Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

অবশিষ্ট

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
42 বার প্রদর্শিত
করেছেন (29,003 পয়েন্ট)   02 সেপ্টেম্বর "গল্প" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

অবশিষ্টimage

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

ছোট গল্প। ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬


রাত এগারোটার পর অভিকের বাড়িটা একদম চুপ হয়ে যায়।


দিনের বেলায় অবশ্য নানা শব্দ থাকে। গেট খোলার শব্দ, পাশের বাড়ির টিভি, রাস্তায় রিকশার ঘণ্টা, রান্নাঘরে বাসনের টুংটাং। রাত বাড়লে একে একে সব থেমে যায়। শেষে শুধু দেয়াল ঘড়ির কাঁটাটা টিকটিক করে।


একসময় এই বাড়িতে চারজন মানুষ থাকত। অভিক, নিশি, মেঘ আর মিশি। নিশি মারা গেছে চার বছর হলো। মেঘের বিয়ে হয়েছে, নিজের সংসারে থাকে। মিশি চাকরি করে অন্য শহরে। তিনজনই এখন অন্য জায়গায়।


অভিক একা রয়ে গেছে পুরোনো ঘরটায়।


রাতে খাওয়া শেষ করে কিছুক্ষণ চুপচাপ বসে থাকে সে। তারপর ওষুধ খায়। রান্নাঘরের বাতি নিভিয়ে ঘরে এসে বিছানার পাশের ছোট টেবিলের ড্রয়ারটা খোলে। ভেতর থেকে বের করে আনে একটা কালো খাতা। খাতাটা সবসময় ওই ড্রয়ারেই থাকে।


প্রথম পাতায় বড় করে লেখা, আমি মারা গেলে।


তার নিচে ছোট ছোট করে লেখা, ব্যাংকের কাগজপত্র আলমারির ওপরের তাকে আছে। মেঘের নামে করা লাল ফাইলটা দ্বিতীয় তাকে। মিশির জন্য একটা চিঠি আছে, ডান পাশের ড্রয়ারে। চশমাটা যেন ফেলে না দেয়। বারান্দার গাছগুলোতে পানি দিতে হবে। নিশির শাড়িগুলো মেঘকে দিতে হবে। শেষ লাইনটার পাশে এসে কলমটা একটু থেমে ছিল।


মেঘ যে নিশির শাড়ি নেবে না, সেটা অভিক জানে। তবুও লিখে রেখেছে। কিছু কথা মানুষ জানে হবে না, তারপরও লিখে রাখে।


শুক্রবারে মেঘ ফোন করে। বাবা, কেমন আছো, ভালো আছি, ওষুধ খেয়েছো, হ্যাঁ খেয়েছি, ডাক্তার দেখিয়েছো, দেখিয়েছি। একা থাকতে কষ্ট হয় না, না রে, আমরা তো আছি বাবা। অভিক আর কিছু বলে না।


ফোনটা কেটে গেলে সে কিছুক্ষণ মোবাইলটা হাতে নিয়ে বসে থাকে। তারপর খাতাটা খুলে লেখে, মেঘকে বলা হয়নি, ও ফোন করার আগেই আমি ওর ফোনের জন্য অপেক্ষা করি। লেখাটা কিছুক্ষণ পড়ে, তারপর কলম দিয়ে কেটে দেয়।


এক রাতে মিশি ফোন করে। অনেকক্ষণ এটা-ওটা কথা বলার পর হঠাৎ জিজ্ঞেস করে, বাবা, তুমি কি আমাদের ওপর রাগ করে আছো। অভিক জানালার দিকে তাকিয়ে বলে, কেন রাগ করব। জানি না, মনে হলো। না রে, তুই বেশি ভাবিস। মিশি বলে, আগামী মাসে আসব। আয়। দুদিন থাকব। দুদিন কেন, যতদিন ইচ্ছে থাক। তারপর মিশি আস্তে করে বলে, বাবা, তুমি থাকবে তো।


প্রশ্নটা শুনে অভিকের হাত থেমে যায়। কয়েক সেকেন্ড পর বলে, থাকব।


সেদিন খাতায় আর কিছু লেখে না। শুধু তারিখটা লিখে রাখে।


কয়েকদিন পর মেঘ একটা সোয়েটার পাঠায়। সাথে একটা ছোট কাগজ, শীত আসছে, নিজের যত্ন নিও। সোয়েটারটা হাতে নিয়ে অনেকক্ষণ বসে থাকে অভিক। নতুন কাপড়ের একটা গন্ধ আছে।


হঠাৎ মনে পড়ে, মেঘ ছোটবেলায় শীতের সকালে স্কুলে যাওয়ার সময় সোয়েটার পরতে চাইত না। নিশি বলত, তুমি ওকে পরিয়ে দাও তো। অভিক জোর করে মেঘের গায়ে সোয়েটার পরিয়ে দিত, মেঘ মুখ বাঁকিয়ে থাকত। সেই মুখটা মনে পড়তেই অভিকের ঠোঁটে একটু হাসি আসে। হাসিটা বেশিক্ষণ থাকে না। সে আস্তে করে বলে, মনে পড়ল? ঘরে কেউ নেই, কোনো উত্তর আসে না।


