Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

ঝোলে মাছের গন্ধ

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
6 বার প্রদর্শিত
করেছেন (29,829 পয়েন্ট)   13 ঘন্টা পূর্বে "গল্প" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

ঝোলে মাছের গন্ধimage

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

ছোটগল্প। ২৬ অক্টোবর ২০২৬


আমার মা মারা যাওয়ার পর বুঝলাম, আমাদের ফ্রিজে কখনোই মাছ ছিল না, শুধু মাছের ঝোল ছিল।


কথাটা মনে পড়েছিল মায়ের মৃত্যুর পরের দিন। ফ্রিজের পুরোনো জিনিসপত্র বের করছিলাম। একটা ছোট বাটিতে জমে থাকা মাছের ঝোল দেখে হঠাৎ মনে হলো, মা তো প্রতিদিনই মাছ রান্না করতেন। অথচ তাঁর পাতে মাছ দেখেছি বলে মনে করতে পারলাম না।


ছোটবেলায় মাছের মাথা খেতে আমার খুব ভালো লাগত। মা বাজার থেকে মাছ এনে রান্না করতেন। দুপুরে খেতে বসলে আমার প্লেটে মাছের বড় টুকরোটা তুলে দিতেন। নিজের প্লেটে নিতেন ঝোল আর দু-এক টুকরো আলু।


আমি বলতাম, “তুমি মাছ নেবে না?”


মা হাসতেন। “আমি মাছ পছন্দ করি না রে। তুই খা।”


কথাটা এতবার শুনেছি যে একসময় বিশ্বাস করে ফেলেছিলাম।


মা মাছ পছন্দ করেন না। বাবা মারা যাওয়ার পর সংসারে টানাটানি ছিল। তবু মা সপ্তাহে অন্তত দুদিন মাছ কিনতেন। মাছের দাম বেশি হলে ছোট মাছ, কখনো পুঁটি, কখনো তেলাপিয়া। রান্নার সময় পুরো বাড়িতে মাছের গন্ধ ছড়িয়ে পড়ত। আমি পড়ার টেবিল থেকে উঠে রান্নাঘরে উঁকি দিতাম।


মা বলতেন, “যা, পড়তে বস। খাওয়ার সময় হয়েছে।”


আমি চলে যেতাম। তারপর দুপুরে খেতে বসে দেখতাম, আমার পাতে মাছের টুকরো, মায়ের পাতে শুধু ঝোল।


একবার স্কুল থেকে ফিরে দেখেছিলাম, মা রান্নাঘরে বসে ভাত খাচ্ছেন। তাঁর থালায় ভাত আর কাঁচা মরিচ। পাশে মাছের ঝোলের হাঁড়ি। আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম, “মাছ খাওনি?”


মা বলেছিলেন, “আজ ঝোল দিয়ে খেতে ইচ্ছে করছে।”


আমি আর কিছু জিজ্ঞেস করিনি। আমার বয়স তখন কতই বা—দশ কি এগারো।


বড় হওয়ার পর মায়ের সঙ্গে বাজারে যাওয়া কমে গেল। কলেজ, চাকরি, বন্ধু, নিজের জীবন—সব মিলিয়ে বাড়িতে ফেরার সময়ও কমে এল। মা ফোন করে জিজ্ঞেস করতেন, “খেয়েছিস?”


আমি বলতাম, “হ্যাঁ, খেয়েছি।”


মা আবার জিজ্ঞেস করতেন, “মাছ খাস তো?”


আমি হাসতাম। “খাই মা, রোজই খাই।”


মা তখন বলতেন, “ভালো। শরীরের দিকে খেয়াল রাখিস।”


চাকরি পাওয়ার পর প্রথম বেতন হাতে পেয়ে মায়ের জন্য একটা শাড়ি কিনেছিলাম। মা শাড়িটা বুকে চেপে ধরে বলেছিলেন, “এত দাম দিয়ে কেন কিনলি?”


