Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

অপেক্ষা

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
1 বার দর্শন
করেছেন (20,116 পয়েন্ট)   2 ঘন্টা পূর্বে "গল্প" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

অপেক্ষাimage   

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন  

ছোটগল্প। ১৬ জুন ২০২৬


আসরের আজান শেষ হতেই আবদুল করিম সাহেবের দিন শুরু হয়। প্রতিদিন। বৃদ্ধাশ্রমের লোহার গেটের গা ঘেঁষে সেই পুরনো প্লাস্টিকের চেয়ার। একপাশ ভেঙে পড়েছে বহুদিনের ভারে। বসলে ক্যাঁচ করে ওঠে, যেন অভিযোগ করে। আশ্রমের ছেলেরা কতবার বলেছে—“চাচা, চেয়ারটা বদলান।” তিনি হাসেন না, মাথা নাড়েন। “না। এইটাই থাক।”


বিকেল গড়ায়। সরু রাস্তাটায় জীবন বয়ে যায়। রিকশার ঘণ্টি, মোটরসাইকেলের গর্জন, স্কুল-ছুটির বাচ্চাদের কলরব। সব ছাপিয়ে তাঁর চোখ স্থির—ওই বাঁকটায়। নতুন কেউ এলে ভদ্রতা করে জিজ্ঞেস করে, “চাচা, কার অপেক্ষায়?” তিনি অন্যদিকে তাকান। “কারো না বাবা। এমনিই বসি।” কথাটা হাওয়ায় মিলিয়ে যায়।


ছেলে রাকিব। সাত বছর হলো আটলান্টিকের ওপারে। প্রথমে স্বপ্ন, তারপর সংসার। এখন সেখানেই শেকড়। মাঝে মাঝে মেসেঞ্জারে ভেসে আসে নাতনির মুখ—ফ্রক পরা ছোট্ট মেয়ে, চুলে লাল ক্লিপ, ক্যামেরার দিকে সরল বিস্ময়। করিম সাহেব ছবিটা বুকের কাছে ধরেন। ঠোঁট নড়ে, “হুবহু তোর ছোটবেলা, রাকিব।”


সালেহা বেগম চলে যাওয়ার পর বাড়িটা শুধু ইট-কাঠের খাঁচা। ভোরের চায়ের কাপে আর কারো ঠোঁটের ছোঁয়া নেই। রাতে জানালা বন্ধ করার কথা মনে করিয়ে দেওয়ার মতো কেউ নেই। একদিন রাকিব ফোনে বলেছিল, “বাবা, একা থাকা কষ্টের। এখানে ভালো হোম আছে। খরচ নিয়ে ভেবো না।” করিম সাহেব বহুক্ষণ চুপ ছিলেন। শেষে শুধু বললেন, “পাঠিয়ে দাও।” ফোন রাখার পর জানালার শিক ধরে দাঁড়িয়ে ছিলেন অনেকক্ষণ। সেই রাতেই তিনি নিজের ঠিকানা বদলে ফেললেন।


প্রতি মাসের এক তারিখে টাকা আসে। নিখুঁত সময়ে। ম্যানেজার শ্রদ্ধার গলায় বলেন, “আপনার ছেলে খুব দায়িত্বশীল মানুষ, চাচা।” করিম সাহেব শুধু মাথা কাত করেন। দায়িত্ব আর ভালোবাসা কি এক জিনিস?


জয়নাল সাহেব এলেন এক বিকেলে। অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক। চোখে চশমা, কথায় মায়া। “রোজ বসেন যে?”  

“অভ্যাস।”  

“অভ্যাস, নাকি অপেক্ষা?”  

করিম সাহেব হাসলেন। সেই হাসিতে কোনো জোর নেই। “অপেক্ষা অভ্যাস হয়ে গেলে আর কষ্ট থাকে না, বাবা।”


ঋতু পাল্টায়। চৈত্রের খরায় চামড়া ফাটে, শ্রাবণের জলে চেয়ার ভেজে। তবু তিনি বসেন।


সেদিন ফোন বাজল। স্ক্রিনে ‘রাকিব’। রাকিবের পাশে মেয়ে রং-পেন্সিল নিয়ে ব্যস্ত। কলটা রিসিভ করতে তার কয়েক সেকেন্ড লাগল। “কেমন আছো, বাবা?”  

