Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

যে অন্যায় কেউ মনে রাখেনি (নীরবতা, বিবেক ও সামাজিক অপরাধ)

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
2 বার প্রদর্শিত
করেছেন (29,507 পয়েন্ট)   13 ঘন্টা পূর্বে "সাহিত্য(বিশ্লেষণ ধর্মী)" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

যে অন্যায় কেউ মনে রাখেনি

(নীরবতা, বিবেক ও সামাজিক অপরাধ)image

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

ছোটগল্প | ২৩ অক্টোবর ২০২৬


গ্রামের সবাই আবদুল করিম সাহেবকে সমীহ করে চলত। বাজারে তাঁর একটা সার-কীটনাশকের দোকান ছিল। হিসাবের ব্যাপারে এক পয়সাও ছাড় দিতেন না। কেউ বাকিতে কিছু নিতে চাইলে খাতাটা খুলে পুরোনো দেনার কথা মনে করিয়ে দিতেন। অথচ গ্রামের সালিশে তাঁর ডাক পড়ত সবার আগে।


শুধু রহিমা বেগম তাঁর নাম শুনলেই দরজা বন্ধ করে দিতেন।


বুড়ি মানুষটার এমন আচরণে গ্রামের কেউ খুব একটা অবাক হতো না। অনেকে বলত, বয়স হলে মানুষ খিটখিটে হয়ে যায়। করিম সাহেবও কথাটা উড়িয়ে দিতেন।


“বুড়ি এখনো তিরিশ বছরের পুরোনো কথা ভুইলা নাই,” একদিন বাজারে বসে বলেছিলেন তিনি। “মানুষের উপকার করলেও দোষ, না করলেও দোষ!”


কথাটা শুনে কয়েকজন হেসেছিল।


রহিমা বেগমের নাতনি মিতু সেদিন বাজারেই ছিল। দাদির সঙ্গে করিম সাহেবের কী হয়েছিল, সেটা জানার কৌতূহল তার অনেক দিনের।


কয়েক দিন পর দাদি অসুস্থ হয়ে বিছানা নিলেন। রাতে মিতু মাথার কাছে বসে পানি খাওয়াচ্ছিল। হঠাৎ রহিমা বেগম বললেন, “করিমরে দেখলাম আজ বাজারে?”


“হ্যাঁ, দাদি।”


বৃদ্ধা মুখ ফিরিয়ে নিলেন। কিছুক্ষণ পর বললেন, “ওর নাম শুনলেও আমার বুকের মধ্যে কেমন করে, জানিস?”


মিতু হাতটা ধরে বলল, “কী করেছিল তোমার সঙ্গে?”


রহিমা বেগম উত্তর দিতে গিয়ে থেমে গেলেন। জানালার বাইরে তাকিয়ে রইলেন অনেকক্ষণ।


“আমার মানুষটারে বাজারের মাঝখানে খাড়া করাইছিল, মিতু।”


মিতু চুপ করে রইল।


দাদার কথা সে শুনেছে, কিন্তু তাঁর মৃত্যুর কারণ নিয়ে বাড়িতে কেউ কথা বলে না। ছোটবেলায় একবার জানতে চেয়েছিল। মা বলেছিলেন, তাঁর দাদা নাকি চুরির অপবাদে গ্রাম ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন।


“দাদা চুরি করেছিল?”


রহিমা বেগম মাথা নাড়লেন।


“না রে। খাজনার খাতায় গোলমাল আছে, খালি এই কথাটাই কইছিল। ওইটাই কাল হইলো।”


তারপর আর কিছু বললেন না।


বিছানার পাশে বসে থাকতে থাকতে মিতুর মনে পড়ল, বহু বছর আগে বাবার মুখে শোনা একটা কথা। দাদা নাকি গ্রামের কয়েকজনের কাছ থেকে আবার খাজনা আদায়ের প্রতিবাদ করেছিলেন। হিসাবের খাতায় একই জমির জন্য দুবার টাকা তোলার প্রমাণও পেয়েছিলেন। এরপর গুদাম থেকে টাকা হারানোর অভিযোগ ওঠে। দাদার নাম ছড়িয়ে পড়তে বেশি সময় লাগেনি।


সেদিন বাজারে অনেক মানুষ ছিল। সালিশ বসেছিল। দাদাকে সবার সামনে দাঁড় করিয়ে জেরা করা হয়েছিল। তিনি বারবার বলেছিলেন, তিনি চুরি করেননি।


করিম সাহেবও সেখানে ছিলেন। তখন তিনি জমির হিসাব দেখতেন, গ্রামের প্রভাবশালী লোকজনের সঙ্গে তাঁর ওঠাবসা ছিল। হাশেম আলী তাঁকে বিশ্বাস করতেন।


