Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

নীরব তৃতীয় মানুষ

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
189 বার প্রদর্শিত
করেছেন (23,733 পয়েন্ট)   11 জুন "গল্প" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

 নীরব তৃতীয় মানুষ image  

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন  

ছোটগল্প। ১২ জুন, ২০২৬



সেদিন রাতের ভাতটা নীলিমা একটু বেশি নেড়েছিলেন। ডাল ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছিল। সামনে বসা শোভন ফোন স্ক্রল করছিল।


“তোমার অফিসের নতুন প্রজেক্টটা কী হলো?” নীলিমা জিজ্ঞেস করলেন।


শোভন চোখ তুলল না। “হুম। চলছে।”


এক শব্দ। আগে এই প্রশ্নে দশ মিনিট গল্প হতো। নীলিমা আর কিছু বললেন না। ভাতের দলাটা গলায় আটকে আছে মনে হলো।


টিভিতে খবর চলছে। পাশের ফ্ল্যাট থেকে হাঁড়ির শব্দ আসছে। সব আগের মতো। শুধু তাদের টেবিলটা কেমন ফাঁকা।


তিন মাস আগেও রাত এগারোটায় বারান্দায় দুজন চা খেত। এখন শোভন বারান্দায় যায় ঠিকই। কিন্তু একা।


নীলিমা ঘরের ভেতর থেকে দেখেন। শোভনের ঠোঁট নড়ে। হাসে। সেই হাসিটা নীলিমা চেনেন না। এটা অফিসের কলিগের সাথে হাসি না। বসের সাথেও না।


একদিন রাত দেড়টায় ঘুম ভেঙে নীলিমা দেখলেন, পাশের বালিশ খালি। বারান্দায় আলো। শোভন ফোনে টাইপ করছে। সেন্ড বাটন চাপার আগে ঠোঁটের কোণে যে ভাবটা খেলে গেল, নীলিমা তার নাম জানে না। না খুশি, না দোষী। মাঝামাঝি কিছু।


শোভন ফিরে এসে শুয়ে পড়ল। নীলিমা চোখ বন্ধ করে রাখলেন। জিজ্ঞেস করলেন না, ‘কার সাথে কথা বলছিলে?’ জিজ্ঞেস করলে যদি উত্তরটা সহ্য না হয়?


তাদের ছেলে তূর্য ক্লাস সিক্সে পড়ে। একদিন স্কুল থেকে ফিরে বলল, “মা, বাবা কি আমার উপর রাগ?”


নীলিমা চমকে উঠলেন। “কেন বাবা?”


“আগে বাসায় এসে আমার অঙ্ক দেখত। এখন রুমে ঢুকে দরজা লাগায় দেয়।”


নীলিমা তূর্যর মাথায় হাত রাখলেন। কী উত্তর দেবেন? সত্যিটা তিনি নিজেই জানেন না।


সেই রাতে তূর্য পড়ার টেবিলে বসে জানালা দিয়ে তাকিয়ে ছিল। বই খোলা, কিন্তু চোখ বইয়ে নেই। নীলিমা দরজায় দাঁড়িয়ে দেখলেন। ছেলেটা কবে এত চুপ হয়ে গেল?


শুক্রবার। শোভনের ছুটি। আগে এই দিনে তিনজন ধানমন্ডি লেকে যেত। আজ শোভন বলল, “একটু কাজ আছে। বের হব।”


কোথায় যাচ্ছে জিজ্ঞেস করলেন না নীলিমা। জিজ্ঞেস করাটা কেমন ছোটলোকি লাগে আজকাল।


শোভন বেরিয়ে যাওয়ার পর তূর্য এসে বলল, “মা, আজ আমরা যাব না?”


নীলিমা হাসলেন। “আজ থাক বাবা। সামনের শুক্রবার যাব।”


সামনের শুক্রবার আর আসেনি।


বিষয়টা প্রথম টের পেলেন নীলিমা শোভনের জন্মদিনে।


পায়েস রেঁধেছেন। তূর্য কার্ড বানিয়েছে। রাত আটটায় শোভন মেসেজ দিল: “ফিরতে দেরি হবে। তোমরা খেয়ে নিও।”


তূর্য কার্ডটা হাতে নিয়ে বসে রইল। নীলিমা পায়েস ফ্রিজে ঢোকালেন।


রাত এগারোটায় শোভন ফিরল। হাতে বেলুন নেই, কেক নেই। চোখে একটা ক্লান্তি, যেটা অফিসের না।


তূর্য ঘুমিয়ে গেছে। কার্ডটা টেবিলে পড়ে আছে। শোভন সেটা দেখল। তুলে নিল না।


নীলিমা তাকিয়ে ছিলেন। শোভন চোখ নামিয়ে নিল। সেই মুহূর্তে নীলিমা বুঝলেন, ঘরে তারা দুজন না।


তৃতীয় একজন আছে।


তার নাম নেই। চেহারা নেই। সে শোভনের ফোনে থাকে। বারান্দার অন্ধকারে থাকে। শোভনের ওই না-খুশি, না-দোষী হাসিতে থাকে।


এরপর কথা কাটাকাটি শুরু হলো।


তুচ্ছ বিষয়ে।


“তরকারিতে লবণ বেশি কেন?”  

