Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

একটি জুতো

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
238 বার প্রদর্শিত
করেছেন (21,955 পয়েন্ট)   20 মার্চ "গল্প" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

একটি জুতো image

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

ছোটগল্প। মার্চ ২০, ২০২৬


রাফি রাস্তায় হাঁটছিল।


হঠাৎ তার জুতোর সামনের দিকটা ছিঁড়ে গেল। শব্দটা ছোট—একটা শুকনো সেলাই ছাড়ার মতো। তবু সে থামল।


পা তুলে দেখল। আঙুলের কাছে চামড়া ফেটে গেছে। ভেতরটা দেখা যাচ্ছে। হাত দিয়ে চাপ দিল—ধরে রাখা যায় না। জুতোর ভেতরটা ফাঁপা লাগে।


সে পা নামাল। মাটিতে পুরোটা ঠেকে না। মাঝখানে ফাঁক।

সে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে রইল।

পাশ দিয়ে একজন লোক যাচ্ছিল। তার চোখ নিচে নামল।


এক মুহূর্ত। তারপর সে চোখ তুলে নিল।


হাঁটা থামাল না।


রাফি তাকিয়ে রইল। মনে হলো—লোকটা দেখেছিল। হয়তো না।


আরেকজন এল। তার চোখও নামল। এইবার দ্রুত।


একটু থামতে গিয়েও থামল না। চলে গেল।


রাফি আবার হাঁটা শুরু করল।


বাড়িতে মা কাপড় ধুচ্ছিলেন। সাবানের ফেনা জমে আছে। হাতের আঙুল সাদা।


রাফি জুতোর ফাটা দিকটা একটু তুলে ধরল।


মা তাকালেন। খুব অল্প সময়।


তারপর বললেন, “আবার ছিঁড়বে। কাল দেখিস।”


তিনি আবার কাপড়ে মন দিলেন। রাফি কিছু বলল না। জুতো খুলে রাখল।


ভেজা মাটিতে ছেঁড়া অংশটা ছড়িয়ে পড়ে রইল। জল গড়িয়ে এসে ছুঁয়ে গেল। কাদা মিশে গেল।


সে পা তুলে দেখল। লালচে দাগ। ফোস্কা উঠছে।


সে পা নামিয়ে নিল। পরদিন সে আবার সেই জুতোই পরল।


ছেঁড়া অংশটা শক্ত হয়ে গেছে। হাঁটলে ওঠে, নামে—ভেঙে পড়ে না।


রাস্তার পাশে একটা দোকানের কাঁচে জুতো সাজানো। চকচকে।


রাফি থামল। কাঁচে নিজের পা দেখল। জুতো কাত হয়ে আছে।


এক মুহূর্ত। তার মনে হলো—ওটা তার পা না।

সে সরে গেল।


স্কুলের দরজায় শিক্ষক দাঁড়িয়েছিলেন।

রাফি পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তিনি নিচে তাকালেন।


চোখ থামল।

তারপর তিনি বললেন, “ভিতরে যাও।”


আর কিছু না।

রাফি দাঁড়িয়ে ছিল এক মুহূর্ত।

তার ঠোঁট নড়ল—

কিছু বলার মতো।

শব্দ বের হলো না

সে ভেতরে ঢুকে গেল।


ক্লাসে বসে পা মাটিতে রাখতেই চাপ লাগল। ফোস্কায় ঘষা খেল।


সে পা একটু সরিয়ে নিল।

পাশের ছেলেটা তাকাল। বলল,“তোর—”

