Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

ভালো বাবা হতে গিয়ে

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
4 বার প্রদর্শিত
করেছেন (25,432 পয়েন্ট)   1 দিন পূর্বে "গল্প" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

ভালো বাবা হতে গিয়েimage

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

ছোটগল্প | ১৯ আগস্ট ২০২৬


মেঘলা ছোটবেলায় একদিন স্কুল থেকে ফিরে বলেছিল,


বাবা, সবাইকে নতুন জুতো দিয়েছে। আমারটাও কি এবার বদলাবে?


অভিক জুতোটার দিকে তাকিয়েছিল। সামনের অংশটা ঘষে সাদা হয়ে গেছে, ফিতাটাও এক পাশে ছিঁড়ে ছিল।


সে হেসে বলেছিল,


অবশ্যই বদলাবে। এই মাসেই।


সেদিন রাতে অভিক হিসাবের খাতা খুলে বসেছিল।


বাড়িভাড়া। বাজার। বিদ্যুৎ বিল। মিশির স্কুলের বেতন। নিশির ওষুধ।


সব শেষে নতুন জুতোর দামটা লিখে কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইল।


তারপর খাতাটা বন্ধ করে দিল।


পরদিন অফিস থেকে ফেরার পথে জুতো কিনে এনেছিল।


নিজের জন্য যে শার্টটা নেওয়ার কথা ছিল, সেটা আর নেওয়া হয়নি।


মেঘলা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর খরচ বেড়ে গেল। ফি, বই, যাতায়াত—মাসের শেষে অভিকের হাতে খুব বেশি কিছু থাকত না।


একদিন অফিসে বসে সে নিজের ব্যাংক অ্যাকাউন্টের ব্যালান্স দেখছিল।


নতুন চশমা দরকার ছিল তার। কয়েকদিন ধরে পুরোনো চশমায় চোখে চাপ পড়ছিল।


ঠিক তখন মেঘলা ফোন করল।


বাবা, আমার একটা টাকা লাগবে।


কত?


মেঘলা পরিমাণ বলল।


অভিক কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলল,


ঠিক আছে। পাঠিয়ে দিচ্ছি।


ফোন রেখে সে নিজের চশমাটার দিকে তাকাল।


তারপর ব্যাংক থেকে টাকা তুলে মেয়ের অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দিল।


কয়েক দিন পর মেঘলা বাবার ঘরে একটা কাগজ খুঁজতে গিয়ে আলমারির ড্রয়ার খুলেছিল।


ভেতরে একটা পুরোনো প্রেসক্রিপশন।


চশমার দোকানের একটা বিলও ছিল।


তারিখটা কয়েক মাস আগের।


মেঘলা হিসাব মিলিয়ে দেখল—বাবা চশমাটা কেনেননি।


সন্ধ্যায় বাবাকে জিজ্ঞেস করল,


বাবা, তুমি নতুন চশমা নাওনি কেন?


অভিক খবরের কাগজ থেকে চোখ না তুলে বলল,


পুরোনোটাই তো চলছে।


চলছে?


হুম।


আমার টাকাটা দেওয়ার জন্য তুমি চশমা নাওনি?


অভিক এবার খবরের কাগজটা নামিয়ে রাখল।


কে বলেছে?


তোমার ড্রয়ারে বিলটা দেখেছি।


অভিক একটু হেসে বলল,


তুই এসব নিয়ে মাথা ঘামাস না।


মেঘলা চুপ করে দাঁড়িয়ে রইল।


বাবা, তুমি কি ভাবো, তোমার নিজের কিছু লাগলে সেটা না কিনে আমাকে দিলে আমি খুশি হব?


অভিক উত্তর দিল না।


মেঘলার গলা কেঁপে উঠল,


তুমি আমাদের সবকিছু দিতে চাও। কিন্তু তুমি যদি নিজের যত্নই না নাও, তাহলে আমরা কী পেলাম?


অভিক এবার মেয়ের দিকে তাকাল।


অনেকক্ষণ পর বলল,


তোদের কিছু কম দিতে চাই না।


কিন্তু বাবা, সবকিছু দেওয়া যায় না।


অভিক হেসে বলল,


জানি।


তাহলে এত চেষ্টা করো কেন?


অভিক কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলল,


তোরা যেন কোনোদিন মনে না করিস, তোদের বাবা চেষ্টা করেনি।


মেঘলার বুকটা হঠাৎ ভারী হয়ে গেল।


সে বাবার পাশে গিয়ে বসল।


আমরা কখনো সেটা ভাবিনি।


অভিক জানালার দিকে তাকিয়ে রইল।


কয়েক দিন আগে মেঘলা একটা পরীক্ষায় আশানুরূপ ফল করতে পারেনি।


সেদিন রাতে দরজা বন্ধ করে বসেছিল।


অভিক দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে বলেছিল,


মেঘ?


