Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

বাবার পুরোনো জুতো

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
3 বার প্রদর্শিত
করেছেন (29,003 পয়েন্ট)   15 ঘন্টা পূর্বে "গল্প" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

বাবার পুরোনো জুতোimage

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

আবেগঘন ছোটগল্প। ১৯ অক্টোবর ২০২৬


অফিসের অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণপত্রটা হাতে পাওয়ার পর আরিফের প্রথম চিন্তা হয়েছিল, বাবা যেন না আসে।


প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক অনুষ্ঠানে এবার তাকে পুরস্কার দেওয়া হবে। ছবিসহ তার নাম ছাপা হয়েছে আমন্ত্রণপত্রে। সহকর্মীরা বলেছে, পরিবারের লোকজনকে নিয়ে যেতে। আরিফ মাকে ফোন করে শুধু অনুষ্ঠানের তারিখটা জানিয়েছিল। বাবার কথা ওঠার আগেই বলেছিল, “অনেক ভিড় হবে। তোমরা না এলেও চলবে।”


মা আর কিছু জিজ্ঞেস করেনি।


অনুষ্ঠানের দিন সকালে বাবা ফোন করেছিলেন। আরিফ তখন অফিসের গাড়িতে, পাশে দুজন সহকর্মী। ফোনটা কেটে দিয়ে পরে বার্তা পাঠিয়েছিল, ‘কাজে আছি। রাতে কথা বলব।’


বাবা আর ফোন করেননি।


সারাটা অনুষ্ঠান আরিফের ভালোই কেটেছিল। মঞ্চে উঠে পুরস্কার নেওয়ার সময় ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে হেসেছে। সহকর্মীরা হাততালি দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানের প্রধান তার কাজের প্রশংসা করেছেন। ছবিও উঠেছে বেশ কয়েকটা।


বাড়ি ফিরে রাতের খাবার খাওয়ার সময় দরজায় কড়া নাড়ল একজন কুরিয়ারকর্মী।


আরিফের নামে একটা বাক্স এসেছে। প্রেরকের জায়গায় বাবার নাম লেখা।


বাক্স খুলে দেখা গেল, ভেতরে মিষ্টি। পরিচিত দোকানের সাদা বাক্স, লাল সুতো দিয়ে বাঁধা। সঙ্গে ছোট্ট একটা কাগজ—বাবার হাতের লেখা।


‘পুরস্কার পাওয়ার খবর শুনলাম। সবাইকে মিষ্টি খাওয়াস।’


আরিফ কাগজটা টেবিলে রাখল। মিষ্টির বাক্সটা সরাতে গিয়ে নিচে ভাঁজ করা একটা রসিদ পেল। সম্ভবত দোকানদার মিষ্টির বাক্সের সঙ্গে ভুল করে দিয়ে দিয়েছে।


রসিদটা খুব ছোট। এক পাশে জুতোর দোকানের নাম, অন্য পাশে হাতে লেখা হিসাব।


জুতো সেলাই — ২০ টাকা।


তার নিচে মিষ্টির দাম—৫০০ টাকা।


তারিখটা আজকের।


আরিফ রসিদটা উল্টে দেখল। পেছনে আর কিছু লেখা নেই।


বাবার জুতোর কথা তার মনে পড়ল। কালচে বাদামি রঙের পুরোনো একজোড়া জুতো। সামনের দিকে চামড়া উঠে গেছে, পেছনের অংশটা বারবার সেলাই করা। বাবা বাড়ি থেকে বের হওয়ার আগে জুতোর ওপর হাত বুলিয়ে ধুলো মুছতেন। নতুন জুতো কেনার কথা বললে বলতেন, “এখনো তো চলে।”


আরিফ রসিদটা ভাঁজ করে মানিব্যাগে রাখল।


পরদিন বাবাকে ফোন করার জন্য নম্বরটা বের করেছিল। কল করার বোতামে আঙুল রেখেও চাপেনি। কী বলবে, বুঝতে পারেনি। অনুষ্ঠান নিয়ে বলবে? মিষ্টি পাওয়ার কথা বলবে? নাকি জিজ্ঞেস করবে, জুতোর সেলাই করতে মাত্র বিশ টাকা লাগল কেন?


