Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

বৃষ্টির ঠিকানা

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
25 বার প্রদর্শিত
করেছেন (24,966 পয়েন্ট)   27 জুন "গল্প" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

বৃষ্টির ঠিকানাimage

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

ছোটগল্প | ২৬ জুন, ২০২৬


সন্ধ্যার পর থেকেই বৃষ্টি।

টানা এমন বৃষ্টি, যেখানে রাস্তা আর ড্রেন আলাদা করে বোঝা যায় না।


অভিক হেলমেটের কাচটা হাতের তালু দিয়ে মুছে আবার বাইক চালাতে শুরু করল। ফোনে নতুন অর্ডার এসেছে।


সময়—বাইশ মিনিট।

অর্ডার বাতিল করলে ইনসেনটিভ কাটা যাবে।

দেরি হলে রেটিং কমবে।

যেতেই হবে।


প্যান্ট ভিজে হাঁটু পর্যন্ত ঠান্ডা পানি লেগে আছে। জুতোর ভেতর চুপচুপ শব্দ হচ্ছে।

মাসের শেষ।

মায়ের ওষুধ কিনতে হবে।

ছোট বোনের কলেজের বেতনও এখনও বাকি।


বৃষ্টি হলে শহরের মানুষ ঘরে বসে খাবার অর্ডার করে।

আর অভিকদের মতো মানুষ রাস্তায় নামে।

প্রথম অর্ডারটা ছিল একটা বড় অ্যাপার্টমেন্টে।

গেটে পৌঁছাতে তিন মিনিট দেরি হয়ে গেল।


সাততলায় উঠে কলিংবেল চাপতেই দরজা খুললেন একজন ভদ্রলোক।

খাবারের প্যাকেটটা হাতে নিয়েই বললেন,

এত দেরি হলো কেন?

অভিক বলল,

স্যার, রাস্তা...


লোকটা কথা শেষ করতে দিলেন না।

অজুহাত শুনতে চাই না।

দরজাটা বন্ধ হয়ে গেল।


অভিক কয়েক সেকেন্ড দাঁড়িয়ে রইল।

তারপর ধীরে ধীরে লিফটের দিকে হাঁটল।

এসব নতুন না।

তবু প্রতিবারই একটু লাগে।


পরের অর্ডারটা খুব দূরে ছিল না।

একটা পুরোনো চারতলা বাড়ি।

সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠতেই দরজা খুললেন এক বৃদ্ধা।

খাবারের প্যাকেটটা হাতে নিয়ে তিনি প্রথমেই বললেন,

আরে বাবা, একেবারে ভিজে গেছ!

অভিক শুধু হেসে মাথা নাড়ল।

দাঁড়াও।


বৃদ্ধা ভেতরে গিয়ে একটা শুকনো তোয়ালে এনে দিলেন।

তারপর ধোঁয়া ওঠা এক কাপ চা।

অভিক অপ্রস্তুত হয়ে বলল,

না খালা, লাগবে না। আর ডেলিভারি আছে।

চা খেতে দুই মিনিট লাগে। পৃথিবী থেমে থাকবে না।


কথাটা এমনভাবে বললেন, অভিক আর না করতে পারল না।

কাপটা হাতে নিতেই আঙুলে উষ্ণতা লাগল।


কতক্ষণ পরে যে শরীরটা একটু গরম হলো, সে নিজেও বুঝতে পারল না।

বাড়ি কোথায় বাবা?

কেরানীগঞ্জ।

এত দূর থেকে আসো?

কী করব, কাজ তো।

বৃদ্ধা মাথা নাড়লেন।


খাবারের দাম মিটিয়ে কয়েকটা টাকা বাড়িয়ে দিলেন।

অভিক সঙ্গে সঙ্গে মাথা নাড়ল।

না খালা, এটা নিতে পারব না।

বৃদ্ধা মৃদু হেসে বললেন,

এটা বকশিশ না।

একজন মায়ের দোয়া মনে করে রাখো।


আজ আমার ছেলে যদি কোথাও বৃষ্টির মধ্যে কাজ করত, আমি চাইতাম কেউ ওর সঙ্গেও এমন আচরণ করুক।


