Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

নদীর তীরে বিচারালয়

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
367 বার প্রদর্শিত
করেছেন (20,258 পয়েন্ট)   03 মে "গল্প" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!
নদীর তীরে বিচারালয়

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

ছোট গল্প। মে ০৩, ২০২৬

নদীর ধারে বসে থাকা—এটা শুরুতে কোনো ঘটনা ছিল না। এখানে বিকেল প্রায়ই একই রকম আসে; চাঁদ ওঠে, আলো নামে, আর একটা স্থিরতা চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে যেটাকে নীরবতা বললে পুরোটা ধরা যায় না। শব্দগুলো যেন হারিয়ে যায় না, কেবল অন্য কোনো স্তরে সরে গিয়ে অপেক্ষা করে।

মেঘ চাঁদের সামনে এসে দাঁড়ায়, আবার সরে যায়। এই চলাচলের ভেতর কোনো পরিকল্পনা খুঁজে পাওয়া কঠিন। তবু দেখলে মনে হয় আকাশ নিজের ভেতরেই কোনো অনির্ণীত অবস্থায় আটকে আছে। দূরের একটা পাখির ডাক একবারই ভেসে আসে—না আনন্দ, না শোক; বরং অস্তিত্বের একটা অস্বস্তিকর ঘোষণা।

আমি একা ছিলাম। কিন্তু “একাকীত্ব” শব্দটা তখন ঠিক বসছিল না। ভেতরে একাধিক স্তর একই সঙ্গে সক্রিয়—একটা প্রশ্ন তুলছে, একটা উত্তর খুঁজছে, আরেকটা নীরবে পর্যবেক্ষণ করছে। এই অবস্থায় নিজেকে একক মানুষ বলে ভাবা কঠিন হয়ে পড়ে।

তবু সেদিন হঠাৎই একটা ধারণা এসে দাঁড়ায়—এটা কি কোনো বিচারালয়? কোনো কাঠামো নেই, কোনো নিয়ম নেই, তবু অনুভবটা সরানো যায় না। নদী সাক্ষীর মতো স্থির, চাঁদ দূরের কোনো পর্যবেক্ষকের মতো নীরব, আর বাতাস কেবল চলমান নথি লিখে যাচ্ছে।

ঠিক তখনই পানিতে একটা শুকনো পাতা পড়ে।

ঘটনাটা খুব ছোট, প্রায় অদৃশ্য হওয়ার মতো। সাধারণত এমন কিছু মনে থাকে না। কিন্তু সেদিন পাতাটা ভেসে গেল না—কিছুক্ষণ থেমে রইল। সেই থেমে থাকা স্থির ছিল না, বরং দ্বিধার মতো। মনে হলো, এটা শুধু পাতা নয়; বরং কোনো পুরোনো সিদ্ধান্ত, যেটা অনেক আগেই ফেলে আসা হয়েছিল কিন্তু সম্পূর্ণভাবে শেষ হয়নি।

কোন সিদ্ধান্ত? নিশ্চিত করে বলা যায় না। তবে খুব দূরের একটা স্মৃতি আছে—কারও সঙ্গে কথা না বলে সরে যাওয়া, কোনো ব্যাখ্যা না দেওয়া। তখন মনে হয়েছিল, নীরবতাই সবচেয়ে সহজ পথ। এখন সেই সহজতার ভেতরেই একটা ফাঁক দেখা দেয়।

চোখ বন্ধ করলে পরিবেশটা বদলে যায়।

কোনো কণ্ঠ নেই, কিন্তু প্রশ্ন আছে।

“তুমি কেন সেটা করেছিলে?”

“তুমি কি সত্যিই বুঝেছিলে, নাকি না বোঝাটাই সুবিধাজনক ছিল?”

প্রশ্নগুলো বাইরে থেকে আসে না। তারা ভেতর থেকেই তৈরি হয়। আর এখানেই অস্বস্তি—একই মানুষ প্রশ্ন করছে, আবার সেই প্রশ্নের বাইরে দাঁড়িয়ে উত্তর খুঁজতে বাধ্য হচ্ছে।

পাতাটা তখনও ভেসে আছে। মাঝ নদীতে এসে যেন স্থির। এই স্থিরতা শান্তি নয়, বরং অনিশ্চয়তা। মনে হয়, সে কোথাও পৌঁছাতে পারছে না, যেমন আমি নিজেও পারছি না।

ভেতরের একটা ক্ষীণ ধারণা বলে ওঠে—মানুষ অনেক সময় নিজের ওপর এমন দায় চাপায়, যেটার পুরোটা বাস্তব না হলেও মনে হয় সেটাই সত্য।

চোখ খুললে নদী আগের মতোই থাকে। কিন্তু আলো কিছুটা বদলে গেছে। চাঁদের রূপ এখন তীক্ষ্ণ, যেন সে আর কেবল সৌন্দর্য নয়, বরং পর্যবেক্ষণ। স্মৃতিগুলো আলাদা আলাদা টুকরোর মতো ভেসে ওঠে, কিন্তু একসাথে রাখলে একটা অসম্পূর্ণ চিত্র দাঁড়ায়।