আমি বলেছিলাম, “তোমার জন্য কিনেছি। পরবে।”


মা শাড়িটা আলমারিতে তুলে রেখেছিলেন। বলেছিলেন, ঈদের দিন পরবেন। সেই ঈদে শাড়িটা পরেছিলেন ঠিকই, কিন্তু সেদিনও দুপুরে আমার পাতে মাছের বড় টুকরোটা তুলে দিয়েছিলেন।


আমি বলেছিলাম, “মা, এবার কিন্তু তোমার পাতে মাছ দিতে হবে।”


মা হেসে বলেছিলেন, “আমার আর মাছ খেয়ে কী হবে? তুই খা।”


তারপর একদিন হঠাৎ মা অসুস্থ হয়ে পড়লেন। হাসপাতালে কয়েক দিন থাকার পর আর বাড়ি ফিরলেন না।


মায়ের ঘর গুছাতে গিয়ে আলমারির নিচের তাকে একটা পুরোনো বাজারের ব্যাগ পেলাম। তার ভেতরে কিছু কাগজ, ওষুধের খালি পাতা আর ছোট্ট একটা হিসাবের খাতা। খাতার পাতায় মাসের বাজারের হিসাব লেখা। চাল, ডাল, তেল, সবজি—তার পাশে মাছের দামও আছে। কোনো মাসে মাছের পরিমাণ কম, কোনো মাসে একটু বেশি। শেষের দিকে একটা পাতায় লেখা ছিল, “এই সপ্তাহে মাছ একদিন কম কিনতে হবে। ছেলের বই লাগবে।”


আমি খাতাটা বন্ধ করে অনেকক্ষণ বসে রইলাম।


সেদিন বাড়িতে ফিরে ফ্রিজ খুলেছিলাম। একটা ছোট বাটিতে মাছের ঝোল ছিল। মাছের টুকরো নেই, শুধু আলু আর পাতলা ঝোল।


আমি বাটিটা বের করে টেবিলে রাখলাম। চামচ দিয়ে একটু ঝোল তুলে মুখে দিলাম। স্বাদটা চেনা। ছোটবেলা থেকে এই স্বাদই তো খেয়ে এসেছি।


হঠাৎ মনে পড়ল, মা সব সময় বলতেন, “আমি মাছ পছন্দ করি না।”


আমি বাটিটা নামিয়ে রাখলাম। তারপর মায়ের পুরোনো থালাটা আলমারি থেকে বের করে টেবিলে রাখলাম। থালাটা খালি ছিল।


অনেকক্ষণ পর বাটির ঝোলটা ফ্রিজে তুলে রাখলাম।


পরদিন বাজারে গিয়ে একটা মাছ কিনেছিলাম। বাড়ি ফিরে রান্না করলাম। খেতে বসে নিজের পাতে মাছ তুলে নিয়ে অভ্যাসবশত আরেকটা টুকরো আলাদা করে রাখতে গিয়েছিলাম।


হাতটা মাঝপথে থেমে গেল।


মায়ের থালাটা তখনও আলমারির ওপর রাখা।

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 1 বছর 1 মাস ধরে, এবং এ পর্যন্ত 1476 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 29829। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 5101
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
ধারাবাহিক গল্প গোপন উত্তরাধিকার পর্ব ২: টাকার গন্ধ ২০ জুন, ২০২৬ নিশি জানত, টাকা কখন&[...] বিস্তারিত পড়ুন...
62 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
পুরোনো বইয়ের গন্ধ মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোটগল্প  | ১৬ মার্চ ২০২৬ বিকেলের আলো ফিকে [...] বিস্তারিত পড়ুন...
433 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
বাবাকে ব্লক করেছি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোটগল্প। ২৭ অক্টোবর ২০২৬ আমি আমার বাবাকে &[...] বিস্তারিত পড়ুন...
8 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
ভালো মানুষ মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোটগল্প। ২৬ অক্টোবর ২০২৬ আমার স্বামী ভালো মানুষ, [...] বিস্তারিত পড়ুন...
4 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
প্রথমবার বাবার বুকে মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোটগল্প। ২৬ অক্টোবর ২০২৬ আমার বাবা আমা&#[...] বিস্তারিত পড়ুন...
3 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    2225 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    11 মন্তব্য

    110 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. Mayabi Ilmaz Megh

    210 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    10 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. প্রিন্স ফ্রেরাসে

    127 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    6 টি আইডিয়া ব্লগ

  4. জামিনুল রেজা

    83 পয়েন্ট

    1 প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    4 টি আইডিয়া ব্লগ

...