অভিক কিছু বলল না।

কথা খুঁজে পেল না।


বাইরে তখনও বৃষ্টি।

বাইক স্টার্ট দেওয়ার আগে একবার পেছনে তাকাল।


বৃদ্ধা দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আছেন।

হাত তুলে বললেন,

সাবধানে যেও বাবা।

অভিক মাথা নাড়ল।

রাত হয়ে গেছে।


শেষ ডেলিভারিটা দিয়ে বাড়ি ফিরছিল সে।

একটা সিগন্যালে লাল বাতি জ্বলতেই বাইক থামাল।


পাশেই আরেকজন ডেলিভারি রাইডার দাঁড়িয়ে।

ছেলেটার গায়েও ভেজা জামা।

ঠোঁট কাঁপছে ঠান্ডায়।


অভিক হঠাৎ মনে পড়ল, বৃদ্ধা চায়ের সঙ্গে একটা ছোট বিস্কুটের প্যাকেটও দিয়েছিলেন।


ব্যাগের ভেতর এখনও আছে।

সে প্যাকেটটা বের করে ছেলেটার দিকে বাড়িয়ে দিল।

নাও ভাই।

ছেলেটা অবাক হয়ে তাকাল।

কেন?


অভিক হেসে বলল,

আজ আমাকেও একজন খাইয়েছে।


সবুজ বাতি জ্বলে উঠল।

দুজনেই আবার বাইক চালিয়ে চলে গেল।


রাত আরও গভীর হলো।

বৃষ্টি তখনও থামেনি।


বাড়ি ফিরে মা দরজা খুলে বললেন,

খুব ভিজেছিস?


অভিক জুতো খুলে দরজার পাশে রেখে হাসল।

হ্যাঁ।


মা তোয়ালেটা এগিয়ে দিতে দিতে বললেন,

আজ খুব কষ্ট হয়েছে?

অভিক একটু ভেবে বলল,

কষ্ট তো হয়েছেই।


তারপর মায়ের দিকে তাকিয়ে আবার বলল,

কিন্তু আজ বৃষ্টির মধ্যে একজন মানুষ আমার দিনটা বদলে দিয়েছে।


জানালার কাঁচ বেয়ে বৃষ্টির পানি গড়িয়ে পড়ছিল।

অভিক চুপচাপ তাকিয়ে রইল।

তার মনে হলো, শহরটা শুধু বড় বড় বাড়ি দিয়ে তৈরি না।


কিছু খোলা দরজা দিয়েও তৈরি। আর সেই দরজাগুলোর ভেতরেই মানুষ এখনও মানুষ হয়ে বেঁচে আছে।

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 10 মাস 2 সপ্তাহ ধরে, এবং এ পর্যন্ত 1236 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 24966। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 4153
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


  আষাঢ়ের শেষ ঠিকানা মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোট গল্প। মে ০২, ২০২৬ আষাঢ় এলে আকাশটা এমন&#[...] বিস্তারিত পড়ুন...
525 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

 বৃষ্টির ভেতর যে গল্প জন্ম নেয় মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোট গল্প । এপ্রিল ৩০, ২০২৬ বৃষ্[...] বিস্তারিত পড়ুন...
368 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
উপন্যাসঃ-ছইয়ের নিচে জীবন গল্প-১ -জলছায়ার ঠিকানা মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ২৬ জুলাই, ২[...] বিস্তারিত পড়ুন...
7 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
উপন্যাস-বৃষ্টির ওপাশে আলো   মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন   ০৩, জুলাই ২০২৬ পর্ব–৫ : বৃষ্টিø[...] বিস্তারিত পড়ুন...
29 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
উপন্যাস-বৃষ্টির ওপাশে আলো   মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন   ০৩, জুলাই ২০২৬ পর্ব–৪ : যে হারট[...] বিস্তারিত পড়ুন...
24 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    1132 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    56 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. Monsoon Harmony

    903 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    45 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. রফিক আতা

    366 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    18 টি আইডিয়া ব্লগ

  4. শামীমা আকতার

    42 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    2 টি আইডিয়া ব্লগ

...