একটা দৃশ্য ফিরে আসে—কাউকে কিছু না বলে দূরে সরে যাওয়া। খুব বড় কিছু নয়, তবু মনে থাকে। কারণ সেখানে ব্যাখ্যা ছিল না, এবং সেই অনুপস্থিতিই দীর্ঘস্থায়ী হয়ে গেছে।

মেঘ ধীরে ধীরে চাঁদ ঢেকে দেয়।

আলো কমে আসে, কিন্তু কিছু ভাঙে না। বরং মনে হয় এই আড়ালও একই ব্যবস্থার অংশ। আলো সবকিছু দেখায় না, অন্ধকার সবকিছু লুকায়ও না—দুটোই বাস্তবতার ভিন্ন ভিন্ন শর্ত।

ভেতরের প্রশ্ন আবার ফিরে আসে—বিচার কি শাস্তি?

এইবার উত্তরটা স্থির নয়।

বিচার হয়তো শাস্তি নয়, বরং বোঝার চেষ্টা। তবে সেই বোঝা সবসময় স্বস্তি আনে না; কখনো কখনো শুধু অবস্থান বদলে দেয়, কিছু নিশ্চিততাকে নরম করে ফেলে।

পাতাটা ধীরে ধীরে ডুবে যায়।

ডুবে যাওয়া এখানে শেষ নয়। বরং মনে হয়, সে আরেকটি স্তরে চলে যাচ্ছে—যেখানে হারিয়ে যাওয়া আর রূপান্তর আলাদা কিছু নয়।

ভেতরের কণ্ঠ এবার শান্ত।

“তুমি কী বুঝলে?”

উত্তর সরাসরি আসে না। তবু একটি বিষয় ধীরে ধীরে স্পষ্ট হয়—জীবন কোনো চূড়ান্ত রায় দেয় না। সে শুধু কিছু প্রশ্ন রেখে যায়, যেগুলোর সঙ্গে মানুষকে হাঁটতে হয়। সেই হাঁটার ভেতরেই অর্থ তৈরি হয়, যদিও তা কখনোই সম্পূর্ণ হয় না।

চাঁদ আবার মেঘের ফাঁক দিয়ে বেরিয়ে আসে।

আলো ফিরে আসে, কিন্তু একরকম নয়। এতে এখন স্তর আছে—একই দৃশ্য একাধিক অর্থ বহন করে, কিন্তু কোনো অর্থই সম্পূর্ণভাবে প্রাধান্য পায় না।

আমি উঠে দাঁড়াই।

নদী আগের মতোই থাকে। কিন্তু দেখার ভেতরে কিছু বদলে গেছে। মনে হয়, দৃশ্য নয়—দৃষ্টি বদলেছে।

কারণ শেষ পর্যন্ত বোঝা যায়—সবচেয়ে বড় বিচারালয় কোথাও বাইরে নেই। সেটা ভেতরের সেই জায়গা, যেখানে রায় কখনো শেষ হয় না, কেবল প্রশ্নের পুনর্গঠন চলতে থাকে।

আর সেই প্রশ্নই, নীরবে, পরের দিনের দিকে নিয়ে যায়।
আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 8 মাস 3 সপ্তাহ ধরে, এবং এ পর্যন্ত 1003 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 20258। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 3833
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
পদ্মা নদীর মাঝি চুক্তিভিত্তিক শ্রমব্যবস্থার একটি প্রাক-আধুনিক রূপ মোহাম্মদ জাহি[...] বিস্তারিত পড়ুন...
290 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

সবচেয়ে দামি জয় মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোটগল্প। ১৮ জুন,২০২৬ ডিভোর্সের কাগজে সই করার সময় অভিকের মুখ দেখে কিছু বোঝার উপায় ছিল না। টেবিলের ওপাশে নিশি বসে ছিল। চোখের নিচে ক্লান্তির ছাপ। গত কয়েক ম[...] বিস্তারিত পড়ুন...
2 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
অপেক্ষা    মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন   ছোটগল্প। ১৬ জুন ২০২৬ আসরের আজান শেষ হতেই আবদুল õ[...] বিস্তারিত পড়ুন...
3 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

বাবার পেশা মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোটগল্প। ১৬ জুন ১০২৬ ইন্টারভিউ বোর্ডে প্রশ্নটা খুব স্বাভাবিকভাবেই আসে। এমনভাবে, যেন এটা শুধু একটা তথ্য যাচাই। “আপনার বাবার পেশা কী?” ঘরের ভেতর তিনজন মানু�[...] বিস্তারিত পড়ুন...
4 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
অতীতের ওপারে অধ্যায় দুই  মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোট গল্প  । ১৬, জুন ২০২৬ —তুমি কী বল[...] বিস্তারিত পড়ুন...
3 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    956 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    47 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. জামিনুল রেজা

    428 পয়েন্ট

    1 প্রতিক্রিয়া

    1 মন্তব্য

    21 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. রফিক আতা

    224 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    11 টি আইডিয়া ব্লগ

  4. ক্বলমী সুর

    134 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    6 টি আইডিয়া ব্লগ

...