপ্ত কাজ, তার ক্লান্ত বাস্তবতা—আমাকে ধরে রাখতে চায়।

অন্যদিকে, একটা অদ্ভুত শান্তি—যেখানে কোনো শব্দ নেই, কোনো ব্যাখ্যা নেই।


আমি বুঝতে পারি, আমি মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছি।


শেষ মুহূর্তে একটা জিনিস স্পষ্ট হয়—


ফেরা মানে হয়তো জায়গায় ফিরে যাওয়া না।

ফেরা মানে হয়তো সেই অনুভূতিতে আটকে থাকা, যেখান থেকে কখনও পুরোপুরি বের হওয়া যায়নি।


আমি তোমার দিকে তাকাই।


তুমি হাসছো।

একটু অস্থির, একটু অসম্পূর্ণ—ঠিক যেমন ছিলে।


আমি চোখ বন্ধ করি।


সূর্যের শেষ আলো মিলিয়ে যায়।

পাশের কেবিনের কাশি থেমে যায়।

স্যালাইনের ফোঁটা পড়ার শব্দটাও যেন দূরে সরে যায়।

ঘড়ির কাঁটা আছে, কিন্তু সময় নেই।


তারপর—


সবকিছু একটু থেমে থাকে।


আমি ভাবি—


ফেরা কি সত্যিই অসম্ভব,

নাকি আমরা শুধু ভুল পথে ফিরে যেতে চাই?

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 6 মাস 3 সপ্তাহ ধরে, এবং এ পর্যন্ত 834 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 16824। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 3764
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
আমার শেষ চলে যাবার সময়টা কেমন হবে তা ভেবে নিয়েছি। ঠিক গোধূলি লগ্নে যখন সূর্যটা তার স&#[...] বিস্তারিত পড়ুন...
83 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
জীবনের সুন্দর একটি হিসাব দেখুন, বুঝুন এবং চিন্তা করুন। যদি A, B, C, D, E, F, G, H, I, J, K, L, M, N, O, P, Q, R, S, T, U, V, W, X, Y, Z = 1, 2, 3, 4, 5, 6, 7, 8, 9, 10, 11, 12, [...] বিস্তারিত পড়ুন...
54 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
স্মৃতি কি সত্য নাকি অসমাপ্ত জীবনের গল্প মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, প্রাবন্ধিক বিশ্লেষ&#[...] বিস্তারিত পড়ুন...
2 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
শিক্ষা কি শ্রেণীভেদ তৈরি করে মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, প্রাবন্ধিক প্রবন্ধ। এপ্রিল ১১, [...] বিস্তারিত পড়ুন...
9 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
বাংলা সাহিত্যের রোমান্টিসিজম কি শুধু প্রভাব না নিজস্ব সৃষ্টি মোহাম্মদ জাহিদ হোসে[...] বিস্তারিত পড়ুন...
17 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    1054 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    52 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. প্রিন্স ফ্রেরাসে

    127 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    6 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. আল-মামুন রেজা

    105 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    5 টি আইডিয়া ব্লগ

  4. Fatematuj Johora

    43 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    2 টি আইডিয়া ব্লগ

...