তুমি বদলে গেছো
মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন
ছোটগল্প। মার্চ ২৯,২০২৬
যে মানুষটা আমাকে সবচেয়ে ভালো বুঝত—সে একদিন বলল,
“তুমি বদলে গেছো।”
আমার চুপ থাকা ছিল আত্মরক্ষা নয়, বরং অনুভবের নীরবতা।
“আগে তুমি এমন ছিলে না,” সে বলল।
“বেশি… উপস্থিত। এখন মনে হয় তুমি শুধু অপেক্ষা করছো—যখন কথা শেষ হবে।”
আমি শুধু তাকাই। চোখের সামনে ঝরা পাতা নাচছিল, বাতাসে কফির গন্ধ মিশে আছে। ক্রেন ধীরে ঘুরছে, নতুন ভবন দাঁড়াচ্ছে। আমাদের দূরত্বও যেন ধীরে নতুন আকার নিচ্ছে।
“তুমি এখন বেশি চুপ থাকো… আগে তোমার চুপ থাকাটাও কথা বলার মতো ছিল। এখন শুধু… ফাঁকা।”
আমি চুপ থাকি। চায়ের কাপে চামচ ঘোরাই।
হঠাৎ ফ্ল্যাশব্যাক—মা অসুস্থ।
রাত জেগে ওষুধ, হাসপাতালে যাতায়াত, তার রাতের জাগরণ।
মা জেগে বলেছিল,
“তোর বন্ধুদের ডাক। আমি একা থাকতে পারব।”
আমি বলেছিলাম, “না।”
সেই ‘না’ থেকে আমি বদলে গেছি। এখন আমার সীমারেখা আছে। এই পছন্না—নিষ্ক্রিয়তা নয়, স্বেচ্ছাচার।
ফ্ল্যাশব্যাক শেষ—আমি আবার বন্ধু দিকে তাকাই। সে চুপ। চোখে অদৃশ্য কষ্ট।
“আমার বাবাও অসুস্থ ছিলেন,” সে বলল, “কিন্তু তুমি পাশে ছিলে না।”
আমার দম বন্ধ হয়ে এলো। আমি জানি—আমি দূরে ছিলাম, কিন্তু চেষ্টা করেছি।
“আমি তো… চেষ্টা করেছি,” বলি, কণ্ঠ নড়াচড়া ছাড়া।
সে শুধু চুপ করে। জানি সে বোঝে—চেষ্টা যথেষ্ট ছিল না। আমরা দুজনই ক্ষতিগ্রস্ত। একা নয়, একে অপরের কারণে।
ছাদ থেকে নেমে আলাদা পথে চলে গেলাম। ফোনে মাঝে মাঝে আসে।
“কেমন আছো?”
“ঠিক আছি।”
“তুমি আবার সেই রকম হচ্ছো না।”
ঝরা পাতা, ক্রেন, চায়ের কাপ—সবই স্মৃতি। আমরা একই সময়ে একই স্থানে ছিলাম, কিন্তু আর একসাথে নই। ছায়ার ভেতর আলো ভেঙে পড়ছে।
আমি চুপ থাকি। চায়ের কাপে চামচ ঘোরাই। সে অপেক্ষা করে, কিন্তু আমি আর বলি না—কারণ এখন চুপ থাকাটাই আমার একমাত্র সত্যি।
যারা জিজ্ঞেস করে, তারা সবসময় অপেক্ষা করে না।
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।