Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

হারানো পরিচয়

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
4 বার প্রদর্শিত
করেছেন (23,875 পয়েন্ট)   7 ঘন্টা পূর্বে "গল্প" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

হারানো পরিচয়image

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

ছোট গল্প। ০১ আগষ্ট,  ২০২৬


অভিককে সবাই চিনত। 


অফিসে তার একটা আলাদা ছাপ ছিল, পাড়ায়ও মানুষ তাকে সম্মান করত। সংসারে সে ছিল দায়িত্বশীল স্বামী, স্নেহময় পিতা, আদর করা ছেলে; বাইরে দেখলে মনে হত জীবনের প্রতিটি কোণই গোছানো—কোনো ফাঁক নেই।


কিন্তু আয়না মিথ্যে বলে না। সামনের কাঁচে মুখটা ঠিক আগের মতোই, চুল, চোখ, হাসি—সবই আছে; তবু ইদানীং আয়নার ভেতর থেকে যে প্রতিচ্ছবি আসে, সেটাই আর তার সঙ্গে মিলছে না। মনে হয় আয়নার ভেতর থেকে অন্য কেউ তাকিয়ে আছে। অনেকদিন নিজের সঙ্গে নিরিবিলি বসে কথা হয়নি; শেষ বারের কথা মনে পড়ে না।


দিনগুলো কাজের ভিড়ে গলে যাচ্ছিল—সকালে তাড়াতাড়ি উঠে অফিসের তাগাদা, মিটিং, ফোন, ফাইল; বাড়ি ফিরলেই সংসারের টুকিটাকি। একেকটি দিন আরেকটির সঙ্গে মিলিয়ে গেছে। সব কাজ হচ্ছে, সব দায়িত্ব চলছে, তবু বুকের এক কোনে যেন এক শূন্য ঘর থেকে যায়—কোনো নাম নেই, কোনো ঠিকানা নেই।


এক রাত আলমারির ওপরের তাক খুলতে গিয়ে একটা পুরনো টিনবক্স পড়ে গেল। খুলে দেখলে ধুলোয়ের গন্ধ উঠল। ভেতরে ঝাপসা কয়েকটা ছবি, দু'একটা চিঠি আর মলাট ওঠা একটি ডায়েরি। ডায়েরিটা তুলে নিয়ে অনেকক্ষণ হয়ত সে না-চাইতেই তাকিয়ে রইল; খুলেছিল কি না—জানতো না।


শেষে অল্প সাহসে প্রথম পাতাটা ঘেঁটে দেখল। নিজেরই হাতের লেখা, কিন্তু অনেক ছোটবেলার—সুতির আঁচড়ে লেখা কিছুমান কথা। প্রথম লাইনেই থমকে গেল: "আমি এমন মানুষদের গল্প লিখতে চাই, যাদের কথা কেউ কখনো লিখে রাখে না।" লাইনটা পড়ে মনে হল—এ যেন কিশোর মনের কোনো আক্ষেপ। ডায়েরিটা আবারো খুলল।


পাতা ওল্টালেই ফিরতে লাগল পুরোনো সেই ছেলেটার ছবিটি—যে বিকেলের নীরবতায় নদীর ধারের বালিতে বসে গল্প শুনত জেলেদের মুখে, যে বাউলের গানে থেমে যেত, যে লোকগান, হারিয়ে যাওয়া স্মৃতি, মানুষের ফেলে আসা কথাগুলোই কান পেতে শুনে ঘুমাত। সেই ছেলেটা কোথায় হারিয়ে গেছে?


আরেক পাতায় চোখ আটকাল: "যেদিন শুধু টাকার হিসাব কষে বাঁচব, সেদিন বুঝব আমি আর আমি নেই।" এ লাইনটি পড়তেই বুক ভিড়ে উঠল—নিশ্বাস টেনে একটু দাঁড়াতে হলো। ডায়েরিটা বন্ধ করে জানালার বাইরে বহুক্ষণ তাকিয়ে রইল অভিক। কবে লেখা ছেড়ে দিয়েছিল সে—ভেবেও ঠিক বুঝতে পারল না। চাকরি, সংসার, দায়—সব সামলাতে গিয়ে নিজের ভেতরের মানুষটার খোঁজ নেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে, টের পেলেই লজ্জা লাগল।


পরদিন সকালে কাউকে কিছু না বলে গ্রামের পথে রওনা দিল। স্টেশন থেকে নেমে হাঁটতে লাগল। সব কিছু বদলে গেছে—পিচঢালা রাস্তায় নতুন বাড়ি, ফাঁকা মাঠে কাঁচা বাড়ি; তবু বটগাছটা আগের জায়গায়ই দাঁড়িয়ে আছে। নদীর স্রোত আগের মতো—বাতাসে সেই মাটির গন্ধ এখনো আছে। মনে হলো এই জায়গাগুলো তাকে ভুলেনি; ভুলে গেছে শুধু সে নিজেই।


হেঁটে হেঁটে পুরনো স্কুলের সামনে পৌঁছতেই পিছন থেকে ডাক এলো—"তুই অভিক না?" ফিরে দেখল আজিজ স্যার—চুল সাদা, চশমাটা মোটা। স্যার এগিয়ে এসে কাঁধে হাত রাখলেন, তার চোখে কেমন এক উষ্ণতা। "খাতা নিয়ে সারাক্ষণ ঘুরতিস," বললেন তিনি। "বলেন, গল্প লিখবি। লিখিস এখনো?"


