Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

নিঃশব্দ মাটির নিচে আমার বাবা

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
5 বার প্রদর্শিত
করেছেন (16,865 পয়েন্ট)   15 ঘন্টা পূর্বে "গল্প" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

নিঃশব্দ মাটির নিচে আমার বাবাimage

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

ছোটগল্প।এপ্রিল ১৮, ২০২৬


কবরে শোয়ানো হচ্ছে আমার বাবাকে।


আমি স্থির হয়ে অপলক তাকিয়ে আছি কবরের গর্তের দিকে। চারপাশে মানুষের ভিড়, নড়াচড়া, কিছু চাপা কান্না—সব মিলিয়ে একটা শব্দহীন শব্দ তৈরি হয়েছে, যেটা কেবল মাথার ভেতরেই বাজছে।


কিংকর্তব্যবিমূঢ় দাঁড়িয়ে আছি আমি।

এই শব্দটা এখন শুধু শব্দ না, আমার পুরো অবস্থাটা।


গোলমেলে লাগছে পুরো পরিস্থিতিটাকে।

বুঝে উঠতে পারছি না কী করবো, কোথায় তাকাবো, কীভাবে দাঁড়াবো।


আমার মনে হচ্ছে আমি এখানে দাঁড়িয়ে আছি, কিন্তু একই সাথে মনে হচ্ছে আমি এখানে নেই। যেন শরীরটা জায়গায় আছে, আর আমি কোথাও একটু দূরে সরে গেছি—এই ঘটনার বাইরে, এই সময়ের বাইরে।


পৃথক হয়ে গেছি আমি এই সবের থেকে।


এটা এক অদ্ভুত বিচ্ছিন্নতা। আগে কখনও হয়নি এমন অনুভূতি। চারপাশে যা ঘটছে, তার সাথে আমার ভেতরের কোনো সংযোগ খুঁজে পাচ্ছি না।


মনে হতে লাগলো, হয়তো ঘুমের মাঝের কোনো বাজে স্বপ্ন দেখছি।

যে স্বপ্নটা খুব দ্রুত ভেঙে যাবে। আমি উঠে বসব, পানি খাব, আর সবকিছু ভুলে যাব।


কিন্তু ঘুম ভাঙছে না।


বরং সময়টা আরও ভারী হয়ে যাচ্ছে।


আজ কেন যেন মনে পড়ছে,

একদিন এই কবরের রাস্তার পাশ দিয়েই বাবা আর আমরা হাঁটতাম।


পাকা সড়ক ধরে বাড়ি ফিরতাম।


সেই সময় হাঁটা মানে ছিল সাধারণ একটা কাজ। কোনো ভার ছিল না। রাস্তার পাশে ছোট ছোট দোকান, দূরে গাছের ছায়া, আর বাবার ধীর অথচ নিশ্চিত পদক্ষেপ। আমরা তার পাশে হাঁটতাম, কখনো এগিয়ে যেতাম, কখনো পিছিয়ে পড়তাম।


হাঁটতে হাঁটতে আমরা আগামী দিনের সুন্দর একটা স্বপ্নের কথা বলতাম।


বাবা বলতেন, “একদিন সব সহজ হবে।”

আমরা বিশ্বাস করতাম।


আমাদের চোখে ছিল আগামীর আলোর মতো স্বপ্ন।

যে স্বপ্ন এখন মনে হচ্ছে অন্য কারও জীবনের অংশ ছিল। আমার না।


কেন জানি না আজ সেই কথাগুলোই বড্ড বেশি মনে পড়ছে।


আর মনে পড়ছে, বাবার হাঁটার শব্দটা।

তার জুতো মাটিতে লাগার একটা নির্দিষ্ট শব্দ ছিল। সেই শব্দটা এখন এই নীরবতার মধ্যে হারিয়ে গেছে, কিন্তু ভেতরে ভেতরে বাজছে।