ফোনটা রেখে দিয়েছিল।


এভাবে দিন গেল। অফিসের ছবিটা প্রতিষ্ঠানের পাতায় প্রকাশিত হলো। সহকর্মীরা অভিনন্দন জানাল। আরিফ ছবিটা নিজের পাতায়ও দিল। ছবিতে তার পায়ে চকচকে কালো জুতো। ছবির নিচে অনেক মন্তব্য জমল।


বাবার সঙ্গে কথা হলো না।


দুই সপ্তাহ পর ছুটির দিনে আরিফ বাড়ি গেল। মা দরজা খুলে বলল, “তোর বাবা বাজারে গেছে।”


বাবা ফিরলে আরিফ দেখল, তাঁর পায়ে সেই পুরোনো জুতো। সেলাইয়ের কালো সুতোটা পাশ থেকে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে।


দুপুরে খাওয়ার পর বাবা ঘুমিয়ে পড়লেন। আরিফ তাঁর ঘরে ঢুকে বিছানার পাশে রাখা জুতোর দিকে তাকাল। এক পাটি একটু কাত হয়ে পড়ে ছিল। সে জুতোটা তুলে সোজা করে রাখল।


তারপর নিজের পায়ের দিকে তাকাল। দামি জুতোর পালিশে ঘরের জানালার আলো চকচক করছে।


আরিফ কোনো কথা বলল না।


ঢাকায় ফিরে সে বাবার পাঠানো রসিদটা মানিব্যাগ থেকে বের করে টেবিলে রাখল। অফিসের অনুষ্ঠানের ছবিটাও প্রিন্ট করাল। ছবির পাশে রসিদটা রেখে অনেকক্ষণ বসে থাকল।


পরদিন সকালে অফিসে যাওয়ার আগে আলমারি খুলে নিজের কালো জুতোজোড়া বের করল। তারপর বাক্সের ভেতর থেকে বাবার পুরোনো জুতোটা তুলে পায়ে দিল।


জুতোর সামনের সেলাইটা আঙুলে খচখচ করছিল।


আরিফ ফিতা বাঁধল।

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 1 বছর 3 সপ্তাহ ধরে, এবং এ পর্যন্ত 1435 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 29003। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 5025
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
বাবার পুরোনো ঘড়ি    মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন   ছোটগল্প। ২৭ জুন, ২০২৬   বাবার সবচেয়ে [...] বিস্তারিত পড়ুন...
53 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
একটি জুতো  মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোটগল্প। মার্চ ২০, ২০২৬ রাফি রাস্তায় হাঁটছিল। &#[...] বিস্তারিত পড়ুন...
292 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
মায়ের ভাগে শুধু পুরোনো ঘর মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন পারিবারিক দ্বন্দ্বের ছোটগল্প ১৯[...] বিস্তারিত পড়ুন...
3 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
সিরিজ -আমাদের না-বলা কথা। গল্প-০২ পুরোনো জুতোর সেলাই মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন  ছোট গল্&[...] বিস্তারিত পড়ুন...
41 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
পুরোনো বইয়ের গন্ধ মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোটগল্প  | ১৬ মার্চ ২০২৬ বিকেলের আলো ফিকে [...] বিস্তারিত পড়ুন...
429 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    1419 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    7 মন্তব্য

    69 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. প্রিন্স ফ্রেরাসে

    126 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    6 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. জামিনুল রেজা

    83 পয়েন্ট

    1 প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    4 টি আইডিয়া ব্লগ

  4. শামীমা আকতার

    82 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    4 টি আইডিয়া ব্লগ

...