প্রশ্নটা সাধারণ, কিন্তু উত্তর দিতে গিয়ে গলা শুকিয়ে গেল। "না স্যার," বলল অভিক। "অনেক দিন হয়ে গেছে।"


স্যার একটু চুপ করে কাঁধে হাত রাখলেন, কণ্ঠে ছিল স্নেহ আর একটা সরল সতর্কতা—"সব স্বপ্ন পূরণ হয় না। কিন্তু স্বপ্নকে একেবারে ছেড়ে দিলে মানুষ নিজের কাছেই অচেনা হয়ে যায়।"


সে কথাটা ঢাকায় ফিরেই বারবার কানে বাজতে লাগল। দিনশেষে সে একটা নতুন ডায়েরি কিনে নিল সাদা, শক্ত মলাটের। রাতে টেবিলল্যাম্প জ্বালিয়ে প্রথম পাতায় লিখল, "আবার শুরু করি।" কলমটা প্রথমে কাঁপছিল; ক'টা শব্দ লিখে থেমে গেল। তারপর হঠাৎ একটি লাইন, তারপর আরেকটি—বুকের জমে থাকা কথা গুলো আলতো করে বেরিয়ে এল, যেন বহুদিন বন্ধ থাকা জানালা খুলে যায়।


লেখাটা নিখুঁত ছিল না—এটা আগে থেকেই বলা যায়। এত বছর পর যে লেখা শুরু হলো, তাতে কিছু অতি-উত্তেজনাপূর্ণ বা নিখুঁত হওয়ার প্রত্যাশা রাখা অযৌক্তিক। তবু একটা জিনিস বদলে গিয়েছিল: এখন সে আর কারও প্রশংসা পাওয়ার জন্য লিখছে না, না কেউ মুগ্ধ করার জন্য। সে লিখছে নিজের সঙ্গে আবার দেখা করার জন্য। প্রতিটি বাক্য ছিল ছোট একটি আলাপ—নিজের সঙ্গে, অতীতের বালিশের ভেতরে লুকানো একা ক্ষণে ফিরে আসা এক কণ্ঠের সঙ্গে।


জীবন আগের মতোই রৈখিকভাবে চলল—অফিসে সেই চাপ, পরিবারের দায়-দায়িত্ব। তবু প্রতিদিন আধঘণ্টা নিজেকে দিতে লাগল; কখনো লিখে, কখনো পুরনো বই খুলে পড়ে, কখনো কেবল নীরবে বসে থাকল। সময়টা ছোট, প্রভাবটা গভীর—ধীরে ধীরে ভেতরের কণ্ঠ জোরে উঠে বলল।


কয়েকদিন পর আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে দেখা করল—আপাতত একই মুখ, একই চোখ; কিন্তু এবার আর অচেনা লাগল না। ভেতরের শব্দগুলো ফিরে এসেছে—ছোটখাটো খেয়াল, কিছু অনুচ্ছেদ, হারানো গানের একেকটা নোট। মানুষ কখনো সত্যি সত্যি নিজেকে হারায় না; ব্যস্ততার শব্দগুলোর ভেতর তার কণ্ঠটাকে চেপে ফেললে ভোলার মতো মনে হয়। একটু থামলেই, একটু নীরব হলেই সেই আওয়াজ পুনরায় শোনা যায়। অভিক সেই সুযোগ নিল—নিজেকে খুঁজে পেল।


মানুষ হয়ত হারায় বলে ভয় পায়; কিন্তু হারানো মানুষটা একেবারেই নিখুঁতভাবে উধাও হয় না। সে থাকে কোনো পাতার কোণে, কোনো গানের লাইনেই, কোনো দিনের ধুলোতে। এবং একজন যদি থামতে শিখে, নিজেকে শুনতে শিখে—তাহলে হারিয়ে যাওয়া সবকিছুই ফিরে আসে। অভিকের জন্য সেটাই ঘটল—সে নিজের কণ্ঠটা ফিরে পেল, আর ডায়েরির পাতায় যে গল্পগুলো জমল, সেগুলোই একদিন কারও পথ চিরই আলোকিত করবে, বস্তুত সেই বিশ্বাসটা নিজেই তার শান্তি বয়ে আনল।




আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 10 মাস 1 সপ্তাহ ধরে, এবং এ পর্যন্ত 1182 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 23875। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 4544
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


আমি ছিলাম এক আলোয় ভরা কণিকা, যেখানে সবাই খুঁজত আমার উপস্থিতি। বাতাসের গন্ধে গাঁথা [...] বিস্তারিত পড়ুন...
239 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
বাংলা সাহিত্যে গ্রাম হারানো নাকি রক্ষিত মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, প্রাবন্ধিক প্রবন্&[...] বিস্তারিত পড়ুন...
136 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
হারানো বইমেলা মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বিশ্লেষণধর্মী | ১৩ মার্চ ২০২৬ স্টল #২৪৭। ফেব্র[...] বিস্তারিত পড়ুন...
436 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
বৃদ্ধাশ্রমে জমে থাকা অসমাপ্ত গল্প মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোট গল্প। ০২ আগষ্ট,  ২০২৬ [...] বিস্তারিত পড়ুন...
2 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোট গল্প। ২৯ জুলাই, ২০২৬ একটি শিশুকে বড় করে তোলে শুধু একটি পর[...] বিস্তারিত পড়ুন...
5 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    41 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    2 টি আইডিয়া ব্লগ

...