দাদি একবার বলেছিলেন, “তোর দাদা ওর কাছে গিয়া কইছিল, ‘করিম ভাই, আপনি তো খাতার হিসাব জানেন। আমারে একটু বাঁচান।’”


করিম সাহেব কী বলেছিলেন, তা মিতু জানত না। শুধু জানত, তিনি সেদিন কিছু বলেননি।


হাশেম আলীকে গ্রাম ছাড়তে হয়েছিল। অন্য জেলায় কাজ করতে গিয়ে অসুখে মারা যান তিনি। রহিমা বেগম ছেলেকে নিয়ে একা হয়ে পড়েন। অভাবের সময় জমিটুকুও বিক্রি করতে হয়েছিল। ছেলেটা পড়াশোনা ছেড়ে কাজে নেমেছিল।


এত বছর পরেও দাদি করিম সাহেবের সামনে পড়লে মুখ ফিরিয়ে নিতেন।


মিতু জিজ্ঞেস করল, “তুমি কাউকে বলোনি কেন?”


বৃদ্ধা শুকনো ঠোঁট ভিজিয়ে বললেন, “কতজনরে বলব? মানুষ তো আর আমার কথা শুনতে চায় নাই। সবাই কইত, করিমের মতো মানুষ এমন কাজ করব ক্যান?”


পরদিন ভোরে রহিমা বেগম মারা গেলেন।


জানাজার পর করিম সাহেবও তাঁদের বাড়িতে এলেন। উঠানে দাঁড়িয়ে বললেন, “রহিমা অনেক কষ্ট করছে। আল্লাহ ওরে শান্তি দিক।”


মিতু তাঁর দিকে তাকিয়ে রইল।


করিম সাহেব পকেট থেকে কিছু টাকা বের করে বললেন, “কোনো দরকার হইলে জানাইও।”


মিতু টাকা নিল না।


“আপনি কি জানতেন, আমার দাদার বিরুদ্ধে অভিযোগটা মিথ্যা ছিল?”


করিম সাহেবের মুখ শক্ত হয়ে গেল। আশপাশে দাঁড়ানো দু-একজনের দিকে তাকিয়ে বললেন, “এত পুরোনো কথা এখন তুলে কী হবে?”


“আপনি সেদিন কিছু বলেননি কেন?”


“তখনকার অবস্থা তুই বুঝবি না। সব কথা বলার সময় থাকে।”


মিতু আর কিছু বলল না।


করিম সাহেব টাকা পকেটে রেখে চলে গেলেন। যাওয়ার সময় পাশের বাড়ির একজনকে বললেন, “মানুষের জন্য কত কিছু করি, তবু শেষ পর্যন্ত বদনামই জোটে।”


কয়েক দিন পর দাদির ঘর গুছাতে গিয়ে মিতু পুরোনো একটা ছবি পেল। ছবিতে হাশেম আলী দাঁড়িয়ে আছেন, পাশে ছোট্ট একটা মেয়ে—তার মা। ছবির পেছনে দাদির কাঁপা হাতে লেখা কয়েকটি কথা:


“সেদিন তুই যদি একবার সত্য কথাটা বলতি, আমার মানুষটারে হয়তো এভাবে হারাইতে হইত না।”


মিতু ছবিটা যত্ন করে তুলে রাখল।

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 1 বছর 4 সপ্তাহ ধরে, এবং এ পর্যন্ত 1460 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 29507। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 5063
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
না বলার অপরাধ (নারী, পরিবার ও সামাজিক মনস্তত্ত্ব) মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বিশ্লেষণমূ[...] বিস্তারিত পড়ুন...
13 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
ছলনার আয়ু (সত্য, বিবেক ও আত্মশুদ্ধি) মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বিশ্লেষণমূলক লেখা  ২৩ অ&[...] বিস্তারিত পড়ুন...
3 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
সরে গেলেই চেনা যায় (সম্পর্ক ও সামাজিক মনস্তত্ত্ব) মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বিশ্লেষণ÷[...] বিস্তারিত পড়ুন...
7 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
নিজের জীবন, নিজের ভয় (নারী, পরিবার ও সামাজিক মনস্তত্ত্ব) মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বিশ্ল[...] বিস্তারিত পড়ুন...
13 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
বিচার দিতে গিয়ে (দাম্পত্য, পরিবার ও সামাজিক মনস্তত্ত্ব) মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বিশ[...] বিস্তারিত পড়ুন...
7 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    1903 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    10 মন্তব্য

    94 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. প্রিন্স ফ্রেরাসে

    127 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    6 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. জামিনুল রেজা

    83 পয়েন্ট

    1 প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    4 টি আইডিয়া ব্লগ

  4. অমিত দত্ত দিলু

    65 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    3 টি আইডিয়া ব্লগ

...