Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

শেষ মজুরির দিন

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
505 বার প্রদর্শিত
করেছেন (20,015 পয়েন্ট)   01 মে "গল্প" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!
শেষ মজুরির দিন

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন 

ছোট গল্প। মে ০১,২০২৬

মে মাসের প্রথম সকাল। শহরজুড়ে লাল পতাকা, মাইকে স্লোগান—“শ্রমিকের অধিকার চাই”—সবই যেন ঠিকঠাক আছে। তবুও কোথাও একটা অস্বস্তি রয়ে যায়; বাইরে থেকে দিনটা আলাদা লাগে, ভেতর থেকে ততটা নয়—বিশেষ করে তাদের জন্য, যাদের প্রতিদিনের শুরুই হয় হিসাব কষে।

অভিক আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের চোখের দিকে তাকায়, তারপর দৃষ্টি সরিয়ে নেয়। শার্টটা টেনে ঠিক করে—এটা কাপড় ঠিক করা না, নিজেকে গুছিয়ে নেওয়ার চেষ্টা। 

পেছন থেকে নিশির গলা ভেসে আসে, ক্লান্ত কিন্তু চেপে রাখা—“আজ তো মে দিবস, আজও যাবে?”

অভিক একটু থামে, যেন উত্তরটা বেছে নিচ্ছে। তারপর হালকা হাসে—“মে দিবস বলেই তো যেতে হয়।”

নিশি আর কিছু বলে না। টিফিনটা বাড়িয়ে দেয়—ভাত, ডাল, অল্প ভাজি। এই সামান্য জিনিসটাই এখন তাদের টিকে থাকার যুক্তি।

ভেতর থেকে নীলা আর নীলম বের হয়ে আসে। দু’জনেই ভার্সিটিতে পড়ে, তাই তারা জানে—অথবা অন্তত মনে করে জানে। আজকের দিনটা তাদের কাছে ছুটি না, বরং একটা প্রশ্নের জায়গা।

নীলা বলে, “আজ তাড়াতাড়ি আসবা?”

অভিক উত্তর দেয়, “চেষ্টা করব।”

কথাটা বলেই সে জানে, এই ‘চেষ্টা’ অনেক সময় কোনো প্রতিশ্রুতি না—শুধু এড়িয়ে যাওয়া।

নীলম চুপ করে ছিল। তারপর বলে, “মে দিবস আসলে কী?”

অভিক একটু ভেবে নেয়—“যারা কাজ করে, তাদের জন্য একটা দিন… সম্মানের।”

নীলম তাকিয়ে থাকে। “তাহলে আজও তোমাকে যেতে হচ্ছে কেন?”

প্রশ্নটা সরাসরি এড়িয়ে যাওয়া কঠিন।

অভিক ধীরে বলে, “সম্মান থাকলেই পেট ভরে না।”

নিশি মুখ নামিয়ে নেয়। কথাটা নতুন না, তবুও প্রতিবার শোনার সময় ভেতরে কোথাও লাগে।

কারখানার সামনে আজ ভিড় বেশি। লাল ব্যানার, স্লোগান, উত্তেজনার ভেতরে এক ধরনের তাড়াহুড়া। রাশেদ এসে দাঁড়ায়, চোখে আগের মতোই আগুন—“চল, আজ মিছিলে যাই। আজ তো আমাদের দিন।”

অভিক তাকায়, কয়েক সেকেন্ড চুপ থেকে জিজ্ঞেস করে, “মিছিলে গেলে আজকের মজুরি পাবো?”

একটা ছোট প্রশ্ন। কিন্তু অস্বস্তিকরভাবে সঠিক জায়গায় আঘাত করে।

রাশেদ থেমে যায়। কিছু বলতে চায়, পারে না। তারপর ভিড়ের দিকে হাঁটে।

অভিক ঢুকে পড়ে ভেতরে—মেশিনের শব্দে, নিয়মিত ক্লান্তির ভেতরে।

দিনটা ধীরে ধীরে শরীরকে ভেঙে দেয়। মেশিনের তাপ, ধাতব শব্দ, ঘামের গন্ধ—সব মিলিয়ে মানুষটা যেন কাজের অংশ হয়ে যায়। বাইরে থেকে স্লোগান ভেসে আসে, কিন্তু ভেতরে তার কোনো প্রতিধ্বনি তৈরি হয় না।

একসময় অভিক থামে। খুব অল্প সময়ের জন্য। তার মনে পড়ে—সে-ও একসময় এই স্লোগান দেয়। তখন মনে হতো, লড়াই মানেই পরিবর্তন। এখন সে জানে, অনেক সময় লড়াই মানে শুধু টিকে থাকা।

হঠাৎ একটা চিৎকার সবকিছু থামিয়ে দেয়। পাশের মেশিনে কাজ করা লোকটার হাত কেটে যায়। রক্ত ছড়িয়ে পড়ে, চারপাশে হুড়োহুড়ি। কেউ পানি আনে, কেউ কাপড় চেপে ধরে।

অভিক এগিয়ে যায়, কিন্তু গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। কারণ সে জানে—এই দৃশ্য নতুন না, বরং খুব পরিচিত।

কেউ বলে, “হাসপাতালে নিতে হবে!”

