Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

বাবার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য (পরিবার, স্মৃতি ও চাপা সত্য)

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
1 বার দর্শন
করেছেন (29,507 পয়েন্ট)   13 ঘন্টা পূর্বে "সাহিত্য(বিশ্লেষণ ধর্মী)" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

বাবার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য

(পরিবার, স্মৃতি ও চাপা সত্য)image

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

ছোটগল্প | ২৩ অক্টোবর ২০২৬


বাবার মৃত্যুর দশ দিন পর সম্পত্তি ভাগের বৈঠকে ছোট চাচা বললেন, “তোর বাবা নীলাকে খুব ভালোবাসত। মেয়েটার জন্য কত চিন্তা করত!”


রাশেদ কলমটা নামিয়ে রাখল। পাশের ঘরে নীলা মায়ের ওষুধ গুছাচ্ছিল। একটা ট্যাবলেট মেঝেতে পড়ে গড়িয়ে গেল। সে তুলে নিয়ে আবার আগের কাজে মন দিল।


“কী হলো? সই করছিস না কেন?” চাচা জিজ্ঞেস করলেন।


রাশেদ দলিলের দিকে তাকাল। বাবার চশমাটা কাগজের ওপর পড়ে আছে। এক কাচে সরু ফাটল।


“নীলার ভাগের কথা হলো না তো।”


চাচা বিরক্ত হয়ে বললেন, “ওর ব্যবস্থা পরে হবে। আগে নিজেদের ভাগাভাগিটা শেষ করি।”


নীলা দরজার কাছে এসে দাঁড়াল। হাতে একটা পুরোনো খাম।


“আমার কথা পরে বললেই হয়, চাচা। বারো বছর তো পরেই রইল।”


ঘরে সবাই তার দিকে তাকাল।


খাম থেকে ভাঁজ করা চিঠি বের করে সে টেবিলে রাখল। কাগজের রং হলদেটে, কয়েক জায়গায় কালি ছড়িয়ে গেছে।


“বিয়ের পর বাবাকে লিখেছিলাম। দিতে পারিনি।”


চাচা হাত নেড়ে বললেন, “এসব এখন কী দরকার? সম্পত্তির কথা হচ্ছে, নীলা।”


নীলা চিঠিটা খুলে পড়ল, “বাবা, ওরা আমার ফোন নিয়ে নিয়েছে। কার সঙ্গে কথা বলি, সব জিজ্ঞেস করে। রাতে দরজা বন্ধ করে রাখে। আমি ভয় পাই। তুমি আমাকে নিতে আসবে?”


পড়া শেষ করে সে চুপ করে রইল।


বারো বছর আগে এই বাড়িতেই সে বাবাকে বলেছিল, বিয়ে করতে চায় না। পড়াশোনা শেষ করে চাকরি করতে চায়। বাবা শুনেছিলেন, তারপর নিজের পছন্দের পাত্রের সঙ্গে বিয়ে ঠিক করেছিলেন।


বিয়ের তিন মাস পর নীলা ফিরে এলে বাবা বলেছিলেন, “সংসার করতে গেলে একটু-আধটু সহ্য করতে হয়।”


রাশেদ তখন পাশেই ছিল।


সে বোনের চোখের দিকে তাকাতে পারেনি। বাবাই তখন তার বিদেশ যাওয়ার খরচ দিয়েছিলেন। নিজের ভবিষ্যৎ নষ্ট করতে চায়নি সে। নীলাকে শুধু বলেছিল, “কিছুদিন থাক। সব ঠিক হয়ে যাবে।”


কিছুই ঠিক হয়নি।


ছোট চাচা চেয়ারে নড়েচড়ে বসলেন। “তোর বাপে কি তোরে কম করছে? লেখাপড়া করাইছে, বিয়ে দিছে। এখন মানুষটা মরে যাওয়ার পর এইসব কথা তুলে কী প্রমাণ করতে চাস?”


নীলা চিঠিটা ভাঁজ করতে করতে বলল, “কিছু প্রমাণ করতে চাই না, চাচা। শুধু একবার চেয়েছিলাম, বাবা আমার কথাটা বিশ্বাস করুক।”


রাশেদের বুকের ভেতরটা কেঁপে উঠল।


“আমি জানতাম, নীলা,” সে বলল। “তবু চুপ ছিলাম। বাবার টাকায় বিদেশ গেছি, চাকরি করেছি। নিজের জীবন নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম। তোর জন্য কিছু করিনি।”


চাচা চেয়ার ঠেলে উঠে দাঁড়ালেন।


“বাহ! এখন নিজের বাপের দোষ ধরলে? এত দিন কোথায় ছিলি?”


