Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

বাবার মৃত্যুর পর দুই ভাইয়ের দেখা

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
2 বার প্রদর্শিত
করেছেন (29,003 পয়েন্ট)   15 ঘন্টা পূর্বে "গল্প" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

বাবার মৃত্যুর পর দুই ভাইয়ের দেখাimage

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

পারিবারিক ছোটগল্প

১৮ অক্টোবর ২০২৬



বাবার জানাজার পর বড় ভাই ছোট ভাইকে বলল, ‘তুই আমার কাছে মরে গেছিস।’


ছোট ভাই কোনো উত্তর না দিয়ে চলে গেল।


কথাটা শোনার পর আশপাশের কয়েকজন মুখ তুলে তাকিয়েছিল। কেউ কিছু বলেনি। কবরস্থানের বাইরে তখনও লোকজন দাঁড়িয়ে ছিল। কেউ বাড়ি ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিল, কেউ মৃত মানুষের জন্য দোয়া করছিল। ছোট ভাই শুধু একবার পেছনে তাকিয়েছিল। বড় ভাই তখন অন্যদের সঙ্গে কথা বলছিল। তার মুখে শোক ছিল, কিন্তু ছোট ভাইয়ের দিকে তাকানোর কোনো আগ্রহ ছিল না।


তিন দিন পর বাবার ঘর খালি করতে দুই ভাই আবার একসঙ্গে দাঁড়াল।


ঘরের দরজাটা অনেক দিন ধরেই ঠিকমতো বন্ধ হতো না। বাবা বেঁচে থাকতে প্রতিবার বের হওয়ার সময় দরজাটা টেনে লাগাতেন, তারপর হাত দিয়ে ঠেলে দেখে নিতেন আটকাল কি না। সেদিনও বড় ভাই ঘরে ঢুকে দরজাটা টেনে দিল। দরজা আটকাল না। সে আর দ্বিতীয়বার চেষ্টা করল না।


ছোট ভাই খাটের নিচ থেকে পুরোনো কাগজের বাক্স বের করছিল। বড় ভাই আলমারির ওপরের তাক থেকে কাপড় নামাচ্ছিল। দুজনের কাজ আলাদা, অথচ ঘরের প্রতিটি জিনিস সরাতে গিয়ে বারবার একই জায়গায় হাত পড়ছিল।


বাবার ফতুয়াটা নামাতে গিয়ে বড় ভাই থেমে গেল। বুকের কাছে একটা বোতাম ছিল না। সে ফতুয়াটা ভাঁজ করে পাশে রাখল। ছোট ভাই সেটা দেখে কিছু বলল না। ফতুয়াটা সে বহুবার সেলাই করে দিয়েছে। শেষবার বোতাম লাগানোর সময় বাবা বলেছিলেন, নতুন একটা ফতুয়া কিনবেন। কেনা হয়নি।


ঘরের এক কোণে বাবার পুরোনো ছাতাটা পড়েছিল। তার হাতল ফেটে গিয়েছিল অনেক আগে। বর্ষার দিনে বাবা সেটি হাতে নিয়ে বের হতেন, ফেরার সময় ছাতার পানি বারান্দায় ঝেড়ে রাখতেন। ছোট ভাই ছাতাটা তুলে দরজার পাশে রাখল। বড় ভাই একবার তাকিয়ে আবার কাজে মন দিল।


আলমারির নিচের তাকে কাপড়ের আড়ালে কিছু একটা আটকে ছিল। টান দিতেই বেরিয়ে এল একজোড়া পুরোনো স্যান্ডেল।


স্যান্ডেলের রং প্রায় উঠে গেছে। দুই পাটির ফিতা ঢিলে হয়ে আছে। ডান পাটির তলা তুলনামূলক ঠিক থাকলেও বাঁ পাটির এক পাশ অনেক বেশি ক্ষয়ে গেছে। বাবা হাঁটার সময় বাঁ পা একটু টেনে চলতেন। সেই কারণে স্যান্ডেলের এক পাশও অন্য পাশের চেয়ে বেশি ঘষে গিয়েছিল।


