Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

অদেখা যুদ্ধ

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
24 বার প্রদর্শিত
করেছেন (24,421 পয়েন্ট)   23 জুন "গল্প" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

অদেখা যুদ্ধimage

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

ছোট গল্প।  ২৩ জুন,২০২৬


পুরো ক্লাস তাকে নিয়ে হাসছিল। কেউ জানত না, বাসায় সে কী যুদ্ধ লড়ছে।


"দেখেছিস? আবার ওই একই ব্যাগ!"


সামনের বেঞ্চ থেকে কথাটা ভেসে এল। কয়েকজন হেসে উঠল।


তিথি মাথা নিচু করে খাতা খুলল। নতুন কিছু না। ব্যাগ, ইউনিফর্ম, চুপচাপ স্বভাব, কিছু না কিছু নিয়ে মন্তব্য লেগেই থাকে।


সে উত্তর দিল না। যারা হাসতে চায়, তারা উত্তর শোনার জন্য প্রশ্ন করে না, সম্ভবত।


স্কুল ছুটির পর তিথি ধীরে ধীরে বাড়ি ফিরল।


ঘরে ঢুকেই ব্যাগটা নামিয়ে রাখল। ডান পাশের ফিতেটা আবার খুলে গেছে।


মা তখনও কাজ থেকে ফেরেননি।


তিথি ড্রয়ার থেকে সুই-সুতা বের করল। প্রথমবার না। কয়েক মাস ধরেই একই ফিতা বারবার ছিঁড়ছে। নতুন ব্যাগের কথা সে মুখে আনে না। বাসার অবস্থা সে জানে।


চুপচাপ সেলাই করতে বসল।


চোখ গেল পাশের ঘরে। বাবা ঘুমিয়ে আছেন। টেবিলে ওষুধের কয়েকটা খালি পাতা, একটা ভাঁজ করা প্রেসক্রিপশন।


রাতে মা ফিরলে দুজনে হিসাব মেলাতে বসল। কোন ওষুধটা এই সপ্তাহেই লাগবে, কোনটা আরও কয়েক দিন চালানো যায়। মা খাতা বন্ধ করে একটা লম্বা নিঃশ্বাস ফেললেন।


তিথি কিছু বলল না। শুধু গ্লাসে পানি ঢেলে বাবার পাশে রেখে দিল।


পরদিন বাংলা ক্লাসে দলগত কাজ। সবাই নিজেদের মতো দল বানিয়ে নিল। তিথি জানালার পাশে চুপচাপ দাঁড়িয়ে ছিল।


তখন পাশের বেঞ্চের মেহরাব বলল, "তুমি চাইলে আমাদের সঙ্গে বসতে পারো।"


খুব সাধারণ কথা। তবু তিথি একটু অবাক হলো। কথাটায় করুণা ছিল না। ছিল শুধু স্বাভাবিক ভদ্রতা।


কাজ শুরু হলো। অন্যরা আলোচনা করছিল। তিথি লিখছিল। কথা কম বললেও লেখালেখিটা তার ভালো লাগে।


ক্লাস শেষে সে নিজের লেখা অংশটা আলাদা করে গুছিয়ে ম্যাডামের টেবিলে জমা দিল। তারপর নিজের বেঞ্চে ফিরে গেল।


পরদিন ম্যাডাম ক্লাসে ঢুকেই বললেন, "গতকালের কাজগুলো দেখেছি। একটা লেখা বিশেষভাবে চোখে পড়েছে।"


ক্লাসে হালকা গুঞ্জন। ম্যাডাম খাতাটা তুলে ধরলেন।


"এটা তিথির লেখা।"


তিথি চমকে উঠল। ম্যাডাম কয়েক লাইন পড়ে শোনালেন।


রুমটা অদ্ভুতভাবে চুপ হয়ে গেল। যে মেয়েটা সাধারণত আলোচনার কেন্দ্রে থাকে না, সবাই এখন তার দিকে তাকিয়ে আছে। তবে দৃষ্টিটা আগের মতো নয়। কেউ হাসছে না।


ম্যাডাম বললেন, "ভালো লেখার সবচেয়ে বড় গুণ, সেটা মন ছুঁয়ে যায়। তিথি সেটা পেরেছে।"


তিথি কিছু বলল না। খাতার কোণায় আঙুল রাখল। বুকের ভেতর কেমন একটা অনুভূতি হলো। অনেক দিন পর নিজের সম্পর্কে ভালো কিছু শুনল।


টিফিনে মেহরাব এসে বলল, "তুমি এত সুন্দর লিখতে পারো, আগে জানতাম না।"


তিথি হালকা হাসল। "আমি কাউকে বলিনি।"


"সব কথা বলতেও হয় না," মেহরাব বলল।


সেদিন বাসায় ফিরে তিথি আবার বাবার ওষুধের হিসাব মেলাতে বসল। ব্যাগের সেলাই করা ফিতেটাও আগের মতোই আছে। ঘরের সমস্যাগুলো কোথাও যায়নি।


তবু মনে হচ্ছিল, পৃথিবীটা শুধু হাসাহাসির জায়গা না। এখানে কিছু মানুষ আছে, যারা দেখতেও জানে।


পরদিন সকালে স্কুল গেটের সামনে এসে তিথি একবার থামল। কাঁধে সেই পুরোনো ব্যাগ। ফিতার সেলাই এখনও স্পষ্ট।


কয়েকজন পাশ দিয়ে হেঁটে গেল। কেউ তাকাল। কেউ হয়তো চিনলও।


তিথি গেট পেরিয়ে ভেতরে ঢুকল।


আজও তার জীবন বদলে যায়নি। একটা জিনিস বদলেছে।


আজ সে মাথা নিচু করে হাঁটল না।

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 10 মাস 1 সপ্তাহ ধরে, এবং এ পর্যন্ত 1209 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 24421। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 4116
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
বাবার অদৃশ্য যুদ্ধ মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বিশ্লেষণধর্মী। জানুয়ারি ০৭, ২০২৬ বাবা—[...] বিস্তারিত পড়ুন...
459 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
অভিকের অদেখা জগৎ   গল্প ১০: আমি কি সত্যিই অসুস্থ?   মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন   ৫ জুলাই, ২[...] বিস্তারিত পড়ুন...
19 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
অভিকের অদেখা জগৎ   গল্প ৯: ৩০৫ নম্বর কক্ষ   মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন   ৫ জুলাই, ২০২৬ মা&[...] বিস্তারিত পড়ুন...
23 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
অভিকের অদেখা জগৎ   গল্প ৮: যেদিন বুঝলাম, নিশি নেই   মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন   ৫ জুলাই, ২[...] বিস্তারিত পড়ুন...
23 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
অভিকের অদেখা জগৎ   গল্প ৭: পাশের ফ্ল্যাটের মানুষটা    মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন   ৫ জুল[...] বিস্তারিত পড়ুন...
20 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    587 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    29 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. শামীমা আকতার

    42 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    2 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. রফিক আতা

    23 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    1 আইডিয়া ব্লগ

...