Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

বড্ড মায়ার জগৎ

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
249 বার প্রদর্শিত
করেছেন (21,955 পয়েন্ট)   31 জানুয়ারি "গল্প" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

বড্ড মায়ার জগৎ

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন | 

ছোটগল্প | ফেব্রুয়ারি ০১,২০২৬


আগামী ২রা ফেব্রুয়ারি অভিকের ছোট মেয়ের জন্মদিন। মেয়েটি এখনো খুব ছোট, কিন্তু তার আবদারের কোনো সীমা নেই। প্রতি বছর জন্মদিনে অভিক চেষ্টা করেন—যতটা সম্ভব, কিছুটা ভালো-মন্দ রান্না করে মেয়েটিকে খুশি করতে।


কিন্তু এ বছর ভিন্ন। জীবন যেন তার সঙ্গে লড়ছে। দারিদ্র্য, অসুস্থতা আর সময়ের চাপ একসাথে আছড়ে পড়েছে। আজ অভিক প্রচণ্ড অসুস্থ; সারাদিন বিছানায় শুয়ে থাকতে হয়েছে। তবুও হাতে থাকা মোবাইল দিয়ে সে আমাকে ফোন করেছে।


ফোনটি ধরতেই তার গলায় ঝুলন্ত এক নিঃশ্বাস আমাকে স্পর্শ করল। অভিক বলল,


“বন্ধু, জানিস কি? পৃথিবী ছেড়ে যাওয়া যায়, কিন্তু বড়ো মায়া আমার দুটি মেয়ের জন্য। আমাকে ছেড়ে ওরা কি করে থাকবে, বলতো?”


আমি কিছু বলতে পারলাম না। শুধু কান দিয়ে শুনছিলাম, হৃদয় দিয়ে অনুভব করছিলাম।


“গত দুই দিন আমার অনেক কষ্ট হয়েছে। আমার চিকিৎসার শেষ আশ্রয় লেজার সার্জারি। কিন্তু তুমি জানো, অসুস্থতার সঙ্গে দারিদ্র্যও লেগে আছে। ইতিমধ্যেই চিকিৎসায় লাখ লাখ টাকা খরচ করেছি। বাঁচার তাগিদে এভারকেয়ার হাসপাতালে গিয়েছিলাম, ভেবেছিলাম হয়তো কম খরচে চিকিৎসা সম্ভব হবে। কিন্তু সেখানেও অনেক ব্যয়। আমার পরিবার আর পারবে না। আত্মীয়স্বজন আজকাল ফোনও ধরছে না। তারা বলেছিল—‘তুই যা, আমরা আছি।’ আসলে কেউ নেই!”


তার শব্দে এক একাকীত্ব, যা আমাকে চুপ করে বসতে বাধ্য করল।


“আমি জানি, হয়তো আর বাঁচব না। মাস দুয়েকের মধ্যে হয়তো সবাইকে ছেড়ে চলে যেতে হবে। আমার বউ কিছুদিন কাঁদবে। বড় মেয়েটা হয়তো পাগল হয়ে যাবে। আর ছোট মেয়েটা—আমাকে ছাড়া কিছুই বুঝবে না। দু-দিন হয়তো খুঁজে বেড়াবে। রাতের বেলা কপালে চুমু না দিলে ঘুমাবে না। আমি চলে গেলে কে ওদের কান্না থামাবে? আমি না থাকলে ওরা কি করে ঘুমাবে?”


তার কণ্ঠে ভয়, অনিশ্চয়তা এবং শেষ ভালোবাসার মিশ্রণ। আমি শুনছি, কিন্তু কিছুই করতে পারছি না।


“এই জন্যই কষ্ট হচ্ছে। বাঁচতে খুব ইচ্ছে করছে। তুমি কি পারবে কিছু করতে?”


আমি জানি, আমার শক্তি সীমিত। হাসপাতালে আমি কিছু করতে পারি না। শুধু তার পাশে থাকা, তার কষ্ট শোনা।


অভিকের কথা চলতে থাকল।


“দিনে আমি ভুলে যেতে পারি। বন্ধুদের সঙ্গে চা খেতে যাই। কিন্তু সেখানে কেউ দরিদ্র দেখলে, কেউ ঘাড় চাপা দেয়, কেউ ক্ষমতাবান হয়ে শুধু তাকায়। কেউ সাহায্য করে না। শেষে আমি ফিরে আসি, শুধু নিজের চোখ ভিজিয়ে।”


তার এই অদম্য মায়া, নিজের মৃত্যুর সামনে দাঁড়িয়ে দুই মেয়ের ভবিষ্যতের জন্য উদ্বিগ্ন থাকা—সব মিলিয়ে আমার বুক চাপা হয়ে যায়। আমি কীভাবে এই বাবা-কে বাঁচাবো? হাসপাতাল তো আমার নয়, যেখানে সব কথা শুনে সমাধান করা যায়।


অভিকের জীবন দারিদ্র্য এবং অসুস্থতার চরম মিলন। হাসপাতালে চিকিৎসার খরচ, ওষুধ, ল্যাব রিপোর্ট—সব মিলিয়ে মাসের উপার্জনের চেয়ে বেশি। তার চোখে একদিকে আশা, অন্যদিকে হতাশা। প্রতিটি ব্যয় তার পকেটের সীমানার বাইরে।


“আমি জানি, বাঁচার সম্ভাবনা কম, কিন্তু ছোট মেয়েটার চোখে দেখছি—আমি না থাকলে সে কি করবে?”