বড় ভাই স্যান্ডেল দুটো হাতে তুলে নিল।


— এটা তো বাবা শেষ দিনও পরেছিল।


ছোট ভাইয়ের হাত থেমে গেল।


সেদিন বাবাকে হাসপাতালে নেওয়ার আগে সে-ই স্যান্ডেল দুটো দরজার সামনে এনে রেখেছিল। বাবা বিছানা থেকে উঠে পা বাড়িয়ে স্যান্ডেল পরেছিলেন। বাঁ পাটিটা ঠিকমতো পায়ে বসছিল না। তিনি হাত দিয়ে ফিতাটা টেনে ঠিক করেছিলেন। ছোট ভাই তখন বলেছিল, নতুন একজোড়া কিনে দেবে। বাবা হেসে বলেছিলেন, ‘এখনো তো চলে।’


সেই কথার পর আর নতুন স্যান্ডেল কেনা হয়নি।


বড় ভাই স্যান্ডেল দুটো মেঝেতে পাশাপাশি রাখল। কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে সে হাত দিয়ে বাঁ পাটির ক্ষয়ে যাওয়া অংশটা ছুঁল। তারপর হাত সরিয়ে নিল।


ছোট ভাই নিজের পায়ের স্যান্ডেল খুলে বাবার স্যান্ডেলের পাশে রাখল।


বড় ভাই তার দিকে তাকাল। ছোট ভাই কিছু বলল না। নিজের স্যান্ডেল দুটোর দিকে একবার দেখে সে ঘরের মাঝখানে সরে দাঁড়াল।


বড় ভাইও নিজের স্যান্ডেল খুলে রাখল।


দুজনেই খালি পায়ে দাঁড়িয়ে রইল। তাদের মাঝখানে বাবার ক্ষয়ে যাওয়া স্যান্ডেল জোড়া। এক পাটির তলা প্রায় মসৃণ, অন্য পাটির পাশটা ঘষে সরু হয়ে গেছে।


ছোট ভাই নিচু হয়ে স্যান্ডেল দুটো পাশাপাশি মিলিয়ে দিল। তারপর উঠে দাঁড়াল। বড় ভাইয়ের দিকে তাকাল না, বড় ভাইও কিছু বলল না।


ঘর থেকে বের হওয়ার সময় বড় ভাই দরজাটা টেনে দিল। দরজা আগের মতোই আধখোলা রয়ে গেল।


ছোট ভাই ফিরে এসে দরজাটা ঠেলে আটকে দিল।


বাইরে মাগরিবের আজান হচ্ছিল।


বাবার স্যান্ডেল জোড়া ঘরের ভেতরেই রয়ে গেল। দুই ভাই খালি পায়ে উঠোন পেরিয়ে পাশাপাশি হাঁটল। কেউ জমির কথা তুলল না।

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 1 বছর 3 সপ্তাহ ধরে, এবং এ পর্যন্ত 1435 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 29003। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 5018
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
ইল্লিয়ীন ও সিজ্জীন  (মৃত্যুর পর আত্মার দুই বিপরীত গন্তব্য)  মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন&nb[...] বিস্তারিত পড়ুন...
247 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
যে চিঠি কখনো পোস্ট হয়নি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছয় পর্বের ছোটগল্প ২৪ আগষ্ট, ২০২৬ প[...] বিস্তারিত পড়ুন...
57 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
শেষ পর্যন্ত কেউ জেতেনি   পর্ব–৪ : দুই মেয়ের চোখে ভাঙা পরিবার   মোহাম্মদ জাহিদ হোসে[...] বিস্তারিত পড়ুন...
49 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
অতীতের ওপারে অধ্যায় দুই  মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোট গল্প  । ১৬, জুন ২০২৬ —তুমি কী বল[...] বিস্তারিত পড়ুন...
115 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

চাঁদের গন্ধে ভেজা দুই জীবন মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন সাহিত্যিক ছোটগল্প। ১৭ মে, ২০২৬ গ্রামের শেষ প্রান্তে যেখানে কাঁচা মাটির পথ হঠাৎ ধানক্ষেতের ভেতর মিলিয়ে যায়, সেখানেই রাতটা একটু বেশি নীরব। চা[...] বিস্তারিত পড়ুন...
381 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    1419 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    7 মন্তব্য

    69 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. প্রিন্স ফ্রেরাসে

    126 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    6 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. জামিনুল রেজা

    83 পয়েন্ট

    1 প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    4 টি আইডিয়া ব্লগ

  4. শামীমা আকতার

    82 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    4 টি আইডিয়া ব্লগ

...