Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

শেষ দেখা হয়নি

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
5 বার প্রদর্শিত
করেছেন (30,153 পয়েন্ট)   15 ঘন্টা পূর্বে "গল্প" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

শেষ দেখা হয়নিimage

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

ছোটগল্প। ৩১ অক্টোবর ২০২৬



বাবার ফোনটা এসেছিল সকাল ৯টা ১৭ মিনিটে। রাশেদ তখন অফিসে বসে সহকর্মীর সঙ্গে তর্ক করছিল। ফোনটা কেটে দিয়ে সে আবার কাজে মন দিয়েছিল।


কিছুক্ষণ পর বাবার নম্বর থেকে আবার ফোন এল। এবারও ধরতে ইচ্ছে করছিল না। তবু ফোনটা ধরল।


ওপাশ থেকে ছোট বোনের গলা শোনা গেল।


‘ভাইয়া, তুমি কোথায়? বাবা আর নেই।’


রাশেদ চেয়ারে বসেই রইল। টেবিলের ওপর খোলা ফাইল, পাশে আধখাওয়া চা। সহকর্মী কী একটা বলছিল, সে শুনতে পেল না।


শুধু বলল, ‘সকালে তো কথা হলো!’


বোন কিছু বলল না। ফোনের ওপাশে কান্নার শব্দ শোনা গেল।


সকালে বাবা বলেছিলেন, ‘বাবা, সময় পেলে একবার বাড়িতে আসিস। তোর সঙ্গে কিছু কথা ছিল।’


রাশেদ তখন কম্পিউটারের পর্দায় চোখ রেখে বলেছিল, ‘এখন সম্ভব না বাবা। সপ্তাহ শেষে আসব।’


‘আচ্ছা, কাজ কর।’


বাবা ফোন রেখে দিয়েছিলেন।


বাড়িতে পৌঁছে রাশেদ উঠানে লোকজনের ভিড় দেখল। ঘরের ভেতর থেকে আগরবাতির গন্ধ আসছিল। সাদা কাপড়ে ঢাকা বাবার শরীরটা মেঝেতে রাখা। মা মাথার কাছে বসে আছেন। তাঁর আঁচল এক পাশে সরে গেছে, সেদিকে খেয়াল নেই।


রাশেদ বাবার মুখের কাপড়টা সরাল।


চেনা মুখ। বন্ধ চোখ। কপালের পাশে চুলগুলো এলোমেলো হয়ে আছে। মনে হলো, কেউ একটু হাত বুলিয়ে দিলেই চুলগুলো ঠিক হয়ে যাবে।


সে বাবার হাত ধরল। হাতের আঙুলগুলো শক্ত হয়ে আছে।


পেছন থেকে একজন বলল, ‘রাশেদ, একটু সরে দাঁড়াও। লোকজন আসবে।’


রাশেদ হাতটা ছেড়ে দিল।


বাবাকে কবর দিয়ে বাড়ি ফেরার পর আত্মীয়স্বজনের কেউ চা খাচ্ছিলেন, কেউ নিচু গলায় কথা বলছিলেন। রাশেদ সবার পাশ কাটিয়ে বাবার ঘরে ঢুকল।


বিছানার চাদরটা টানটান করে পাতা। বালিশের পাশে চশমা। টেবিলে ওষুধের বাক্স, পানির গ্লাস আর পুরোনো মোবাইল ফোন।


সে ফোনটা হাতে নিল। কলের তালিকায় নিজের নাম খুঁজে পেল। শেষ কলের সময় সকাল ৯টা ১৭ মিনিট।


রাশেদ পর্দাটার দিকে তাকিয়ে রইল। তারপর ফোনটা আগের জায়গায় রেখে দিল।


ড্রয়ারের ভেতর কাগজপত্র খুঁজতে গিয়ে একটা খাম পেল। খামের ওপর তার নাম লেখা। বাবার হাতের লেখা—কিছুটা কাঁপা, তবু অক্ষরগুলো চেনা।


ভেতরে ছোট্ট একটা চিঠি।


‘রাশেদ,


তোর সঙ্গে কিছু কথা ছিল। তুই ছোট থাকতে অনেক কথা বলতিস। এখন তোকে ফোন করলেও তাড়াহুড়ো থাকে। ভাবলাম, সামনে বসে গল্প করব। তোর ছোটবেলার একটা ছবি পেয়েছি, সেটা দেখাব।


সময় হলে আসিস।


—বাবা।’


চিঠির নিচে কোনো তারিখ ছিল না।


রাশেদ খামটা বিছানার ওপর রাখল। ড্রয়ারের ভেতর আরও কিছু কাগজ ছিল। ওষুধের দোকানের বিল, ডাক্তারের পরামর্শ, কয়েকটা পরীক্ষার রিপোর্ট। একটা বিলের পেছনে বাবার হাতের লেখায় একটা তারিখের পাশে লেখা—‘রাশেদ আসবে।’


তারিখটা তিন মাস আগের।


সেদিনও সে বাড়ি যেতে পারেনি। অফিসে কাজ ছিল। বাবাকে বলেছিল, পরের সপ্তাহে আসবে।


রাশেদ কাগজটা উল্টে আবার দেখল। তারিখের পাশে আর কিছু লেখা নেই।


মা দরজায় এসে দাঁড়ালেন।


‘কী খুঁজছিস?’