এখন এ মুহূর্তে মনে হচ্ছে—সে সব স্মৃতি যেন অর্থহীন।

মনে হচ্ছে এই ঘটনাটি মিথ্যে।

ঘটনাগুলো আদৌ কখনও ঘটেনি এই পৃথিবীতে।


শুধু একটা দৃশ্য চলছে, আর আমি সেটা দেখছি বাইরে থেকে।


আর আমি দাঁড়িয়েই আছি,

কেমন যেন অস্পষ্ট লাগছে পুরো পরিস্থিতিটা।


বাবার শবদেহ সাদা কাফনে মোড়া।

তিনি এখন আর সেই মানুষ না, যিনি কথা বলতেন, হাঁটতেন, রাগ করতেন। এখন তিনি শুধু একটি নীরব উপস্থিতি।


কবরে শোয়ানো হচ্ছে,

মাটির আচ্ছাদনে ঢেকে দেওয়া হচ্ছে ধীরে ধীরে।


প্রথমে পা, তারপর বুক, তারপর মুখ—সব একে একে হারিয়ে যাচ্ছে মাটির নিচে।


এ যেন শবদেহকে ঢেকে দেওয়া হচ্ছে না,

ঢেকে দেওয়া হচ্ছে আমার সমস্ত ভালোবাসার স্মৃতিকে।


প্রতিটি মাটির স্তর নামার সাথে সাথে মনে হচ্ছে, আমার ভেতরের কোনো একটা অংশও চাপা পড়ে যাচ্ছে।


আমি বুঝতে পারছি না এটা শোক নাকি শূন্যতা।

নাকি দুটোই একসাথে।


চারপাশে মানুষ কমে আসছে। কেউ কেউ চলে যাচ্ছে, কেউ শেষবারের মতো দাঁড়িয়ে আছে। তাদের পায়ের শব্দ ধীরে ধীরে দূরে সরে যাচ্ছে।


আর আমি থেকে যাচ্ছি।


সব শেষে সবাই চলে গেলো।


মাটি এখন স্থির।

যেখানে একটু আগে বাবার উপস্থিতি ছিল, সেখানে এখন শুধু একটা নামহীন জায়গা।


বসে থাকলাম আমি আর মাটির গভীরে আমার বাবা।


সময় কেটে যাচ্ছে কি যাচ্ছে না, বুঝতে পারছি না। শুধু মনে হচ্ছে—এই জায়গাটা আর পৃথিবীর অংশ না। এটা যেন একটা থেমে যাওয়া মুহূর্ত, যেটা আর কখনও এগোবে না।


আমি জানি না এখন আমি কীভাবে উঠব, কীভাবে ফিরব।


শুধু বসে আছি।

আর মনে হচ্ছে, এই মাটির নিচে কোথাও এখনো বাবার নিঃশ্বাসের শেষ শব্দটা আটকে আছে।


আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 6 মাস 3 সপ্তাহ ধরে, এবং এ পর্যন্ত 836 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 16865। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 3765
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
একজন ভালো বাবা হওয়ার আগে ভালো স্বামী হওয়া জরুরি  মোহাম্মদ জাহিদ হোসন বিশ্লেষণধর্[...] বিস্তারিত পড়ুন...
38 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
শেষটা শুধু আমার   শামীমা আকতার কুত কুত খেলবি? না, চল মার্বেল। কাল কিন্তু ডাংগুলি—[...] বিস্তারিত পড়ুন...
24 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
বসুর কবিতায় আমার আত্মস্বীকারোক্তি —রফিক আতা— যদি আমি ম’রে থাকতে পারতুম— যদি পা[...] বিস্তারিত পড়ুন...
52 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
রজনীগন্ধার দিন মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন  ছোট গল্প। এপ্রিল ১৯,২০২৬ জানালার ধারে দাঁড়[...] বিস্তারিত পড়ুন...
3 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
ফেরা কি সম্ভব মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোটগল্প।এপ্রিল ১৭, ২০২৬ হাসপাতালের কেবিনে প্&#[...] বিস্তারিত পড়ুন...
5 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    1095 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    54 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. প্রিন্স ফ্রেরাসে

    127 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    6 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. আল-মামুন রেজা

    105 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    5 টি আইডিয়া ব্লগ

  4. Fatematuj Johora

    43 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    2 টি আইডিয়া ব্লগ

...