Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

শেষ না হওয়া শ্বাস

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
400 বার প্রদর্শিত
করেছেন (30,112 পয়েন্ট)   20 এপ্রিল "সাহিত্য(বিশ্লেষণ ধর্মী)" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

শেষ না হওয়া শ্বাসimage

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

ছোট গল্প

এপ্রিল ২০, ২০২৬



সিসিইউর নিঃশব্দ সময় ও এক জীবনের ভেতর টিকে থাকার ক্ষুদ্র আকাঙ্ক্ষা, নাকে লাগানো নলটা অস্বস্তিকর হয়ে উঠেছে। খুলে ফেলতে ইচ্ছে করে, কিন্তু হাত ওঠে না। স্যালাইনের ফোঁটা পড়ছে—একটা, দুইটা, তিনটা। ধীরে, নিয়ম মেনে। শরীরের ভেতর দিয়ে ঠান্ডা একটা অনুভূতি ছড়িয়ে পড়ছে, যেন ভেতরের তাপমাত্রাই বদলে যাচ্ছে।


আজ নিজের শরীরটাকে অচেনা লাগছে। বিছানাটা সাদা, অতিরিক্ত পরিষ্কার, এতটাই যে সেখানে শুয়ে থাকা মানুষটাকে আরও বেশি আলাদা করে দেয়। যার জন্ম আছে, তার মৃত্যু আছে—কথাটা এতবার শুনেছি যে এখন আর আলাদা কিছু মনে হয় না। তবু এই জায়গায় এসে মনে হচ্ছে, কথাটা শুধু শোনা না, শরীর দিয়ে বোঝা লাগে।


সিসিইউর ভেতরে সময় আলাদা। বাইরের পৃথিবী থেকে কেটে নেওয়া একটা অংশ, যেখানে মিনিটগুলো স্পষ্টভাবে এগোয় না। পাশে কারও শ্বাস ভারী হয়ে আসে, আবার থেমে যায়। কোথাও একটা মেশিনের শব্দ, কোথাও নিচু গলায় ডাক। এসব শব্দ আগে কখনো এতটা কাছের মনে হয়নি।


চোখ খোলা রাখতে কষ্ট হচ্ছে। তবু ঘুমাতে ইচ্ছে করছে না। মনে হয়, চোখ বন্ধ করলে হয়তো কিছু একটা পিছিয়ে যাবে, ঠিক ধরা দেবে না।


হার্ট মনিটরের শব্দ—টু… টু…—একই ছন্দে চলছে, কিন্তু হঠাৎ কখন যেন একটু থেমে যায়। সেই থেমে যাওয়াটা বেশি শোনা যায়, শব্দটার চেয়ে।


এই অবস্থায় বাঁচতে ইচ্ছে করছে—এটা নিজেই অদ্ভুত লাগে। আগে কখনো ভাবিনি, ভালোবাসা শরীরের ভেতরে এতটা ভার তৈরি করতে পারে। এখন প্রশ্নটা ঘুরে আসে—ভালোবাসা কি শুধু আনন্দের জায়গা? নাকি এটা একধরনের দায়ও? মেয়েটার চোখের পানি দেখে মনে হলো, হয়তো দায়ই।


চারপাশের নীরবতা পুরোপুরি নীরব না। শব্দ আছে, কিন্তু ভাঙা ভাঙা। পাশের বেডে কেউ কষ্ট করে শ্বাস নিচ্ছে। নার্সের দ্রুত পায়ের শব্দ মাঝে মাঝে থেমে যাচ্ছে। এই সবকিছু একসাথে মিলে একটা অদ্ভুত বাস্তবতা তৈরি করে—যেটা বাইরে থেকে বোঝা যায় না, ভেতরে থাকতে হয়।


নাকে লাগানো অক্সিজেনটা আরাম দিচ্ছে না। বরং মনে হচ্ছে শরীরকে কিছু একটা ধরে রেখেছে জোর করে। স্যালাইনের ফোঁটা পড়া এখনও চলছে। প্রতিটা ফোঁটা আলাদা মনে হয় না, তবু গুনতে ইচ্ছে করে।


