অভিক বাসায় আজ একা। সারাটা দিন ঘুমের মধ্যে কেটেছে। সন্ধ্যায় যখন কিছু ভালো লাগছিল না, তখন অভিক বুঝতে পারলো তার বেশ ক্ষুধা লেগেছে। কী করবে কিছুই বুঝতে পারছিল না।
একবার ভাবলো, নিজে কিছু একটা রান্না করবে; কিন্তু শরীরটা কিছুতেই সায় দিচ্ছিল না। তাই ঠিক করলো, বাসার নিচে গিয়ে কিছু একটা কিনে আনবে।
নিচে নামলো অভিক। সামান্য হাঁটতেই দেখলো, দোকানে জিলাপি ভাজা হচ্ছে—বেশ গরম আর টাটকা। কিছু জিলাপি একটা প্যাকেটে (যাকে আমরা কাগজের ঠোঙা বলি) নিয়ে বাসায় ফিরে কম্পিউটারে কাজ করতে বসলো। কাজের সাথে গরম গরম জিলাপি খেতে খারাপ লাগছিল না অভিকের।
খাওয়া শেষে অভিক হাত ধুয়ে এসে দেখে, জিলাপি মোড়ানো ঠোঙাটিতে গোটা গোটা হাতের লেখা—যা দেখতে একেবারেই একটা চিঠির মতো।
অভিক ভালো করে দেখলো সেটি।
এটা কোনো প্রেমিক তার প্রেমিকাকে লিখেছে। লেখার ধরন দেখে মনে হলো, এটি হয়তো কারো অভিজ্ঞ হাতে লেখা কোনো প্রেমপত্র।
আরো মনে হলো, প্রচণ্ড আবেগ আর একরাশ অভিমান মিশে আছে এ চিঠিতে।
একদম পরিপাটি একটি লেখা, যার পুরোটা পড়া গেল। অভিক মিষ্টির রসে মাখা সেই ঠোঙাটি রেখে দিলো যত্ন করে।
কাজ শেষ করে আবার ঠোঙাটি খুলে দেখলো—একটি চিঠি, যা হয়তো কোনো দিন প্রকাশিত হবে না। বলা যায়, এটি একটি অপ্রকাশিত প্রেমের চিঠি। চিঠিটি ঠিক যেমন লেখা ছিল, অভিক তেমনভাবেই তুলে ধরলো।
চিঠি:
*"পৃথিবীতে অনেক মানুষ আছে, যারা বাইরে বাইরে রাগ দেখিয়ে নিজের ভেতরের কোমল মানুষটাকে আড়াল করতে চায়।
বাইরে সাহস দেখিয়ে নিজের ভীতু মনটাকে সবার থেকে লুকিয়ে রাখতে চায়, কিংবা একাকিত্ব থেকে, প্রেমের কষ্ট থেকে বাঁচতে চায়।
নীলা তাদের একজন।
একজন মানুষ সহজে অন্যের সাথে অভিনয় করতে পারে, কিন্তু নিজের সাথে অভিনয় করাটা খুব কঠিন। নীলা প্রতিনিয়ত নিজের সাথে অভিনয় করে বেঁচে থাকা একজন মানুষ।
হয়তো কোনো বিশেষ কারণে পৃথিবীর সমস্ত পুরুষ মানুষের প্রতি সীমাহীন রাগ ও ক্ষোভ জমে আছে তার ভেতরে। তাই পুরুষ মানুষকে হেয় বা ছোট করে সে সীমাহীন আনন্দ পায়।
নীলা জানে, একজন বিশেষ মানুষের দোষের কারণে অন্য সবাইকে দোষ দেওয়া যায় না।
এই বোধ নীলার আছে—শুধু উপলব্ধি করার অপেক্ষা।
হয়তো একদিন সেই দিন আসবে, যেদিন নীলার ভেতরের সহজ-সরল রূপটি তার বাইরের রাগী আর অভিমানী রূপকে ভেঙে খোলস ছেড়ে বেরিয়ে আসবে।
আর সেদিন জন্ম হবে নতুন এক নীলার।"*
চিঠিটি পড়া শেষ করে অভিক কিছুক্ষণ নীরবে ভাবলো। এই কম্পিউটারের যুগে, এমন আবেগ মিশিয়ে যে কেউ চিঠি লিখতে পারে, তা অভিকের ধারণার বাইরে ছিল। তবে চিঠিটা যে কিছুদিন আগে লেখা হয়েছে, তা কাগজের অবস্থা দেখেই বোঝা গেল।
অভিক মনে মনে ভাবলো—
"আসলে চিঠিতে যে আবেগ থাকে, যে হৃদয়ের অব্যক্ত কথা লুকিয়ে থাকে—তা বোধহয় অন্য কিছুতে পাওয়া যায় না।"
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।