আরেকজন নিচু গলায় বলে, “মালিক কিছু দেবে কি না… বলা যায় না।”

মুশকিল।

শব্দটা মাথায় আটকে থাকে।

অভিক তাকিয়ে থাকে। কয়েক ঘণ্টা আগেও মানুষটা স্বাভাবিক ছিল। এখন তার চোখে শুধু ভয়।

আজ মে দিবস—এই হিসাবটা মিলছে না। আবার, অদ্ভুতভাবে, খুব ভালোই মিলে যাচ্ছে।

রাতে বাড়ি ফিরতে দেরি হয়। নিশি দরজায় দাঁড়িয়ে, চোখে অস্বস্তি। অভিক ঘটনাটা বলে—খুব বেশি না, আবার কমও না।

নীলা চুপ করে শোনে। তারপর বলে, “বইয়ে তো অন্যরকম লেখা, বাবা।”

নীলম ধীরে বলে, “তাহলে এগুলো আসলে কী?”

অভিক বসে পড়ে। “পুরো গল্পটা হয়তো এখনো শেষ হয় নাই।”

নীলম থামে না—“তাহলে এগোয় না কেন?”

নিশি বলে, “হয়তো আমরা চুপ থাকি।”

অভিক মাথা তোলে।

“সবাই চুপ থাকে না ইচ্ছা করে। অনেক সময় উপায় থাকে না। যে আজ যায় নাই, সে হয়তো ভুল করে নাই—সে শুধু বাসায় ফিরতে চায়।”

ঘরটা নিঃশব্দ হয়ে যায়। এই নীরবতার ভেতরেই কথাগুলো সবচেয়ে বেশি শোনা যায়।

রাত গভীর হয়। শহর চুপ। অভিকের মাথা ঠান্ডা না। জানালার পাশে বসে সে দিনের সবকিছু একসাথে ভাবার চেষ্টা করে—মিছিল, রক্ত, মেয়েদের প্রশ্ন—সব মিলিয়ে একটা চাপ তৈরি হয়।

নীলা এসে পাশে দাঁড়ায়। “আমরা শুধু পড়লেই হবে না মনে হয়।”

নীলম বলে, “বোঝা লাগে… মনে হয়।”

অভিক তাকিয়ে থাকে। কিছু বলে না। তবুও বোঝা যায়—তার ভেতরে কিছু একটা নড়েছে।

পরের দিন সকাল সব আগের মতোই।

তবুও পুরোপুরি না।

দরজার কাছে এসে অভিক বলে, “আজ একটু দেরি হইতে পারে।”

নিশি শুধু তাকায়। জিজ্ঞেস করে না।

নীলা আর নীলম দরজার কাছে দাঁড়িয়ে থাকে—চুপচাপ, কিন্তু আগের মতো না।

অভিক বের হয়ে যায়।

কাজে যাচ্ছে—এইটা ঠিক।

কিন্তু শুধু কাজেই?
আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 8 মাস 3 সপ্তাহ ধরে, এবং এ পর্যন্ত 991 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 20015। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 3821
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
লালচে নীরবতার দিন মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোট গল্প । ১৮ মে, ২০২৬ সকালের টেবিলে বসে মুন[...] বিস্তারিত পড়ুন...
345 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
রজনীগন্ধার দিন মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন  ছোট গল্প। এপ্রিল ১৯,২০২৬ জানালার ধারে দাঁড়[...] বিস্তারিত পড়ুন...
410 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
 শেষ সাক্ষী মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন গল্প । ১৪, জুন ২০২৬ লোকটা মারা গেল ভোরের ঠিক আগে। [...] বিস্তারিত পড়ুন...
3 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

 গোধূলির আগে শেষ হিসাব   মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন   ছোট গল্প। মে ০৬, ২০২৬   দিন অভিক হ[...] বিস্তারিত পড়ুন...
350 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

  আষাঢ়ের শেষ ঠিকানা মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোট গল্প। মে ০২, ২০২৬ আষাঢ় এলে আকাশটা এমন&#[...] বিস্তারিত পড়ুন...
510 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    713 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    35 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. জামিনুল রেজা

    428 পয়েন্ট

    1 প্রতিক্রিয়া

    1 মন্তব্য

    21 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. রফিক আতা

    224 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    11 টি আইডিয়া ব্লগ

  4. ক্বলমী সুর

    134 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    6 টি আইডিয়া ব্লগ

...