Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

বিকেলের অপেক্ষা

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
94 বার প্রদর্শিত
করেছেন (27,603 পয়েন্ট)   22 জুন "গল্প" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

বিকেলের অপেক্ষাimage

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

ছোট গল্প।  ২৩ জুন,২০২৬



বৃদ্ধ মানুষটা প্রতিদিন বিকেলে গেটের সামনে বসে থাকতেন।


পাড়ার মানুষজন তাকে দেখে অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছিল। কেউ ভাবত, হয়তো ছেলের ফোনের অপেক্ষা করেন। কেউ বলত, নাতি-নাতনিদের আসার আশায় বসে থাকেন।


কিন্তু আসল কথাটা কেউ জানত না। তিনি কারও জন্য অপেক্ষা করতেন না। তিনি শুধু বিকেলটা একটু ধরে রাখতে চাইতেন।


হাবিব সাহেবের বয়স এখন সত্তর পেরিয়েছে।

একসময় এই বাড়িটা অনেক ব্যস্ত ছিল। সকালে ছেলেমেয়েদের স্কুলে যাওয়ার শব্দ। রান্নাঘর থেকে রওশনের হাঁকডাক। সন্ধ্যায় বারান্দায় বসে দুজনের চা খাওয়া।


ছোট একটা সংসার ছিল। কিন্তু সেই ছোট সংসারেই কেমন একটা পূর্ণতা ছিল।


এখন বাড়িটা আগের চেয়ে বড় মনে হয়। কারণ মানুষ কমে গেছে। দুই ছেলে বিদেশে থাকে। মেয়ে নিজের সংসারে। আর রওশন নেই।


পাঁচ বছর হয়ে গেছে। তারপর থেকে বাড়িটা যেন একটু চুপচাপ হয়ে গেছে।


প্রতিদিন বিকেল পাঁচটার দিকে হাবিব সাহেব একটা পুরোনো কাঠের চেয়ার নিয়ে গেটের পাশে বসেন। চেয়ারটা অনেক পুরোনো। একপাশের হাতল একটু ভাঙা, টেপ দিয়ে পেঁচানো।


তবু তিনি বদলাননি।


পাশের বাড়ির আরিফ একদিন বলেছিল, "দাদু, নতুন একটা চেয়ার নেন না?"


হাবিব সাহেব হেসে বলেছিলেন, "এইটাই ভালো আছে।"


আরিফ তখন বুঝতে পারেনি, চেয়ারটার সঙ্গে শুধু বসার সম্পর্ক নেই।


রওশন চলে যাওয়ার পর হাবিব সাহেব অনেক কিছুই ভুলে গেছেন। কিন্তু একটা সময় ভুলতে পারেননি।


বিকেল পাঁচটা।

এই সময়টাতেই রওশন দরজার দিকে তাকিয়ে থাকতেন। তিনি অফিস থেকে ফিরলে রওশন চা এগিয়ে দিয়ে বলতেন, "আজ এত দেরি হলো কেন?"


হাবিব সাহেব হাসতেন। "তুমি কি ঘড়ি ধরে বসে থাকো নাকি?"


রওশন বলতেন, "না। কিন্তু তোমার ফেরার সময়টা চিনি।"


চল্লিশ বছরের সংসারে এমন অনেক ছোট ছোট কথা ছিল। যেগুলোর মূল্য মানুষ চলে যাওয়ার পর বোঝা যায়, সম্ভবত।


একদিন বিকেলে আরিফ এসে পাশে দাঁড়াল।

"দাদু, একটা কথা জিজ্ঞেস করি?"

"করো।"


"আপনি প্রতিদিন এখানে বসে থাকেন কেন?"

হাবিব সাহেব একটু হাসলেন। "অভ্যাস।"

"কিসের অভ্যাস?"


বৃদ্ধ মানুষটা কিছুক্ষণ গেটের দিকে তাকিয়ে রইলেন। তারপর বললেন, "একজন মানুষ এই সময়টায় ফিরত।"


আরিফ চুপ করে থাকল। "কে?"