“তুমি আজকাল সবকিছুতেই দোষ ধরো।”  

“আমি ধরাই, না তুমি বদলে গেছ?”


তূর্য পাশের ঘর থেকে শোনে। দরজা চেপে ধরে। একদিন নীলিমা দেখলেন, ছেলেটা কানে হেডফোন গুঁজে রেখেছে। গান চলছে না। শুধু চিৎকারটা আটকানোর চেষ্টা।


নীলিমা সেদিন বুঝলেন, ভাঙনটা শুধু তাদের দুজনের না। তূর্যরও।


এক রাতে পানি খেতে উঠে নীলিমা দেখলেন ড্রয়িংরুমে আলো। শোভন সোফায় বসা। মাথা নিচু। সামনে ফোনটা উপুড় করে রাখা।


নীলিমা দাঁড়ালেন।


শোভন মুখ তুলল না। শুধু বলল, “আমি শেষ করতে পারছি না নীলি।”


‘কী’ জিজ্ঞেস করলেন না নীলিমা। ‘কাকে’ জিজ্ঞেস করলেন না।


শুধু বললেন, “তূর্যর রেজাল্ট খারাপ হয়েছে। ও ক্লাসে কারো সাথে কথা বলে না।”


শোভন এবার তাকাল। চোখ লাল।


দুজন চুপ।


পাশের ঘর থেকে তূর্যর চাপা কান্নার শব্দ ভেসে এলো। সে ভেবেছে বাবা-মা শুনবে না।


কিন্তু ঘরটা এত চুপ যে সব শোনা যায়।


নীলিমা সেদিন টের পেলেন, ভাঙার শব্দটা জোরে হয় না।


এটা হয় তূর্যর চাপা কান্নার মতো। চুপচাপ। কিন্তু একবার কানে ঢুকলে আর বের হয় না।


শোভন বাড়ি ছেড়ে যায়নি। নীলিমাও না।


তারা এখনও এক টেবিলে খায়। তূর্য স্কুলে যায়।


শুধু রাত এগারোটার বারান্দাটা এখন অন্ধকার থাকে। শোভনের ফোনটা রাতে সাইলেন্ট থাকে না, কিন্তু সে আর বারান্দায় যায় না।


তৃতীয় মানুষটা চলে গেছে কি না, নীলিমা জানেন না। জিজ্ঞেস করেন না।


তূর্য আবার অঙ্ক করতে বসে। কিন্তু অঙ্ক মেলার সময় জানালা দিয়ে বাইরে তাকায়। কী খোঁজে, কেউ জানে না।


একদিন নীলিমা তূর্যর খাতায় একটা লাইন লেখা দেখলেন। অঙ্কের নিচে। কাটাকাটি করে লেখা।


“বাবা, তুমি কি এখন ঘরে থাকো?”


নীলিমা খাতাটা বন্ধ করে দিলেন।


ঘরটা আগের মতোই আছে। একই টেবিল, একই রুটিন।


শুধু সবাই জানে, এই ঘরে তারা তিনজন না।


একজন নীরব তৃতীয় মানুষ ছিল।


সে চলে গেলেও তার ছায়াটা রয়ে গেছে। তূর্যর খাতায়, নীলিমার ঠান্ডা চায়ে, শোভনের না-দেখা চোখে।


আর সেই ছায়ার নাম কেউ দেয় না। কারণ নাম দিলেই সেটা সত্যি হয়ে যায়।


আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 10 মাস ধরে, এবং এ পর্যন্ত 1175 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 23733। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 4056
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
ক্লান্ত নূপুরের ধ্বনি তৃতীয় পর্ব: না-বলা কথা মোহম্মদ জাহিদ হোসেন  ২৩ জুলাই, ২০২৬ [...] বিস্তারিত পড়ুন...
5 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
সিরিজ-শব্দহীন পৃথিবীর গল্প গল্প-১ আমাদের নীরব ঘর মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন  ২১ জুলাই, ২[...] বিস্তারিত পড়ুন...
16 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
নীরব মানুষটার শেষ সীমা   পর্ব–১০ : দোষটা কোথায় ছিল?   একটি ধারাবাহিক গল্প   লেখক: ম&[...] বিস্তারিত পড়ুন...
17 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
নীরব মানুষটার শেষ সীমা   পর্ব–৯ : নিয়ন্ত্রণে সুখ নেই   একটি ধারাবাহিক গল্প   লেখ[...] বিস্তারিত পড়ুন...
21 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
নীরব মানুষটার শেষ সীমা   পর্ব–৮ : শেষ চিঠি   একটি ধারাবাহিক গল্প   লেখক: মোহাম্মদ জ&#[...] বিস্তারিত পড়ুন...
21 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. প্রিন্স ফ্রেরাসে

    3532 পয়েন্ট

    4 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    176 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    2264 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    112 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. ফাহিম আহমাদ

    243 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    12 টি আইডিয়া ব্লগ

  4. শামীমা আকতার

    43 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    1 আইডিয়া ব্লগ

...