Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

এক পা

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
24 বার প্রদর্শিত
করেছেন (27,228 পয়েন্ট)   07 সেপ্টেম্বর "গল্প" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

এক পাimage

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

ছোট গল্প  | ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬



নিশির বিয়ের খবরটা অভিক প্রথম শুনেছিল এক কাপ চায়ের দোকানে।


রাকিব কীভাবে কথাটা তুলেছিল, এখন আর তার মনে নেই। শুধু মনে আছে, দোকানের বেঞ্চে বসে থাকা অবস্থায় চায়ের ওপর সর জমেছিল। সে চামচ দিয়ে সরটা সরিয়ে কাপের ভেতর তাকিয়ে ছিল, যেন সেখানে অন্য কোনো খবর লেখা আছে। রাকিব বলেছিল, “আগামী শুক্রবার।”


অভিক মাথা তুলেছিল। “কার সঙ্গে?”


রাকিব একটু থেমে বলেছিল, “তুই চিনবি না।”


তারপর আর কিছু জিজ্ঞেস করেনি অভিক। চায়ের দাম মিটিয়ে উঠে দাঁড়ানোর সময় পকেটে একশো বিশ টাকা ছিল। মাস শেষ হতে ছয় দিন বাকি। মায়ের ওষুধ কিনতে হবে। রাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়ে সে কিছুক্ষণ ভেবেছিল, বাসে যাবে, নাকি হেঁটে। শেষ পর্যন্ত হেঁটেই ফিরেছিল।


নিশির সঙ্গে তার সম্পর্কটা কোনোদিন খুব নাটকীয় ছিল না। অফিস ছুটির পর দুজনে একসঙ্গে হাঁটত। কখনো ফুচকা খেত, কখনো রাস্তার পাশের দোকানে বসে চা। নিশি চায়ে কম চিনি খেত। অভিক সেটা জানত। নিশিও জানত, অভিক চা শেষ করার আগে কাপের তলায় জমে থাকা চিনি আঙুলের ডগা দিয়ে নেড়ে নেয়।


সমস্যা শুরু হয়েছিল নিশির বাবা অভিককে ডাকার পর। বড় কোনো অপমান করেননি তিনি। বরং খুব ভদ্রভাবে জানতে চেয়েছিলেন, অভিক কী করে, কত আয়, কোথায় থাকে, ভবিষ্যতে কী করার পরিকল্পনা আছে।


অভিক কিছু উত্তর দিয়েছিল সত্যি, কিছু উত্তর একটু বাড়িয়ে।


“নিজের একটা ব্যবসা করার ইচ্ছে আছে।”

“কতদিনের মধ্যে?”

“দুই-এক বছরের মধ্যে।”


নিশির বাবা মাথা নেড়েছিলেন। তারপর বলেছিলেন, “ইচ্ছা থাকা ভালো। কিন্তু সংসার ইচ্ছায় চলে না।”


কথাটা শুনে অভিকের ভালো লাগেনি। তবু সেদিন সে চুপ করেছিল।


বেরিয়ে আসার পর নিশি গেটের কাছে দাঁড়িয়ে বলেছিল, “তুমি চাইলে আমরা চলে যেতে পারি।”


অভিক তাকিয়েছিল তার দিকে। “কোথায়?”


“তোমার বাসায়।”

“ওই এক কামরার বাসায়?”


নিশি কথাটা বলেই থেমে গিয়েছিল। যেন নিজের মুখ থেকেই বের হওয়া কথায় সে নিজেই একটু অস্বস্তিতে পড়েছে।


অভিকের মুখ শক্ত হয়ে গিয়েছিল।


সেদিন রাতে বাসায় ফিরে সে জামাটা খুলে অনেকক্ষণ বিছানায় বসে ছিল। ঘরের সিলিং ফ্যানটা কাঁপতে কাঁপতে ঘুরছিল। পাশের ঘর থেকে মায়ের কাশির শব্দ আসছিল। টেবিলের ওপর ওষুধের খালি পাতা।


নিশি ফোন করেছিল দুবার। অভিক ধরেনি। তৃতীয়বার ফোন আসার পর সে ফোনটা উল্টো করে বালিশের পাশে রেখে দিয়েছিল।


পরদিন নিশি জিজ্ঞেস করেছিল, “রাগ করেছ?”


অভিক বলেছিল, “না।”


“তাহলে ফোন ধরোনি কেন?”