“আছি।”  

“শরীর?”  

“চলে যাচ্ছে।”  

দীর্ঘ নীরবতা। তারপর কম্পিত গলা, “কবে আসবি, রাকিব?”  

ওপাশে কাগজ মোচড়ানোর শব্দ। “এই বছরটা… খুব চাপ, বাবা। সামনের বছর দেখি।”  

“আচ্ছা।” লাইন কেটে গেল।


সন্ধ্যা নামল। জয়নাল সাহেব এসে কাঁধে হাত রাখলেন, “চলুন, ভেতরে যাই।”  

করিম সাহেব উঠলেন না। আকাশের দিকে তাকিয়ে বললেন, “আজ মেঘ করেছে। বৃষ্টি আসবে। ওর আসতে সুবিধা হবে।” বৃষ্টি এল। ছেলে এল না।


তারপর এক ভোর। বুকের বাঁ পাশে চিনচিনে ব্যথা। ডাক্তার এল, ইনজেকশন দিল। রাকিবকে খবর দেওয়া হলো। রাকিব বলল, “আসছি, বাবা। কথা দিলাম।”  

করিম সাহেব চোখ বুজে বললেন, “আয়। আর দেরি করিস না।”


তিন দিন পর তিনি ঘুমিয়ে পড়লেন। চিরকালের জন্য। কোনো অভিযোগ রাখলেন না।


আলমারির তাকে পাওয়া গেল একটা জীর্ণ খাতা। শেষ পাতায় কাঁপা হাতের লেখা—  

“রাকিব,  

তোর ওপর আমার রাগ নেই। তুই তোর যুদ্ধে ব্যস্ত। আমি বুঝি।  

শুধু মাঝে মাঝে ইচ্ছে করত, তোর কাঁধে মাথা রেখে একটু ঘুমাই।”


রাকিব এল দুই দিন পর। ততক্ষণে সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ। সে গেটের সামনে দাঁড়িয়ে রইল অনেকক্ষণ। চেয়ারটা তখনও সেখানে। খালি। বিকেলের শেষ আলো এসে পড়েছে তার ওপর। এক কোণে জমেছে ধুলোর আস্তরণ। রাস্তা দিয়ে একটা খালি রিকশা চলে গেল টুংটাং করে—যার কোনো যাত্রী নেই, কোনো গন্তব্য নেই। শুধু অপেক্ষা আছে। অনন্ত অপেক্ষা।

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 8 মাস 3 সপ্তাহ ধরে, এবং এ পর্যন্ত 996 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 20116। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 4077
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


 সমুদ্র, গমক্ষেত ও একটি অপেক্ষা মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন সাহিত্যিক ছোটগল্প। ১৭ মে, ২০২&#[...] বিস্তারিত পড়ুন...
325 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
শুধুই অপেক্ষা মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোট গল্প। এপ্রিল ২২, ২০২৬ ঢাকার গরমটা তখন অসহ্[...] বিস্তারিত পড়ুন...
375 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

বাবার পেশা মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোটগল্প। ১৬ জুন ১০২৬ ইন্টারভিউ বোর্ডে প্রশ্নটা খুব স্বাভাবিকভাবেই আসে। এমনভাবে, যেন এটা শুধু একটা তথ্য যাচাই। “আপনার বাবার পেশা কী?” ঘরের ভেতর তিনজন মানু�[...] বিস্তারিত পড়ুন...
2 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
অতীতের ওপারে অধ্যায় দুই  মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোট গল্প  । ১৬, জুন ২০২৬ —তুমি কী বল[...] বিস্তারিত পড়ুন...
2 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
অতীতের ওপারে অধ্যায় এক মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোট গল্প  । ১৬, জুন ২০২৬ সন্ধ্যাটা ছি[...] বিস্তারিত পড়ুন...
2 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    814 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    40 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. জামিনুল রেজা

    428 পয়েন্ট

    1 প্রতিক্রিয়া

    1 মন্তব্য

    21 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. রফিক আতা

    224 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    11 টি আইডিয়া ব্লগ

  4. ক্বলমী সুর

    134 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    6 টি আইডিয়া ব্লগ

...