কয়েকদিন পর আবার খাতা খোলে। লেখে, আমার মৃত্যুর পর কেউ যেন নিজেকে দোষী মনে না করে। একটু পর লাইনটা কেটে দেয়। তার নিচে লেখে, আমি কারও ওপর রাগ করে যাচ্ছি না। এটাও কেটে দেয়। অনেকক্ষণ খাতাটা খোলা পড়ে থাকে। শেষে লেখে, তোমরা ব্যস্ত ছিলে, আমি বুঝতাম। এই লাইনটার ওপর আর দাগ দেয় না।


দিনগুলো এভাবেই চলতে থাকে। মেঘ কয়েকদিন ফোন করে না, মিশিও না। অভিকও কাউকে ফোন করে না। সকালে উঠে চা বানায়, বারান্দায় বসে রাস্তা দেখে, দুপুরে একা খায়, বিকেলে ওষুধ খায়। রাতে খাবার গুছিয়ে রেখে কালো খাতাটা খুলে বসে।


কখনো লেখে, ফ্রিজটা মাঝে মাঝে বন্ধ হয়ে যায়। বাথরুমের কলটা ঠিক করতে হবে। মানিপ্ল্যান্টের টবটা বদলাতে হবে।


একদিন লেখে, আমার কিছু নেই। তারপর অনেকক্ষণ কলম হাতে বসে থাকে। শেষে নিচে ছোট করে লেখে, আসলে আছে।


সেদিন রাতে ঘুমানোর আগে নিশির ছবিটার দিকে তাকিয়ে ছিল। ছবিতে নিশি হাসছে। অভিক বলেছিল, কাল কথা হবে। কী কথা বলবে, সে নিজেও জানে না।


পরদিন সকালে পাশের বাড়ির লোকজন দরজা খুলে দেখে অভিক বিছানায় শুয়ে আছে। ঘুমের মধ্যেই চলে গেছে।


মেঘ দুপুরের পর আসে। ঘরে ঢুকে প্রথমে কিছুই অস্বাভাবিক মনে হয় না। টেবিলের ওপর বাবার চশমা, চেয়ারের পেছনে নতুন সোয়েটারটা, রান্নাঘরে ধোয়া একটা কাপ, গুছিয়ে রাখা ওষুধের পাতা, দেয়ালে নিশির ছবি। মেঘ দরজার কাছে দাঁড়িয়ে থাকে। মনে হয় বাবা হয়তো পাশের ঘরেই আছে, একটু পর বেরিয়ে এসে বলবে, মেঘ এসেছিস।


কেউ কিছু বলে না।


আলমারি খুলতে গিয়ে মেঘ কালো খাতাটা পায়। প্রথমে সাধারণ কথাগুলো পড়ে, ব্যাংকের কাগজ, লাল ফাইল, চিঠি, গাছের পানি, নিশির শাড়ি। তারপর সেই লাইনটা, তোমরা ব্যস্ত ছিলে, আমি বুঝতাম।


মেঘের চোখ ঝাপসা হয়ে আসে। শেষ পাতাটা খোলে। সেখানে মাত্র একটা লাইন লেখা, শুধু মাঝে মাঝে মনে রেখো, আমি কিন্তু শেষ দিন পর্যন্ত তোমাদের জন্য অপেক্ষা করেছিলাম।


মেঘ আর পড়তে পারে না। চোখের পানি খাতার পাতায় পড়ে।


বিকেলের আলো জানালা দিয়ে ঘরে ঢুকছে। মেঘ বাবার চশমাটা হাতে নেয়। কাচের ভেতর দিয়ে ঘরটা ঝাপসা দেখায়। চশমাটা আবার টেবিলে রেখে দেয়, তারপর বাবার হাতের লেখার ওপর আঙুল ছুঁয়ে বসে থাকে।


ঘরটা আগের মতোই আছে। চেয়ার আছে, টেবিল আছে, চশমা আছে, সোয়েটার আছে, নিশির ছবি আছে। শুধু অভিক নেই।


টেবিলে খাতাটা খোলা পড়ে আছে, পাশে কলমটা। আর ঘরে পড়ে আছে একটা মানুষের রেখে যাওয়া অবশিষ্ট।

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 1 বছর 3 সপ্তাহ ধরে, এবং এ পর্যন্ত 1435 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 29003। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 4804
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
মায়ের নম্বরে রিচার্জ মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন আবেগঘন ছোটগল্প। ১৯ অক্টোবর ২০২৬ মায়ে[...] বিস্তারিত পড়ুন...
10 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
বাবার পুরোনো জুতো মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন আবেগঘন ছোটগল্প। ১৯ অক্টোবর ২০২৬ অফিসের অ&#[...] বিস্তারিত পড়ুন...
4 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
বিয়ের দিন পাওয়া চিঠি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ভালোবাসা ও বিচ্ছেদের ছোটগল্প ১৯ অক্টোব[...] বিস্তারিত পড়ুন...
3 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
যে ছেলেটি প্রতিদিন স্কুলের সামনে দাঁড়াত মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন শিশুর জীবনসংগ্রাম[...] বিস্তারিত পড়ুন...
4 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
প্রতিদিন তিনজনের খাবার রান্না করেন মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন একাকিত্ব ও স্মৃতির ছোটগ[...] বিস্তারিত পড়ুন...
5 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    1419 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    7 মন্তব্য

    69 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. প্রিন্স ফ্রেরাসে

    126 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    6 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. জামিনুল রেজা

    83 পয়েন্ট

    1 প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    4 টি আইডিয়া ব্লগ

  4. শামীমা আকতার

    82 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    4 টি আইডিয়া ব্লগ

...