Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

বাবাকে ব্লক করেছি

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
7 বার প্রদর্শিত
করেছেন (29,829 পয়েন্ট)   13 ঘন্টা পূর্বে "গল্প" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

বাবাকে ব্লক করেছিimage

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

ছোটগল্প। ২৭ অক্টোবর ২০২৬


আমি আমার বাবাকে ব্লক করে রেখেছি, কারণ তিনি প্রতিদিন আমাকে টাকা চেয়ে মেসেজ দেন।


কথাটা শুনলে অনেকেই আমাকে নিষ্ঠুর বলবে। হয়তো বলবেও, যে বাবা ছেলেকে মানুষ করেছেন, সেই বাবার কয়েকটা মেসেজ সহ্য করতে পারে না ছেলে!


কিন্তু কেউ জানে না, বাবার মেসেজগুলো পড়ার আগে আমি নিজের ব্যাংক অ্যাকাউন্টের ব্যালান্স দেখি। তারপর বিকাশ খুলি। তারপর ফোনটা পাশে রেখে অনেকক্ষণ চুপ করে বসে থাকি।


গত মাসে একটা চাকরির ইন্টারভিউ দিয়ে ফিরেছি। বাসায় ঢুকে জুতো খুলতে না খুলতেই বাবার ফোন।


“কী হলো?”

“হয়নি, বাবা।”


ওপাশে কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে তিনি বললেন, “আচ্ছা। চেষ্টা কর।”


এই কথাটুকু শুনে সেদিন একটু স্বস্তি পেয়েছিলাম। মনে হয়েছিল, বাবা বুঝতে পারছেন।


পরদিন সকালেই মেসেজ এল।

“বাবা, দুই হাজার টাকা পাঠাতে পারবি? 

ওষুধ কিনতে হবে।”


আমি মেসেজটা পড়ে অ্যাকাউন্ট দেখলাম। সেখানে সাতশো ত্রিশ টাকা। নিজের পকেটে ছিল একশো বিশ টাকা। আগের দিন বন্ধুর কাছ থেকে ধার করে বাসায় ফিরেছি।


বাবাকে লিখলাম, “আমার কাছে টাকা নেই, বাবা।”

কিছুক্ষণ পর উত্তর এল, “আচ্ছা।”


শব্দটা ছোট। কিন্তু ফোনটা হাতে নিয়ে বসে থাকতে থাকতে মনে হলো, বাবাকে আমি শুধু টাকার অভাবের কথা জানালাম না, নিজের অক্ষমতার কথাও আরেকবার স্বীকার করলাম।


দুদিন পর আবার মেসেজ।

“কিছু টাকা হলে পাঠাস। ঘরে বাজার নেই।”


তারপর আরেক দিন।

“তোর মায়ের ওষুধ শেষ।”


প্রতিবার একই ঘটনা। আমি টাকা পাঠাতে পারি না। বাবা আবার মেসেজ দেন। কোনো দিন রাগ করে কিছু বলেন না, কোনো দিন গালিও দেন না। শুধু প্রয়োজনের কথা জানান।


অথচ সেই কথাগুলোই আমার কাছে অসহ্য হয়ে উঠছিল।


বাবাও বলতেন, “তুই মানুষ হ। আমার আর কিছু লাগবে না।”


আমি মানুষ হয়েছি কি না, জানি না। শুধু চাকরিটা হয়নি।


এক রাতে বাবার মেসেজ এল।

“বাবা, পারলে পাঁচশো টাকা পাঠাস। খুব দরকার।”


আমি তখন বিছানায় শুয়ে ছিলাম। পাশের ঘরে বাড়িওয়ালা ভাড়া চাইতে এসে ফিরে গেছেন। আমার ফোনে বন্ধুর মেসেজ—আগের ধারটা কবে ফেরত দিতে পারব? 

রান্নাঘরে চাল প্রায় শেষ। পরদিন সকালে কী খাব, সেটাও ঠিক ছিল না।


বাবার মেসেজ পড়ে হঠাৎ রাগ হলো।


কেন তিনি আমাকে বারবার বলছেন? কেন বুঝতে পারছেন না, আমি নিজেই চলতে পারছি না? কেন তাঁর কাছে আমি এখনও সেই ছেলে, যে চাইলে কোথাও থেকে টাকা জোগাড় করে ফেলতে পারবে?