রাশেদ মাথা নিচু করল। প্রশ্নটার উত্তর তার জানা। কিন্তু মুখে বলতে গিয়ে নিজের কাছেই ছোট হয়ে যেতে হলো।


“আমি তখনও ভুল করেছি। এখনো হয়তো অনেক দেরি হয়ে গেছে। কিন্তু আর চুপ থাকতে পারলাম না।”


মা দরজার কাছে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তাঁর হাতের আঁচলটা মুঠোয় পাকানো। তিনি একবার নীলার দিকে, একবার টেবিলে পড়ে থাকা চিঠিটার দিকে তাকালেন। তারপর রান্নাঘরের দিকে চলে গেলেন।


বৈঠক আর এগোল না। আত্মীয়রা চলে যাওয়ার সময় রাশেদের সঙ্গে কেউ কথা বললেন না। জমির দলিলগুলো টেবিলেই পড়ে রইল।


সন্ধ্যায় রাশেদ বোনকে ডাকল।


“আমার ওপর রাগ আছে?”


নীলা পুরোনো খামটা হাতে নিয়ে দাঁড়াল।


“রাগ করে কী হবে, ভাই? তুই তো জানতিস।”


রাশেদ উত্তর দিতে পারল না।


রাতে খাওয়ার সময় মা নীলার প্লেটে ভাত তুলে দিলেন। মাছের টুকরোটা দিতে গিয়ে হাত থামালেন, তারপর আস্তে করে প্লেটের এক পাশে রাখলেন।


নীলা খেতে বসে বলল, “কাল থেকে আমি আগের ঘরটায় ঘুমাব।”


মা শুধু বললেন, “আচ্ছা, মা।”


আর কিছু বললেন না। নীলাও কিছু জিজ্ঞেস করল না।


খাওয়া শেষে নীলা ঘরে ঢুকে দরজাটা ভেজিয়ে দিল। অনেক বছর পর নিজের জিনিসপত্রগুলো আবার গুছিয়ে রাখার কথা ভাবল।


রাশেদ বারান্দায় দাঁড়িয়ে দেখল, বাবার ঘরের জানালায় আলো জ্বলছে। দেয়ালে ঝোলানো ছবিটা নামানো হয়নি।


পাশের ঘর থেকে নীলার কাশির শব্দ এল। মা উঠে এক গ্লাস পানি নিয়ে গেলেন।


রাশেদ দরজার কাছে এসে থামল। ভেতরে মা গ্লাসটা এগিয়ে দিচ্ছেন, নীলা পানি খাচ্ছে।


কেউ কথা বলছে না।


শুধু দরজাটা এবার বন্ধ হয়নি।

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 1 বছর 4 সপ্তাহ ধরে, এবং এ পর্যন্ত 1460 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 29507। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 5062
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
স্মৃতি কি সত্য নাকি অসমাপ্ত জীবনের গল্প মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, প্রাবন্ধিক বিশ্লেষ&#[...] বিস্তারিত পড়ুন...
471 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
বাবার চোখে পরিবার ও সন্তানের ভবিষ্যৎ মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বিশ্লেষণধর্মী | ফেব্রু[...] বিস্তারিত পড়ুন...
477 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
না বলার অপরাধ (নারী, পরিবার ও সামাজিক মনস্তত্ত্ব) মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বিশ্লেষণমূ[...] বিস্তারিত পড়ুন...
13 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
নিজের জীবন, নিজের ভয় (নারী, পরিবার ও সামাজিক মনস্তত্ত্ব) মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বিশ্ল[...] বিস্তারিত পড়ুন...
13 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
বিচার দিতে গিয়ে (দাম্পত্য, পরিবার ও সামাজিক মনস্তত্ত্ব) মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বিশ[...] বিস্তারিত পড়ুন...
7 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    1903 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    10 মন্তব্য

    94 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. প্রিন্স ফ্রেরাসে

    127 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    6 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. জামিনুল রেজা

    83 পয়েন্ট

    1 প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    4 টি আইডিয়া ব্লগ

  4. অমিত দত্ত দিলু

    65 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    3 টি আইডিয়া ব্লগ

...