এই প্রশ্নের ভেতর লুকানো আছে বাবার শেষ প্রেম, শেষ দায়িত্ব এবং জীবনের মূল্য।


ছোট মেয়েটি বাবাকে ছাড়া অচেতন। রাত হলে কপালে চুমু না দিলে ঘুমায় না। বড় মেয়েটিও তার দুঃখে বিভ্রান্ত হবে। এই দুই মেয়ের জন্য বাবার চরম উদ্বেগ তাকে এক মুহূর্তের জন্যও শান্তি দেয় না।


বাবার কণ্ঠ শুনে বোঝা যায়, এই ছোট্ট মেয়েটির সঙ্গে তার সংযোগই তার জীবনের শেষ আশা।


আমি শুনছি, কিন্তু কিছুই করতে পারছি না। হাসপাতাল আমার নয়, অর্থ নেই, ক্ষমতা নেই। শুধু শুনে থাকা, অনুভব করা—এটাই একমাত্র সমর্থন।


অভিক বলল, “দেখিস, বললাম।” তার কথায় কোনো অভিযোগ নেই। শুধুই শেষ আহবান, শেষ ভালোবাসা।


“দিনে চা খেতে গেলে কেউ দরিদ্র দেখে ক্ষমতায় নিজেকে প্রমাণ করতে চায়। কেউ সাহায্য করে না। সবাই শুধু তাকায়।”


এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয়, মানুষ প্রায়শই ক্ষমতা ও সমাজের প্রভাব দেখিয়ে সাহায্য না করে শুধু পর্যবেক্ষক থাকে।


অভিকের জীবনের গল্প শুধু একটি পরিবারের নয়। এটি মানবিক সংবেদন, বাবা-মেয়ের সম্পর্ক এবং জীবনের অসম্পূর্ণ মায়ার গল্প।


প্রতিটি কথা, প্রতিটি শ্বাস, প্রতিটি নীরব আহবান আমাদের মনে করিয়ে দেয়—মানবিক ভালোবাসা কখনও অর্থ বা ক্ষমতার সাথে তুলনা করা যায় না।



#বড্ড_মায়ার_জগৎ #মানবিক_গল্প #পরিবার_প্রেম #দারিদ্র্য_এবং_ভালোবাসা #বাংলা_ছোটগল্প #জীবনের_মূল্য #EmotionalBanglaStories #HumanityBangla #BanglaLiteratureimage

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 9 মাস 1 সপ্তাহ ধরে, এবং এ পর্যন্ত 1087 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 21955। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 3300
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


ব্যার্থ জীবন মানুষ চেনায় কেউ থাকে না পাশে- সফল হলে জগৎ তাকে বড্ড ভালোবাসে।         &[...] বিস্তারিত পড়ুন...
284 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
১২ সেপ্টেম্বর ছিল বিখ্যাত সুলেখক বিভূতিভূষণের জন্মদিন সে উপলক্ষ্যে পাঠক ও লেখক মাহমুদুল হাসান মৃদুলের লেখা , বাংলা সাহিত্যে প্রকৃতি, নান্দনিকতা, নিসর্গ, আর গ্রাম্য জীবনকে কেউ যদি সব�[...] বিস্তারিত পড়ুন...
240 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
অভিকের অদেখা জগৎ   গল্প ১০: আমি কি সত্যিই অসুস্থ?   মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন   ৫ জুলাই, ২[...] বিস্তারিত পড়ুন...
6 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
অভিকের অদেখা জগৎ   গল্প ৯: ৩০৫ নম্বর কক্ষ   মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন   ৫ জুলাই, ২০২৬ মা&[...] বিস্তারিত পড়ুন...
5 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
অভিকের অদেখা জগৎ   গল্প ৮: যেদিন বুঝলাম, নিশি নেই   মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন   ৫ জুলাই, ২[...] বিস্তারিত পড়ুন...
6 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    486 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    24 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. শামীমা আকতার

    22 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    0 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. Adiba jannat

    21 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    1 আইডিয়া ব্লগ

  4. মুহাম্মদ সালমান

    1 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    0 টি আইডিয়া ব্লগ

...