থেমে গেল। খাতা খুলে ফেলল।


ছুটি হলে সবাই দৌড়ে বেরিয়ে গেল

রাফি ধীরে হাঁটছিল।


হঠাৎ সে থামল। পা থেকে জুতোটাকে খুলে ফেলল।


খালি পা মাটিতে রাখল। ঠাণ্ডা লাগল। কাঁকর লাগল।


সে জুতোটার দিকে তাকিয়ে রইল।


তারপর আঙুল দিয়ে ছেঁড়া অংশটা টানল।

আরও ছিঁড়ে গেল। সহজে।


সে থামল না।

দুই হাতে ধরে সামনের অংশটা আলাদা করল।


রাস্তার পাশে ড্রেনের কাছে সে দাঁড়াল।

চারপাশে মানুষ। কেউ তাকাচ্ছে—কেউ না।


সে নিচু হয়ে জুতোর ছেঁড়া অংশটা মাটিতে রাখল।

একটু চাপ দিল।

যেন ঠিক জায়গায় বসাতে চায়।

তারপর হাত সরিয়ে নিল।

অর্ধেকটা মাটিতে রইল।

অন্য অর্ধেকটা তার পায়ে।

সে হাঁটতে শুরু করল।


এক পায়ে জুতো। আরেক পা খালি। কাঁকর লাগছে। থামতে ইচ্ছে করে।

সে থামে না।


একজন লোক পাশ দিয়ে যাচ্ছিল। সে নিচে তাকাল। এইবার একটু বেশি সময়।


তার হাঁটা ধীর হলো।

মনে হলো, সে কিছু বলবে—

সে বলল না।

চলে গেল।


বিকেলের আলো নরম।

রাফি বাড়ির দিকে হাঁটছে।

পেছনে, ড্রেনের ধারে, অর্ধেক জুতোটা এখনও পড়ে আছে।


একটা কুকুর এসে শুঁকল। নাড়াল।

তারপর চলে গেল।


একজন মানুষ পাশ দিয়ে যাচ্ছিল।

তার পা প্রায় ছুঁয়ে যাচ্ছিল জুতোটাকে।


সে থামল। নিচে তাকাল।


এই লোকটা কি একটু আগে তার পাশ দিয়ে যায়নি?


সে পা তুলে জুতোটাকে এড়িয়ে গেল।

চলে গেল।

রাফি বাড়িতে ঢুকল।


মা উঠোনে। তিনি তার পায়ের দিকে তাকালেন।

এইবার একটু বেশি সময়। তার ঠোঁট নড়ল।

তিনি কিছু বললেন না।


রাতে দরজার পাশে জুতোর বাকি অংশটা পড়ে থাকে।


রাফি তাকিয়ে থাকে। কিছুক্ষণ।


তারপর আলো নিভে যায়।

পরদিন সকালে সে আবার বের হয়।


এক পায়ে জুতো। আরেক পা খালি।

সে হাঁটতে থাকে।


পেছনে, ড্রেনের ধারে, অর্ধেক জুতোটা এখনও পড়ে আছে।


কাদায় ঢুকে গেছে একটু।

মানুষ আসে, যায়।

কেউ তাকায়। কেউ থামে না।

কেউ কি থেমেছিল—নাকি সে ভুল দেখেছে।


জুতোটার ভেতরটা আর দেখা যায় না।

কাদা ঢেকে দিয়েছে।

ধীরে ধীরে, সেটা জুতো বলে মনে হয় না।

তবু সেটা পড়ে থাকে—নাকি পড়ে ছিল।


কেউ তা তুলে নেয় না।

কেউ তা সরায় না।


আর ঠিক কোথায় ছিল—

এবং কেউ নেই যে জানে—কি সত্য, কি ভুল।

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 9 মাস 1 সপ্তাহ ধরে, এবং এ পর্যন্ত 1087 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 21955। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 3635
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


 সমুদ্র, গমক্ষেত ও একটি অপেক্ষা মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন সাহিত্যিক ছোটগল্প। ১৭ মে, ২০২&#[...] বিস্তারিত পড়ুন...
331 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

 একটি দিনের ভেতর থেমে থাকা বাক্য মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন  ছোট গল্প। মে ১০,২০২৬ “মা কথ&#[...] বিস্তারিত পড়ুন...
352 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
একটি সিদ্ধান্তের দাম   পর্ব–৫ : যে সিদ্ধান্ত জীবন বদলে দিল (সমাপ্তি)   মোহাম্মদ জাহ[...] বিস্তারিত পড়ুন...
5 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
একটি সিদ্ধান্তের দাম   পর্ব–৪ : ভাঙনের শেষ প্রান্তে   মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন   ধারù[...] বিস্তারিত পড়ুন...
6 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
একটি সিদ্ধান্তের দাম   পর্ব–৩ : ভাঙনের শব্দ   মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন   ধারাবাহিক গø[...] বিস্তারিত পড়ুন...
6 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    486 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    24 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. শামীমা আকতার

    22 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    0 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. Adiba jannat

    21 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    1 আইডিয়া ব্লগ

  4. মুহাম্মদ সালমান

    1 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    0 টি আইডিয়া ব্লগ

...