চোখ ধীরে ধীরে ভারী হয়ে আসছে। কিন্তু ঘুমিয়ে পড়া যেন অনুমতি চায় না। মনে হয়, চোখ বন্ধ করলে কিছু একটা বাদ পড়ে যাবে। কী সেটা বোঝা যায় না, শুধু একটা টান থাকে।


মনিটরের শব্দ আবার একইভাবে চলছে—টু… টু… টু… তারপর—হঠাৎ থেমে গেল।


একটা লম্বা ফাঁক।


কিছুক্ষণ কিছু নেই। শুধু স্থিরতা। তারপর আবার পায়ের শব্দ, কণ্ঠস্বর, দ্রুত চলাফেরা। আবার শুরু হলো—টু… টু…


কিন্তু সেই মাঝের ফাঁকটা আর ফিরে আসে না।


তারপর কপালে ঠান্ডা একটা স্পর্শ। ধীরে ধীরে চোখ খুলতে হলো।


দেখলাম, আমার মেয়েটা দাঁড়িয়ে আছে। বয়স এগারো। ছোট্ট হাতটা খুব সাবধানে কপালে রাখা, যেন বেশি চাপ দিলে আমি ভেঙে যাব। চোখে পানি জমে আছে, সে আটকানোর চেষ্টা করছে, কিন্তু পারছে না পুরোটা।


আমি কিছু বলতে চাইলাম, কিন্তু গলা থেকে শব্দ বের হলো না।


এই দৃশ্যটা নতুন না, তবু নতুন মনে হলো। হয়তো আগে এভাবে দেখিনি। ভালোবাসা যে এতটা নিঃশব্দ হতে পারে, এতটা ভেঙে পড়া, আবার এতটা ধরে রাখার চেষ্টা—এটা আগে চোখে পড়েনি।


মনে হলো, আমি এখনও পুরো শেষ হয়ে যাইনি।


শরীর ক্লান্ত, কিন্তু ভেতরে কোথাও একটা টান রয়ে গেছে—খুব পাতলা, কিন্তু কেটে যায়নি।


অন্ধকারটা পুরো নামে না কখনো। কোথাও না কোথাও আলো থাকে, যদিও সেটা স্পষ্ট না। সেই আলো দেখার মতো অবস্থাও সবসময় থাকে না, তবু তার অস্তিত্ব অনুভব করা যায়।


সেই মুহূর্তে বুঝলাম, বেঁচে থাকার ইচ্ছেটা কোনো দর্শন না। লজ্জার মতো ছোট, ব্যক্তিগত একটা টান। হয়তো, এটাই।

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 1 বছর 1 মাস ধরে, এবং এ পর্যন্ত 1490 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 30112। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 3771
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


 যে চিঠিগুলো কখনো শেষ হয় না মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বিশ্লেষণধর্মী। মে ১২, ২০২৬ রঞ্জন &[...] বিস্তারিত পড়ুন...
467 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
মা, তোমার কাছে আমার শেষ না-হওয়া চিঠি 📨প্রিয়: মা 🥹❤️‍🩹মা, তুমি কি ওপার থেকে আমাকে দেখতে &#[...] বিস্তারিত পড়ুন...
54 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
একজন ভালো বাবা হওয়ার আগে ভালো স্বামী হওয়া জরুরি  মোহাম্মদ জাহিদ হোসন বিশ্লেষণধর্[...] বিস্তারিত পড়ুন...
546 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
শেষ পর্যন্ত কেউ জেতেনি   পর্ব–৯ : যে প্রশ্নের উত্তর কারও কাছে ছিল না   মোহাম্মদ জাহ[...] বিস্তারিত পড়ুন...
56 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
শেষ কয়েক ঘণ্টার হিসাব মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বিশ্লেষণমূলক লেখা | ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ [...] বিস্তারিত পড়ুন...
47 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    2508 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    12 মন্তব্য

    124 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. Mayabi Ilmaz Megh

    393 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    19 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. মিস্টার পেন্সিল

    252 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    12 টি আইডিয়া ব্লগ

  4. প্রিন্স ফ্রেরাসে

    127 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    6 টি আইডিয়া ব্লগ

...