‘কিছু না, মা।’


মা টেবিলের দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘তোর বাবা কয়েক দিন ধরে চশমাটা খুঁজছিল।’


রাশেদ চিঠিটা ভাঁজ করতে গিয়ে থেমে গেল।


‘ছবিটা কোথায়, মা?’


মা বিছানার নিচে রাখা একটা পুরোনো অ্যালবাম বের করে দিলেন। অ্যালবামের মলাটে ধুলো জমেছে। পাতা উল্টাতে উল্টাতে রাশেদ একটা ছবি পেল। স্কুলের পোশাক পরা ছোট্ট সে, পাশে বাবা। বাবার এক হাত তার কাঁধে, অন্য হাতে সাইকেলের হ্যান্ডেল।


ছবির পেছনে লেখা, ‘রাশেদের প্রথম স্কুলে যাওয়ার দিন।’


ছবিটা কতবার দেখেছে সে, মনে করতে পারল না।


মা অ্যালবামটা নিয়ে বিছানার এক পাশে বসে রইলেন। রাশেদ কিছু বলতে চেয়েও বলল না। ঘরের বাইরে থালাবাসনের শব্দ হচ্ছিল। কেউ একজন মাকে ডাকল। মা উঠতে গিয়ে আবার ফিরে তাকালেন।


‘খাবি কিছু?’


রাশেদ মাথা নাড়ল।


মা চলে যাওয়ার পর সে ছবিটা চিঠির ভেতর রেখে দিল। খামটা বন্ধ করতে গিয়ে দেখল, এক পাশের আঠা শুকিয়ে গেছে। চাপ দিয়েও লাগল না।


রাতে বাড়ির লোকজন চলে গেলে ঘরটা আরও ফাঁকা হয়ে গেল। পাশের ঘরে মা শুয়ে আছেন। মাঝে মাঝে তাঁর কাশির শব্দ শোনা যাচ্ছে।


রাশেদ বাবার বিছানায় বসে টেবিলের জিনিসগুলো দেখতে লাগল। চশমাটা যেখানে ছিল, সেখানেই পড়ে আছে। এক কাঁচের কোণে ছোট একটা দাগ।


সে চশমাটা হাতে নিল। কিছুক্ষণ ঘুরিয়ে দেখল, তারপর চোখে দিল।


ঘরের দেয়াল, টেবিল, দরজার পাশের ক্যালেন্ডার—সব ঝাপসা লাগছিল।


রাশেদ চশমাটা খুলে কাঁচটা জামার কোণা দিয়ে মুছল। আবার চোখে দিল। তবু ঝাপসা।


বাইরে তখন শেষ রাতের বাতাসে জানালার পর্দাটা একটু একটু নড়ছিল।


রাশেদ চশমাটা টেবিলের ওপর আগের জায়গায় রেখে দিল। পাশে বাবার মোবাইল ফোন। পর্দা কালো হয়ে আছে।


সে চিঠিটা ভাঁজ করে ড্রয়ারে রাখল। খামটা আর বন্ধ করল না।

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 1 বছর 1 মাস ধরে, এবং এ পর্যন্ত 1492 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 30153। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 5149
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
যার কান্না বিশ্বাস করা হয়নি পারিবারিক পক্ষপাত ও মানসিক অবহেলা মোহাম্মদ জাহিদ হো&#[...] বিস্তারিত পড়ুন...
15 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
যে চিঠি কখনো পোস্ট হয়নি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছয় পর্বের ছোটগল্প ২৪ আগষ্ট, ২০২৬ প[...] বিস্তারিত পড়ুন...
59 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
শোনা হয়নি যে কথা মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোটগল্প | ২৯ জুলাই, ২০২৬ অনেক শিশু কথা বলতে চ[...] বিস্তারিত পড়ুন...
63 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
 বাবাকে বলা হয়নি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোট গল্প।  ২৩ জুন,২০২৬ আদনান প্রতিদিন বাব[...] বিস্তারিত পড়ুন...
117 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
বাবার মৃত্যুর পর দুই ভাইয়ের দেখা মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন পারিবারিক ছোটগল্প ১৮ অক্ট[...] বিস্তারিত পড়ুন...
16 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    2549 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    12 মন্তব্য

    126 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. Mayabi Ilmaz Megh

    393 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    19 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. মিস্টার পেন্সিল

    253 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    12 টি আইডিয়া ব্লগ

  4. প্রিন্স ফ্রেরাসে

    127 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    6 টি আইডিয়া ব্লগ

...