আমি লিখলাম, “বাবা, আমার কাছে টাকা নেই। আর কতবার বলব?”


মেসেজটা পাঠিয়ে ফোনটা ছুড়ে বিছানায় ফেলে দিলাম।


কয়েক মিনিট পর বাবার উত্তর এল।

“ঠিক আছে। বিরক্ত করলাম, বাবা। তুই ভালো থাকিস।”


আমি মেসেজটার দিকে তাকিয়ে রইলাম।


বাবা আমাকে ছোটবেলায় কখনো ‘বিরক্ত করলাম’ বলেননি। আমার জ্বর হলে সারা রাত মাথার কাছে বসে থাকতেন। স্কুলের বেতন দিতে দেরি হলে নিজের শখের জিনিস বিক্রি করেছিলেন—মা একদিন বলেছিলেন। সেই মানুষটাই এখন টাকা চাইতে গিয়ে আমাকে বিরক্ত করার জন্য ক্ষমা চাইছেন।


সেদিনই বাবাকে ব্লক করে দিলাম।


পরের কয়েক দিন ফোনটা একটু শান্ত ছিল। কোনো মেসেজ নেই, কোনো অনুরোধ নেই। সকালে ঘুম থেকে উঠে আর অ্যাকাউন্টের ব্যালান্স দেখতে হয় না। কেউ জিজ্ঞেস করে না, টাকা হয়েছে কি না।


তবু একদিন দুপুরে খেতে বসে মায়ের ফোন এল।

মা বললেন, “তোর বাবা তোকে ফোনে পাচ্ছে না। ফোনটা কি নষ্ট?”


আমি চুপ করে রইলাম।


মা আবার বললেন, “কাল থেকে তোর বাবার ওষুধ শেষ। আজ সকালে দোকানে গিয়েছিল, দাম শুনে ফিরে এসেছে।”


আমি ভাতের থালার দিকে তাকিয়ে বললাম, “আমার কাছে টাকা নেই, মা।”


মা কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বললেন, “জানি রে। তোর বাবাও জানে।”


ফোনটা কেটে গেল।


আমি ভাতের থালার পাশে ফোনটা রেখে বসে রইলাম। স্ক্রিনে বাবার নম্বরটা খুঁজতে গেলাম। ব্লক করা নম্বরের তালিকায় তাঁর নামটা সবার ওপরে।


আঙুলটা নামের ওপর রেখে অনেকক্ষণ বসে থাকলাম।


তারপর ফোনটা উল্টে রাখলাম। ভাত ঠান্ডা হয়ে গিয়েছিল।

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 1 বছর 1 মাস ধরে, এবং এ পর্যন্ত 1476 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 29829। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 5102
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
 বাবাকে বলা হয়নি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোট গল্প।  ২৩ জুন,২০২৬ আদনান প্রতিদিন বাব[...] বিস্তারিত পড়ুন...
116 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
আমি ভুল করেছি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বিশ্লেষণধর্মী। ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ যে বাবা কখন&[...] বিস্তারিত পড়ুন...
41 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
নিজের সঙ্গে কথা বলা বন্ধ করেছি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন জীবন ও জীবনবোধ | ১ সেপ্টেম্বর  ২[...] বিস্তারিত পড়ুন...
51 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
বাবাকে নিয়ে লেখা মানেই ভূমিহীন আবেগ  মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন অনুলিখন। জানুয়ারি  ০৩,[...] বিস্তারিত পড়ুন...
489 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
ঝোলে মাছের গন্ধ মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোটগল্প। ২৬ অক্টোবর ২০২৬ আমার মা মারা যাওয়&[...] বিস্তারিত পড়ুন...
6 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    2225 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    11 মন্তব্য

    110 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. Mayabi Ilmaz Megh

    210 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    10 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. প্রিন্স ফ্রেরাসে

    127 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    6 টি আইডিয়া ব্লগ

  4. জামিনুল রেজা

    83 পয়েন্ট

    1 প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    4 টি আইডিয়া ব্লগ

...