অনেক মানুষকে আমরা ভুলে যেতে চাই… কিন্তু ভাগ্য কখনও কখনও নিষ্ঠুরভাবে সেই মানুষটিকেই সামনে এনে দাঁড় করায় — ঠিক তখনই, যখন আমরা সবচেয়ে বেশি শক্ত থাকার অভিনয় করছি।
যে মানুষটাকে ভুলে যেতে চেয়েছিলাম, সেদিনই তাকে আবার পেয়ে গেলাম
মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন
ছোটগল্প ⋄ ২৮ নভেম্বর ২০২৫
আমার জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল?
কাউকে ছাড়তে শেখা হয়েছিল, কিন্তু তাকে ছাড়া বাঁচতে শেখা হয়নি।
সে যখন চলে গিয়েছিল, তখন শিখেছিলাম —
অন্যায় ভুলেও ক্ষমা করা যায়, কিন্তু ভুলে থাকা যায় না।
সময়ের প্রবাহে সব ঠিক হয়ে যায় — এটা মিথ্যা।
ব্যথা শুধু নীরব হয়ে যায়… ছায়ার মতো লেগে থাকে।
দুই বছর কেটে গেছে। আমি নিজেকে বদলেছি — কাজ, বন্ধু, ব্যস্ততা, নতুন মানুষের ভিড়। শুধু একটি জায়গা ফাঁকা রয়ে গেছে — যেটাকে কেউ ভরাতে পারেনি।
কারণ ভালোবাসা কখনও জায়গা খালি রেখে যায় না — স্মৃতি দিয়ে ভরিয়ে রাখে।
সেদিন একটা অফিস কনফারেন্সে গিয়েছিলাম। মনে ছিল না যে শহরের ওই অংশে তাকে দেখার সম্ভাবনা আছে। আমি শুধু নিজের কাজ শেষ করে দ্রুত বের হওয়ার চেষ্টা করছিলাম।
হঠাৎই কনফারেন্স হলের দরজা খুলল —
আর ভিড়ের মাঝ থেকে বেরিয়ে এল সে।
এক মুহূর্তেই সময় থেমে গেল।
তার চোখ সরাসরি আমার চোখে এসে লাগল।
দুজনেই স্তব্ধ হয়ে গেলাম — যেন দুই বছর আগের বিকেলটা আবার ফিরে এলো।
সে বদলেছে — কিন্তু একই সাথে একদম একই। চোখে সেই একই গভীরতা, একই অভিমান, একই আকর্ষণ।
আমি এমনভাবে তাকিয়ে ছিলাম যেন পৃথিবীর বাকি শব্দগুলো হারিয়ে গেছে।
আর সে… ধীরে ধীরে এগিয়ে এল।
“কেমন আছ?”
মাত্র দুটো শব্দ।
কিন্তু বুকের ভেতর যেন ঝড় নেমে গেল।
হঠাৎ করে সব ভেঙে পড়া মুহূর্ত, সব অনুতাপ, সব না বলা কথা — স্মৃতি হয়ে সামনে দাঁড়িয়ে গেল।
আমি শান্ত থাকার চেষ্টা করে বললাম —
“ভালো।”
সে হালকা হাসল — সেই পুরনো সেই চেনা হাসি।
“তোমাকে দেখে মনে হচ্ছে ভালোই আছ।”
আমি জানি, সে বুঝে গেছে — অভিনয় করছি।
আমরা দুজনেই বাইরে এসে দাঁড়ালাম। শহরের ভিড়, গাড়ির হর্ন— তবু চারপাশ ফাঁকা মনে হচ্ছিল।
আমি আর ধরে রাখতে পারলাম না।
জিজ্ঞেস করলাম —
“কেন এসেছ?”