ভেতর থেকে কোনো উত্তর আসেনি।


একটু দরজা খোল তো।


কিছুক্ষণ পর দরজা খুলেছিল।


মেঘলার চোখ লাল।


আমি পারলাম না বাবা।


অভিক মেয়ের পাশে বসে বলেছিল,


একটা পরীক্ষায় কী আসে যায়?


মেঘলা নিচু গলায় বলেছিল,


তুমি কষ্ট পেয়েছ?


অভিক মাথা নেড়ে বলেছিল,


না।


সেদিন রাতে মেয়ের ঘর থেকে ফিরে অভিক অনেকক্ষণ বারান্দায় বসেছিল।


তার মনে হচ্ছিল, মেয়েটা যদি আরও ভালো করে পড়তে পারত, তাহলে হয়তো এমনটা হতো না।


রাতে নিশি খাবার গুছাচ্ছিল।


মেঘলা রান্নাঘরে গিয়ে দাঁড়াল।


মা।


কী?


বাবা নিজের চশমা না কিনে আমার টাকা দিয়েছে।


নিশি হাত থামাল।


জানি।


মেঘলা অবাক হয়ে তাকাল।


জানো?


নিশি মৃদু হেসে বলল,


তোর বাবাকে আমি অনেক বছর ধরে চিনি।


তারপর একটু থেমে বলল,


ও তোদের কষ্ট দেখতে পারে না। কিন্তু নিজের কষ্টের খবরও কাউকে দিতে চায় না।


মেঘলা কিছু বলল না।


সেদিন রাতে অভিক ঘুমাতে যাওয়ার আগে বিছানার পাশে রাখা পুরোনো চশমাটা খুলে টেবিলে রাখল।


মেঘলা দরজার কাছে এসে দাঁড়াল।


বাবা।


হুম?


কাল আমরা দুজন বের হব।


কোথায়?


চশমা বানাতে।


অভিক হেসে বলল,


এখন আবার এসব


মেঘলা মাঝখানেই থামিয়ে দিল।


না। এবার তোমার কথা শুনব না।


অভিক কিছুক্ষণ মেয়ের দিকে তাকিয়ে থাকল।


তারপর হেসে ফেলল।


ঠিক আছে। যাব।


মেঘলা চলে যাওয়ার পর অভিক চশমাটা হাতে তুলে নিল।


কাঁচের এক পাশে ছোট্ট একটা দাগ।


সে আঙুল দিয়ে দাগটা মুছতে চেষ্টা করল।


দাগটা গেল না।


অভিক চশমাটা আবার টেবিলে রেখে বাতি নিভিয়ে দিল।


ঘরের বাইরে তখন নিশি মেঘলাকে বলছিল,


তোর বাবাকে বেশি বকিস না।


মেঘলা হেসে বলল,


বকব না। তবে এবার একটু নিজের কথাও শুনতে হবে তাকে।


ভেতরে শুয়ে অভিক কথাটা শুনল।


কিছু বলল না।


শুধু অন্ধকারে একবার মৃদু হাসল।

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 10 মাস 3 সপ্তাহ ধরে, এবং এ পর্যন্ত 1259 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 25432। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 4731
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
একজন ভালো বাবা হওয়ার আগে ভালো স্বামী হওয়া জরুরি  মোহাম্মদ জাহিদ হোসন বিশ্লেষণধর্[...] বিস্তারিত পড়ুন...
514 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
সিরিজের নামঃ- নিজের জীবনটাও ছিল গল্প ৮ -সবাই ভালো আছে মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোট গল্প &[...] বিস্তারিত পড়ুন...
28 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
যে ঋতুতে বাবা থাকেন না   মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন   ছোটগল্প। ২৫ জুন, ২০২৬ অভিকের মনে হ[...] বিস্তারিত পড়ুন...
22 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
নিঃশব্দ মাটির নিচে আমার বাবা মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোটগল্প।এপ্রিল ১৮, ২০২৬ কবরে শ&[...] বিস্তারিত পড়ুন...
425 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
122 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    1598 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    79 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. Monsoon Harmony

    904 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    45 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. Mayabi Ilmaz Megh

    743 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    37 টি আইডিয়া ব্লগ

  4. রফিক আতা

    367 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    18 টি আইডিয়া ব্লগ

...