“ব্যস্ত ছিলাম।”


মিথ্যেটা দুজনেই বুঝেছিল। কেউ আর কিছু বলেনি।


বিয়ের তিন দিন আগে নিশি এক সন্ধ্যায় বলেছিল, “আমি যদি এখন বলি, আমাকে নিয়ে চলো?”


অভিক জানালার বাইরে তাকিয়ে ছিল। সে বলতে পারত—চলো।


কিন্তু তার মাথায় তখন ভাড়া, মায়ের ওষুধ, এক কামরার ঘর, মাসের শেষ, ধার করা টাকা—সব একসঙ্গে ঘুরছিল।


সে বলেছিল, “তুমি যেটা ভালো মনে করো, করো।”


নিশি আর প্রশ্ন করেনি।


দশ বছর পর এক বিকেলে ওষুধের দোকানের সামনে তাদের দেখা হয়েছিল।


প্রথমে নিশিই চিনেছিল।


“অভিক?”


অভিক ফিরে তাকিয়ে কিছুক্ষণ চুপ করে ছিল। নিশির চুলে পাক ধরেছে। চোখের কোণে সরু রেখা। হাতে একটা ওষুধের স্লিপ।


“মায়ের ওষুধ নিতে এসেছি,” নিশি বলেছিল।


অভিক মাথা নেড়েছিল। “আমিও।”


দুজনেই কিছুক্ষণ দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে ছিল। এত বছর পর তাদের বলার মতো কথা ছিল অনেক, অথচ মুখে আসছিল খুব কম।


নিশি হঠাৎ বলল, “সেদিন তুমি যদি বলতে—চলো, আমি চলে আসতাম।”


অভিক হেসেছিল। হাসিটা খুব ছোট।


“আর তুমি যদি সেদিন বলতেই—ওই এক কামরার ঘরেই থাকব, তাহলে হয়তো আমিও সাহস পেতাম।”


নিশি তাকিয়ে রইল।


“আমরা তাহলে দুজনেই ভুল বুঝেছিলাম?”


অভিক একটু ভেবে বলেছিল, “হয়তো শুধু ভুল বুঝিনি। দুজনেই এক পা করে পিছিয়েছিলাম।”


ওষুধের দোকানের সামনে তখন ভিড় বাড়ছিল। একজন লোক তাদের পাশ কাটিয়ে চলে গেল। দূরে একটা বাস হর্ন দিল।


নিশি স্লিপটা ব্যাগে রাখল।


“চা খাবে?”


অভিক বলল, “খাব।”


পাশের ছোট দোকানে গিয়ে দুজন বসেছিল। চা এলো দুটো কাপে। নিশি কাপটা হাতে নিয়ে এক চুমুক দিল।


অভিক চুপ করে তার দিকে তাকিয়ে ছিল।


তারপর নিজের কাপে এক চামচ চিনি দিল। আরেক চামচ দিতে গিয়ে হাতটা থেমে গেল।

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 11 মাস 2 সপ্তাহ ধরে, এবং এ পর্যন্ত 1348 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 27228। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 4817
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
শেষ এক বছর মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোট গল্প | ১ সেপ্টেম্বর  ২০২৬ সেদিন রাতে রাশেদের ঘু[...] বিস্তারিত পড়ুন...
25 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
যে চিঠি কখনো পোস্ট হয়নি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছয় পর্বের ছোটগল্প ২৪ আগষ্ট, ২০২৬ পø[...] বিস্তারিত পড়ুন...
38 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
সিরিজ -আমাদের না-বলা কথা। গল্প-০১ এক মুঠো ভাত মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন  ছোট গল্প। ৫ আগষ্[...] বিস্তারিত পড়ুন...
43 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
শ্রাবণদিনের হাহাকার প্রথম পর্ব: এক আষাঢ়ের সকালে মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন  ২২ জুলাই[...] বিস্তারিত পড়ুন...
33 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
সিরিজ-শব্দহীন পৃথিবীর গল্প গল্প-৩ এক ফোঁটা সহানুভূতি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন  ২২ জুল[...] বিস্তারিত পড়ুন...
42 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    1129 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    56 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. রফিক আতা

    269 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    13 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. আল-আমিন (আলো)

    117 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    5 টি আইডিয়া ব্লগ

  4. প্রিন্স ফ্রেরাসে

    62 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    3 টি আইডিয়া ব্লগ

...