সে ধীরে উত্তর দিল —
“কারণ এবার পালিয়ে যেতে চাইনি… সত্যিটা বলতে চাই।”
আমি নিঃশ্বাস আটকে শুনছিলাম।
সে বলল —
“তোমাকে ছেড়ে যাওয়া ভুল ছিল। কিন্তু তখন ভয় পেয়েছিলাম। তুমি আমাকে যতটা ভালোবাসতে, আমি ভাবতাম আমি হয়তো ততটা ভালোবাসতে পারব না। আর কম ভালোবাসা দিয়ে তোমাকে আঘাত করার চেয়ে চলে যাওয়া সহজ মনে হয়েছিল।”
এমন ব্যথা হয়তো আগেও শুনেছি, কিন্তু এবার শব্দগুলো ছুরি হয়ে নয় — ক্ষমাপ্রার্থনা হয়ে এলো।
আমার ভিতরের শক্ত মানুষটা ভেঙে পড়ছিল, কিন্তু আমি শান্তভাবে বললাম —
“তাহলে এখন কেন? কেন আবার সামনে এলে?”
সে চুপ করে দাঁড়িয়ে রইল, তারপর বলল —
“কারণ অনেকদিন পর বুঝেছি — ভালোবাসা সমান হওয়া জরুরি নয়। ভালোবাসা সত্যি হওয়াই যথেষ্ট।”
আমার হৃদয় উত্তাল হয়ে উঠছিল।
কিন্তু ভয় রয়ে গেছে — আগের মতো ভেঙে যাওয়ার ভয়।
আমি বললাম —
“তুমি আবার গেলে? আবার ভুল করলে? আবার ভয় পেলেও?”
সে চোখ ভিজিয়ে বলল —
“তাহলে আমাকেই বাঁচার পথ খুঁজতে হবে — কিন্তু এবার পালিয়ে যাব না। যদি থাকতে দাও, থাকব। যদি না দিতে চাও, সেটাও মেনে নেব। কিন্তু এবার দূরে দাঁড়িয়ে তোমাকে মিস করতে করতে বাঁচতে চাই না।”
তার চোখের দৃষ্টি সত্য ছিল।
কিন্তু আমার ভেতরে আগের ক্ষতগুলো এখনও শুকায়নি।
আমি তাকে আলতো করে বললাম —
“সময়ের প্রয়োজন আছে। শুধু অনুভূতি থাকলেই হয় না — নিরাপত্তা, বিশ্বাস, স্থায়িত্বও লাগে।”
সে মাথা নেড়ে বলল —
“তাই তো সময় নিয়ে আসার জন্যই ফিরেছি… জোর করার জন্য নয়।”
তারপর সে ধীরে হাঁটতে হাঁটতে দূরে চলে গেল —
কিন্তু এবার বিদায়ের অনুভূতি ভিন্ন ছিল।
এবার তার চলে যাওয়া মানে শেষ না —
বরং শুরু হওয়ার অপেক্ষা।
এখনও আমার ফোনে তার নম্বর সেভ করা নেই।
সে কল করার চেষ্টা করেনি।
আমিও করিনি।
কারণ দুজনেই জানি —
কিছু সম্পর্কে তাড়াহুড়া নয়, ধৈর্যই সবচেয়ে বড় প্রমাণ।
ভালোবাসা এবার নরমভাবে ফিরে এসেছে —
আগের মতো ঝড় হয়ে নয়,
বরং ধীরে… দৃঢ়ভাবে… নিশ্চিতভাবে।
তুমি কি কখনও কাউকে ভুলে যেতে চেয়েও ভিতরে ভিতরে অপেক্ষা করেছ তার ফিরে আসার জন্য?
যদি করো — কমেন্টে শুধু লিখো “হ্যাঁ”
দেখবে — তোমার মতো মানুষের সংখ্যা কম নয়।
#ভালোবাসা_ফিরে_আসে
#অসমাপ্ত_গল্প
#BanglaRomanticStory
#হৃদয়েরঅনুভূতি
#RelationshipTruth
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।