হাবিব সাহেব আস্তে করে বললেন, "তোমার দাদী।"


সেদিন রাতে অনেকদিন পর হাবিব সাহেব আলমারি খুললেন।


ভেতরে রওশনের কিছু শাড়ি। পুরোনো একটা চশমার বাক্স। আর কয়েকটা ছবি।


একটা ছবিতে দুজন পাশাপাশি দাঁড়িয়ে আছেন। তখন চুলে পাক ধরেনি। চোখে ছিল অন্যরকম একটা উজ্জ্বলতা।


ছবিটার দিকে তাকিয়ে হাবিব সাহেব মৃদু গলায় বললেন, "রওশন, দেখো... বাড়িটা এখনো আছে।"


একটু থেমে বললেন, "শুধু তোমার ডাকটা আর শোনা যায় না।"


পরদিন বিকেলে আরিফ আবার এল। হাতে দুই কাপ চা, মাটির ভাঁড়ে।


এক কাপ এগিয়ে দিয়ে বলল, "দাদু, আজ আপনার সঙ্গে বসব।"


হাবিব সাহেব অবাক হলেন। "কেন?"

আরিফ কাঁধ ঝাঁকাল। "এমনিই।"


তারপর একটু হেসে বলল, "আপনি একা বসেন তো।"


হাবিব সাহেব কিছু বললেন না। শুধু চায়ের কাপটা হাতে নিলেন।


অনেকদিন পর বিকেলটা তার কাছে এত লম্বা মনে হলো না।


এরপর থেকে আরিফ প্রায়ই আসে। কখনো দুজন গল্প করে। কখনো চুপচাপ বসে থাকে।


হাবিব সাহেব বুঝেছেন, সবসময় কথা বলার মানুষ লাগে না। কখনো কখনো পাশে বসে থাকার মানুষই যথেষ্ট।


একদিন আরিফ জিজ্ঞেস করল, "দাদু, আপনার সবচেয়ে বেশি কষ্ট কিসের?"


হাবিব সাহেব একটু ভেবে বললেন, "আগে ভাবতাম, বয়স হলে মানুষ সময় হারায়।"


তিনি একটু থামলেন। "পরে বুঝলাম, মানুষ আসলে চেনা মানুষগুলোকে হারায়।"


আরিফ কিছু বলল না।

হাবিব সাহেব গেটের বাইরে তাকিয়ে রইলেন।


সেদিন বিকেলেও হাবিব সাহেব গেটের সামনে বসেছিলেন। পুরোনো চেয়ারটা ছিল। হাতে এক কাপ চা। পাশে আরিফ।


বিকেলের আলো ধীরে ধীরে কমে আসছিল। গেটটা আগের মতোই ছিল।


শুধু এবার তিনি একা বসে ছিলেন না।

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 1 বছর ধরে, এবং এ পর্যন্ত 1366 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 27603। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 4110
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
অপেক্ষা    মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন   ছোটগল্প। ১৬ জুন ২০২৬ আসরের আজান শেষ হতেই আবদুল õ[...] বিস্তারিত পড়ুন...
87 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

 সমুদ্র, গমক্ষেত ও একটি অপেক্ষা মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন সাহিত্যিক ছোটগল্প। ১৭ মে, ২০২&#[...] বিস্তারিত পড়ুন...
367 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
শুধুই অপেক্ষা মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোট গল্প। এপ্রিল ২২, ২০২৬ ঢাকার গরমটা তখন অসহ্[...] বিস্তারিত পড়ুন...
415 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
অপেক্ষা করতে শেখা মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বিশ্লেষণধর্মী। ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সবকিছ[...] বিস্তারিত পড়ুন...
29 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
জানালাটা খোলা থাক মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোট গল্প | ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ রাত প্রায় বার[...] বিস্তারিত পড়ুন...
26 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    1504 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    74 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. রফিক আতা

    350 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    17 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. প্রিন্স ফ্রেরাসে

    125 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    6 টি আইডিয়া ব্লগ

  4. অমিত দত্ত দিলু

    124 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    6 টি আইডিয়া ব্লগ

...